অতিমারি ও মৃত্যু অথবা ফাটা আয়নায় মুখ দেখার আখ্যান

স্বপন ভট্টাচার্য

 


লেখক প্রাক্তন অধ্যাপক, নিবন্ধকার

 

 

 

কোভিড-১৯ এর সার্বজনীনতা অবিসংবাদিত। দুই গোলার্ধের ২০০ প্লাস দেশের ঘুম ছুটিয়ে দেওয়ার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও মানে হয় না। তার অশ্ব এখনও হই হই করে ছুটে চলেছে, থামার কোনও আশু সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আর মেধ তো দূর অস্ত! বিজ্ঞানীমহল বলছেন, এ থেকে যাবে এন্ডেমিক হয়ে, কাউকে ছাড়বে না। সত্যিই কি এই অতিমারি ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে একই মাঠে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে? একই সংক্রমণ, একই বিপর্যয়, একই মৃত্যুর হাতছানি আজকের এই বিশ্বে কীভাবে সম্ভব, যেখানে সম্পদের ভারসাম্য টানা রিকশার মত অসম— নধরকান্তি সওয়ারি চড়ে বসে আছে সিটে আর বেচারি রিক্সাওয়ালার পা দুখানি ভূমিলগ্ন রাখাটাই কঠিন? বরিস জনসনকে ভেন্টিলেটরে যেতে দেখার পর আর টম হ্যাঙ্কসকে সস্ত্রীক ভুগে উঠতে দেখে মনে হতেই পারে কেউকেটা হলেও রোগ কাউকে ছাড়ে না। যতবার পৃথিবীতে অতিমারি হানা দিয়েছে ততবার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজা মহারাজা আমির অমাত্যও কম মরেননি, ফলে, একটা বিশ্বাস বা অপবিশ্বাস যাই বলুন না কেন, তৈরি হয় সাধারণ্যে এইরকম যে, জীবাণুই হল সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সেই আয়না যেখানে হাল্লার রাজা আর হাল্লার প্রজা সবাইকে সমান দেখায়। সত্যিই কি তাই? এমনিতে কো-মরবিডিটির শর্ত তো আছেই। যারা অন্য রোগে ভুগছেন বা জরা গ্রাস করেছে যাদের তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি হবে, হচ্ছেও এবং সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু যাদের মধ্যে এসবের কিছুই নেই, দিব্যি সুস্থ ছিলেন কিন্তু কোভিডের সংক্রমণ জীবন দিয়েও রুখে উঠতে পারলেন না এমন মানুষদের মধ্যে মৃত্যুর হারে কি তারতম্য আছে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে একটু অতিমারিগুলোর ইতিহাসের দিকে তাকালে কেমন হয়?

 

ব্ল্যাক ডেথ

সংক্রমণঘটিত মৃত্যু যে সমাজের নিচের মহলকে সবচেয়ে আগে এবং সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত করবে এ যেন স্বতঃসিদ্ধ। এ কারণে “মারী নিয়ে ঘর করি”র মত নিয়তিবাদ আমাদের গল্পে, গাথায়, গানে অবাস্তব বলে মনে হয় না। আলব্যের কামুর ওরান শহরে প্লেগ যখন এল সত্যি সত্যিই তখন তার প্রথম ভিকটিম হল খিদমদগার মাইকেল। অতিমারির শুরু এরকম নীচের মহলের কাউকে দিয়েই হবে এই ন্যারেটিভ আমাদের প্রজন্মান্তরের অভিজ্ঞতায় জারিত। এই কারণে আমরা কোভিডের শুরুর শুরু খোঁজ করতে চিনের মাংসবিক্রেতার খোঁজ করব, ধারাভিতে হয়ে গেলে ভাবব এবার সারা মুম্বাই উজাড় হয়ে যাবে, ওয়াটগঞ্জ মেটিয়াবুরুজে হলে শঙ্কিত হয়ে পড়ব আর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম কেস ধরা পড়ার পরেই আওয়াজ তুলব— চট্টগ্রাম বাঁচাও। এগুলো রোগের ধরন আর রোগীর ভালনারেবিলিটির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে যুগসঞ্জাত ভাবনার প্রকাশমাত্র এবং ভেবে নেব এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই। সবাই সমান, কেন না সকলের নিয়তি সমান— এই ন্যারেটিভে ইতিহাস লিখিত হয় যখন সমাজের উঁচা মহল প্যাঁচে পড়ে। অতিমারির ইতিহাসে এই প্যাঁচে পড়া সকলে সমান বাণী বারবার উচ্চারিত হয়েছে, আজও যে হচ্ছে না তা নয়! মন্দির, মসজিদ গির্জার কোমল বা কঠিন হাত মাথায় পড়লে সব থেকে সংক্রমণপ্রবণ মানুষটি কিইবা আর ভাবতে পারে টুনটুনির কথা ছাড়া? ‘রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনির ঘরেও সে ধন আছে’— কোভিডের কাছে সব সমান, এই মধুবাক্যটুকুর উপর ভরসা করে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠান।

