মহামারি ও বের্টল্ট ‌ব্রেশ্‌ট্‌-এর গালিলেও

শুভেন্দু সরকার

 

খ্রিস্টপূর্ব বারো শতক থেকে আজ অব্দি মানুষ মহামারি দেখেছে বারবার। রোগের চিকিৎসা না-থাকায় নিশ্চিহ্নও হয়ে গেছে কোনও-কোনও দেশের পঞ্চাশ শতাংশর বেশি জনগণ। ঠিকই যে, সময়ের সঙ্গে পুরনো অনেক রোগের সমাধান বেরিয়েছে; কিন্তু নতুন অসুখও আবার দেখা গেছে। বলা বাহুল্য, মহামারির দিনগুলি খুব হতাশাজনক। নিরাপদে থাকার উৎকণ্ঠার মাঝে নিজের ও স্বজনের প্রাণ হারানোর আশঙ্কায় থাকা অত্যন্ত দুষ্কর। এই অসহায়তা বোধ অবশ্য মানবজীবনের অঙ্গ। কিন্তু এও সত্যি, এর পাশাপাশি আছে অবিচল অবস্থায় প্রতিকূলতার মোকাবিলা করার মানুষের ক্ষমতা; নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিতেও নিজের মর্যাদা বজায় রাখার মানসিকতা। এভাবেই মানুষ সর্বদা জুটিয়েছে বেঁচে থাকার রসদ, এগিয়ে চলার খোরাক। এই বিপন্ন সময় সে-কথা মনে করা খুব জরুরি। বের্টল্ট ব্রেশ্‌ট্‌ (১৮৯৮-১৯৫৬)-এর গালিলেও জীবন-এর পঞ্চম দৃশ্যটি এমন অদম্য মনোভাবের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেটি নিয়ে এখানে আলোচনা করব। মহামারি-কবলিত ফ্লোরেন্‌স্‌ এই দৃশ্যর পটভূমি।

নির্বাসনে থাকাকালীন, নভেম্বর ১৯৩৮-এ শুরু করে গালিলেও জীবনএর প্রথম পাঠ ব্রেশ্‌ট্‌ শেষ করেন ১৯৩৯-এর জানুয়ারিতে। সেখানে ছিল মোট চোদ্দটি দৃশ্য। গোড়া থেকেই গালিলেওকে নেতিবাচক চরিত্র প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিলেন ব্রেশ্‌ট্‌। সতেরো শতকে সমগ্র ইওরোপ জুড়ে যে বৈজ্ঞানিক চেতনার প্রসার ঘটে― যা ছড়িয়ে পড়ে খেটে-খাওয়া মানুষের মধ্যেও― স্রেফ ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যে সেই আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন গালিলেও। রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষর সামনে তাঁর নতিস্বীকারের ফলে বিজ্ঞান হয়ে পড়ল জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন; যুক্তির পরিবর্তে জনগণের মধ্যে জাঁকিয়ে বসল অন্ধ ধর্মবিশ্বাস। পরে গালিলেওর গবেষণা বা সাধারণভাবে পৃথিবীতে বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম এগোল ঠিকই, কিন্তু বেশিরভাগের মধ্যেই বৈজ্ঞানিক জীবনদর্শন গড়ে উঠল না; বিজ্ঞান আটকে থাকল নির্দিষ্ট একটি খোপে।

গালিলেও জীবন–এর দ্বিতীয় পাঠ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৪৪-৪৭)― যা তৈরি হয় অভিনেতা চার্লস লটন-এর সহায়তায়― ছিল প্রথম পাঠের তুলনায় সংক্ষিপ্ত। তবে সেখানে যোগ হল ১৯৪৫-এ হিরোশিমা-পরবর্তী পারমাণবিক যুগের বীভৎসতার প্রসঙ্গ। ব্রেশ্‌ট্‌ এবার বোঝালেন, গালিলেওর আত্মসমর্পণের জন্যে পরে বিজ্ঞানীরা জনগণের বদলে শাসকশ্রেণির সেবায় লাগলেন; কোনও আবিষ্কার ঘিরে তাঁদের উল্লাস পরিণত হল বিভীষিকার বিশ্বজনীন আর্তনাদে। গালিলেও প্রভাবশালী ছিলেন, তবু বিজ্ঞানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন তিনি।

