গণতন্ত্রের সব কটি স্তম্ভই আজ বিপন্ন

সৌমিত্র দস্তিদার

 


লেখক গদ্যকার, প্রাবন্ধিক, তথ্যচিত্রনির্মাতা

 

 

 

কথা বলতে তিনি ভালবাসেন। অনর্গল বলে যান। তাতে সার কিছু থাক বা না থাক। তিনি এদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীল শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। তিনি হাসিমুখে যখন মনের কথা বলেন তখন আমরা জানতেও পারি না বিশাল এই দেশের কোথাও না কোথাও ঠিক এই মুহূর্তে খুন হয়ে যাচ্ছেন কোনও না কোনও সাংবাদিক। গত পাঁচ বছরে মহামহিমের রাজত্বকালে অন্তত চল্লিশ জন সাংবাদিক খুন হয়ে গেছেন। কম করে হলেও বাইশটি এফআইআরসহ পঞ্চান্নজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র এই মাস তিনেকের করোনাকালে। শাসকবিরোধী যেকোনও স্বরকেই চেপে দেওয়া এখন এদেশে দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আপাত-সাধারণ কারণেও সাংবাদিক হেনস্থা এখন যেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে এক নিষ্ঠুর খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাসক দলের অপছন্দের তালিকায় বিনোদ দুয়ার মতো প্রবীণ বিশিষ্টজন যেমন আছেন, তেমনি আছেন হিমাচল প্রদেশের অশ্বিনী সাইনি। মান্ডি জেলার এই তরুণ সাংবাদিকের ‘অপরাধ’ তিনি তাঁর নিজস্ব এক অনলাইন পোর্টালে জেলা আধিকারিকদের পরিযায়ী শ্রমিকদের রেশন না দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। অশ্বিনী বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে সাংবাদিকের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরকে বিষয়টি জানান। শুধু অভিযোগ জানিয়েই থেমে না গিয়ে তিনি আরও একটি দুর্নীতি সংক্রান্ত ভিডিও সেই পোর্টালে আপলোড করেন। আসলে ভারতের গণতন্ত্রের প্রতি প্রবল বিশ্বাসী অশ্বিনী নিশ্চিন্ত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী অবধি যখন বিষয়টি পৌঁছেছে তখন তাঁর এই এক্সক্লুসিভ নিউজের জেরে দুর্নীতিপরায়ণ আমলাদের শাস্তি হবেই। আর প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বা নির্দেশে কিছুদিন বাদে আচমকাই একটা নয়, আরও পাঁচ-পাঁচটা এফআইআর করা হল অশ্বিনী সাইনির বিরুদ্ধে। এরপর নানা অজুহাতে তাঁর গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হল। অশ্বিনীকে আলাদা আলাদা মামলায় জড়ানো হতে লাগল।

অশ্বিনীর দেশের সর্বশক্তিমানকে সরাসরি চিঠি লেখা সত্ত্বেও সুবিচার না পাওয়াটা হতেই পারে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা। হাজার ঝামেলায় ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশের কোন প্রান্তের কোন অজানা সাধারণ সাংবাদিক মেইল করে কী অভিযোগ করল, তা সবসময় খেয়াল রাখা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও কথাটা কিছুটা খাটে। হতেই পারে, এসব নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ অফিসার বা সরকারি আধিকারিকদের ক্ষমতার অপব্যবহার। এর জন্য এমন গেল গেল করার কোনও মানে হয় না।