১৩৪৭ থেকে ১৩৫১ পর্যন্ত প্লেগ সংক্রমণে ইউরোপের ৬০ শতাংশ মানুষ মারা গিয়েছিল। জ্বর, বমি, রক্তবমি, স্ফীত লিম্ফ গ্রন্থি, কালো হয়ে ওঠা ত্বকের ক্ষত আর মাত্র তিনদিনের মধ্যে মৃত্যু— এই সব উপসর্গের জন্য এই অতিমারিকে বলা হত ব্ল্যাক ডেথ। এই সময়ের বিবরণ পাওয়া যায় ফরাসি কবি এবং ইতিহাসবিদ Gilles Li Muisis বর্ণিত ক্রনিকলে[1]। ফ্রান্সের পপুলেশন হাফ হয়ে যাওয়ার পরে ক্রনিকলার লিখছেন:

Neither the rich, the middling sort, nor the pauper was secure; each had to await God’s will.

ধনী, মধ্যবিত্ত অথবা দরিদ্র সর্বহারাগণ/ অপেক্ষা সকলের, কবে ভগবান ডেকে লন।

কবি বলে তো দিলেন, কিন্তু সত্যিই মৃত্যু এতটা সর্বজনীন ছিল কি? আজ থেকে সাতশো বছর আগে মৃত্যুতে বৈষম্য ছিল কিনা তা আজকে কীভাবে যাচাই করে নেওয়া যাবে? আক্ষরিক অর্থে শ্মশানে-মশানে ঘুরে অতীত খুঁড়ে বার করার কাজ করে জীববিজ্ঞানের যে শাখা তাকে বলে বায়োআর্কিওলজি বা প্রত্নজীববিজ্ঞান। আপালাচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির Gwen Robbins Schug প্রাচীন সমাজব্যবস্থায় স্বাস্থ্য ও অসাম্য নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। তাঁর মতে যে কোনও মহামারি বা অতিমারি সমাজে আগে থেকে উপস্থিত ফাটলগুলোকে, তাঁর ভাষায় Pre-existing fault lines-কে একেবারে হাট করে উন্মুক্ত করে দেয়। সমাজের দরিদ্রতর অংশ, সংখ্যালঘু এবং বৈষম্যকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকা মানুষজনের মৃত্যুহার অতিমারি-পূর্ব বা pre-pandemic কালে তাদের খাদ্য, বাসস্থান এবং চিকিৎসার সুযোগের উপরই যে নির্ভর করে তা এতাবৎকালের সমস্ত সংক্রমণজনিত বিপর্যয়ের সময় দেখা গেছে।[2] Sharon DeWitte এমনই একজন প্রত্নজীববিজ্ঞানী যিনি প্লেগ মহামারির বলি মানুষের কবর খুঁড়ে দেখার চেষ্টা করেছেন তাদের হাড়ে-গোড়-করোটিতে এই বৈষম্য কোনও প্রত্নলিপি লিখে রেখেছিল কী না! প্লেগ লন্ডনে ঢুকেছিল ১৩৪৮-এর গ্রীষ্মে। ইটালিতে, ফ্রান্সে মারণলীলা চালিয়ে ‘কালো মৃত্যু’ যখন লন্ডন শহরের দোরগোড়ায় তখন শহরের প্রশাসকরা সবথেকে আগে যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন সেটি হল শেষযাত্রার। ফলে বিরাট কবরখানা তৈরি হল যার নাম ইস্ট স্মিথফিল্ড সেমেটারি। ডি’উইট এই কবরখানা খুঁড়ে বার করা  কার্যত শত শত কঙ্কালের গড় উচ্চতা, গড়নে চাপ ও কষ্টের ছাপ, দাঁতের ক্ষয়, চোয়ালের কাঠিন্য এবং গড় বয়সের মত স্ট্রেস মার্কারগুলো দেখে অনুমান করতে চেয়েছেন ‘কালো মৃত্যু’তে বৈষম্য কোনও ছাপ ফেলেছিল কি না! ডি’উইটের গবেষণা বলছে, প্লেগ মৃত্যুর কম বেশি ২৭ শতাংশ ছিল ইংল্যান্ডের ধনী ভূস্বামী পরিবারের লোকজন আর ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ ছিল গরীব চাষি সম্প্রদায়। ডি’উইটের মডেল দেখিয়েছে ১৩৪৮-এর এই মৃত্যু আসলে তার পূর্ববর্তী দুটো শতাব্দীর সামাজিক বৈষম্যের প্রতিফলন। ইংল্যান্ডের মধ্যযুগের বিভিন্ন কবরখানা থেকে কঙ্কালের নমুনা নিয়ে কাজ করে শ্রীমতি ডি’উইট দেখেছেন ঠিক প্লেগের আগের শতাব্দীর সাধারণ মানুষেরা তার আগের দুই শতাব্দীর মানুষের তুলনায় খর্বকায় হয়ে গিয়েছিল, তাদের দাঁতের এনামেল ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক ক্ষয়প্রাপ্ত এবং তারা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে মারা যাচ্ছিল। এ সমস্তকিছুই দুশো বছরের অসম বণ্টনব্যবস্থা এবং অপুষ্টির নিদর্শন।[3] প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে মৃতের কঙ্কাল মৃতের শ্রেণির কথা ঘোষণা করছে বললে বিজ্ঞান কী বড় বেশি অনুমাননির্ভর হয়ে যাচ্ছে না? সেক্ষেত্রে দেখতে হবে প্লেগপূর্বকালের সমাজদলিলে তার কোনও সমর্থন আছে কি না? আছে তো বটেই! সেই সময়কার জমি হস্তান্তরের দলিল, জমির মালিকানা হারিয়ে ভাগচাষি বনে যাওয়ার ওকালতনামা এ সবই ডি’উইটের মতে ধনী দরিদ্রের জীবন, জীবিকা এবং পুঁজির বণ্টনে প্লেগ-পূর্ববর্তী শতাব্দীতে যে ক্রমবর্ধমান মাত্রাহীন বৈষম্য ছিল তার প্রতিফলন। এর ফলাফলই হল গোটা ইউরোপ জুড়ে নামহীন, পরিচয়হীন আম মানুষের কৃষ্ণ মৃত্যু— ব্ল্যাক ডেথ, অন্তেবাসীরাই ছিল যার মুখ্য বলি।

