ইতিহাসের সাথী কামাল লোহানী

মিলন কিবরিয়া

 


লেখক গদ্যকার, অনুবাদক; পেশায় চিকিৎসক

 

 

 

আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা, ধ্বংস আর মৃত্যুর বিভীষিকায় ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের স্বদেশভূমিতে অবরুদ্ধ ‘নিজভূমে পরবাসী’ কোটি কোটি মানুষ। কেবল নিজের প্রাণকে সঙ্গী করে ভিটে-মাটি, সহায়-সম্বল পরিত্যাগ করে ভিনদেশে কোটি শরণার্থী। জীবনকে নতুন করে পাবে বলে জীবন বাজি রেখে শত্রুর সঙ্গে মরণপণ লড়াইয়ে লক্ষ লক্ষ মুক্তিসেনা। আমাদের জাতীয় জীবনের সেই চরম দুঃসময়ে একটি মাত্র স্বপ্নই ছিল সবার অবলম্বন, মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেতে উন্মুখ জনতা। কিন্তু খবর পাবে কীভাবে, আসবে কোথা থেকে; আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে। খবর আসে মানুষের মুখে মুখে; আর আসে ইথারে ভেসে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে, উদ্দীপনা জাগায়, সাহস জোগায়, এগিয়ে নিয়ে যায়। দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রাম আর ত্যাগ, তিতিক্ষা, যন্ত্রণা, কষ্টের পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, ইথারে ভেসে আসে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের বিজয়ের খবর, আমাদের যুদ্ধ জয়ের সংবাদ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তাসম্পাদক কামাল লোহানীর উদাত্ত, ভরাট কণ্ঠে যুদ্ধজয়ের ঘোষণা মুক্তির আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দিল লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণ। কামাল লোহানী আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেন।

ইতিহাসের পথের পথিক কামাল লোহানী, ইতিহাসের সঙ্গেই তার পথচলা। ইতিহাসের সঙ্গে গড়েছেন সখ্য, ইতিহাস থেকেই নিয়েছেন জীবনের পাঠ। শৈশবে মাকে হারিয়েছেন মাত্র ৭ বছর বয়সে। বাবা তাকে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় ফুপুর কাছে পাঠিয়ে দেন। কারণ হিসাবে নিজের জবানিতে উল্লেখ করেছেন শৈশবের দুষ্টুমি ও দুরন্তপনার কথা। সেখানে স্কুল জীবনেই দেখেছেন তেতাল্লিশের মর্মান্তিক মন্বন্তর; ভাতের জন্য, একটু ফ্যানের জন্য অসহায়, নিরন্ন, ক্ষুধার্ত মানুষের আহাজারি আর মৃত্যু তার শিশুমনকে কাতর করেছে। দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক আর বিভীষিকা। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীভৎস রূপ দেখেছেন ছেচল্লিশের দাঙ্গায়। কেবলমাত্র ধর্মের নামে মানুষের নৃশংসতা, নারকীয় হত্যাযজ্ঞ দেখে ব্যথিত হয়েছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ধর্মীয় উন্মাদনার পাশবিক রূপ তাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় শাণিত করেছে। আমৃত্যু তা লালন করেছেন চিন্তা, চেতনা, আচরণে ও কর্মে।

দেশভাগের পর ১৯৪৮ সনে কামাল লোহানী পাবনায় ফিরে জিলা স্কুলে শুরু করলেন তার শিক্ষাজীবন। কিন্তু মাধ্যমিক পেরুনোর আগেই জড়িয়ে পড়লেন আন্দোলন-সংগ্রামে। নিজ জেলা শহরে গড়ে ওঠা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হল তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পাঠ। পরের বছরই তার ঠাঁই হল কারাগারে, মুসলিম লিগের কাউন্সিল অধিবেশনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র হত্যাকারী নুরুল আমিনসহ অন্যদের পাবনায় আগমনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে আরও অনেকের সঙ্গে প্রেপ্তার হলেন তিনি। পরের বছর ১৯৫৪ সনে আবার গ্রেপ্তার হলেন, এবার একুশে ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে গণজমায়েত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ‘অপরাধে’। এই বছরেই অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও বেশিদিন মুক্তজীবন যাপন করতে পারেননি।

পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি হলে রাজনৈতিক দমন পীড়নের শিকার হয়ে ১৯৫৪ সনের ১ জুন প্রেপ্তার হলেন কামাল লোহানী। এবারের কারাজীবন তার রাজনৈতিক জীবনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। রাজশাহী কারাগারে সহবন্দি হিসাবে পেলেন প্রখ্যাত বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নেতাদের।  কমরেড নগেন সরকার, জ্যোতিষ বসু, আফতাব আলী, আব্দুল জব্বার, ননী চৌধুরী, গোপাল সরখেল, সন্তোষ ব্যানার্জী, মহাদেব সিং, ডোমারাম সিং, ভবেন সিং, রূপনারায়ণ রায়, আলী আকসাদ প্রমুখের সংস্পর্শে এসে জীবনকে দেখার, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবনার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করলেন। তাদের কাছে জানলেন মার্ক্সবাদ আর  সমাজতন্ত্রের কথা, মানুষের মুক্তির কথা। শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কারাগার থেকে বের হলেন অন্য এক কামাল লোহানী। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নই এখন তাঁর লক্ষ্য, সেই পথ থেকে বিচ্যুত হননি কখনও।

মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিবার থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হলেন; চাচা পরামর্শ দিলেন, রাজনীতির ‘পোকা’ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে। রাজনীতি যদি করতেই হয় তবে লেখাপড়া শেষ করে। ততদিনে তিনি ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে নিজেকে বদলে ফেলেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মোহ আর গতানুগতিক জীবনযাপনের লোভ থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন। প্রচলিত ইতিহাস পাল্টে নতুন ইতিহাস নির্মাণ তাঁর লক্ষ্য। সিদ্ধান্ত তার চূড়ান্ত, রাজনীতিই তার অভীষ্ট। দুই চোখে তার স্বপ্ন; সেই স্বপ্ন সমাজ বদলের, সেই স্বপ্ন বিপ্লবের। ঔপনিবেশিকতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে হবে, সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করতে হবে। বৈষম্যহীন সমতার সমাজ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার তাঁর সমগ্র সত্তা জুড়ে। তাঁর আস্থা সমাজতন্ত্রে। এই আস্থা আর বিশ্বাসকে পুঁজি করে তিনি পরিবারের মায়া কাটিয়ে পাবনা ছাড়লেন, তাঁর গন্তব্য ঢাকা।

১৯৫৫ সনের আগস্টে ঢাকায় এসে শুরু করলেন নতুন জীবন, সহ-সম্পাদক হিসাবে যোগ দিলেন দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায়। সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু হল তার জীবনের নতুন অধ্যায়। পেশাগত জীবনে রেখেছেন সাফল্যের স্বাক্ষর, দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রে কাজ করেছেন সুনামের সঙ্গে। তবে নিছক রুটি-রুজির জীবনের জন্য তো ঘর ছাড়েননি কামাল লোহানী। তাই কলমকে করলেন তাঁর হাতিয়ার, লেখনী হল তাঁর অস্ত্র। ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে রাখলেন অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। কামাল লোহানী নামের সঙ্গে সাংবাদিক অভিধা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে সত্য, তবে তিনি স্বতন্ত্র, অনন্য তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার কারণে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ বিস্ময়কর রূপকথার মতো। রাজনীতি, অভিনয়, নৃত্য, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠক, নাট্য পরিচালক, আবৃত্তিকার, সঞ্চালক— এক জীবনে বিচিত্রতার সমাহার। তবে সব ক্ষেত্রেই তাঁর বিপুল কর্মযজ্ঞের লক্ষ্য মাটি ও মানুষ।

প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে; পার্টি নিষিদ্ধ হলে পার্টির নির্দেশেই কাজ করেছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর সঙ্গে। ১৯৬২ সনে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে আবার গ্রেপ্তার হলে কারাগারে সহবন্দি হিসাবে পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, আবুল মনসুর আহমেদ, রণেশ দাশগুপ্ত, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, হায়দার আকবর খান রনো প্রমুখকে। সাংবাদিকদের দাবী দাওয়া আদায়ে ছিলেন সোচ্চার, বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক, সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আমাদের সংস্কৃতি; আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত; আমাদের যা অর্জন, যা অহঙ্কার তার উপর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আঘাত হেনেছে নিরন্তর। সেইসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে অগ্রসেনানীর ভূমিকায় ছিলেন কামাল লোহানী। ১৯৬১ সনে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে, সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের ব্যাপক আয়োজন ছিল সেই লড়াইয়ের অংশ। ঢাকা প্রেসক্লাব আয়োজিত অনুষ্ঠানের তিনি ছিলেন কাণ্ডারী। দায়িত্ব কাঁধে এলে তা পালনের দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সংগঠকের দারুণ ব্যস্ততার মধ্যেও কামাল লোহানী ঠিকই রবীন্দ্রনাথের ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যের বজ্রসেনের চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। সংগঠক ও শিল্পী উভয় ভূমিকায় তিনি সফল। অভিনয় ও নৃত্যে সাফল্যের স্বাক্ষর অবশ্য তিনি আগেও রেখেছিলেন। নৃত্যগুরু জি এ মান্নানের হাতে পড়ে ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ নৃত্যনাট্যে তার নাচে হাতেখড়ি। নাচের দলের সঙ্গে ঘুরেছেন দেশ-বিদেশ। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নাচের দৃশ্যে, ফতেহ লোহানী পরিচালিত ‘আসিয়া’য়।

রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের সাফল্যের পথ ধরে অর্গল ভেঙে ফেলা সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে গঠিত হল ‘ছায়ানট’। ১৯৬২ সনে জেল থেকে বেরিয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছায়ানটের হাল ধরলেন কামাল লোহানী। বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রূপ ছায়ানটের অনুশীলনে, অনুষ্ঠানে মূর্ত হয়ে উঠল। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে শুরু হল বসন্ত উৎসব, শারদ উৎসব, বর্ষা মঙ্গল। রাজপথের মিছিল, মিটিং আর শ্লোগানের সঙ্গে যুক্ত হল সুর, তাল, লয়। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পা বাড়াল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার নিশ্চিত লক্ষ্যে। ১৯৬৭ সনে তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’ গড়ে তোলেন; ক্রান্তিকালের উত্তাল সময়কে গণমানুষের ভাষায় মূর্ত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করেন গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। তিন দিন ব্যাপী ক্রান্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় ২১ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে। ক্রান্তির পক্ষ থেকেই আসে ‘রবীন্দ্রনাথকে বর্জন ও রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ’ করার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ। সামরিক শাসক আইয়ুব খানের তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দীনের এই নির্দেশ তীব্র ক্ষোভ আর ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করে দেশবাসী। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের স্পৃহায় দেশের সংস্কৃতিসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে ‘সাংস্কৃতিক স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা পরিষদ’; ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে তিনি ছিলেন এই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। সকল ভয়, ভীতি, হুমকি, হামলা উপেক্ষা/মোকাবেলা করে পরিষদ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজন করেছিল তিন দিন ব্যাপী সফল অনুষ্ঠানের।

২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভের আগেই বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ১৯৭১-এর ১৯ মার্চ জয়দেবপুর সেনানিবাসে অকুতোভয় বাঙালি সেনারা পাকিস্তানিদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকার করে। কামাল লোহানীর লেখা এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন ‘বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত‘ শীর্ষ-শিরোনামে ফয়েজ আহমদ ফয়েজ সম্পাদিত ‘স্বরাজ’ পত্রিকায় স্থান করে নেয়।

২৫ মার্চ ‘কালো রাতে’ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি ছিলেন পত্রিকা অফিসের রাত্রিকালীন পালায়। মৃত্যুকে এড়িয়ে ২৭ মার্চ পরিবারের সঙ্গে তার দেখা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের পরপরই তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মে মাসে আগরতলা হয়ে পাড়ি জমান কলকাতায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকালে দায়িত্ব পান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা বিভাগের। বার্তাসম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ পাঠ, কথিকা রচনা ও পাঠ, সঞ্চালনা, আবৃত্তি সহ সবই করেছেন। তবে দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে শত্রুর পরাজয় আর বিজয়ের আনন্দ এবং মুক্তির আস্বাদের সংবাদ পৌঁছে দেয়ার মুহূর্তটির কোনও তুলনা হয় না!

যুদ্ধ জয়ের পর দেশে ফিরে বাংলাদেশ বেতারের পরিচালকের দায়িত্ব নেন। এবারও তিনি এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাথী হলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কামাল লোহানীর আবেগ মিশ্রিত ভরাট কণ্ঠে মুক্তির মহানায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ধারাবিবরণী পৌঁছেছে মুক্ত স্বদেশের লক্ষ কোটি বাঙালির কানে।

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের ফসল কামাল লোহানী। তারপর স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের ময়দানে ছিল তার অবিরাম পথচলা। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাগত সর্বত্র তার সবল পদচারণা। ইতিহাস নির্ধারিত দায়িত্ব স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, পালন করেছেন অবিচল নিষ্ঠায়। ইতিহাস নির্মাণে ব্যক্তির যে দায় তাতে তার ভূমিকা অসামান্য। আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাথী কামাল লোহানী।


কামাল লোহানীর জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার খান সনতলা গ্রামে। তার পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী; বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী ও মা রোকেয়া খান লোহানী। ১৯৬০ সালে বিয়ে করেন চাচাতো বোন সৈয়দা দীপ্তি রাণিকে। ২০১৫ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান। ২০২০ সালের ২০ জুন বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার সঙ্গে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2689 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...