একটা নদী, হাজার ভাঙন

শুভ্র মৈত্র

 


লেখক শিক্ষক, সাংবাদিক, গল্পকার

 

 

 

 

ঠুক…ঠুক…ঠুক…। শব্দটা ধাওয়া করছে অনেকক্ষণ ধরে। ঠিক ধাওয়া করছে বলা যায় না, অনেকটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো যেন। কাঠঠোকরা পাখি হয়তো এই চত্বরে মিলতে পারে কিন্তু এই ধু ধু বালির চড়ায় ঠোকড়ানোর মতো গাছ কোথায়? অতনুর কৌতূহলী দৃষ্টি দেখেই হাসিবুল বলল, “ও কিছু না, বাড়ি খুলছ্যে।” বাড়ি খুলছ্যে মানে? খুলছে মানে ভাঙছে।

পঞ্চানন্দপুর, জানুটোলা, ছক্কুটোলা, দামোদরটোলার মধ্যে দিয়ে চলতে গেলে এই সময়টায় এমন শব্দ শোনা যায়। ওরা জানে এই সময়টায় বাড়ি ভেঙে নিয়ে যেতে হয় ইট, কাঠ, টিন, ধানের জালা। শতরঞ্চির গাঁটরিতে বাঁধতে হয় জামা, কাপড়, তসবির মালা— যতটা পারা যায়। ফি বছর নয়, যেবার নদী, হাসিবুলের কথায়, ‘সিগনাল দেয়।’ নদীর পহল দেখেই পাড়ের মানুষ বুঝতে পারে, এবার ‘তল কাটবে।’ আর কাটতে কাটতে যত ধেয়ে আসবে নদী, হাসিবুলদের ঘর খোলার গতি তত বাড়বে।

সরকারি ভাষ্যে গঙ্গা, মানে পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গা, পাড় ভেঙে এগিয়ে আসে পূর্ব দিকে। চেষ্টা হয় বাঁধ দিয়ে আটকানোর, স্পার দিয়ে আটকানোর, বালির বস্তা ফেলে আটকানোর— তবু গঙ্গা এগিয়ে আসে। অতনু বহিরাগত। দেখতে এসেছে। যেমন সরকারি লোকেরা আসে, যেমন শিল্পী সাহিত্যিকরা আসে। ভাঙন নিয়ে রিপোর্ট লিখতে আসে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে আসে। মানবিক গল্প লিখতে আসে, ডকুমেন্টারি করতে আসে। তেমনই এসেছে অতনু। সাথী স্থানীয় হাসিবুল। আট নম্বর স্পারের টিঁকে থাকা অংশের পাশ দিয়ে নেমে যেতে যেতে হাসিবুল নদীর মাঝখানে আঙুল দিয়ে দেখাল— ওই, ওইখানে ছিল আমাদের বাড়ি। ভ্যাবলা চোখে অতনু দেখল, সূর্যের আলো পড়ে চিকচিক করছে নদীর বুক। এখন তেমন ঢেউ নেই। বরং মাঝের জেগে থাকা চরে দু-একটা বক আপাত অলস বিভঙ্গে চেয়ে আছে নদীর দিকে। সেখানে আদৌ কোনও মানুষের বসতি ছিল, তেমনটা কল্পনাও করতে পারল না অতনু।

–তারপর? কী হল সেই বাড়ির?

–কী আবার হবে? গঙ্গা গিলে নিল। হাসিবুল উত্তরেও কেমন নির্লিপ্ত। যেন গিলে নেওয়ার কথাই ছিল। অতনুর এক মুহূর্তে মনে এল নিজের বাড়ির কথা। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই যে বাড়িটাকে নিজের বলে জেনেছে, যেটায় মাঝে মাঝে শুধু খুব বেশি হলে মিস্ত্রি লাগে, সেই বাড়িটা নেই! হাসিবুল সেই নির্লিপ্ত ভঙ্গিতেই বলে চলে, “আমি তো মাত্র দুবার, আব্বু নাকি চারবার পাল্টাল ঘর।” অর্থাৎ বাড়িটা ভেঙেছে চারবার। গোপালপুরে এখন ডেরা বাঁধা হাসিবুলরা নাকি ছোটবেলায় নদীকে দেখেছে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। “আমরা নদীতে যেতাম, এখন নদী আমাদের কাছে আসে,” হাসছে হাসিবুল। এর মধ্যেও হাসি খুঁজে নেয়।

