বেসরকারিকরণ না সম্পদ হস্তান্তর?

সুশোভন ধর

 


লেখক রাজনৈতিক কর্মী ও বিশ্লেষক

 

 

 

করোনা ভাইরাস ও তজ্জনিত সঙ্কট মোকাবিলার নামে ভারত সরকার যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা খতিয়ে দেখলে একটা কথাই বারে বারে কানে বাজছে— “Never let a good crisis go to waste”। এই উক্তির জনক ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (১৯৪০-৪৫ ) উইনস্টন চার্চিল। জোসেফ স্তালিন এবং ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের সঙ্গে আলোচনা ও জোট গঠন সম্পর্কে তিনি এই কথাগুলি বলেন। ১৯৪৩ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের সম্ভাবনা প্রকট হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ী পক্ষের এই তিন নেতা যুদ্ধোত্তর পৃথিবীর ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে একাধিক আলোচনায় বসেন। তেহেরান, ইয়াল্টা ও পট্‌সডামে তিনটি শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে তারা ঠিক করেন অক্ষশক্তির দখলে থাকা— মূলত ইউরোপীয় দেশগুলি— কোন অংশ কার হাতে আসবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বঘোষিত শত্রু, এই ব্রিটিশ রাজনিতিবিদ হঠাৎ স্তালিনকে কেন এত গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন, ইংরেজ সাংবাদিককুলের এই প্রশ্নের উত্তরে চার্চিল উপরোক্ত উক্তিটি করেন। অর্থাৎ, সঙ্কটের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনা  এবং তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা উচিত।

 

সংস্কার কর্মসূচি

নিঃসন্দেহে বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতা চার্চিলের এই উক্তি মাথায় রেখে চলেছেন। এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে এই লিস্টের সাম্প্রতিকতম সংযোজন তা তার কাজকর্ম থেকে পরিষ্কার। ভয়ঙ্কর এই অতিমারির ঠেলায় যখন গোটা দেশের সাধারণ মানুষের হাহাকার সশব্দে ফেটে পড়ছে; অন্নহীন-বস্ত্রহীন, জীবিকাহীন মানুষগুলোর মাথার ওপর ছাদটুকুও আগামী দিনে কতটা অটুট থাকবে তা নিয়ে সমাজে ভীতির সঞ্চার ঘটছে, সেই সর্বগ্রাসী বিপন্নতার সুযোগ নিয়ে মোদি সরকার তখন একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে যার পরিণামে সামাজিক সঙ্কট আরও বৃদ্ধি পাবে। আর্থিক অবস্থার অবনতির সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন চলছে বেছে বেছে বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে চলছে  শ্রম আইন শিকেয় তুলে রাখা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ক্রমাগত সুদের হার কমানোর মাধ্যমে বড় পুঁজির হাতে আরও বেশি বেশি করে কম সুদে অর্থ যোগান দেওয়া এবং সর্বোপরি ‘সংস্কার’ কর্মসূচির নামে বড় বড় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বেসরকারিকরণের ঘোষণা। নয়া-উদারবাদ প্রবর্তনের শুরু থেকেই লাভ-লোকসানের দোহাই পেড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও সরকারি সম্পত্তির বিক্রিবাট্টা তো চলছিলই। প্রশ্ন হল যে এই মুহূর্তে যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যে কোনও সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত তখন সবকিছু ছেড়ে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্ক, কয়লা ও অন্যান্য শিল্পের বেসরকারিকরণ নিয়ে আদাজল খেয়ে মাঠে নামলেন কার স্বার্থে? এবং, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী শিল্পোৎপাদন এবং বিনিয়োগের হার যেখানে গত বহু বছরের মধ্যে তলানিতে ঠেকেছে তখন এই সব রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলি উচিত মূল্য দিয়ে কারা কিনবেন? কোন উদ্দেশ্যে?

