মঁসিয়ে ভার্দু, লেনিন অথবা আমি

উদয়ন ঘোষ

 

গত শতাব্দীতে যে সকল গদ্যকার সচেতনভাবে বাংলা সাহিত্যে অন্য ধারার গদ্যভাষা নির্মাণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উদয়ন ঘোষ (১৯৩৫-২০০৭) অন্যতম। লিটল ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার পরিসরেই ছিল তাঁর আজীবনের মুক্ত পদচারণা। ষাটের দশকের মাঝামাঝি অনীক পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর গল্প 'ভুবনবাবু বাড়ি ফিরছেন' তাঁকে ক্ষমতাবান লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। লিটল ম্যাগাজিনে লিখেছেন বলে তাঁর ছড়ানো-ছেটানো বহু লেখা আজও অগ্রন্থিত। এবারের স্টিম ইঞ্জিন বিভাগের জন্য নির্বাচিত হয়েছে উদয়নের গদ্য 'মঁসিয়ে ভার্দু, লেনিন অথবা আমি' যেটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বোবাযুদ্ধ' পত্রিকার ১৩৯৬ বৈশাখ সংখ্যায়৷ পরে লেখাটি অবভাস প্রকাশিত উদয়ন ঘোষের 'গদ্যসংগ্রহ' (২০১০)-এ সঙ্কলিত হয়।

উপরোক্ত টাইটেলে এই গদ্য দুভাবে শুরু করা যায়।

এক, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে লেনিন যখন অসুস্থ, শয্যাশায়ী, অবসাদগ্রস্ত- যখন রাশিয়ায় দুর্ভিক্ষের হাতছানি— যখন স্তালিনের হাতে রাষ্ট্র ও পার্টি প্রায় দুর্গ হতে চলেছে— যখন সবকিছুই লেনিনের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে— তখন লেনিন তাঁর অসহায়তার কবলে কোনো উত্তরণের রাস্তা না পেয়ে স্তালিনের কাছে বিষ চেয়েছিলেন— স্তালিন তাঁকে পটাসিয়াম সায়ানাইড দিতেও নাকি উদ্যত হয়েছিলেন— এই মুহূর্তের নাম মঁসিয়ে ভার্দু।

আর দুই হল, আমাকে যাঁরা জানেন, তাঁরা প্রায় সবাই দেখেছেন আড়াই বছরের বেশি সময় আমি অবসাদে শুয়ে কাটিয়েছি— তখন হাতি খাদে পড়লে যেমন হয়— নিজের হাতির বলেও সে আর উঠতে পারে না— অথচ হাত-পা ছুঁড়েছি বিস্তর, কোনো ঘটনায়— কেবল দিবাস্বপ্নে জখম করেছি নিজেকে— চাবুক মেরেছি নিজের পিঠে— আর হত্যা করে গেছি রিলেশন, সমস্ত অবশেসন এবং আমার প্রাণাধিক প্রিয় অন্তরঙ্গতাকে— এই মুহূর্তের নামও মঁসিয়ে ভার্দু।

পাঠক, আপনি যে-সুরুকেই মেনে নিয়ে এগিয়ে যান না কেন— শেষ কিন্তু যে দুই দাঁড়িতে সমাপ্ত হবে— সেই বাক্যটির কোনো বিকল্প নেই। বাক্যটি হল: It is a ruthless world, One must be ruthless to cope with.