কিন্তু মুশকিল হচ্ছে সরকারি লাউডস্পিকারের বাইরেও মিডিয়ার কিছু লোকজন এখনও এদেশে আছেন যারা নানারকম চাপ সত্ত্বেও এখনও কর্তাভজা হয়ে যাননি। এই প্রসঙ্গে কখনও কখনও কিছু পুরনো ঘটনা কেন জানি না হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে যায়। নরেন্দ্রভাই তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সবক শেখাতে সঙ্ঘপরিবারের নেতৃত্বে আহমেদাবাদে তখন গণহত্যা চলছে। সেসময় মিডিয়া মহলে একটা ঘটনা খুব আলোড়ন তুলেছিল। এক ফটো-জার্নালিস্টের ক্যামেরায় কীভাবে যেন গেরুয়া বাহিনীর তাণ্ডব, ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, ত্রিশূল দিয়ে লোক খোঁচানো— এইসব বীভৎস দৃশ্য ধরা পড়ে গেল। খবর পেয়ে পুলিশের বড়কর্তা তৎক্ষণাৎ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে তলব করলেন তরুণ ফটো সাংবাদিকটিকে। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাঁকে চা-টা দিয়ে অভিনন্দন জানালেন। বললেন, এমন সাহসী কাজের জন্য তাঁর আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া উচিত। চা শেষ হতেই অনুরোধ করলেন যে ক্যামেরাটি রেখে যেতে। তিনি জুনিয়রদের ছবি ধরে ধরে দেখাবেন এই অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। তরুণটি যা বোঝার বুঝে নিয়ে একটি কথাও না বলে চলে এলেন। সর্বভারতীয় চ্যানেলের সাংবাদিক বলে কিছুমাত্র দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে নিজের উপরওয়ালাকে পুরো বিষয়টি রিপোর্ট করলেন। সংবাদ চ্যানেলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীকে গোটা ঘটনা জানালেন। তাঁর চেষ্টায় দুদিন পর ক্যামেরা ফেরত এল। কোথাও কোন আঁচড়ও লাগেনি। কিন্তু তরুণটির আশঙ্কাই সত্যি হল। ভেতরে একটাও ছবি নেই। সমস্ত প্রমাণ লোপাট হয়ে গেছে। আজ সারা দেশে যখন সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক হামলা নেমে আসছে, তখন এরকম বেশ কয়েকবছর আগে বিভিন্ন সময়ে ধরে ঘটে চলা নানা দৃশ্য কোলাজের মতো চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

আমাদের একটা সাধারণ ধারণা আছে যে যখন নদী ভাঙন হয় তখন জলস্রোতে নদীর পাড় ভাঙে। বাস্তবে নদী ভাঙন হয় তলদেশ থেকে। তলার মাটি ক্ষয়ে যেতে যেতে একসময় আচমকাই জলের তোড় এসে আশপাশের গ্রাম, জনপদ, মানুষের ঘরগেরস্থালি তছনছ করে দেয়, তখন আমরা ভাঙন টের পাই। অথচ কবে থেকে যে তলদেশ ধ্বসছে, তা কেউ জানতেও পারে না। তাই একটা পিটিআই-কে অ্যান্টি-ন্যাশনাল তকমা দেওয়া বা বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা আসলে একটা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি নীতি, যা কোনওদিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। লকডাউনের সুযোগ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের মিডিয়া-নীতি পুরোপুরি ঔপনিবেশিক বৃটিশ শাসনকালকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ভাবের ঘরে চুরি করে কোনও লাভ নেই। খোলাখুলি বলতেই হবে আগে যেটুকু যা রাখঢাক ছিল, গণতন্ত্রের মুখোশ খুলে তা এখন পুরো বেআব্রু হয়ে গেছে। এদেশে সাংবাদিকদের পক্ষে সরকারের নীতির বিরোধিতা করার স্বাধীনতা আর নেই।