ভারত সরকার ১৩-১৭ মে বেশ কয়েকটি “সংস্কার” কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে যার মধ্যে অন্যতম সরকারি ক্ষেত্রের উদ্যোগগুলির (PSU) বেসরকারিকরণের অভিপ্রায়। এই সংস্কার কর্মসূচির পঞ্চম অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে সরকার শীঘ্রই বেসরকারিকরণের একটি নীতিমালা ঘোষণা করবে:

  • জনস্বার্থে কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারি মালিকানা রাখা দরকার তার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
  • কোন কোন ক্ষেত্রে কমপক্ষে একটি উদ্যোগ সরকারি হাতে রাখা হবে এবং তার সঙ্গে বেসরকারি পুঁজিকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হবে তার তালিকা দেওয়া হবে।
  • অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগগুলির বেসরকারিকরণ করা হবে (সম্ভাব্যতার উপর ভিত্তি করে সময় নির্ধারণ করা, ইত্যাদি)
  • অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলির সংখ্য কমিয়ে এনে এক থেকে চারের মধ্যে রাখা হবে। বাকি সমস্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ/একত্রীকরণ বা হোল্ডিং কোম্পানির আওতায় আনা হবে।

বেসরকারিকরণ এদেশে নতুন ঘটনা নয়, গত তিন দশকের ওপর ধারাবাহিকভাবে চলছে। গত বছর দুয়েক ধরে আমরা দেখছি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমানসংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণের চেষ্টা, অবশ্য কোনও সাফল্য ছাড়াই। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে “লোকসানের” অজুহাতে ঋণগ্রস্ত সরকারি মালিকানাধীন তথাকথিত দুর্বল ব্যাঙ্কগুলিকে অন্যান্য বড় ব্যাঙ্কের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। অনেকে বলছেন যে বেসরকারিকরণের প্রথম ধাপ এই জাতীয় একীকরণ। টেলিকম সেক্টরে বিএসএনএল এবং এমটিএনএল-এর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থাগুলিকে একই যুক্তিতে বেসরকারিকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদেশে বেসরকারিকরণের দরজা খোলা হয়েছিল এই বলে যে অলাভজনক শিল্পগুলিকে সরকার আর ভর্তুকি দিতে পারছে না। এই ভর্তুকি দিতে গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রবলভাবে ব্যহত হচ্ছে। তাই সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে ‘জনস্বার্থে’ অবিলম্বে এই জাতীয় সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণ প্রয়োজন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে সাতের দশকের শেষ দিক থেকে বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদ যে নয়া অর্থনৈতিক রূপরেখা আমাদের সামনে তুলে ধরেছিল— আদর্শগতভাবে নয়া-উদারবাদ ও পোশাকি নাম বিশ্বায়ন— তার মোদ্দা বিষয় ছিল মুক্ত (অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণহীন) বাণিজ্য, পুঁজির অবাধ চলাচল, পণ্য ও পরিষেবার বেসরকারিকরণ, শিল্প ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া, ট্রেড ইউনিয়নের অবলুপ্তি বা নিদেনপক্ষে তার ক্ষমতাহ্রাস, শ্রমিক-অধিকার দুর্বল করা, পুঁজির হাত শক্তিশালী করা, ইত্যাদি। এদেশের সংস্কার কর্মসূচি এই প্রস্তাবগুচ্ছ মেনে এবং তারই অংশ হিসাবে রূপায়িত হয়েছে।

তাই, অলাভজনক তত্ত্বের হাত ধরে বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া চালু হলেও ক্রমশ এই মত জোরালো হয়েছে যে ব্যবসা করা সরকারের কম্ম নয়। পরিষেবা প্রদান থেকে সরকারের বিরত থাকা উচিত। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষে কীভাবে, কখন এবং কেন সরকারি শিল্পের পত্তন ঘটেছিল এবং কোন প্রক্রিয়ায় দিনের পর দিন লোকসান ও ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝায় ডুবতে থাকা বেসরকারি শিল্পগুলিকে জাতীয়করণ করা হয়েছিল সেই ইতিহাসে এই মুহূর্তে যাচ্ছি না, প্রসঙ্গান্তর হতে পারে এই আশঙ্কায়। কিন্তু একথা মাথায় রাখা দরকার ভারতবর্ষের পুঁজিবাদী বিকাশের স্বার্থেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের পত্তন ও তার ক্রম-সম্প্রসারণ ঘটে। এবং পুঁজিবাদী বিকাশ পুঁজির মালিকদের স্বার্থেই ঘটে। যখন ব্যক্তি পুঁজির পায়ের তলার মাটি আলগা থাকে তখন রাষ্ট্র তাদের হয়ে মাঠে নামে পুঁজির পুঞ্জীভবন করতে, শিল্পের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে। এবং কালক্রমে জনগণের অর্থ ও শ্রমের বিনিময় তৈরি এই সম্পদ বেসরকারি হাতে জলের দরে তুলে দেওয়া হয়। পুঁজিবাদী বিকাশের দিকে চোখ রাখলে আমরা স্পষ্ট দেখব যে ঠিক একই ঘটনা, জগৎজুড়ে, বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে ও ঘটে চলেছে।