চার্লস চ্যাপলিনের মঁসিয়ে ভার্দু প্রসঙ্গে এতক্ষণ ভূমিকা করা গেল। পাঠক শুনে আশ্চর্য হবেন, ছবিটি ১৯৪৭-এ নির্মিত। যে ১৯৪৭-এ আমাদের দেশভাগ হয়৷ আসলে ১৯৪৭ যুদ্ধোত্তর ১৯৪৭। তার আগের বছর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হয়েছে। দুনিয়া জোড়া অবক্ষয়। ব্যস্তবাগিশ নেহেরু যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতা চাইছেন। গান্ধীজীর আপত্তি সত্ত্বেও দেশভাগ মেনে নিয়ে স্বাধীনতা চাইলেন নেহরু৷ কেননা আর কালক্ষেপ নয়৷ দুনিয়ায় কেউ তখন বসে থাকতে রাজি নয়। আখের গোছাতে সকলেই ব্যস্ত। কনুই-এর গুঁতো মেরে সকলেই সকলে ছাড়িয়ে যেতে চায় অর্থাৎ এস্টাবলিশমেন্ট চায়। নয়া সাম্রাজ্যবাদী হিসেবে আমেরিকার তখন আত্মপ্রকাশ। ক্লাসিসিজমের সর্বত্র পরাজয় ঘটছে। ক্লাসিক সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তির তখন নাভিশ্বাস উঠছে৷ য়ুরোপের পতন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান সূচিত হচ্ছে। ভারতবর্ষ ঐ ১৯৪৭-এই ‘বাবু’ চেঞ্জ করছে— ব্রিটিশ সিংহ থেকে মার্কিনি ঈগলের দিকে ঝুঁকছেন নেহরু।

ঐ ৪০-এর দশকে মার্কিন মুলুকে তখনও চার্লস চ্যাপলিন বিচরণ করছেন। তখনও নির্বাসিত হননি। আয়োজন চলছে কেবল। রুজভেল্টের গণতন্ত্রের পতন আসন্ন হচ্ছে। ক্রমে নিভৃতে অতিদ্রুত মার্কিনি স্বৈরতন্ত্র মাথা চাড়া দিচ্ছে। কেননা তাদের কালক্ষেপ করার সময় নেই। কেননা জনপ্রিয় সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে গণজাগরণ সুচিত হচ্ছে৷ তাই মার্কিনি তৎপরতা সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে এই গণজাগরণ ঠেকাতে। যার অপর নাম কমিউনিস্ট বিদ্বেষ ও কমিউনিস্ট খতম। খোদ মার্কিন মুলুকে হলিউডেও তার সুরু। যে হলিউডে চ্যাপলিন তখনও রয়েছেন। তখন হলিউডের একচেটিয়া মূলধন অস্ত্র-ব্যবসায়ের একচেটিয়া মূলধনের পরেই- দ্বিতীয় আন্ডার-ওয়ার্ল্ড। একচেটিয়া মূলধনে প্রতিযোগিতা লুপ্ত হয় বলে মালিকের পৌষমাস আর শ্রমিকের সর্বনাশ। তবু কনট্রাডিকশনে শ্রমিকরা তাদের সর্বনাশের জোয়াল থেকে মাথা তোলেই একদিন। ঐ ৪০-এর দশকে হলিউডেও তাই হল। একচেটিয়া হলিউডি পুঁজিপতি ওয়ার্নার ব্রাদার্স-এর বিরুদ্ধে কলাকুশলী শ্রমিকরা ধর্মঘট করলেন৷ যে সে ধর্মঘট নয়, আগের মতো মোটেই নয়, পূর্বে যেমন সংগঠনগুলি পেশা ও বৃত্তি অনুযায়ী এবং হাউসে (মোনোপলি ক্যাপিটাল হাউস) হাউসে বিভক্ত ছিল, তেমন হল না এবার, এবার কনফারেন্স অব স্টুডিও ইউনিয়ন- সম্মিলিত শ্রমিক সংস্থা – ধর্মঘটে তাদের দাবিও ছিল ঐ সম্মিলিত ইউনিয়নেরই স্বীকৃতি৷ মালিকপক্ষ ও রাষ্ট্র এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কমিউনিস্ট জুজুর ছায়া দেখলেন এবং এসবই কমিউনিস্ট চক্রান্ত, অর্থাৎ মার্কিন বিরোধী, এবং মার্কিন নিরাপত্তাও বিঘ্নিত, এই অজুহাতে শ্রমিকদের উপর রাষ্ট্রীয় অত্যাচার সংঘটিত হল। বর্তমান ‘সিয়ার’ তুল্য, সিয়ার জনক মার্কিনি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা, উঠতি নেতাদের কৌশলে ধরে গুপ্ত হত্যা সুরু করল। এছাড়া মালিকপক্ষে দালাল ইউনিয়ন হলিউডের হাউসে হাউসে দাঙ্গা বাঁধালো। কমিউনিস্ট সন্দেহে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অজুহাত দেখিয়ে বহু মার্কিনদের হলিউড থেকে নির্বাসিত করা হল। কাউকে কাউকে খুন পর্যন্ত করা হল।