 

গুটি বসন্ত

এর চারশো বছর পরে গুটি বসন্তে আমেরিকার নেটিভ ইন্ডিয়ান আদিবাসীদের প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিজেই অতিমারির শ্রেণিভেদের একটি প্রায়োগিক মডেল। ব্রিটিশরা নেটিভ চেরোকি (Cherokee) ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে যে মডেল অবলম্বন করেছিল তা scorched-earth পলিসি নামে কুখ্যাত। অ্যাংলো-চেরোকি যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনারা প্রথমেই জ্বালিয়ে দিত চেরোকি-ভূমিতে মাঠের পর মাঠ পেকে ওঠা ফসল। অর্থাৎ গায়ের জোরে যুদ্ধ জেতার আগে ভাতে মারার ব্যবস্থা। এর ফলে অনাহারে অপুষ্টিতে ভোগা চেরোকি জীবনে অভিশাপের মত নেমে এল বসন্ত মহামারি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নবিজ্ঞানী মাইকেল উইলকক্স[4] নিজেই একজন নেটিভ আমেরিকান বংশধর। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে জমি জ্বালিয়ে দখলদারি আর মিশনারিদের যৌথ আঁতাত ইন্ডিয়ান জনগোষ্ঠীকে প্রায় নিঃশেষ করে দিয়েছিল। জমি জ্বলিয়ে উৎখাত করে দেওয়া ইন্ডিয়ানদের আশ্রয় দিত চার্চ। তাদের সেখানে না গিয়ে উপায়ও ছিল না। একে অপুষ্টিতে ভোগা শরীর তার উপর চার্চের আশ্রয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দাসসুলভ জীবনযাত্রা আর হাড়ভাঙা খাটুনি তাদেরকে রোগজীবাণুর আঁতুড়ঘর করে তুলেছিল। ফ্লোরিডার স্প্যানিশ মিশনে চিরশায়িত স্মল পক্সের নেটিভ আমেরিকান ভিকটিমদের কঙ্কাল ডি’উইটের পদ্ধতিতে যাচাই করে দেখা গেছে অতিমারি মুখ্যত তাদেরই প্রাণ নিয়েছে যাদের কঙ্কালে এই কষ্টের চিহ্নগুলি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। এর পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ভ্যালির আওয়ানিচি (Awahnichi) গোষ্ঠীর রেড ইন্ডিয়ানদের অবস্থা ও পরিণতি দেখা যেতে পারে। চেরোকিদের মত নয়, এরা ছিল প্রধানত হান্টার-গ্যাদারার প্রকৃতির— শিকার ছিল এদের খাদ্যের মুখ্য উৎস। ক্ষেত জ্বালানো পলিসি এদের তেমন কাবু করতে না পারলেও সাদাদের সংস্পর্শে আসার দরুন এবং ক্ষেত থেকে উৎখাত হওয়া অন্য উপজাতির মানুষদের সঙ্গে কখনও কখনও আকস্মিক যোগাযোগ ঘটে যাওয়ার ফলে এরাও স্মল পক্সে আক্রান্ত হয়। শ্রীমতি ক্যাথলিন হাল (Kathleen Hull) যিনি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়ায় সঙ্গে যুক্ত নৃ-প্রত্নবিদ, ইয়োসেমাইটের আওয়ানিচি গোষ্ঠীর অস্ত্রশস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত গাছের বয়স মেপেছেন গুঁড়িতে তৈরি হওয়া বর্ষবলয় থেকে এবং জানিয়েছেন ১৮০০ সাল নাগাদ এই গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল বসন্ত মহামারিতে। মাত্র ৩০০ জনের একটা দলের মধ্যে ৯০ জনই যদি