সুসংবাদ এসো

শতাব্দী দাশ

 




লেখক গদ্যকার, প্রাবন্ধিক, শিক্ষক ও সমাজকর্মী।

 

 

ভালো ক’রে কথা ভাবা এখন কঠিন;
অন্ধকারে অর্ধসত্য সকলকে জানিয়ে দেবার
নিয়ম এখন আছে; তারপর একা অন্ধকারে
বাকি সত্য আঁচ ক’রে নেওয়ার রেওয়াজ
র’য়ে গেছে; সকলেই আড়চোখে সকলকে দেখে।

এ সময়ের যদি কোনও নিজস্ব ধর্ম থাকে, তবে তা সত্য বিকৃতির ধর্ম। যদি কোনও নিজস্ব ভাষা থাকে, তবে তা ঘৃণা ও সন্দেহের ভাষা৷ একথা জানি না, বা স্বীকার করি না, এমন নয়। কিন্তু দিল্লিতে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনাবলির পুনঃপুনঃ বর্ণনা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, ধ্বংসের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস-সম্ভাবনার খতিয়ান এই লেখায় পাওয়া যাবে না। এই লেখা আবশ্যিকভাবে আলোর কথা বলবে। কখনও কখনও কির্কেগার্দিয়ান ‘Leap of faith’ প্রয়োজন হয় পারিপার্শ্বিক অন্ধকারের সঙ্গে যুঝতে। এক্ষেত্রে বিশ্বাসের অন্য নাম ঈশ্বর নয় অবশ্য। বরং মানুষ।

দিল্লির ঘটনা তো প্রথম নয়। অপ্রত্যাশিতও নয়। উত্তরপ্রদেশে হয়ত এই মুহূর্তে এর চেয়েও ভয়ানক কিছু ঘটছে। কাশ্মির কেমন আছে, আমরা জানি না। আমাদের শৈশব বিরানব্বই সাল দেখেছে, আমাদের কৈশোর দেখেছে গোধরা-গুজরাত। তারুণ্যেরও অনেকখানি পেরিয়ে এসে আমরা দিল্লির নরমেধ দেখলাম। যাঁরা প্রত্যক্ষভাবে ভুক্তভোগী, যাঁরা নিহত বা আহত হলেন, তাঁরা তো শারীরিক বা মানসিকভাবে এই আঘাত বহন করলেন বটেই। আমরা যারা দূরে ছিলাম, তাদের কাছে সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে তথা দার্শনিকভাবেও এ এক ধাক্কা৷

অথচ যুক্তিবোধ বলে, এ হওয়ারই ছিল। সুসংগঠিতভাবে সাম্প্রদায়িক বৈরিতা ছড়ানো হয়েছিল,  ছড়িয়েছিলেন জন-নির্বাচিত নেতারাই। দেখা যাচ্ছে, হিংসাত্মক ঘটনাগুলি ঘটেছে যেখানে যেখানে, সেখানে আটটির মধ্যে পাঁচটি আসন বিজেপিই পেয়েছিল লোকসভা নির্বাচনে৷ সবই তাহলে হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাফিক৷ ঘৃণার বীজ ছড়িয়েছে বিজেপি, দাঙ্গা হল তাদের ফসল তোলার কাল। বরং এত ঘৃণা ছড়ানো সত্ত্বেও যে তা সমস্ত মানুষকে কলুষিত করতে পারল না, এটাই আশ্চর্যের। সেরকম আশ্চর্য ঘটনাগুলোই এই সময়ের খড়কুটো।

********

 

আমাদের   পথ নেই কোনও
আমাদের   ঘর গেছে উড়ে
আমাদের   শিশুদের শব
ছড়ানো   রয়েছে কাছে দূরে!
আমরাও   তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে   মরে যাব না কি?
আমাদের   পথ নেই আর
আয়   আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।

প্রেমকান্ত বাঘেলের কথা দিয়েই শুরু করা যাক। শিববিহারের প্রেমকান্ত। আরএসএস-এর গুণ্ডারা পেট্রল বোমায় জ্বালিয়ে দিচ্ছিল মুসলমানের ঘরবাড়ি। এই মানুষটি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন প্রতিবেশীদের বাঁচাতে। ছয়জন মুসলমান প্রতিবেশীর জীবন বাঁচিয়েছেন। সত্তর শতাংশ পুড়ে গেছেন নিজে। সে রাতে এই মানুষটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন প্রেমকান্ত৷ দগ্ধ প্রেমকান্ত বলেছেন, নিজে বাঁচুন বা না বাঁচুন, ছয়জন প্রতিবেশীকে বাঁচাতে পেরে তিনি খুশি। প্লিজ বেঁচে থাকুন প্রেমকান্ত, মৃত্যু-উপত্যকায় আপনাকে দরকার।