গালিলেও জীবনএর তৃতীয় পাঠ (বের্লিন, ১৯৫৩-৫৬)-এ মার্কিন পাঠের পরিমার্জিত রূপ হাজিরের পাশাপাশি ব্রেশ্‌ট্‌-এর ইচ্ছে অনুযায়ী সেখানে ঢুকল প্রথম পাঠ থেকেও সামান্য অদলবদল করে বেশ কিছু অংশ। এবার আরও লম্বা হল গালিলেওর আত্মসমালোচনা। গালিলেও বললেন, তিনি যদি নিজের মতে অনড় থাকতেন, বিজ্ঞানীদের জন্যেও গড়ে উঠত চিকিৎসকদের মতো জনকল্যাণমূলক হিপক্রাতীয় শপথ। সেক্ষেত্রে পাল্টে যেত পরবর্তীকালের সব বিজ্ঞানীর যাত্রাপথ। উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন বামনের বংশ হয়ে যেতেন না তাঁরা; শাসকগোষ্ঠী তাঁদের ভাড়াও করতে পারত না।

কিন্তু ঘটনা হল, ব্রেশ্‌ট্‌-এর এত চেষ্টা সত্ত্বেও গালিলেওকে নেতিবাচক চরিত্র মনে করে না পাঠক/দর্শক। শেষ অব্দি গালিলেও বরং তাদের কাছে এক ধূর্ত ও নিরলস বিজ্ঞানী হিসেবে হাজির হন। নিজের মত প্রত্যাহার না-করলে পরে অন্তরীণ অবস্থায় সকলের চোখের আড়ালে আরও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা (দিসকোর্সি) চালানো ও তা ইতালির বাইরে পাচার করা― কোনওকিছুই সম্ভব হত না। তাই গালিলেওর নতিস্বীকারকে দুর্বলতা বা অপরাধ নয়, অন্ধকার যুগে বিজ্ঞানের অগ্রগতির স্বার্থে নেওয়া একটি কুশলী সিদ্ধান্ত বলে দেখা উচিত।

ব্রেশ্‌ট্‌-এর অন্য কোনও নাটকের ক্ষেত্রে যা হয়নি, গালিলেও জীবনএর বেলায় তা-ই ঘটল― নাট্যকারের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল না। এর মূল কারণ, গালিলেও এক ঐতিহাসিক চরিত্র; তাঁর জীবন নিয়ে নাটকে চার্চের কাছে নতিস্বীকারের পাশাপাশি প্রায় অন্ধ অবস্থায় জীবনের শেষদিনগুলিতে লুকিয়ে বিজ্ঞানের নতুন শাখা (গতিবিদ্যা) আবিষ্কারের ঘটনা রাখাও নাট্যকারের কর্তব্য। আর তা-ই তৈরি করল সমস্যা― প্রথামাফিক নাটকের (গল্প-উপন্যাসের মতো) শেষদিকটি বেশি গুরুত্ব পেল পাঠক/দর্শকের কাছে। গালিলেওর প্রতি নাট্যকার সহানুভূতিশীল― এমনটা মনে হল তাদের।

বহু পাঠক/দর্শক মনে রাখে না, এপিক থিয়েটারের আখ্যান সরলরেখায় কোনও তুঙ্গ মুহূর্তের দিকে এগোয় না; সেখানে প্রত্যেকটি দৃশ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, গোটা নাটকেই ছড়িয়ে থাকে নাট্যকারের মতামত। তাই গোড়ার চেয়ে শেষদিকের দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দিলে নাটকের প্রতি অবিচার হয়। এছাড়া, এও খেয়াল রাখার, গালিলেও জীবন পর্বে ব্রেশ্‌ট্‌ শিক্ষানাটক বা নাৎসিবাদ-বিরোধী পর্যায় পেরিয়ে দ্বান্দ্বিক-নাটক নিয়ে ভাবছিলেন (এ পর্বের আর-একটি নাটক, মা কুরাজ তাঁর সন্তানেরা)। এই নাটকগুলি অনেক বেশি জটিল, কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায় নানা পরস্পরবিরোধী দিক। তাই ব্রেশ্‌ট্‌-এর গালিলেও যেমন ইন্দ্রিয়পরায়ণ তেমনি বিজ্ঞান প্রসারেও নিবেদিত। টাকাপয়সা, খাবার আর মদের প্রতি কাঙালপনার সঙ্গে সঙ্গে নাটক জুড়ে মজুত থাকে গালিলেওর সত্যসন্ধানী ও নাছোড় মনোভাব।