যাই হোক, ভারত সরকারের বেসরকারিকরণের এই পদক্ষেপে এদেশের শিল্প-বাণিজ্যমহল খুশিতে ডগমগ কারণ বহু দেশি-বিদেশি বিজনেস গুরুর বহুদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষায় শিলমোহর দিয়েছে মোদি সরকার। এর সাময়িক প্রভাব পড়েছিল এদেশের শেয়ার-বাজারে। যেমন বহুদিন ধরে ধুঁকতে থাকা ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের শেয়ারের মূল্য ১৫ জুন অকস্মাৎ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আপার সার্কিট ছুঁয়ে ফেলে। এই আপার বা লোয়ার সার্কিট শেয়ার বাজারে খুব পরিচিত শব্দ। হঠাৎ করে একদিনে কোনও একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বিপুল বৃদ্ধি বা হ্রাস প্রতিহত করার ব্যবস্থাকে সার্কিট ব্রেকার বলা হয়। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের শেয়ার আপার সার্কিট ছোঁয়ার ফলে সেদিন ওই শেয়ার কেনাবেচা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যথায় ওই শেয়ারের দাম বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে ঠেকত তার কোনও সীমা নেই। বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ড্রাস্ট্রিস (সিআইআই)-এর সভাপতি উদয় কোটাক মন্তব্য করেন, এখনই বেসরকারিকরণ বা বিলগ্নিকরণের মোক্ষম সময়। শিল্প-বাণিজ্যমহলের অন্যান্য বড়-ছোট, বিভিন্ন কেষ্ট-বিষ্টুরা কেন্দ্রীয় সরকারকে ঢালাও প্রশংসায় ভরিয়ে দেয়। দক্ষিণ ভারতের এক বড় পুঁজিপতি, কর্নাটক সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী, এমআরএন গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান মুরুগেশ নিরানি মোদি সরকারের এই পদক্ষেপে উৎসাহিত হয় দাবি তোলেন যে সমস্ত কলকারখানাগুলিকে গ্লোবাল টেন্ডারের মাধ্যমে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে হবে।

 

‘আত্মনির্ভর’ ভারত

কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পরে মোদি সরকার কোনও ঢাকঢাক গুড়গুড় না করেই বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণ এবং পেট্রোলিয়াম, শিপিং কর্পোরেশন, কন্টেনার কর্পোরেশন-সহ অন্যান্য সংস্থাগুলির সরকারি মালিকানা কমিয়ে ফেলা ছিল তার অন্যতম অঙ্গ। কয়লা, খনিজ উত্তোলন, প্রতিরক্ষা, বিদ্যুতের মতো ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে চলতি করোনা সঙ্কটের সুযোগে সেই কাজটাই সেরে ফেলল কেন্দ্রীয় সরকার। লক্ষ্যণীয় হল ‘আত্মনির্ভর’ ভারতের হিড়িক তুলে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করার নামে আর্থিক প্যাকেজের ছলে বেসরকারিকরণের এই ঘোষণা। ১৭ মে সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের বচন, “নতুন আত্মনির্ভর ভারত দাঁড়িয়ে থাকবে পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইস পলিসির উপর। স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রে ও সরকারি ক্ষেত্রেও বেসরকারি ক্ষেত্রকে স্বাগত জানানো হবে।” দেশীয় আত্মনির্ভরতা বলতে আমরা এতদিন বুঝতাম আমদানি না করে দেশীয় উৎপাদনের বিকাশ ঘটানো। সেই লক্ষ্যে স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের একের পর এক সরকার আমদানি বিকল্প নীতি (Import Substitution Policy) গ্রহণ করে। এই অর্থনৈতিক নীতির ফলে একদিকে যেমন রফতানি করতে উৎসাহ দেওয়া হত অন্যদিকে আমদানির ক্ষেত্রে বহু বিধিনিষেধ থাকত। এবং সেই কারণেই এদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের এই বিপুল প্রসার। কিন্তু ১৯৯২ সালে তথাকথিত মুক্ত অর্থনীতি গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে এদেশের বিভিন্ন সরকার ওই নীতি বর্জন করে। এই ঢালাও আমদানির মাঝে ‘আত্মনির্ভর’ কথাটি আদতে একটি পরিহাস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প তুলে দিতে যে আত্মনির্ভরতার গীত মোদি-বাহিনী গাইছেন তা প্রহসনের দিক থেকে অভাগীর স্বর্গকে ছাপিয়ে যায়।