সে সময় চ্যাপলিনও এই সব আন্দোলনের সঙ্গে গোপনে যুক্ত ছিলেন কিন্তু প্রকাশ্যে চুপচাপ। কিন্তু তাঁর ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রত্যাশী গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণা, একচেটিয়া পুঁজিবাদের বিরোধিতা (গোল্ডরাশ, সিটিলাইট, মর্ডান টাইমস), গণতন্ত্র হত্যাকারী স্বৈরতন্ত্রী শাসকদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ (গ্রেট ডিকটেটর)- পূর্বেই মার্কিন রাষ্ট্রের চক্ষুশূল ছিল- এই সুযোগে তাঁকে কমিউনিস্ট ব্র‍্যান্ড করে তাঁকে এক বীভৎস যৌন অপরাধমূলক মামলায় জড়ানো হল- কিন্তু সেখানে জুত করতে না পেরে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হল। তিনি তথাকথিত ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণকারী সোভিয়েতের দালাল এবং গুপ্তচর অর্থাৎ মার্কিন গণতন্ত্রের সশস্ত্র শত্রু- এই অভিযোগে তারা মামলা করল। তাঁর জীবন অতিষ্ঠ করে তোলা হল। তাঁর পথে চলাই দায় হল। অথচ সারা জীবনে কোনো অবস্থাতেই তিনি সঙ্গে কোনো অস্ত্র নেননি। কোনো সভা বা মিছিলে যোগ দেননি। সোভিয়েতের প্রতি কোথাও তিনি প্রত্যক্ষ সমর্থন জানাননি। কেবল ছবি করে গেছেন। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বুঝতে বাকি থাকেনি যে চ্যাপলিনের এক একটি ছবি মার্কিন তথা সমগ্র ধনবাদী সমাজের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান- লক্ষ লক্ষ কমিউনিস্ট সমাবেশের তুল্য- কিংবা তার থেকেও ভয়ানক। চ্যাপলিন স্বয়ং সোভিয়েট। তাঁর ছবি করাই দায় হল হলিউডে৷ তাঁর বহু ছবি, এমনকি সিটিলাইটের মতো অনুচ্চারিত ছবিও নিষিদ্ধ হল। এবং এভাবে ১৯৪৭ এল। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও চ্যাপলিন মঁসিয়ে ভার্দু ছবি করলেন।

দুনিয়া হতবাক হয়ে গেল এই ছবি দেখে৷ কেননা এ ছবি চ্যাপলিন ঘরানার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।

চ্যাপলিন ঘরানার শ্রমিক, কৃষক, ভ্যাগাবন্ড, আন্ডার ওয়ার্লডের বীভৎস মানুষ, নানা পেশার সাধারণ মানুষের কেউ বা ছিটেফোঁটাও এ ছবিতে নেই।

এ ছবি মঁসিয়ে ভার্দু নামে এক কেতা দুরস্ত আধুনিক খুনে ব্যবসায়ীর প্রায় একক প্রদর্শনী। তাঁকে প্রমিনেন্ট করেছে হাই সোসাইটির নেগেটিভ চরিত্র, সুদখোর কিছু চরিত্র; বীমা কোম্পানির কিছু কপট সমাজসেবী, আত্মম্ভরী কোয়ারলসাম কিছু অ্যারিস্টোক্র‍্যাট বিকৃত রুচির মহিলা।