মনে রাখা দরকার, গালিলেও জীবনকে কোনওমতেই ঐতিহাসিক নাটক বলা যাবে না। কিছু ঘটনা গালিলেওর জীবন বা সমসময় ঘটলেও নাটকের বেশিরভাগই ব্রেশ্‌ট্‌-এর কল্পনাপ্রসূত। নতুন চরিত্র পেশ আর ঐতিহাসিক চরিত্রদের অন্যভাবে হাজিরের পাশাপাশি এখানে ঐতিহাসিক কালক্রম পাল্টেছে আর পুরোপুরি কাল্পনিক ঘটনা ঢুকেছে। এদিক দিয়ে দেখলেও দৃশ্য ৫ আলাদা আলোচনার দাবি রাখে।

গালিলেও জীবনের দৃশ্য ৫-এ মহামারি দেখা দেয় ১৬১০ থেকে ১৬১৬-র মধ্যবর্তী কোনও এক সময়। ইতিমধ্যে দূরবীণ দিয়ে গালিলেও বৃহস্পতি, চাঁদ আর আকাশগঙ্গা পর্যবেক্ষণ করেছেন; কোপারনিকাস-এর প্রকল্পর সম্বন্ধে তাঁর প্রত্যয় বেড়েছে। ভেনিস (পাদুয়া)-এর উদার পরিবেশ ও প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছেড়ে গবেষণা আর বাড়তি অবসরের জন্যে ফ্লোরেন্‌স্‌ রাজ্য বেছে নিলেন তিনি। সাগ্রেদো ছিলেন প্রখর বাস্তববোধসপম্পন্ন ব্যক্তি; বন্ধুকে তিনি সাবধানও করলেন। কিন্তু গালিলেওর আশা, একবার দূরবীণে চোখ রাখলেই গ্র্যান্ড ডিউক-এর দরবারের সদস্যরা (যাঁরা ছিলেন সকলেই পণ্ডিত) মেনে নেবেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন-নতুন আবিষ্কার (যেমন বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করছে চারটি নক্ষত্র)। মানুষের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা আর যুক্তির ওপর এতটাই ভরসা ছিল তাঁর।

কিন্তু ফ্লোরেন্‌স্‌-এ ঘটল উল্টো ঘটনা। দুই সভাসদ― দার্শনিক ও গণিতজ্ঞ― কেউই দূরবীণে চোখ রাখলেন না; জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে আরিস্ততল-ই তাঁদের কাছে শেষ কথা। গালিলেও উপলব্ধি করলেন, এই বিরোধ আদতে পুরনো ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির, অজ্ঞতা ও জ্ঞানের, আপ্তবাক্য ও মুক্তচিন্তার। ফয়সালা না-হওয়ায় এ ব্যাপারে কলেজিয়ুম রোমানুম্‌-এর জ্যোতির্বিদ, ক্রিস্টোফার ক্লাভিউস-এর মতামত জানতে চাওয়া হল রোমে। গালিলেও বুঝলেন, তাঁর লড়াই অত্যন্ত কঠিন, বিরোধীরাও বেশ শক্তিশালী; তাই দরকার কোপারনিকাস-এর প্রকল্পর সপক্ষে পাথুরে প্রমাণ। সে-কাজেই মেতে রইলেন তিনি। আর তার মধ্যে দেখা দিল ভয়ানক মহামারি।

খেয়াল রাখতে হবে, নাটকে যে সময় মহামারি হয়, বাস্তবে তা ঘটে আরও পরে― ১৬৩০ থেকে ১৬৩৩ অব্দি। ততদিনে ইতিহাসের গালিলেও চারবার রোমে গেছেন। গালিলেওর বিরোধীর সংখ্যা কম ছিল না, তবু বহুদিন অব্দি চার্চের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রশ্রয় পেয়েছেন তিনি। এমনকি, তাঁর বৈজ্ঞানিক ভাবনাগুলির বেলাতেও জুটেছে চার্চের অনুমোদিত পণ্ডিতদের সমর্থন। তাঁকে এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় যে, কোপারনিকাস-এর তত্ত্বকে তিনি প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন, প্রমাণিত সত্য বলে নয়। কিন্তু ১৬১৬-য় সূর্য-কলঙ্ক নিয়ে দুটি লিখিত মন্তব্যর নিরিখে একটি শর্ত আরোপ করা হল গালিলেওর ওপর― কোপারনিকাস-এর তত্ত্ব সমর্থন করতে পারবেন না তিনি। সে বছরই কোপারনিকাস-এর বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করে চার্চ।