মারা যায় তাহলে বাকিদের টিকে থাকাই অসম্ভব, কিন্তু এদের গল্প একটা নতুন মোড় নেয় এরপর। উপত্যকা ছেড়ে এরা সরে যায় সিয়েরা নেভেডা পাহাড়ে এবং সেখানে কুটজাডিকা (Kutzadika) গোষ্ঠীর কাছে এরা আশ্রয় পায়। সেখানে শ্বেত সন্ত্রাস থেকে দূরে তারা পারস্পরিক বিবাহসম্পর্কে আবদ্ধ হয় এবং দু দশক পরে যখন তারা ইয়োসেমাটে ফেরে তখন তাদের গোষ্ঠীর পুনরুজ্জীবন ঘটেছে বলা যায়। শুধু খাদ্যাভ্যাসের স্বতন্ত্রতা এবং আরোপিত অসহায়তা কিভাবে চেরোকিদের সম্পূর্ণ অন্য পরিণতি এনে দিয়াছিল তা আমরা আরও দেখব এর পরের স্প্যানিশ ফ্লু অতিমারি কালে।[5]

 

স্প্যানিশ ফ্লু

This pesky flu’s all over town! And white and black and rich and poor are all included in its tour.

এই এক গোলমেলে ফ্লু, গোটা শহর জুড়ে বিচরণ তার। আর সাদা-কালো, ধনী বা দরিদ্র সবাই-ই তার সফরের আওতায়।

American Journal of Nursing[6]-এ ১৯১৯ সালে এমন একটা গদ্যকাব্য প্রকাশিত হয়েছিল বটে, কিন্তু ছশো বছর আগে কৃষ্ণ মৃত্যুর সময়ও যেমন ছিল, তেমনই এবারও কঠিন গদ্যকে চাপা দেওয়া হল বানানো বিলাপে। আওয়ানিচি অভিজ্ঞতা ছিল এক বিরল ব্যতিক্রম। অধিকাংশ জাতিজনগোষ্ঠীর হাল হয়েছিল চেরোকিদের মত। জমি হারিয়ে, ফসল হারিয়ে রোগে মরে গিয়ে তাদের অধিকাংশেরই জায়গা হয়েছিল মেপে দেওয়া সংরক্ষিত অঞ্চলে। ১৯১৮-র ইনফ্লুয়েঞ্জা অতিমারি যখন আক্রমণ করল তখন এদের আর যুঝে ওঠার ক্ষমতা ছিল না। লিসা স্যাটেন্সপিয়েল (Lisa Sattenspiel) হলেন ইউনিভার্সিটি অফ মিসৌরির একজন নৃতত্ববিদ। তিনি দেখিয়েছেন যেখানে ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বে মৃত্যুর হার ২.৫ থেকে ৫.০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল সেখানে কানাডা, আলাস্কার মত প্রত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকায় জাতিজনগোষ্ঠীর ইন্ডিয়ানদের মৃত্যুহার ছিল ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি। পরোক্ষে, আগের অতিমারির ধাক্কা এবং তা থেকে সৃষ্টি হওয়া অপুষ্টি, অনাহার, প্রথাগত খাদ্য ছেড়ে দয়ার খাবারের উপর নির্ভরশীল হওয়া এবং কার্যত অনির্দিষ্টকালের কোয়ারান্টাইন তাদের ভাইরাসের ল্যাবরেটারিতে পরিণত করেছিল। একটা সংরক্ষিত অঞ্চল নাভাজো নেশন (Navajo nation)-এর ডেটা নিয়ে লিসা দেখিয়েছেন যে স্প্যানিশ ফ্লু-র সময় সেখানে গড় মৃত্যুহার ছিল ১২.৫ শতাংশ এবং বলবার কথা এই যে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়েও আমেরিকার নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির পরেই যেখানে সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি তা হল নাভাজো নেশন।[7]

আমেরিকার কালো মানুষদের অবস্থা তখন কেমন ছিল?