অতিমারির আগেই গত নভেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা ২৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত নেয় যার মধ্যে ছিল এয়ার ইন্ডিয়া, ভারত পেট্রোলিয়াম, ইত্যাদি। তবে এবারের আয়োজন সবকিছু ছাপিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত ৪২টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কথা আমরা জানতে পেরেছি যেগুলি হয় বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। চলতি আর্থিক বছরে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে ৯০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের টার্গেট রয়েছে সরকারের। বিক্রির তালিকায় রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার সহায়ক সংস্থা এআইএপিএসএল, বিইএমএল, স্কুটার ইন্ডিয়া, পবন হাংস, ভারত পাম্প কম্প্রেসার, সেলের সালেম ইস্পাত কারখানা, ভদ্রাবতী ও দুর্গাপুর ইউনিট, হিন্দুস্তান নিউজপ্রিন্ট, হিন্দুস্তান ফ্লোরো কার্বন, এইচএলএল লাইফ কেয়ার, সেন্ট্রাল ইলেকট্রনিক, ব্রিজ অ্যান্ড রুফ ইন্ডিয়া, ইত্যাদি। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে বিপুল সম্পদ বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং হাজার হাজার মানুষ কাজ হারাবেন।

ভারত সরকার ১৯৭৩ সালে কয়লা শিল্পকে জাতীয়করণ করেছিল। পরবর্তীকালে বেসরকারি খনিগুলো থেকে কয়লা উত্তোলন ও বিক্রিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। নরেন্দ্র মোদি এক ঘোষণায় এ নিয়ন্ত্রণ উঠিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন থেকে ৪১টি বেসরকারি খনি নিজ উদ্যোগে কয়লা বিক্রির নিলাম আয়োজন করতে পারবে। এর আগে সরকার কয়লা শিল্পে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই-এর  অনুমতি দেয়। প্রঙ্গত উল্লেখ্য যে ভারতে বর্তমানে নব্বই শতাংশ কয়লা উন্মুক্ত খনি থেকে উৎপাদন করা হয়। উন্মুক্ত খনি থেকে কয়লা তোলার খরচ সারা পৃথিবীতে গড়ে সাবেকি মাটির তলার খনির থেকে চারভাগের এক ভাগ। তবে মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ক্ষতি বহুগুণ বেশি। উন্মুক্ত খনির সংখ্যা যত বাড়বে তত উজাড় হবে হাজার হাজার গ্রাম, লক্ষ লক্ষ গাছ, বন্য প্রাণী তথা মানুষের জীবন জীবিকা। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে আমাদের প্রয়োজন কীভাবে ধাপে ধাপে কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির উত্তোলন ও ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা যায় কিন্তু সমস্ত জনমত অবহেলা করে ব্যক্তিগত পুঁজির স্বার্থে সরকার কয়লা উত্তোলন বাড়িয়ে যেতে চায়। দ্বিতীয়ত নতুন করে কয়লা খননের সঙ্গে বহু পরিবারের— বিশেষত আদিবাসী— মাথার ওপর উচ্ছেদের খাঁড়া ঝুলবে। নষ্ট হবে চাষের জমি, জল-জঙ্গল সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ যার ওপর আমাদের সমাজের দরিদ্রতম অংশ জীবন-জীবিকার কারণে ও সর্বোপরি জীবনধারণের জন্য নির্ভরশীল।

 