মজার ব্যাপার, প্রথমদিকে (১৬২৯)ডায়ালোগো–র খসড়া ছাড়পত্র পেয়েছিল গণিতজ্ঞ কাস্তেল্লি আর মুখ্য বিবাচক (সেন্‌সর) রিকার্দি-র। কিন্তু মুখবন্ধ আর বিষয়সূচি তৈরি করে সেটি শেষবার ঘষামাজার আগেই ১৬৩০-এর গ্রীষ্মে ফ্লোরেন্‌স্‌-এ দেখা দিল মহামারি। নতুন পরিস্থিতিতে স্থির হল, রোমে পাঠানো হবে মুখবন্ধ আর উপসংহারের অংশ, বাকিটা দেখবেন ইনক্যুইজিশন-এর স্থানীয় প্রতিনিধি, স্তেফানি। এই পর্ব ভালোভাবে মেটার পর শেষে ফেব্রুয়ারি ১৬৩২-এ ফ্লোরেন্‌স্‌ থেকে ছেপে বেরল ডায়ালোগো। কিন্তু আরিস্ততলপন্থী ও জেসুইট সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার জেরে পোপ অষ্টম আরবান (কার্ডিনাল বারবেরিনি― যিনি আগে ছিলেন গালিলেওর ওপর সদয়) বললেন, ডায়ালোগোয় ১৬১৬-র শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে; চালাকি করে চার্চের অনুমতি নিয়েছেন গালিলেও। সংশোধনের ইচ্ছে প্রকাশ সত্ত্বেও গালিলেওকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হল। রোমে পৌঁছে ইনক্যুইজিশনের সব সভ্যর উপস্থিতিতে তাঁর মত প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিলেন পোপ। জুন ১৬৩৩-এ গালিলেও সেই আদেশ পালন করেছিলেন।

ফ্লোরেন্‌স্‌-এ থাকাকালীন মহামারির সময় অথর্ব গালিলেওর দিনগুলি ছিল এককথায় বেদনাদায়ক। তাঁর ফুৎ-কারিগর সংক্রামিত হয়ে মারা যান। পরিষেবিকার কাছে নিজের সন্তানকে রেখে এক বছরের জন্যে গালিলেওর ছেলে ভিনচেনজো বউ নিয়ে চলে যান নিরাপদ আশ্রয়। মেয়ে ভার্জিনিয়া (যিনি আগেই সন্ন্যাসিনী হয়েছিলেন) তাঁর জন্যে পাঠাতেন সুস্থ থাকার নানা টোটকা। প্রথম বছরেই ফ্লোরেন্‌স্‌-এ ন হাজার মানুষের প্রাণ যায়। সংক্রমণ রুখতে মহামারি-কবলিত এলাকাগুলি বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া উপায় ছিল না। সংক্রামিত হলে বাধ্যতামূলক ঘরে বন্দি বা বিশেষ হাসপাতালে থাকতে হত। মৃত ব্যক্তিদের জন্যে বরাদ্দ ছিল গণকবর; সংক্রমণের ভয়ে পোড়ানো হত তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র। মুক্তির পথ না জানায় প্রার্থনাই তখন ছিল মানুষের সম্বল। এমনকি, ১৬৩৩-এ সন্ন্যাসিনীদের টানা চল্লিশ ঘণ্টা প্রার্থনা চালানোর নির্দেশও দেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। এরই ফাঁকে অবশ্য ভার্জিনিয়ার সঙ্গে মাঝেমধ্যে সাক্ষাৎ, রোমান চার্চের সঙ্গে যোগাযোগ আর ডায়ালোগো ছাপার কাজ তদারকি করছিলেন গালিলেও।

পোপ যখন আর অপেক্ষা করতে রাজি হলেন না, দূরত্ব, মহামারি আর অসুস্থতার দোহাই মানতে চাইলেন না, তখন জানুয়ারি ১৬৩৩-এ গালিলেওকে অগত্যা ফ্লোরেন্‌স্‌ ছাড়তে হল। চিকিৎসক দিয়ে গ্র্যান্ড ডিউক কোসিমো (যিনি ছিলেন প্রাক্তন ছাত্র ও আগাগোড়া গালিলেওর রক্ষাকর্তা) নিজের ডুলিতে তাঁকে পাঠালেন রোমে; গালিলেওর থাকার বন্দোবস্ত করলেন তাসকানি-র দূতাবাসে। এসময় রোগ-অন্তরণের জন্যে রোমের সীমান্তে চোদ্দ দিন কাটাতে হয়েছিল গালিলেওকে। ইনক্যুইজিশনের সামনে মত প্রত্যাহারের পর ফ্লোরেন্‌স্‌-এর কাছে আরচেত্রি-তে নিজের বাড়িতে গালিলেও ফেরেন ১৬৩৩-এর ডিসেম্বরে। সেখানে গৃহবন্দিত্বে কাটে তাঁর জীবনের শেষ ন বছর।