অতনুর শহুরে চোখে নদী থাকে পাঠ্যবইতে, বিকেলের হাওয়া খাওয়া বা বড়জোর নৌকাভ্রমণে। বর্ষার জলে ফুলে ওঠা নদী পাড় থেকে আলগোছে বসতি সরায়, খবরের কাগজে বন্যা নিয়ে আসে। কিন্তু বাঙ্গিটোলা, মানিকচক বা রতুয়া, যেখানে নদীই আদি বাসিন্দা, মানুষ যেখানে নদীর সঙ্গে থাকে— সেখানে ন্যারেটিভটাই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। সূর্যের আলো চান করা নদীর দিকে তাকিয়ে আপাতত বোঝার উপায় নেই, কয়েকদিন আগে পর্যন্ত কেমন নিয়ম করে পাড় ভেঙেছে গঙ্গা। গিলে নিয়েছে জমি, বাড়ি, মসজিদ এমনকি আইসিডিএস সেন্টার। এক এক দিন কেটেছে একশো-দেড়শো মিটার। গ্রামে ঢোকার মুখে আমবাগানে দেখেছে অতনু, গাছের নীচে চৌকি, ত্রিপলের পরিপাটি সংসার। গত কয়েকদিনের মধ্যেই সবার নতুন ঠিকানা। স্টোভের উপরে কড়াই, তার পাশেই আধন্যাংটো বাচ্চাদের ধুলোখেলা— সেসব দেখে এসেছে। এখনকার শান্ত নদীটা দুদিন আগেই তাড়িয়েছে ওদের বাড়ি থেকে।

কতগুলি বাড়ি ছিল এখানে?— অতনুর এই প্রশ্নেও একইরকম নির্লিপ্ত হাসিবুল, “ও হিসাব পঞ্চায়েত জানে।” এই সংখ্যাতত্ত্বে হাসিবুলদের আগ্রহ নেই। ওরা খুব সরল করে জানে, সবাইকেই ঘর ভাঙতে হবে, ‘নদী কাউকে ছাড়ে না।’ ফলে এর পরের প্রশ্ন যেটা মুখে এসে গেছিল প্রায়, গিলে নিল অতনু, ‘ওদের গতি কী হবে? এই বাগানেই…?’ কিন্তু বুঝতে বোধহয় পেরেছিল হাসিবুল, “বাগানে আর কতদিন থাকবে? মালিক খেদিয়ে দেবে না? এরপরে কারও ক্ষমতা থাকলে দূরে গিয়ে ঘর করবে, কেউ বা ওই কলোনিতে।” কলোনি মানে ভাঙন-উদ্বাস্তুদের জন্য পাকা রাস্তার ধারের টিনের চাল, আসার পথে দেখেছিল অতনু। জোর করে পিডাব্লুডি-র জায়গা দখল করতে হয়, আর জমির পাট্টা পাওয়ার গল্প শুনতে হয় ফি বছর।