সরকারের নীতি কতটা স্বচ্ছ হবে তা নির্ভর করে যারা সেই নীতি নির্মাণ করেন, তাদের চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গির ওপরে। তাই আমাদের এখনকার শাসকদের ভাবনার হদিশ পেতে গেলে নাগপুরের থিঙ্কট্যাঙ্কদের লেখালিখির দিকে একটু আধটু নজর দিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে সঙ্ঘপরিবার ও তাদের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম আর যাই হোক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। মনে রাখবেন আজ যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনিই গুজরাত গণহত্যার পরে পরেই মুখ ফস্কে কিনা জানি না বলে ফেলেছিলেন রাস্তায় তো গাড়ির চাকার তলায় কুকুরের বাচ্চাও কখনও কখনও মারা যায়, সংখ্যালঘু মৃত্যুতে তিনি একইরকম ব্যথিত।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এখন অবধি যা গতিপ্রকৃতি, তাতে প্রধানমন্ত্রীর কোনও অতি বড় বন্ধুও বলবে না যে দেশের গণমাধ্যমকে তিনি শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখনও অবধি নরেন্দ্রভাই যতটা পেরেছেন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেছেন। প্রেস কনফারেন্স করার রেকর্ড প্রায় নেই বললেই চলে। স্পষ্টতই উনি প্রেসের মুখোমুখি হতে চান না। হতে পারে, একসময় বিখ্যাত সাংবাদিক করণ থাপারের নানা চোখা প্রশ্নে ব্যতিব্যস্ত ও ক্ষিপ্ত হয়ে কীভাবে তিনি স্টুডিও থেকে পালিয়েছিলেন, সে দৃশ্য আজও তাঁকে অবচেতনে তাড়া করে ফেরে।

আজ পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে বিনোদ দুয়ার মতো সিনিয়র জার্নালিস্ট সুপ্রিম কোর্টের কাছে এক আবেদনে জানতে চেয়েছেন যে কোন কোন কারণে সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারে তা আগাম জানিয়ে দেওয়া হোক। বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। হরিয়ানা সরকার অতি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল রাষ্ট্রের পরম ‘শত্রু’কে হেনস্থা করতে। আপাতত তিনি বেঁচে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। কিন্তু মোদি সরকার যেভাবে গণতন্ত্রের আর এক স্তম্ভ কোর্টকেও কব্জা করতে সক্রিয় হয়েছে, তাতে সেও কতদিন স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

বারেবারে একটা কথা বলি যে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যে আমরা রাষ্ট্র, দেশ ও শাসক দলকে এক করে ফেলি। ফলে শাসকদের কাজকর্ম, নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই আমাকে-আপনাকে দেশবিরোধী তকমা লাগিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। পিটিআই-এর মতো সরকার-অনুগামী সংবাদসংস্থাকেও ইতিমধ্যেই দেশবিরোধী বলে ট্যাগ লাগানো হয়েছে। তাদের ‘দোষ’ চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে তারা যে রিপোর্ট করেছে তা কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য প্রমাণ করেছে। মোদিজি যতই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুকে জড়িয়ে ধরুন না কেন, তিনি মার্কিন দেশের সংবাদমাধ্যমের যা ইতিবাচক দিক তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো উদার নন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কিন্তু এদেশে যতই রাফায়েল দুর্নীতি, একের পর এক মিগ বিমান দুর্ঘটনায় সেনা মৃত্যু হোক না কেন, তা নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্নই তুলতে পারবেন না। পাঠানকোট, পুলওয়ামা, বালাকোটের মিলিটারি অভিযান কতটা দেশের সীমানা রক্ষার তাগিদে আর কতটাই বা রাজনৈতিক কারণে— এই অপ্রিয় প্রশ্ন করা মাত্রই বিনোদ দুয়ার ওপরে আক্রমণ নামিয়ে আনা হল। আরও বিপদজনক বিষয় হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মিরের প্রশাসন তিপ্পান্ন পাতার যে ফতোয়া জারি করেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আটকাতে, তা হাল আমলে মিডিয়া সন্ত্রাসের বড় উদাহরণ। ফতোয়া টতোয়া বললে আবার সরকারের গোঁসা হতে পারে। তাদের বয়ানে এ হচ্ছে সরকারের মিডিয়া নীতি যা তৈরি করা হয়েছে একান্তই ‘দেশের স্বার্থে’। সেখানে রাখঢাক না করে বলা হয়েছে যে, কোন খবরটা ফেক, কোনটা অনৈতিক, দেশবিরোধী— তা সবটাই ঠিক করে দেবেন মহামান্য সরকার বাহাদুর। সরকারের গাইডলাইনের বাইরে কিছু বলা বা লেখা যাবে না। ইতিমধ্যেই গোটা কাশ্মিরে এই নীতির দোহাই দিয়ে প্রচারমাধ্যমের যাবতীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। একের পর এক সাংবাদিককে জেলে পোরা হচ্ছে। তথাকথিত সন্ত্রাসীদের নামে ঠান্ডা মাথায় যেভাবে এক প্রবীণকে খুন করে তার ছোট্ট নাতিকে বুকের ওপর উঠিয়ে ছবি তোলা হয়েছে— তা নিয়ে এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর অমানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে।