আগেই বলেছি, গালিলেও জীবন-এ ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকেননি ব্রেশ্‌ট্‌। এ নাটককে স্রেফ চার্চ-বিরোধী ভাবলেও ভুল হবে। রোমান ক্যাথলিক চার্চকে বরং কর্তৃপক্ষ (অথরিটি)-র প্রতিভূ বলে দেখতে/দেখাতে চেয়েছেন তিনি। ব্যাপারটি অন্য মাত্রা পায় দৃশ্য ১০-এ, যখন গালিলেওর আবিষ্কার ও তার বৈপ্লবিক আর্থ-সামাজিক তাৎপর্য ছড়িয়ে পড়ে জনতার মধ্যে। তাই ব্যক্তিগতভাবে গালিলেওকে সমর্থন করলেও চার্চ নামের প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিষ্ঠানের সামনে মাথা নোয়ালেন প্রথমে ক্লাভিউস, পরে পোপ অষ্টম আরবান। নাটকের নতুন-নতুন পাঠে যোগ হয়েছে নাৎসিবাদ ও তার বিরোধিতা, যাচাই করার মানসিকতা, যুক্তিনির্ভর বিশ্ববীক্ষা, পারমাণবিক যুগের ভয়াবহতা, সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যর মতো নানা বিষয়। এদিক দিয়ে দেখলে, ব্রেশ্‌ট্‌-এর গালিলেওর লড়াই ছিল অনেক ব্যাপক― তাঁর কাজ কোপারনিকাস-এর তত্ত্বর সমর্থনে প্রমাণ জোগাড়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মহামারির দৃশ্যে গালিলেওর লড়াকু মনোভাবকে এই নিরিখেই পড়া/দেখা উচিত। প্রসঙ্গত বলে রাখি, গালিলেও জীবন-এর সংক্ষিপ্ত অভিনেয় মার্কিন পাঠে এই দৃশ্যটি বাদ পড়েছে, যদিও লটন ও ব্রেশ্‌ট্‌― দুজনেই চেয়েছিলেন অভিনয় না হলেও দৃশ্যটি ছাপা বইতে যেন থাকে। আর-একটি কথা, প্রথম পাঠের দৃশ্য ৪-এর অঙ্গ ছিল চূড়ান্ত (বের্লিন) পাঠের দৃশ্য ৫ক; তারপর আলাদাভাবে আসে দৃশ্য ৫ (চূড়ান্ত পাঠের দৃশ্য ৫খ)। সেটি ঢুকেছিল একেবারে শেষ মুহূর্তে, ১৯৪৩-এ ৎসুরিশ প্রযোজনার আগে। বের্লিন পাঠে দৃশ্য ৫ক আবার সামান্য কাটছাঁট হয়।

দৃশ্য ৫খ-য় সম্পূর্ণ এক নতুন গালিলেওকে পেশ করেছেন ব্রেশ্‌ট্‌। তারই প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে আসে দৃশ্য ৫ক। সত্যান্বেষী মনোভাবের পাশাপাশি প্রথম থেকে গালিলেওর চালাকি ও আয়েসি স্বভাব পাঠক/দর্শকের নজরে এসেছে। কিন্তু দৃশ্য ৫ক-য় তিনি সেই ছাঁচ ভেঙে বেরিয়ে এলেন। বিপদ, এমনকি মৃত্যু, উপেক্ষা করে মহামারির সময় গালিলেও থেকে গেলেন ফ্লোরেন্‌স্‌-এ। গ্র্যান্ড ডিউক কোসিমো তাঁর জন্যে ঘোড়ার গাড়ি পাঠিয়েছিলেন― সহজেই বোলোগনা-য় চলে যাওয়া যেত। কিন্তু দরকারি বই আর কাগজ গোছাতে-গোছাতে তাঁর মনে হল, আরও দু-এক রাত পরীক্ষানিরীক্ষা না-চালালে তিন মাসের খাটনিই পণ্ড হবে। মরিয়া গালিলেও তাই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলেন― ভার্জিনিয়া, শ্রীমতি সার্তি আর আন্দ্রেয়া বরং বেরিয়ে পড়ুক তাড়াতাড়ি। গালিলেওকে দেখভালের জন্যে শ্রীমতি সার্তি অবশ্য রয়ে গেলেন। তাঁরও এক অজানা দিক ফুটে উঠল; কাল্পনিক এই চরিত্রটির দরদি মনোভাব দর্শক/পাঠকের মন ছুঁয়ে গেল।