চোখটা একটু থিতু হয়ে এলে অতনু দেখতে পায় সামনের নদীটা, যার পশ্চিম পাড়টা দেখা যায় না, দক্ষিণ দিকে গিয়ে খানিক বাঁক নিয়েছে। হাসিবুল বোঝাচ্ছিল ওই পাড়ে আছে রাজমহল পাহাড়, তাই নদী ডানদিকে যেতে পারে না, যত জোর সব বাঁদিকে। এদিকেই সরে সরে আসে কয়েকবছর পর পর। মাঝে দু একবার ভুলে যায়, তারপর মনে পড়লে আরও জোরে ধেয়ে আসে। “আর দক্ষিণে যে বাঁক, সেটা চলে গেছে ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশ।” ফারাক্কা? মানে ফারাক্কা ব্রিজ? ট্রেনে করে কলকাতা থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে সেই ঝমঝম! চকচক করে ওঠে অতনুর চোখ। আর তখনই পাশ থেকে শোনা গেল, “ওই তো সব শেষ কর‍্যা দিল!” চমকে ওঠে অতনু। খেয়াল করেনি— এক বুড়ো। নদীর দিকে যাচ্ছে। বোঝা গেল ঘাটে লেগে থাকা নৌকাটাই উদ্দেশ্য। “সাগির চাচা”, হাসিবুল বলে। তা রাগটা কার ওপর? কে শেষ করল?— “ক্যানে ফারাক্কা বিরিজ। না ছিল বিরিজ, না ছিল আমাদের যন্তন্না,” সাগিরচাচা’র বয়স ফারাক্কার দ্বিগুণ। ব্রিজ হতে দেখেছেন, নিশ্চয়ই অন্যদের সঙ্গে যৌবনের সাগিরচাচা নেচে উঠেছিল নতুন ব্রিজ নিয়ে। নৌকা নিয়ে দাঁড় টেনেছে নতুন গন্তব্য দেখতে। আর এখন সাগিরচাচা তিনবার ঘর হারিয়ে বোঝে, ওই ব্রিজের জন্যই ভাঙন বেড়েছে, ওই ব্রিজের জন্যই জালের সঙ্গে মাছের আড়ি। এসব কথা পড়েছে অতনু বইয়ে, শুনেছে কে এক কপিল ভট্টাচার্য আপত্তি করেছিলেন এই ব্রিজের, নদীকে জোর করে বাঁধতে গেলে কী কী হয় বলেছিলেন।

তা এখন আর মাছ ধরেন না?— সাগির চাচা আর উত্তর দেওয়ার জন্য বসে নেই। হাসিবুলই বলল, “কেউই আর মাছ ধরে না, এখন নৌকায় শুধু এপার ওপার করে।”

ওপার মানে? রাজমহল?— “ক্যানে? চরে যে জমি জেগে উঠেছে ওখানে যেত্যে হবে না মানুষকে?” হাসিবুলের এমন জবাবে আবার ধাক্কা খায় অতনু। নদীর মধ্যে চর, সে আবার কতটুকু? সেখানে যাবেই বা কেন? অতনুর অজ্ঞতায় অবশ্য হাসে না হাসিবুল, “মেলাই জমিন। আর কলাইও খুব ভালো হয়। এঠির সবারই জমিন আছে উঠি। থাকেও তো কত্ত লোক।” সবাই জমি পায়?— এবারে হাসল হাসিবুল, “যাদের লাঠির জোর আছে।” নদীর বুকে জেগে ওঠা জমির উপর দখল সবারই, বিশেষ করে তা যদি এত উর্বর হয়। ওপারের মানুষ, অর্থাৎ ঝাড়খণ্ড থেকে আসে যারা দখল নিতে, তাঁদের সঙ্গে এপারের সাগিরচাচাদের লড়াইয়ে যে জেতে! গুগল থেকে পাওয়া হিসেবগুলি অতনুর নোটবইতে টোকা আছে— মানিকচকের ১৩টা মৌজা আর কালিয়াচকের ২৯টা মৌজা এ পর্যন্ত জেগে উঠেছে নদীর বুকে— বের করল না পকেট থেকে। নদীর পাড়ে অন্য ব্যাকরণ, এখানে গুগল হেরে যায়।