ঘুরপথে বিক্রি

বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া হিসাবে আরও একটা পদ্ধতি দীর্ঘদিন চালু আছে। ধাপে ধাপে সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবছর পরিকাঠামো উন্নয়নে যত টাকা খরচ করেন তার সিকি ভাগ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা সংস্থা এলআইসির থেকে। সরকার পরিকল্পনা করছে এই সংস্থাটিকে স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত করার। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এই বিশাল সংস্থার বেসরকারিকরণের পর্ব শুরু হবে। অতীতে আর্থিক অস্থিতিশীলতা থেকে সরকার ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাঁচাতে বহুবার মাঠে নেমেছে এই সংস্থা। লোকসানের গালগল্প এই বিমা সংস্থার ক্ষেত্রে খাটে না। ১৯৫৬ সালে এলআইসির সূচনাকালে তৎকালীন সরকার চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। সর্বশেষ খবর অনুসারে, ২০১৮ সালে উদ্বৃত্ত অর্থ হিসাবে এলআইসির ভাঁড়ারে গচ্ছিত আছে ৪৮,৪৩৬ কোটি টাকা। এই সংস্থা ভারত সরকারকে ২০১৮ সালে ২৪৪০ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। ভেবে দেখুন মাত্র পাঁচ কোটি টাকা অর্থ বিনিয়োগ করে সরকার এক বছরেই মুনাফা করেছে প্রায় ৪৮৮ গুণ অর্থ এবং এর আগেও বছরের পর বছর তারা এই পরিমাণে লভ্যাংশ পেয়ে এসেছে। এলআইসির ৩১.১১ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে এবং দেশের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত তারা ব্যয় করেছে ৩,৭৬,০৯৭ কোটি টাকা। এর আগে এই সংস্থা আইডিবিআই ব্যাঙ্ক, ওএনজিসি এবং অনেক আর্থিক সংস্থাকে আর্থিক সঙ্কটের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এবং অনেকগুলি কর্পোরেট সংস্থাকেও উদ্ধার করেছে।

এলআইসির ওপর এই ‘আক্রমণ’ কোনও বিচ্ছিন্ন কার্যকলাপ নয়। জাতীয় সম্পদগুলি ব্যক্তি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার বড় পরিকল্পনার অংশ, একটি নীলনকশা। ভারতের বৃহত্তম আর্থিক নিয়ন্ত্রক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং সেবি-আইআরডিএআইয়ের মতো অন্যান্য বড় বাজার নিয়ন্ত্রকদের স্বায়ত্তশাসন ঠান্ডা মাথায় হ্রাস করা হচ্ছে। সরকারি মদতে ব্যাঙ্কগুলির টাকা লোপাট করে প্রথমে তাকে দুর্বল করা হচ্ছে যাতে “অদক্ষতা” ও “লোকসান”-এর অজুহাতে তা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া যায়। আর আপনি এসবের বিরুদ্ধে কথা বলবেন? জনমত গঠন করবেন? না, এ কাজে যাতে আমরা অগ্রসর না হতে পারি সেই লক্ষ্যে তথ্য জানার অধিকার আইন সংশোধনের মাধ্যমে আমাদের ফোকলা করে দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও যদি আপনি হাল না ছাড়েন তাহলে যেনতেনপ্রকারেণ আপনার মতামতের অধিকার বা বিরোধী মত রাখার অধিকার বন্ধ করা হবে। মাথায় রাখবেন, ইতিমধ্যে, ইউএপিএ সংশোধনী বিলটি সংসদে পাশ হয়েছে যার ফলে ভিন্নমত পোষণকারীর সম্পত্তি সরকার কেড়ে নিতে পারে। এর পরেও চুপ না করলে ‘শহুরে নকশাল’, ‘সন্ত্রাসবাদী’, ইত্যাদি তকমা দিয়ে জেলে পোরা হতে পারে। ‘দেশবিরোধী’ তকমা ও ইংরেজ জমানায় চালু হওয়া রাষ্ট্রদোহ আইন (Sedition Law) তো আছেই। সন্দেহ নেই, এই সমস্ত কিছু আমাদের ‘আত্মনির্ভর’ করে তুলবেই।

 

বেসরকারিকরণের মূল্য

করোনা অতিমারি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে যে স্বাস্থ্য-পরিষেবাকে ব্যবসায় পরিণত করার জন্য কত বড় মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এই নিঃস্বতার প্রধান কারণ সঠিক সামাজিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার অনুপস্থিতি এবং উন্নততর ও আদর্শ পুঁজিবাদী প্রয়োগ হিসাবে গণ্য নয়া-উদারবাদের হাতে আমাদের জনপরিষেবাগুলি কার্যত লোপাট হয়ে যাওয়া। ভারতে এই মুহূর্তে ৬ লক্ষের ওপর মানুষ আক্রান্ত ও প্রায় ১৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন করোনা আক্রমণে। বিগত তিন দশক ধরে একের পর এক সরকারি নীতি সমাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপরিষেবাকে মুনাফা-চালিত ব্যবসায় পরিণত করেছে, নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের বিপন্নতার সুযোগ নিয়ে মুনাফা অর্জন করেছে, মানবিক সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের বদলে অনটন ও অনিশ্চয়তার পৃথিবী উপহার দিয়েছে এবং সর্বোপরি সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবে সারা পৃথিবী জুড়ে জনপরিষেবাকে জাতীয়করণ করার আওয়াজ উঠছে। দেশে দেশে মানুষ যেখানে বেসরকারিকরণের নীতি প্রত্যাখ্যান করছেন আমাদের সরকারের এত তাড়া কীসের?