গালিলেও: এখনও আছেন কেন এখানে? ছেলেমেয়েদের গাড়ি তো চলে যাবে!
শ্রীমতি সার্তি: ওরা চলে গেছে। ভার্জিনিয়াকে গাড়িতে আটকে রাখতে হলো। বোলোগনাতে ওদের দেখভাল করা হবে। কিন্তু এখানে আপনার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করবে কে?
গালিলেও: আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। রান্না করার জন্যে এই শহরে থাকছেন! (কাগজপত্র তুলে নিয়ে) শ্রীমতি সার্তি, ভাববেন না আমি বদ্ধ পাগল। এসব পর্যবেক্ষণ আমি ফেলে দিতে পারব না। আমার বিরোধীরা শক্তিশালী আর কিছু প্রকল্পর জন্যে আমায় প্রমাণ জোগাড় করতে হবে।
শ্রীমতি সার্তি: আপনার অজুহাত দেওয়ার দরকার নেই। তবে কাজটা ঠিক বিচক্ষণের মতো হল না।

দৃশ্য ৫খ-য় দেখা গেল গালিলেওর জীবনে সরাসরি মহামারির প্রভাব। জানা গেল, সংক্রামিত হয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি ছাড়ার সময় শ্রীমতি সার্তি মুখ থুবড়ে পড়েছেন রাস্তায়। সংক্রমণের খবর শুনলে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেবে গালিলেওর বাড়ি, তাই কাউকে না-জানিয়ে তিনি চলে গেছেন সকালবেলায় (প্রথম পাঠে অবশ্য শ্রীমতি সার্তি মারা যান)। দুধ-রুটি-জল কিছুই না-থাকায় গালিলেওকে আসতে হল দরজার বাইরে। আর সেই ফাঁকে ব্রেশ্‌ট্‌ মহামারির সামগ্রিক ছবি তুলে ধরলেন; দেখালেন, মানুষের পরস্পরবিরোধী দুরকম মনোভাব― স্বার্থপরতা আর সহযোগিতা। পথচলতি দুজন নান, একটি লোক আর এক মহিলা পড়শি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন, অন্যর বিপদকে তোয়াক্কা করলেন না।

মহিলা: (চিৎকার করে) তাড়াতাড়ি! ও বাড়িতে প্লেগ হয়েছে!
(লোকটি আতঙ্কে পালিয়ে গেল)
গালিলেও: আমার পরিচারিকার খবর কিছু শুনেছেন?
মহিলা: আপনার পরিচারিকা রাস্তার ওদিকে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ও নিশ্চয়ই বুঝেছিল। সেইজন্যে চলে যায়। কী অবিবেচক!
(দড়াম করে জানলা বন্ধ করে দিলেন)

এমন অ-সামাজিক মানসিকতাকে ব্রেশ্‌ট্‌ যে সমর্থন করবেন না― এ তো স্বাভাবিক। মহিলা আগে বলেছিলেন, গালিলেওর বাড়ি সংক্রামিত হয়েছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই তাঁর মত পাল্টাল। এবার যে তিনি নিজে বিপদে পড়েছেন!

মহিলা: (আবার জানলায় এসে) ঐ গলিটা পুরোটাই সংক্রামিত। আপনারা ওটা বন্ধ করছেন না কেন?
(সৈনিকরা দড়ি দিয়ে রাস্তা আটকালেন)
মহিলা: কিন্তু এমন করলে তো আমাদের বাড়িতেও কেউ আসতে পারবে না ! এদিকটা বন্ধ করার দরকার নেই। এ অংশটা ঠিক আছে। দাঁড়ান! দাঁড়ান! শুনতে পাচ্ছেন না? আমার স্বামী এখনও শহরে আছেন। তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন না। জানোয়ার!
(ভেতর থেকে তাঁর কান্না আর চিৎকার শোনা গেল)

অন্যদিকে, বৃদ্ধা পড়শির আচরণ অত্যন্ত মানবিক― দুর্দিনেও গালিলেওকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন নিজে থেকে।

গালিলেও: আপনি কি বাড়িতে একা?
বৃদ্ধা: হ্যাঁ। আমার ছেলে একটা চিরকুট পাঠিয়েছে। ভাগ্যিস, গতকাল রাতে ও খবর পেয়েছিল যে, ওখানে কেউ মারা গেছেন। তাই ও বাড়ি ফেরেনি। আমাদের জেলায় কাল রাতেই এগারোজন আক্রান্ত হয়েছেন।
গালিলেও: আমার পরিচারিকা যে সময়মতো বেরতে পারলেন না― তার জন্যে আমি নিজেকেই দোষ দিই। আমার কিছু জরুরি কাজ ছিল। কিন্তু ওঁর থাকার কোনও কারণ ছিল না।
বৃদ্ধা: আমরাও যেতে পারব না। কে আমাদের আশ্রয় দেবে ? আপনার নিজেকে দোষ দেওয়ার দরকার নেই। আমি ওকে দেখেছি। আজ সকালে চলে গেছে, সাতটা নাগাদ। নিশ্চয়ই নিজে অসুস্থ বোধ করছিল। যখন দেখল, আমি রুটি নিতে বাইরে আসছি তখন ইচ্ছে করে দূর দিয়ে চলে গেল। ও চায়নি আপনার বাড়ি বন্ধ হোক। কিন্তু ওরা ঠিকই টের পাবে।