১৯১৮-র আমেরিকায় সর্বস্তরেই চালু ধারণা ছিল যে ইনফেরিয়র রেস হবার দরুন কালো মানুষদের ইমিউনিটি কম। তারা যক্ষ্মায় বেশি ভোগে, ম্যালেরিয়ায় বেশি ভোগে, ডায়ারিয়ার শিকার হয় সহজেই এবং শিশুমৃত্যুর হারও অধিকতর। যদিও তখনও স্কারলেট ফিভারের মত ব্যাকটেরিয়া বাহিত সংক্রমণ এবং ক্যানসারে মৃত্যুর হার সাদাদের মধ্যেই বেশি, তবু ওই বায়োলজিক্যাল ইনফেরিওরিটির তত্ত্বে মোহর দিল প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানির একজন কুখ্যাত এবং ধুরন্ধর রাশিবিজ্ঞানী— ফ্রেডেরিক হফম্যান। ১৮৯৬-তে সে একখানা রিপোর্ট প্রকাশ করল Race Traits and Tendencies of the American Negro শিরোনামে, যাতে বলা হল জীবনযাত্রার ধরন নয়, বৈষম্য আসলে রক্তে— “not in the conditions of life, but in race traits and tendencies.”[8] সুতরাং আলাদা স্কুল, আলাদা হাসপাতাল, আলাদা পার্ক, আলাদা দোকান বাজার, আলাদা চার্চ কেননা আফ্রিকান আমেরিকানরা ছিল ‘ডিজিজ থ্রেট’। আটলান্টা বোর্ড অফ হেলথ তাদের ১৯০০ সালের রিপোর্টে জানাচ্ছে ‘নিগ্রো’দের মধ্যে মৃত্যুহার, সাদাদের তুলনায় যে ৬৯ শতাংশ বেশি সেও ওই বায়োলজিক্যাল কারণে। কালোদের মধ্যে যারা চিকিৎসক ছিলেন, যারা নার্স ছিলেন— তাদের কথা মেইন্সট্রিম মিডিয়ায় জায়গা পেত না। কালোদের কথা বলত কালোদের কাগজ। তারা বলতে চাইলেন ইতিহাসের দিকে দেখুন— মৃত্যুহার অস্বাস্থ্যের, অপরিচ্ছন্নতার, অশিক্ষার মত রোগগুলির সিম্পটম— গায়ের চামড়ার রং তা নির্ণয় করে না। কিন্তু এ যুক্তি শোনার লোক ছিল না, তাই কালো মানুষদের হাত ধরেই ১৯০০ থেকে বদল শুরু হয়েছিল কালোদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার। নিজেদের জন্য তারা উন্নততর হাসপাতাল বানাতে শুরু করলেন, বাচ্চাদের জন্য স্কুল। পরিচ্ছন্নতা শিক্ষার অঙ্গ বিবেচিত হল। কালোদের চার্চ থেকে কালো পাদ্রিরা ডাক দিলেন বদলের। এমনকি কালোরা নিজেদের জন্য আলাদা ইন্সিওরেন্স কোম্পানি গঠন করলেন। এর ফল পাওয়া গেল ১৯১৮-র অতিমারি মোকাবিলার সময়। খবরের কাগজ এই বদলে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ইতিহাসবিদ ভি পি ফ্র্যাঙ্কলিন বলছেন, ১৯১২ থেকে শুরু করে ১৯২০ পর্যন্ত কালে আফ্রিকান আমেরিকানদের জীবনচর্যায় শিক্ষিত করে তুলতে কালোদের কাগজ ‘ফিলাডেলফিয়া ট্রিবিউন’ অগ্রবর্তী ভূমিকা নিয়েছিল।[9] তবে, ১৯১৮-তে ফ্লু অতিমারির সময় এই কাগজেও প্রধান চর্চিত বিষয় ফ্লু ছিল না, কেননা সাধারণভাবেই দেখা যাচ্ছিল সাদারা মারা যাচ্ছে অনেক বেশি এবং কালো মানুষদের জন্য এটা নেহাতই একটা পাসিং ফেজ।