ছবির সুরুতে আছে ১৯৩০-এর দুনিয়া-জোড়া মন্দার ফলশ্রুতিতে এক বন্ধ কারখানা। পরক্ষণেই বলা হয়েছে ভার্দু নামে এক সৎ শান্তিপ্রিয় ব্যাঙ্ক কেরানি মন্দার বলি হয়েছে, তার চাকরি খতম হয়েছে, এই অভিযোগে যে সে ব্যাঙ্কের তহবিল তছরূপ করেছে। এদিকে মন্দার ফলে দেশে দারিদ্র বাড়ছে৷ ভার্দুর স্ত্রী পঙ্গু, সন্তানেরা স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারছে না। ভার্দু বাঁচার তাগিদে এক আশ্চর্য ব্যবসায় নামল। কেতা দুরস্ত হল, মঁসিয়ে ভার্দু হল। আর টেলিফোন ডাইরেকটরি দেখে সব ধনী মহিলার ঠিকানা জেনে একে একে হাজির হল প্রেমিকের ছদ্মবেশে। ঐ সব যৌনবুভুক্ষু মহিলাদের কাছে কিন্তু সর্বত্রই তাঁর নাম মঁসিয়ে ভার্দু। ডাইরেকটরির পাতা ওল্টানো হয়, ট্রেনের চাকার ঘূর্ণি দেখানো হয় এবং ভার্দু হাজির হয় ধনী মহিলাদের কাছে- প্রেমের পর তাঁরা প্ররোচিত হন শেয়ার কিনতে ও বীমা করতে- তারপরই খুন- সম্পত্তি আত্মসাৎ। নির্বিকার শান্ত ও কৌতুকী হত্যা। মনে হয় যেন কমেডি অব মার্ডার। এরই ফাঁকে এক ওয়েসিস দেখানো হয়৷ সেখানে তার স্ত্রী, সন্তানেরা। সুখী গৃহকোণে বছরে একবার যায় সেখানে ভার্দু তাদের বিবাহিবার্ষিকীতে৷ সেখানে শান্ত নিরুদ্বিগ্ন জীবন, সেখানে আরাম- স্বাচ্ছন্দ্য- ভরাপেটের সঙ্গে আনন্দ- যেন শান্তির নীড়। প্রতিবারই কথা, এবার ব্যবসা গুটিয়ে জীবনের সঞ্চয়ে বাকি জীবন এই ওয়েসিসে কাটানো যাবে, মানুষ জীবনযাপন করতে চায়। কিন্তু ব্যবসায়ে ফিরে যে কে সেই।

স্ত্রীকে শেষ অব্দি সেই অমোঘ কথা : These are desperate days my dear- millions starving and unemployment. It is not an easy task for man of my age to make a living.

সৎ ছিল সে জীবনের সায়াহ্ন পর্যন্ত৷ কিন্তু মন্দাবাজারে তারই চাকরি গেল এই অভিযোগে যে সে অসৎ। অতএব এই অসৎ পরিবেশে সৎ থাকার দায় অনেক। অতএব অসৎ হও।

–For 35 years I have used them honestly. After that nobody wanted them. So I am forced to go to business for myself,….  business is a ruthless business.

এহেন ভার্দুও ধরা পড়লেন। কেননা যুদ্ধের পর মোনোপলি ওয়ার্লডে না ঢুকে- একা ব্যবসা করেছেন- তাঁর কোনো গিল্ড নেই – তাঁর কোনো চেম্বার নেই- তাঁর কোনো হাউস নেই – কার্যত তাঁর কোনো ক্যাপিটাল নেই- কেবল বুদ্ধির মূলধনে সে ধনবাদী শ্রেণির ট্যাকট ও ইন্টেলেকট অ্যাকোয়ার করে কিছু করে খাচ্ছিলেন। যেহেতু তিনি নিঃসঙ্গ, তাই ধরা পড়লেন। অর্থাৎ যে পেটিবুর্জোয়া বুর্জোয়া হতে চাইবে সে ধরা পড়বেই।

এবং সে, মঁসিয়ে ভার্দু, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করল, এখন ব্যবসা মাত্রই পরের ধনে পোদ্দারি, এবং ক্রেতা হত্যা না করলে বিক্রেতার চলে না, হত্যা কাঁচামালের অধিকারীদেরও করতে হয় এবং That’s the history of many, a big business war, conflict- thats all business. One murder makes a villain, million a hero, numbers sanctify.