গোটা দৃশ্য ৫-এ বারবার গালিলেওর নিরলস বৈজ্ঞানিক সত্তার ওপর জোর পড়েছে। ৫ক-তে মৃত্যুভয় সত্ত্বেও তিনি গবেষণাকে প্রাধান্য দেন; ৫খ-য় দেখা গেল দুর্ভোগের মাঝেও বহাল আছে তাঁর চরিত্রর অন্যতম দিক― পরিহাসবোধ। একইসঙ্গে জাগ্রত থাকে তাঁর বৈজ্ঞানিক চেতনা।

(একটি খট্‌খট্‌ শব্দ শোনা গেল।)
গালিলেও: ওটা কী?
বৃদ্ধা: যেসব মেঘের মধ্যে প্লেগের বীজ রয়েছে, আওয়াজ করে সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ওরা।
(গালিলেও অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন)
বৃদ্ধা: এসময়ও আপনি হাসছেন!

এরপর আসে এই দৃশ্যর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বোঝা যায়, যেহেতু গোড়া থেকে দেহকাতুরে গালিলেওকে দেখেছে পাঠক/দর্শক সেই হেতু প্রতিকূল পরিস্থিতেও তিনি যে লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারেন― তা ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠা করতে হয় ব্রেশ্‌ট্‌-কে। আন্দ্রেয়া (শ্রীমতি সার্তির মতো তাঁর ছেলেও কাল্পনিক চরিত্র) ফিরে এলে তাকে গালিলেও যা বললেন, তা থেকে পরিষ্কার হল, ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডি কতখানি ছাপিয়ে গেছিল তাঁর বৈজ্ঞানিক সত্তা। উদ্দেশ্যর নিরিখে বাকি সবকিছুই তখন তাঁর কাছে গৌণ। এও দেখার, গালিলেওকে এখানে যোগ্য সঙ্গত করে চলে আন্দ্রেয়া (মা-র অসুস্থতার চেয়েও তার কাছে বড় হয়ে ওঠে বিজ্ঞানচর্চা)। সত্য প্রতিষ্ঠা শিক্ষক ও ছাত্র― দুজনের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গালিলেও: পুরোটা পথ তুই হেঁটে ফিরলি? তোরা যাওয়ার পর তো তিনদিন কেটে গেছে।
আন্দ্রেয়া: হ্যাঁ অতটা সময়ই লাগল। আমার ওপর রাগ করবেন না। ওরা আমাকে একবার ধরেও ফেলেছিল।
গালিলেও: (অসহায়ভাবে) কাঁদিস নে। জানিস, তুই যাওয়ার পর আমি কয়েকটা জিনিস আবিষ্কার করেছি। তোকে বলব? (ফোঁপানোর মাঝে আন্দ্রেয়া ঘাড় নাড়ে) মন দিয়ে শোন, নাহলে বুঝবি না। মনে আছে, তোকে শুক্র গ্রহটা দেখিয়েছিলাম? ও আওয়াজে কান দিস না, ও কিছু না। মনে পড়ে? জানিস আমি কী দেখেছি? ওটা চাঁদের মতো! ওটাকে আমি আধখানা দেখেছি আবার একফালি অবস্থায়ও দেখেছি। এ ব্যাপারে তোর কী বলার আছে? গোটা জিনিসটা আমি তোকে একটা বাতি আর ছোট বল দিয়ে দেখাতে পারি। এতে প্রমাণ হয়, শুক্র এমন আর-একটি গ্রহ যার নিজের কোনও আলো নেই। আর ওটাও সূর্যর চারপাশে সরল বৃত্তে ঘুরছে। চমৎকার ব্যাপার, তাই না?
আন্দ্রেয়া: (ফোঁপাতে ফোঁপাতে) হ্যাঁ, আর এটা ঘটনা।
গালিলেও: (শান্তভাবে) আমি ওঁকে [শ্রীমতি সার্তি-কে] কখনও থাকতে বলিনি।
(আন্দ্রেয়া চুপ।)
গালিলেও: কিন্তু আমি এখানে না থেকে গেলে এটা হতও না।
আন্দ্রেয়া: ওদের এবার আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে। তাই না?
গালিলেও: যেসব প্রমাণ দরকার, তা পেয়ে গেছি আমি। তোকে বলছি, এসব [মহামারি] মিটলেই আমি রোমে যাব, ওদের দেখাব।