২০১৮-১৯-এর পাবলিক এন্টারপ্রাইজ সার্ভে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প নিয়ে চালু বাজারি গল্প ও মিথ্যার বেসাতি ফাস করেছে।  এই রিপোর্ট অনুসারে ২৪৯টি চালু সংস্থার মধ্যে ১৭৯টি লাভজনক এবং মাত্র ৭০টি লোকসান করছে। শীর্ষ ১০টি অলাভজনক সংস্থা মোট লোকসানের ৯৯.০৪ শতাংশের জন্য দায়ী এবং অন্যান্য ৬০টি সংস্থার দায় ৫.৯৪ শতাংশ।  স্টেট ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া, এমএসটিসি এবং চেন্নাই পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিগত বছরে মুনাফা করেছিল। সেগুলি কেন এবং কিভাবে শীর্ষ দশ লোকসানকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে তার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।

নীচের সারণিটি থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে গত বছর যেখানে একাধিক বেসরকারি সংস্থা লোকসানের মুখ দেখেছে সেখানে শীর্ষ সরকারি সংস্থাগুলি বিপুল লাভ করেছে:

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা মোট লাভ (২০১৯)
ওএনজিসি ৬২,২৯৬.০৪ কোটি
ইন্ডিয়ান অয়েল ৪২,১১৩.৭৬ কোটি
এনটিপিসি ১৯,৯৮৯.২০ কোটি
পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন ১৯,৬২৪.৭৮ কোটি
ভারত পেট্রোলিয়াম ১৭,০৫৮.৫২ কোটি
কোল ইন্ডিয়া ১৩,৭৯২.৮২ কোটি
হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম ১২,৯৪৪.৫৪ কোটি
গেইল (ইন্ডিয়া) ৮,৪৫৪.৭৯ কোটি
পাওয়ার ফিনান্স কর্পোরেশন ৮,৪২৯.৯৫ কোটি
রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন ৭,০১০.৮৩ কোটি

সরকারি ও বেসরকারি, সমস্ত সংস্থা মিলিয়ে শীর্ষ লোকসানকারী সংস্থাগুলির মধ্যে কেবল দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আছে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং বিএসএনএল, যথাক্রমে ষষ্ঠ এবং সপ্তম স্থানে। বাকি সমস্ত স্থান অধিকার করে আছে বেসরকারি সংস্থাগুলি। আম্রপালি বিল্ডাররা যখন গ্রাহকদের ফ্ল্যাট সরবরাহ করতে পারেনি, সুপ্রিম কোর্ট সরকারি সংস্থা এনবিসিসি-র ওপর দায়িত্ব দিয়েছিল ওই প্রকল্প সম্পূর্ণ করে গ্রাহকদের হাতে ফ্ল্যাট তুলে দিতে। রিলায়েন্স যখন দিল্লির মেট্রো চালাতে ব্যর্থ হয়, তখন ডিএমআরসি এটি গ্রহণ করে লাভজনকভাবে চালায়। এয়ার ইন্ডিয়ার লাভজনক বিমান রুট এবং ওয়ার্কশপগুলি এর আগে বিক্রি করা হয়েছিল যা পরে ক্ষতির মুখে পড়ে। বেসরকারি ক্ষেত্রের ক্যাপটিভ কয়লা ব্লকগুলির উত্পাদন হ্রাস পাওয়ার ফলে সরবরাহের জন্য কোল ইন্ডিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। তথাকথিত অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল আসলে ক্ষতির জাতীয়করণ এবং লাভের বেসরকারিকরণ। জলের দরে সরকারি সংস্থা বিক্রি আসলে রিয়েল এস্টেট মাফিয়াদের পোয়াবারো। এর কুখ্যাত উদাহরণ হল মুম্বাইয়ের সেন্টোর হোটেল বিক্রি।

৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদের অধিকারী বিপিসিএল-এর মোট শেয়ারের ৫৩ শতাংশ মাত্র ৭৪ হাজার কোটি টাকায় হস্তান্তরিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার ২,৫০০ স্লট রয়েছে। এছাড়া ৩০টি দেশে বিমান চালানোর অধিকার আছে এই বিমান সংস্থার। এর আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চেষ্টা চলছে এই সমস্ত কিছু জলের দরে হস্তান্তর করার।

 

পড়তি মুনাফার হার

আসলে বিগত দিনে পুঁজিপতিদের মুনাফা করার হার ভয়ানক হ্রাস পেয়েছে। ভারতের ক্রমবর্ধমান কর্পোরেট ঋণ থেকে এই কথা পরিষ্কার। ইতিপূর্বে, অন্য একটি লেখায় এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছিল। একদিকে অতি-উৎপাদন, অন্যদিকে চাহিদার অভাব, এই দুইয়ের গুণফলে বিনিয়োগের ওপর মুনাফার হার ক্রমশ নিম্নমুখী।

ওপরের চিত্র থেকে পরিষ্কার যে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির নিরিখে ভারতের সব চেয়ে বড় ৫০০ বেসরকারি সংস্থার মুনাফার হার গত একদশকের ওপর সময় ধরে কিভাবে কমেছে। নরেন্দ্র মোদির শাসনকালে কর্পোরেটের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাদের জন্য ঋণ মকুবও। সিএনএ-নিউজ ১৮-এর তথ্য জানার অধিকার আইনে এক প্রশ্নের জবাবে কর্পোরেট ঋণ মুকুবের তথ্য প্রকাশ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। জানানো হয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৮ এই সময়ে মোট ২.১৭ লক্ষ কোটি টাকা কর্পোরেট ঋণ মকুব করেছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক। এই ধরনের ঋণ মকুব এবং ঋণ পরিশোধ না করার ফলে ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ রকেট গতিতে বেড়ে চলেছে। এবং অতিমারি ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে যে এই সমস্যা বাড়বে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

অন্যান্য ‘সংস্কার’ কর্মসূচির মতো বেসরকারিকরণ আদতে পুঁজিপতিদের জন্য মোদি সরকারের উপহার। সোজা রাস্তায় মুনাফা না করতে পারলে জলের দরে সরকারি সম্পদ বিতরণের মাধ্যমে তাদের সম্পদশালী করে তোলা উদ্দেশ্যেই ফাঁদা হচ্ছে ‘আত্মনির্ভরতা’র আষাঢ়ে গল্প। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাদের বার্তা দিতে চাইছেন যে তাঁর ওপর নির্ভর করলেই পুঁজিপতিরা নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে বৈতরণী হতে পারবে। সঙ্কট যত তীব্রতর হবে, চেষ্টা চলবে এই ধরনের বিভিন্ন পন্থা  অবলম্বন করে কীভাবে তাদের বিত্ত রক্ষা করা যায়।

অতীতে, নয়া-উদারবাদ এই কারণে সমালোচিত হয়েছিল যে তা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মানদণ্ডের দ্বারা পরিচালিত হয়ে “দক্ষতা” বা “প্রতিযোগিতা” বাড়ানোর আছিলায় সামাজিক ন্যায়বিচারের নৈতিকতা অগ্রাহ্য করতে চায়। তবে বর্তমান সময়ের ঘটনাক্রম থেকে একথা পরিষ্কার যে এই নয়া-উদারবাদী প্রকল্প কোনওরকম বিচারের মানদণ্ডের তোয়াক্কা করে না।

পুনশ্চ: সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ১০৯ রুটে ১৫১টি সুপার ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সঞ্চালনার ভার বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে চলেছে ভারতীয় রেল৷ আসলে এইভাবে তিলে তিলে পুঁজির হাতে আমরা সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যাচ্ছি।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2524 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. দশকের পর দশক ধ’রে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের সযত্ন তত্বাবধানে কুশলী শ্রমশক্তির প্রয়োগে যে-সব জাতীয় শিল্প তিলে তিলে গ’ড়ে উঠেছে, বেচারাম সরকারের অর্থলালসা একে একে তার সব কিছু কেনারাম শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। নবকরোনা দুর্যোগ এই দেশদ্বেষী সরকারের সামনে সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই দুরাচার বন্ধ করার কোন রাস্তা কি খোলা নেই?

আপনার মতামত...