স্বীকার করতে দ্বিধা করল না ভার্দু যে এই হত্যা অর্থাৎ খুনে যে মুনাফা হয়, তাতে যে অপরিসীম আনন্দ জাগে, তার তুলনা নেই। বিশেষত বুর্জোয়ার এস্টাবলিশমেন্ট ও আনন্দ যদি পেটি বুর্জোয়ারও করায়ত্ত হয়- সে আনন্দ তুলনারহিত, নজির বিহীন। কেননা মধ্যবিত্ত কিছুই ছাড়ে না, বিনা পয়সায় পেলে জুতোর কালিও খায়। সে ধরা পড়ে বটে, যেহেতু সে মোনোপলি নয়, তবে ধরা পড়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে হ্যাপি। বিশেষত বুর্জোয়া প্রতিনিধি লোভী, বিকৃত, আচারসর্বস্ব মহিলাদের খুন করার আনন্দ অনির্বচনীয়। যদিও একজনকে খুন করা যায় না- সে সেই নারী আধুনিকতার নম্র সহচরী, সে কি করে যেন রেহাই পেয়ে যায়- সে বাড়ির কাজের লোককে হেনস্থা করে পদানত রেখেও তার কাছ থেকে তার শ্রমজাত আরামের সমস্তটাই আত্মসাৎ করে- সে পুরুষদের ঘোড়সওয়ারে পরিণত করার জন্য নিজে স্বয়ং ঘোড়া হয়- যাতে প্রকৃতির দাস পুরুষদের ফেলে দেবার হক কেবল তারই থাকে। সে জলে তার নিজস্ব প্রতিবিম্ব দেখে ভয়ে চিৎকার করে, ঐ দেখ জলে একজন। মনস্টার আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমাকে রক্ষা কর- পরক্ষণেই সম্বিত পেয়ে বুক খুলে বলে, my own reflection. সে বেঁচে থাকে যতদিন এই পচাগলা সমাজ, এই মোনোপলি হাউস বেঁচে থাকবে। ভার্দু তাকে খুন করতে পারে না। যেহেতু সে মোনোপলি নয়। শেষে ভার্দু মধ্যবিত্তসুলভ লোভ ছাড়তে পারে না। ফাঁসি কাঠে ঝুলবার আগে সে জানায় তার শেষ ইচ্ছা: just a minute, I never tasted Rum- Give me Rum.

এই রাম কি জার্মান তথা হিটলারের প্রতীক? অর্থাৎ পেটিবুর্জোয়ার স্বৈরতন্ত্রী হবার বাসনালোক।

তাই বলতে চাইছিলাম প্রথম থেকেই, মঁসিয়ে ভার্দু সেই মুহূর্ত- যার নাম লেনিন, মাইনাস ওয়ার্ক প্লাস ডিপ্রেশন- যার নাম আমি, মধ্যবিত্ত, জেগে যে ঘুমায়। যে দিবাস্বপ্নে শত্রুনিধন করে।

এবং আমাদের মধ্যে জেগে উঠতে চায় মঁসিয়ে ভার্দু। যার  কথাই হল: As for being a mass-killer, does not the world encourage it? Is not building the weapon of destruction for sole purpose of mass killing?

অতএব হত্যা বা হত্যা করার দিবাস্বপ্ন কি দুনিয়া জোড়া মোনোপলির ফলশ্রুতি নয়? এবং চ্যাপলিন, এই আপাত বীভৎস ছবি সম্পর্কে সবিশেষ সচেতন, তিনি সাংবাদিকদের উঁচু গলায় বলেন, To create pity, I had to create terror. Here you see the most terrible image that has ever crossed the screen and one of the most human.

প্রকৃতই মঁসিয়ে ভার্দু মানবিক, কেননা সে বলতে ছাড়ে না, যেহেতু হিংস্র সমাজে, সে বোঝে হিংস্র না হয়ে উপায় নেই- তাই সে বলতে ছাড়ে না – It is ruthless world. One must be ruthless to cope with.


বানান অপরিবর্তিত

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2454 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. উদয়ণ ঘোষের গদ্য আবার অনেকদিন পরে।যদি মনে রাখা যায় যে হলিউডের Un-American Activities Committee যা বকলমে হলিউডে কমিউনিস্ট আইডেন্টিফাই করার কমিটি তে অ্যাপিয়ার করার পরের দিনেই চ্যাপলিন মসিয়ে ভার্দু রিলিজ করেন খোদ ক্যাপিটালে মানে ওয়াশিংটনে । চ্যাপলিন জানতেন তো বটেই এরপর আমেরিকাতে তাঁর স্বস্তি বাড়বে না,তবু আইডেন্টিটি বিক্রি করার কথা তিনি ভাবেন নি।

আপনার মতামত...