ইনফ্লুয়েঞ্জায় মৃত্যু ১৯১৮-র আগেও বিরল ছিল না। তখনও অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়নি, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং-এর কোনও সুযোগ ছিল না, ফলে ভাইরাল ফ্লু ছিল মারক সংক্রমণ। সাদারা যে সে রোগে বেশি মারা যাবে এটা অনুমান করার অবকাশও ছিল না, কেন না কার্যত তা হত না। ১৯১১ থেকে ১৯১৭ পর্যন্ত সময়কালে ইনফ্লুয়েঞ্জায় মৃত্যুর একটা হিসেব পাওয়া যায় মেট্রোপলিটান লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানির দেওয়া তথ্য থেকে।[10] তারা জানাচ্ছে এই সময়কালে ২০-৪৫ বয়সের স্ত্রীলোক এবং ২০-৫৫ বয়সসীমার পুরুষদের ফ্লু-তে মৃত্যুর হার কালোদের মধ্যে বেশি।

সুতরাং সাধারণ ধারণাই ছিল অতিমারি সে দেশের আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে মোটামুটি উজাড় করে দিয়ে চলে যাবে, কিন্তু হল উল্টোটা। বলা দরকার, ইনফ্লুয়েঞ্জা আজকের কোভিডের থেকে এই একটা বিষয়ে অন্য পাল্লায়। সে রোগে মারা যাচ্ছিল অল্পবয়সিরা অনেক বেশি। বয়স্কদের পূর্ববর্তী ফ্লু অ্যাটাকগুলো থেকে একটা ইমিউনিটি এসে গিয়েছিল বলেই মনে হয়, কিন্তু এত তাজা জোয়ান ছেলেমেয়ে মারা যাচ্ছিল যে ১৯১৭-র আমেরিকার গড় আয়ু ৫১ থেকে ১৯১৮-তে তা এসে দাঁড়াল ৩৯-এ, ভাবা যায়? দু বারের পুলিৎজার প্রাইজ বিজেতা লেখিকা জিনা কোলাটা শোনাচ্ছেন সাদা ওয়ার্ডের চিকিৎসক জনৈক ড. ভনের ভাষ্য— “Hundreds of stalwart young men in the uniform of their country, coming into the wards of the hospital in groups of ten or more. They are placed on the cots until every bed is full, yet others crowd in. Their faces soon wear a bluish cast; a distressing cough brings up the blood stained sputum. In the morning the dead bodies are stacked about the morgue like cord wood.” শত শত তরতাজা সবল যুবক দশ জনের এক একটা গ্রুপে আসছে, তাদের বিছানাগুলোয় শোয়ানো হচ্ছে, বিছানা ভরে গেলেও আবার আসছে, এসেই যাচ্ছে। তাদের মুখ নীলাভ আর তাদের কাশির সঙ্গে উঠে আসছে রক্ত মাখা কফ। সকালবেলায় তাদের মৃতদেহ সরিয়ে জমা করা হচ্ছে মর্গে যেন জ্বালানি কাঠ স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে।[11]

সুতরাং কালো মানুষ সংক্রমক রোগের সঙ্গে যুঝতে জেনেটিক্যালি অসমর্থ এ তত্ত্ব অন্তত ১৯১৮-র স্প্যানিশ ফ্লু অতিমারির পর আর খাটল না। এতদসত্ত্বেও, সামগ্রিকভাবে ওই সময়ে আমেরিকায় কালো মানুষদের মৃত্যুহার কিন্তু বেশিই রইল। এত মৃত্যুর পরেও ১৯১৮ তে প্রতি লক্ষে সাদারা মারা গিয়েছিল ৯২৮ জন আর কালোরা ১১২৩। বুঝতে অসুবিধে হয় না, অসাম্যের জিন ক্রোমোজোমে থাকে না, থাকে মনে আর সমাজব্যবস্থায়— আনইকুয়েল ব্লো, আঘাতের অসাম্য বা অসাম্যের আঘাত, সে যে নামেই ডাকা হোক না কেন তাকে।[12]

 