মহিন্দর সিং, প্রৌঢ় শিখ। ইন্দরজিত সিং তাঁরই ছেলে। দুজনের দুটি বুলেট মোটরসাইকেল। দুজনেই এক ঘণ্টায় খান কুড়ি ট্রিপ করেছিলেন, গোকুলপুরি থেকে কদমপুরি। গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করারও সময় পাননি৷ মোটরসাইকেলদুটো বাইরেই পার্ক করা ছিল৷ পিছনে দুজন করে মুসলমান প্রতিবেশী নিয়ে তাঁরা পৌঁছে দিচ্ছিলেন মুসলিম-প্রধান এলাকায়। সে এলাকায় মহিন্দর সিং-এর নাম এখন ‘মুসলমানোকো বচানেওয়ালা সিখ বন্দা।’ ষাট থেকে আশি জন মানুষ এভাবেই নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছিলেন। শিখ পিতা-পুত্রই তাঁদের কাছে ডুবন্ত জাহাজের লাইফবোট। দাঙ্গাকারীদের ‘বহিরাগত’ হিসাবে চিহ্নিত করলেও, তারা যে মোদির নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছিল, তা মহিন্দরের মনে আছে৷ যাঁরা আজ তিপান্ন বছরের মহিন্দরের জন্য বেঁচে গেলেন, তাঁরা কি জানেন, আজও মহিন্দরকে তাড়া করে বালকবেলায় দেখা উনিশশো চুরাশির শিখ-নিধন? শুধু মহিন্দর নয়, এই তিনটে দিন মনে রাখবে সম্পূর্ণ শিখ সম্প্রদায়ের ভূমিকা। একের পর এক গুরুদ্বার খুলে দেওয়া হয়েছিল মুসলিমদের বা যে কোনও আশ্রয়প্রার্থীর জন্য। শিখ ফোরামের তরফ থেকে প্রেস মিট করে জানানো হয়েছিল, পঁয়ত্রিশ বছর আগে যা ঘটেছিল শিখদের সঙ্গে, তা অন্য কোনও ধর্মের মানুষের সঙ্গে যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে শিখরা তৎপর থাকবে৷

আবার মুস্তাফাবাদের বাবুনগরে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে শিব মন্দিরের ত্রাতা হয়ে উঠলেন মুসলিমরাই। মন্দির বাঁচাতে ওই কয়েকটা দিন পালা করে নজরদারি করেছেন তাঁরা। মন্দির-সংলগ্ন চা-দোকানের মালিক কামরুদ্দিন বললেন, ‘মসজিদ জ্বলে গেছে জানি, কিন্তু মন্দিরে কোনও আঁচ লাগতে দেব না।’ গত পঁয়ত্রিশ বছর ধরে মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক বাহান্ন বছরের রীনা দেবীও আস্থা রেখেছেন ভিন্ ধর্মের ভাইদের উপরেই। তাঁদের হাতেই তুলে দিয়েছেন মন্দিরের চাবি। চাঁদবাগেও মুসলমানরা বাঁচালেন আরেক হিন্দু মন্দির। স্থানীয় মানুষ সেলিম বললেন, ‘মন্দিরের গায়ে আঁচড়টুকুও পড়লে আমাদের লজ্জার শেষ থাকত না।’

অশোকনগরের পাঁচ নম্বর গলিতে যখন মসজিদ ভাঙা চলছিল, তখন জিতেন্দর বর্মা গেছিলেন আটকাতে৷ হিন্দু হয়ে হিন্দুদের হাতেই আহত হয়েছেন, কিন্তু প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন মসজিদে গেরুয়া পতাকা ওড়ানো আটকাতে।