কথার মাঝেই নৌকা ভিড়তে দেখা গেল। ওপার থেকে আসছে। গাদাগাদি করে পুরুষ-মহিলা, সঙ্গে ঘাসের আঁটি, ছাগল, আরও কত কী! ওপারে থাকে, বা ভোরবেলা গিয়েছিল। যারা থাকে তাদের আসতে হয় রোজ, বাজার-রেশন এমনকি ইস্কুলও তো এপারেই। খাতায় কলমে সবার ঠিকানা— পোঃ কাকড়িবাঁধা ঝাউবোনা, জেলা: মালদহ। শুধু পোস্ট অফিস নয়, ঝাউবোনা ছিল একটা আস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত। ভোট নিয়ে সেখানেও হত মারামারি, জিআর নিয়ে দলবাজি, সভা বসত গ্রাম সংসদের। এখন আর কিচ্ছু নেই। নেই মানে? ভাঙন?— “হ্যাঁ পুরো পঞ্চায়েতটাই গিলে নিয়েছে গঙ্গা।”

মানিকচকে রেহাই দিয়েছিল গঙ্গা, নিয়ম মেনেই। পাঁচ-ছয় বছর তুমুল তাণ্ডব চালানোর পর থিতু হয়েছিল খানিক। সরকার থেকে পাড় বাঁধানো হয়েছিল, স্পার বসেছে, বাঁধ হয়েছে। কিন্তু সাগিরচাচারা জানে, “ওই বাঁধ ফাঁধ সব ফক্কা, আসলে লদীর খেয়াল। উ আসেনি এবার, ফের আসব্যে। শুনেছি এবারে বেছ্যে লিয়েছে বৈষ্ণবনগর। ফারাক্কার আরও কাছে…” বলতে বলতে নৌকার ‘টিপ’ মারতে যায় চাচা। মানে এবার ওদের পালা, ওখানে বাজবে সঙ্গীত, ঠুক…ঠুক…। যতটা খুলে নেওয়া যায় আর কী! আবার বাঁধতে হবে তো ঘর।

নৌকা থেকে অনেকের সঙ্গেই নামল সাদা গোঁফের কালো দোহারা চেহারার মানুষটা। বয়স হয়েছে, কিন্তু এখনও ওই খাড়া ব্যাপারটাতেই নজর কেড়ে নেয়। হাসিবুল পরিচয় করিয়ে দেয়, “সুভাষকাকা, চরে ইস্কুল চালায়।” অতনুকে দেখে নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করে, “ভাঙন দেখতে নাকি? এবার তো এখানে নাই, বীরনগর যাও।” শ্লেষ ছিল কি গলায়? খেয়াল করতে পারল না। বরং সুভাষকাকা চমকে দেন তার ‘দেখা’ দিয়ে। দেখা বলতে অতীত নয়, ভবিষ্যৎ। “বড়জোর কুড়ি-পঁচিশ বছর, ফারাক্কা ব্রিজ তারপর ডাঙ্গায় ঝুলবে, আর গঙ্গা ফিরে যাবে নিজের পুরনো পথে। ফিডার ক্যানেল শুকিয়ে যাবে।” ভাবতে পারে না অতনু, তা যতই সুভাষ মন্ডল নদীর ইতিহাস ভূগোল বুঝিয়ে বলুক না কেন। এই ডিস্টোপিয়ায় কীভাবে বাস করে মানুষ?

বীরনগর থেকে ট্রাক্টর আসছে, নদীর পাড় ঘেঁষেই। স্পষ্ট বোঝা যায়, মাথায় চাপানো তিন চারটা সংসার। খুলে আনা ইট আর কাঠের ফ্রেমের ওপর মাথা দেখা যায় মানুষগুলির। ঘর বাঁধতে হবে। নিরাপদ কোনও জায়গায়। সুভাষকাকার চেনা বোঝা গেল, “কিরে ফিরোজ ঘর খুল্যে নিয়্যা এলি? বাপের গোরটা আনতে পারলি?” ফিরোজ কোনও জবাব দেয়নি। জবাব থাকেও না বুঝি। অতনু জানল, গতকালের ভাঙনে কেটে গেছে প্রাইমারি স্কুল, মসজিদ আর সমাজের একমাত্র কবরখানাটাও। আরও একবার মৃত্যু হল ফিরোজের আব্বুর।