ব্রেশ্‌ট্‌-এর গালিলেও বরাবর বিজ্ঞান নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের ভাষায় (লাতিন ব্যবহারে ছিল তাঁর ঘোরতর আপত্তি) আলোচনা করেছেন। নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য― যার ফলে ঘটবে শোষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ― মানুষের মধ্যে চারিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

মহামারির সময় খাবার ও পানীয়র মতোই ব্রেশ্‌ট্‌-এর গালিলেওর কাছে জরুরি হয়ে ওঠে গবেষোণার সরঞ্জাম আর বইপত্র। মিলেমিশে যায় তাঁর অস্তিত্বর শারীরিক ও বৌদ্ধিক দিক। আঁকশির ডগায় রুটি নিয়ে এলে দুই মুখোশধারী কর্মীকে তিনি বলেন,

গালিলেও: কিন্তু আমার কাছে পানীয় কিছু নেই। বাড়িতে জল আর নেই। (দুজন কাঁধ ঝাঁকান) আপনারা কি কাল আসবেন?
একজন লোক: (চাপা স্বরে, কারণ মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা) কে জানে, কাল কী ঘটবে?
গালিলেও: যদি আসেন, তাহলে আমার কাজের জন্যে দরকারি একটা ছোট বই নিয়ে আসবেন?
লোকটি: (চাপা হাসি হেসে) যেন একটা বইয়ে কিছু পাল্টাবে! যদি রুটি পান তাহলে আপনার ভাগ্য!

এই গালিলেওকে আর যা-ই হোক ভিতু বা ইন্দ্রিয়-পরায়ণ বলা যাবে না। আসলে ব্রেশ্‌ট্‌ চেয়েছিলেন পাঠক/দর্শক তাঁকে দেখুক এক জটিল চরিত্র হিসেবে― তাঁর বিচার হোক সামগ্রিকভাবে। গালিলেওর ‘ঐতিহাসিক ভুল’ শনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁর লড়াকু বৈজ্ঞানিক মনোভঙ্গিকেও সকলে কুর্নিশ জানাক। এখানেই দৃশ্য ৫-এর প্রাসঙ্গিকতা।

ফ্লোরেন্‌স্‌ একদিন মহামারি মুক্ত হল। গালিলেও আবার নতুন উদ্যমে তাঁর অসমাপ্ত কাজ নিয়ে মাতলেন। তিনি একবার বলেছিলেন, সত্য নিয়ে বিজ্ঞানীর কারবার, কাজের ফলশ্রুতি নিয়ে তাঁর ভাবার কথা নয়। কোপারনিকাসের তত্ত্বর পক্ষে প্রমাণ খুঁজতে গিয়ে পরবর্তীকালে তাঁর কী পরিণতি হল― সে-প্রসঙ্গ আলাদা। তার বিশ্লেষণ করতে হবে নির্দিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে।

দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাসকে দেখলে বোঝা যায়, মহামারি বা অন্য কোনও নিয়ন্ত্রণহীন বিপদের ব্যাপ্তিকাল শেষ বিচারে সাময়িক। তাই হাজার কষ্ট হলেও, সে-সময় নিজের লক্ষ্যে স্থিরভাবে এগিয়ে চলাই কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন কাজ। মহামারি পেরিয়ে আরও বড় লড়াইয়ের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করা জরুরি। গালিলেও জীবন-এর দৃশ্য ৫-এ সে-শিক্ষাই দিতে চেয়েছেন বের্টল্ট ব্রেশ্‌ট্‌।

 

তথ্যসূত্র

  • Brecht, Bertolt. Life of Galileo. The Collected Plays. Vol. V. Part I. Trans. John Willett. Eds. John Willett and Ralph Manheim. London: Methuen, 1984.
  • The Galileo Project. http://galileo.rice.edu/galileo.html
  • https://en.wikisource.org/wiki/Galileo_(1918)
  • Bertolt Brecht। গ্যালিলেও গ্যালিলে । অনু. নীহার ভট্টাচার্য্য। গ্রন্থপ্রকাশ, তারিখ নেই।
  • রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য। বের্টল্ট ব্রেশ্ট্‌-এর গালিলেও-র জীবন। পুনশ্চ, ২০২০।
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2511 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...