কোভিড-১৯

কুড়ি কুড়ির পৃথিবীর সঙ্গে একশ বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লু প্যানডেমিকের পৃথিবীর কোনও তুলনাই চলে না— এভাবে বলে এই প্যারাগ্রাফ শুরু করতে পারা উচিত ছিল, কিন্তু বলা যাচ্ছে কই? ল্যান্সেট (Lancet Respiratory Diseases) পত্রিকায় টোনি কিরবির বহুপঠিত একটি পেপারের কথা উল্লেখ করতেই হয়।[13] BAME (বেম)— এই অ্যাব্রেভিয়েশন ইংল্যান্ডে অল্পবিস্তর ব্যবহৃত হত বটে, কিন্তু করোনাকালে সে শব্দবন্ধ গ্লোবাল হয়ে গেল। ব্ল্যাক, এশিয়ান অ্যান্ড মাইনরিটি এথনিকস সংক্ষেপে বেম। NHS এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছিল তাতে দেখা যাচ্ছে ডাক্তার-নার্সেদের মধ্যে যারা কোভিডে মৃত তাদের ৬৩ শতাংশই বেম কমিউনিটির। ডাক্তারদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ আর নার্সদের মধ্যে ৭১ শতাংশই এই বেম জনগোষ্ঠীর। এই একই রিপোর্টে বলা হচ্ছে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত যে ৬৫৭৪ জন মানুষ সে দেশে ইনটেনসিভ কেয়ারে, তার এক তৃতীয়াংশ বেম গোষ্ঠীর, যদিও সমাজে তাদের জনসংখ্যার আনুপাতিক হার ১৩ শতাংশ মাত্র। ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটা রিপোর্টে বলা হয়েছে বেম জনগোষ্ঠীভুক্ত ডাক্তার-নার্সরা অনেক বেশি হারে রোগীদের মুখোমুখি হয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন সাদা ডাক্তারদের তুলনায়। ‘প্রেসারড’— এই শব্দটাই ব্যবহৃত হয়েছে তাদের বয়ানে। আর একটা কারণ যেটা উল্লেখিত হয়েছে সেটা ভেবে দেখার মত। বিএমএ বলছে যে ডিউটি অ্যালটমেন্টে বৈষম্যের কথা মাইনরিটি বা এথনিক গোষ্ঠীর ডাক্তাররা জানিয়ে ওঠার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার সাহসই পান না। ব্রিটেনের ইন্সটিটিউট অফ ফিসকাল স্টাডিস (IFS) ১ মে তারিখের রিপোর্টে[14] বলছেন, ব্রিটেনের কোভিড মৃত্যুর হার এথনিক মাইনরিটি অধ্যুষিত অঞ্চল থেকেই বেশি সন্দেহ নেই। উপরন্তু লক্ষ করার বিষয় হল এই যে মৃতদের গড় বয়স সাদাদের থেকে অনেকটাই কম, তাদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। বয়স, লিঙ্গ, মাসিক আয় ইত্যাদি সব কিছুকে হিসেবের মধ্যে এনে দেখা যাচ্ছে ব্রিটেনে সাদাদের তুলনায় কালোদের কোভিডে মরে যাবার সম্ভাবনা ৩.৫ গুণ বেশি, বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ২.৪১ গুণ, পাকিস্তান থেকে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ২.৭ গুণ এবং ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ১.৭ গুণ বেশি।[15] ল্যান্সেটে প্রকাশিত আমেরিকার হিসেব স্প্যানিশ ফ্লু-এর তুলনায় কালো মানুষদের পক্ষে অনেকটাই একপেশে। দেশের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হওয়া ৩৩ শতাংশই আফ্রিকান-আমেরিকান। নিউ-ইয়র্ক সিটির প্রতি লক্ষ অধিবাসীর মধ্যে কালোদের মৃত্যুহার ৯২.৩, হিস্পানিক বা ল্যাটিনোদের ৭৪.৩, সাদাদের ৪৫.২ এবং এশিয়ানদের ৩৪.৫। সেখানকার CDC রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে ল্যান্সেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কো-মরবিডিটি কালোদের মধ্যেই নাকি বেশি, তারা মোটা বেশি, তাদের রক্তে চিনি বেশি, হৃদয় দুর্বল এবং ধূমপানের অভ্যেস বেশি। একই সঙ্গে ইতি গজ-র মত উল্লেখিত হয়েছে তাদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাস, অল্প পয়সার চাকরিতে গাড়ি না পোষাতে পারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, ‘সিক পে’ বলে কোনও বস্তু তাদের অধিকাংশের জন্যই বরাদ্দ নয় বলে অসুস্থতা নিয়ে যতদিন পারে কাজের জায়গায় যাতায়াত এবং তার ফলে সংক্রমণ চক্রের পৌনপুনিকতা ইত্যাদি।