গুরুদ্বারের পর দাঙ্গা-বিধ্বস্ত অঞ্চলের চার্চগুলিও তাদের দরজা খুলে দিয়েছিল আহত, সন্ত্রস্ত মানুষের জন্য৷ ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ চার্চেস তেমনই নির্দেশ দিল তাদের৷ এমনকী মৌজপুরে, বজরঙ্গবলী মহল্লাতে মুসলমান নারী-পুরুষ ও শিশুরা আশ্রয় পেল বজরঙ্গবলীরই মন্দিরে। হিন্দুরাই অভয় দিল, ‘ভয় পেও না, ইয়ে তো তুমহারাহি মহল্লা হ্যায়।’

সীলমপুরে দলিতরা রাস্তায় গড়ে তুলছিলেন ব্যারিকেড, যাতে হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডারা এলাকার মুসলমানদের উপর ঝাঁপাতে না পারে। পুলিশ ও রাজনীতিবিদরা তাঁদের দায়িত্ব ভুলেছিলেন অনায়াসে, কর্তব্য ভোলেনি সাধারণ মানুষ।

মুস্তাফাবাদের মুজিবর রেহমান আর সঞ্জীবের গল্প এখন মুখে মুখে৷ সঞ্জীব সেদিন বন্ধুর জীবন বাঁচাননি শুধু, তার পরিবারকে আশ্রয় দেননি শুধু, আপদকালে দাঙ্গাবিধ্বস্ত রাজপথ দিয়ে মোটরসাইকলে করে মুজিবরের আসন্নপ্রসবা পুত্রবধূকে পৌঁছে দিয়েছেন আল-হিন্দ হাসপাতালে৷ ঘর পুড়ে গেছে, জিনিসপত্র লুঠ হয়েছে, সেই মুজিবর রেহমান কী শান্ত ক্ষমাসুন্দর সাক্ষাৎকার দিলেন বর্খা দত্তকে! আল-হিন্দ হাসপাতালে বসে বললেন, রামনাম করতে তিনিও প্রস্তুত, তার জন্য হানাহানি কেন? রাম আর আল্লা কি এক নয়? মুজিবর বলেন, তিনি কোরান পাঠ করেন, বেদ ও গীতাপাঠও শুনতে যান। রামকে যারা বদনাম করছে, তাদের সুমতির জন্য মহামহিমের দোয়া চাইছেন তিনি৷ অন্যদিকে মুজিবরের পরিবারের মেসিহা সঞ্জীব মানতে নারাজ যে তিনি মহৎ কিছু করেছেন। বলছেন, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র৷ ‘সঞ্জীব-কে মৌসি’ বলে খ্যাত ‘মঞ্জু মৌসি’-ও বলছেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন না৷ বড়জোর জীবনটাই তো যাবে, তার বেশি কিছু তো নয়! তবু জীবন থাকতে মুসলমানদের ক্ষতি হতে দেবেন না৷

আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে, হিন্দু মেয়েটি দাঙ্গায় ফেঁসে গিয়ে মুসলিম বান্ধবীর বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছে, তারপর সেখানেই থেকে গেছে কদিন, অপেক্ষা করেছে দাঙ্গা থামার। তেইশ বছরের সাবিত্রী প্রসাদের বিয়ে ভেঙে যেতে বসেছিল। নির্দিষ্ট দিনে বিয়ে না হলেও, বিয়ে হল পরদিনই। সাবিত্রীর মুসলিম ভাইরা চাঁদবাগে তার বাড়ির বাইরে পাহারায় মোতায়েন থাকলেন।

সতেরো বছরের হর্ষ সিং একা বাড়িতে ছিল খাজুরি খাস-এ। প্রতিবেশী ওয়াহাব আর তাঁর স্ত্রী এসে ত্রস্ত বালককে নিয়ে গেল তাদের ঘরে।

যমুনাবিহারের মানুষ মানববন্ধন তৈরি করে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া-আসা নিরাপদ করলেন। শিববিহার বা শ্যামবিহার থেকে হিন্দু পরিবারে আশ্রয়প্রাপ্ত আহত, সর্বহারা প্রায় পঞ্চাশটি মুসলিম পরিবারকে ধীরে ধীরে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে। ললিতা পার্ক বা রমেশ পার্কের কাছাকাছি যে সব মুসলিমদের বসত, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হিন্দু ও শিখরা অঙ্গীকার করে এলেন, প্রতিবেশীকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করবেন৷ যে উগ্রহিন্দু যুবক ভিডিও করেছিল দাঙ্গার, মুসলমানের মা-বোনকে ধর্ষণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, মুসলমান মানুষ তাকে ধরতে পেরেও গায়ে হাত তুললেন না, ধরিয়ে দিলেন পুলিশকে। এমন আশ্চর্য সব ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল দিল্লির তিনটে দিন।