বিজেপি সরকার আবার ভীষণ রকম ‘বিজ্ঞানমনস্ক’। এক-একটা বিষয় তারা তাদের মতো করে নিজেদের গবেষণাগারে পরীক্ষা করে সফল হলে তবেই বাজারে আনে। না হলে পিছু হটে। আসামের ক্যা-এনআরসি সারা দেশে প্রয়োগ করতে গিয়ে সেভাবে সাফল্য আসেনি বলেই এখন তারা ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে। কিন্তু গুজরাটে হিন্দুত্ববাদী তাস সাফল্য দিয়েছিল বলেই সারা দেশকে তাদের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত হিন্দুরাষ্ট্রের পথে নিয়ে যেতে এমন সক্রিয় ভূমিকা তারা নিতে পারছে। ঠিক তেমনি কাশ্মিরের নয়া মিডিয়া নীতি হচ্ছে স্রেফ ঝাঁকি। সফল হওয়ামাত্র তারা বুক ফুলিয়ে সারা দেশে সংবাদমাধ্যমকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে তুলতে এ নীতির প্রয়োগ করবে।

কাশ্মিরে যে মিডিয়া নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে নিশ্চিন্ত থাকুন আগামী দিনে সারা ভারতে তা আসতে চলেছে। সরকারের অনুগত মিডিয়া ছাড়া কেউ অন্য ধরনের খবর করে আর পার পাবে না। আপনি মানুন অথবা নাই মানুন দেশে এখন অঘোষিত জরুরি অবস্থা শুরু হয়ে গেছে। এ এক সুপার এমারজেন্সি, যা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। একদিকে সরকার বিরোধী স্বর স্তব্ধ করতে গোটা দেশকে জেলখানা বানিয়েছে। অপরদিকে গণতন্ত্রের সবকটি স্তম্ভকে ভাঙতে চাইছে। সাংবাদিক থেকে মাননীয় বিচারপতি কেউই আজ আর নিরাপদ নন। কখনও হুমকি দিয়ে তাদের শায়েস্তা করা হচ্ছে, কখনও আবার লোভ দেখিয়ে, ঘুষ দিয়ে তাদের মুখ বন্ধের চেষ্টা চলছে। মিডিয়ার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া কোনও আলাদা বা আচমকা বিষয় নয়। দেশের বড় মিডিয়া হাউস যখন থেকে এক মালিকানা হওয়া শুরু হয়েছে তখন থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছিল ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে। তখন ঈশানকোণে যে কালো মেঘ জমেছে তা খেয়াল করিনি বলেই আজ মেঘে ঢাকা আকাশ দেখে আমরা চমকে উঠছি। ভারত আজ কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থের পক্ষে কাজ করে যাবে— এই চরম সত্যিকে বুঝতে না পারলেই বিপদ। যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করাও কোনও জনসেবা বা দেশপ্রেম নয়। এও এক বাজার দখলের প্রক্রিয়া। তা চিনের ক্ষেত্রেও যেমন ভারতের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই সত্যি।

এই নির্মম সত্যি সাধারণ মানুষ যাতে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে না পারে তার জন্য মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ সবার আগে দরকার— এ কথা  আমি-আপনি না বুঝলেও চিরকাল দেশে দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসকেরা ঠিক বুঝে নেয়।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2524 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...