এমন বৈষম্যের চিত্র দেশে দেশে। যেমন নরওয়ে। নরওয়েতে আশ্রয় পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় সব আফ্রিকান-এশিয়ান উৎসের লোক আছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে সোমালিয়া থেকে আগত মানুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার সে দেশের জাতীয় গড় মৃত্যুহারের তুলনায় দশ গুণ বেশি। সে দেশে কোভিডের প্রকোপ মোটেই মাত্রাছাড়া নয় এবং প্রতি লক্ষে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১৪০। সেখানে সোমালিদের মধ্যে এই হার প্রায় অবিশ্বাস্য ১৫৮৬ জন লক্ষপ্রতি। সারা বিশ্বে কোনও বিশেষ এথনিক গ্রুপের মধ্যে এর চেয়ে উঁচু হার বোধহয় পাওয়া যাবে না। আমাদের দেশে মাইনরিটিদের মধ্যে সংক্রমণ বা মৃত্যুহার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান, মানতেই হবে, অতি-সংবেদনশীল বিষয়, ফলে সেভাবে এখনও সামনে আসেনি, কিন্তু কোভিডের ফাটা আয়নায় মুখ দেখতে গেলে মুখ যে ভাঙাচোরাই দেখাবে তা দেখিয়ে দিচ্ছে ইতিহাস। মানুষের সাতশো বছরের ইতিহাস দেখিয়ে দিচ্ছে বর্ণ নয়, জাত নয়, জেনেটিক ভালনেরাবিলিটি নয়, অতিমারিতে মৃত্যু সমাজে ক্রমবর্ধমান অসাম্য আর সম্পদের বন্টনে ভারসাম্যহীনতার সিম্পটম। সিম্পটম স্বাস্থ্যে, শিক্ষায়, সমাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মঙ্গলচেতনায়, সংস্কৃতিতে এথনিসিটির ধারণাকে অপর ভাবায়। এই অপর বা ‘আদার’ শেষ পর্যন্ত যে নিজেই নিজেকে টেনে তুলতে পারে তার নজির তো স্প্যানিশ ফ্লু-এর আমেরিকায় কালোদের আমরা দেখলামই। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে শেষ করি। সেই নরওয়ের কথা। কোভিডে সোমালিদের মধ্যে অবিশ্বাস্য সংক্রমণহারের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গিয়েছিল এই অভিবাসীরা স্ক্যান্ডানেভিয়ান ভাষায় বর্ণিত হাত ধোয়া, স্যানিটাইজেশন, দূরত্ব রাখার নির্দেশাবলি বুঝতেই পেরে উঠছিল না, সুতরাং যা হবার তাই হয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই সচেতন মানুষেরা যখন থেকে এই নির্দেশগুলি তাদের মধ্যে গিয়ে, থেকে, পালন করে বুঝিয়ে এসেছেন তখন থেকে কিন্তু সোমালি মৃত্যু-হার নরওয়েতেও নেমে এসেছে। সুতরাং অতিমারিকে গ্রেট লেভেলার বললে একটা আত্মপীড়নের দায় এড়ানো যায়, এই পর্যন্ত, তার বেশি কিছু নয়।


[1] https://doi.org/10.1007/978-1-137-10349-9_5
[2] Lizzie Wade, Science 15 May 2020: Vol. 368, Issue 6492, pp. 700-703
[3] DeWitte, Sharon N. (2014) .The Medieval Globe: Vol. 1 : No. 1 , Article 6. Available at: https://scholarworks.wmich.edu/tmg/vol1/iss1/6
[4] https://books.google.com/books?hl=en&lr=&id=Vk5VBQAAQBAJ&oi=fnd&pg=PP1&dq=michael+wilcox+social+archaeology&ots=DZtX0fg-G9&sig=0LIyoTc_6Y9lkfBsrGULKLYcZ7I
[5] ক্রমিকসংখ্যা ২ দ্রষ্টব্য
[6] Am J Nurs 1919; 19:718.
[7] ক্রমিকসংখ্যা ২ দ্রষ্টব্য
[8] Hoffman FL. Race traits and tendencies of the American Negro. New York: American Economic Association; 1896. p. 5, 311-2.
[9] Franklin VP. “Voice of the black community”: The Philadelphia Tribune, 1912–41. Pa Hist 1984;4:264-5.
[10] Dublin LI, Lotka AJ. Twenty-five years of health progress. New York: Metropolitan Life Insurance Company; 1937. p. 129-31
[11] https.// twitter.com/ginakolata @ginakolata
[12] Elizabeth Wrigley-Fieldhttps://escholarship.org/uc/item/3pf7q9zm
[13] https://doi.org/10.1016/S2213-2600(20)30228-9
[14] https://time.com/5832807/coronavirus-race-analysis-uk/
[15]

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2524 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...