বলম পিচকারি, তুনে মুঝে মারি— চিৎকার করে উঠল হাসিবুলের মোবাইল। চাইনিজ। আওয়াজ খুব বেশি। “…হাঁ, হ্যালো, কি কহ্যছিস?… হাঁ হাঁ, যাব কালকে ব্যাঙ্কে। টাকা না থাকল্যে উয়ারা খুব তাহিজ করে… যাব কালকে। ভাবিকে কহ্যে দিব।” ফোন রেখে দিয়ে খানিক লাজুক স্বরেই জানাল, দাদার ফোন। মুম্বাই থেকে। মুম্বাইতে থাকে? কিসে আছে?— চোখ নামিয়ে নেয় হাসিবুল। ছোটবেলায় দেখেছে জমি ছিল, চাষ ছিল। লেবার খাটত জমিতে। এখন কিছু নেই। এখন শুধু ঘর পালটায়, আর প্রতিবার আরও ছোট হয় ঘর। নতুন ঘরে গিয়ে আব্বু বিছানায় শুয়ে থাকে। আর দাদা তারিজুল মুম্বাইতে খাটতে যায়। এলাকার সবাই যায়। কেউ দিল্লি, কেউ গুজরাট, কেউ কেরল। হাসিবুল জানায়, “এখানে কেউ শুধায় না, তবু নিজে থেকেই বলি, দাদা রাজমিস্ত্রি। আসলে মাছ বিক্রি করে দাদারের রাস্তায়, রাস্তায়।” এবারে ঈদের পরে হাসিবুলও যাবে, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তেলেঙ্গানায়। ওখানে টাওয়ার বসাবে। ভাঙন শুধু সাগিরচাচাদের জেলে থেকে মাঝি করেনি, তারিজুলদের ট্রেন ভর্তি করে পাঠিয়েছে ভিন রাজ্যে। আর ওই হামিদপুর চর থেকে কলাইয়ের ঘাসের আঁটি কেটে পঞ্চানন্দপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া অর্চনাকে ভুলিয়ে দিয়েছে ছোটবেলায় নদী ছিল ওদের সই, ‘ইলোটিং বিলোটিং…’ খেলত পাড়ে।

অতনুর ফেরার সময় হল। ফেরা মানে এই নদীর থেকে দূরে যাওয়া। শহরে। যেখানে কম্পিউটারে অবশ শুয়ে  থাকে হিসেবপত্র— এ পর্যন্ত পঞ্চাশ হাজার মানুষ ঘর হারিয়েছে; ১৪টা হাইস্কুল, ৭০টা প্রাইমারি— সব খেয়েছে গঙ্গা। ফিরে যাবে অতনু। যাওয়ার আগে এতক্ষণ ধরে চেপে রাখা প্রশ্নটা শেষমেশ বেরিয়েই এল, “কয়েক বছর পরপরই তো ঘর ভাঙতে হয়। তাহলে দূরে চলে যাও না কেন?”— এর উত্তর জানা ছিল না হাসিবুলের। খানিক ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বিড়বিড় করে, “দূরে মানে? লদ্যী ছাড়া থাকব কীভাবে?” অতনু বুঝল, এত কিছুর পরেও শত্রু ভাবানো যায় না গঙ্গাকে।

এর মধ্যেই খানিক দূর এগিয়ে গেছে সাগিরচাচার নৌকা। সেখান থেকেই চিৎকার করে, “নিজের ভিটায় লোক ঢুকল্যে ছেড়ে দিব্যা তুমি? এ সব লদীর নিজের ভিটা, হামাদের থাকত্যে দিব্যে ক্যানে? উয়ার গোঁসা তো লায্য!”

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2681 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

11 Comments

  1. যেন একটা ছবি দেখলাম…. অনবদ্য… গঙ্গা পাড়ের বৃত্তান্ত….

  2. সুন্দর! ন্যারেটিভ এর এই চলনটাই লেখাটাকে অন্যরকম গতি দিয়েছে!

আপনার মতামত...