গুলিখাওয়া আখ-ব্যবসায়ী আহমেদের জন্য হাসপাতালে রক্ত খুঁজছেন গোপাল বা মাথায় বাইশটি স্টিচ পড়া অটোচালক অনিলের স্যালাইনের বোতল ধরে ঠায় বসে আছেন বৃদ্ধ সব্জি বিক্রেতা আবেদ– এ দৃশ্য বিরল ছিল না দিল্লিতে, সেই দিল্লিতেই, যে দিল্লি জ্বলছিল৷ রুটি বা দুধ আনতে বেরোনো রাহুল আর ফুরকান বাড়ি ফেরেনি বলে যে গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে কান্নায় ভেঙেচুরে যাচ্ছিল তাদের পরিবার, সেই হাসপাতালেই রাজেশদের শিরায় ঢুকে যাচ্ছিল রহমানদের রক্ত। অথচ যাঁরা এসব আশ্চর্য অরূপকথা লিখলেন, তাঁরা তা লিখলেন ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটের অপেক্ষা না করে। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করা বা ছবির সঙ্গে যুৎসই ট্যাগলাইন ভাবার ফুরসৎও তাঁদের ছিল না।

*******

 

It was the best of times, it was the worst of times, it was the age of wisdom, it was the age of foolishness, it was the epoch of belief, it was the epoch of incredulity, it was the season of Light, it was the season of Darkness, it was the spring of hope, it was the winter of despair …, we had nothing before us, we were all going direct to Heaven, we were all going direct the other way …

কির্কেগার্দের কথা এসে গেছিল শুরুতে, যিনি আস্তিক হয়েও খানিক অস্তিত্ববাদী। কির্কেগার্দ-এর পরবর্তী সময়ে, নিটশে যখন নাটকীয় ঢঙে ঘোষণা করেন ‘ঈশ্বর মৃত’, তখনও সে কথা ঠিক উদযাপনের ঢঙে বলা হয়নি। বেদনা ছিল সেই ঘোষণায়। যদিও নিটশে ক্রিশ্চান আস্থার ভরকেন্দ্র থেকে সরে এসেছিলেন অনেক আগেই, তবু নৈতিক শূন্যতায় তিনি আনন্দের কিছু পাননি। নীতির উৎসস্থল হিসাবে ধর্মকে উৎখাত করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছিলেন বটে, তবে সেই আসন পূর্ণ করার জন্য ভরসা রেখেছিলেন ‘কালচার’-এ, সংস্কৃতিতে। তাঁর ধারণায়, সংস্কৃতিই ধর্মের অনুপস্থিতিতে শুভকে ধারণ করবে। প্রশ্ন হল, দিল্লির ঘটনার পর কোন সংস্কৃতিকে আমরা মূলধারার সংস্কৃতি হিসেবে ধরব? হানাহানির সংস্কৃতিকে? নাকি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে?

নিটশের পরবর্তীতে আবার আরেক অস্তিত্ববাদী সার্ত্রে বলেছিলেন, অ্যাবসার্ড এই জগতে যেহেতু কিছুই পূর্বনির্ধারিত নয়, কিছুই আশানুরূপ নয়, তাই মানুষ এবং তার ‘ফ্রি উইল’-এর সামনে অমিতসম্ভাবনা। অস্তিত্ববাদী সঙ্কটের মধ্যে এটুকুই সদর্থক পাওনা। দিল্লির মানুষের ‘স্বাধীন ইচ্ছা’ এক্ষেত্রে সহমানুষের পাশে দাঁড়াতেই নির্দেশ দিল তাকে।

আমাদের   ইতিহাস নেই
অথবা   এমনই ইতিহাস
আমাদের   চোখমুখ ঢাকা
আমরা   ভিখারি বারোমাস
পৃথিবী   হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী   হয়তো গেছে মরে
আমাদের   কথা কে-বা জানে
আমরা   ফিরেছি দোরে দোরে।
কিছুই   কোথাও যদি নেই
তবু   তো কজন আছি বাকি
আয়   আরো হাতে হাত রেখে
আয়   আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2168 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...