গণধর্ষণ: একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা!

বিদিশা ঘোষ

     

আমায় ক্ষমা করবেন। আমি যে কোনও উল্লিখিত প্রসঙ্গে সরাসরি যেতে পারি না। আমার খানিক ভণিতা বা গৌরচন্দ্রিকা লাগে। এই বাহুল্যটুকুর জাড্যে আমি প্রসঙ্গে উপনীত হই একটু সহজে। চামচের প্রশ্রয়ে মাপসই জুতোয় পা ঢোকানোর মতো খানিকটা। টুক করে জুতোয় পা ঢুকে যায় বেশ।

লকডাউনের নিস্তরঙ্গ দিনগুলি কেটে যাচ্ছিল। দেখতে দেখতে ঘরে বসে বসেই চৈত্রের উদাসী বসন্ত বাতাসে শাল পিয়াল শিমুল পলাশ উড়ে ঘুরে ফিরল বৃথাই যতদিন না কালবোশেখি ঝড়ের ধমকে প্রকৃতি মুড বদলাল। চলল কদিনের তীব্র দাবদাহ, তবে লকডাউনের স্তব্ধ জনজীবনে তার কোনও আলাদা দাপট ছিল না। বহুদিন পর ঠিক সময়ে গুড গার্লের মতো ঘোর বর্ষা এসে সর্বত্র প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি হয়ে এতদিনে মোটামুটি আকাশের বিরাট স্ক্রিন জুড়ে শরতের মেঘ ও রৌদ্রের আবহ।

এর মধ্যে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত কিছু ঘটনাবলির জন্য এ কদিন খবরের শিরোনামেই ছিল প্রায় সমস্ত গণমাধ্যমগুলিতে। বিশ্বভারতীর মতো অনন্য চরিত্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে শুধুমাত্র একটি বিশেষ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আপন পদাধিকারবলে ও দম্ভে এর অন্তর্নিহিত ছাত্র-শিক্ষক-কর্মীর সহজ, সুন্দর, সহাবস্থানের সাংস্কৃতিক ও বিদগ্ধ, মনন ও প্রজ্ঞার আলোকে উদ্ভাসিত পরিবেশটির গলা টিপে যে শ্মশানের মতো নিশ্চুপতন্ত্র কায়েম করেছেন বা তার জবাবে অন্য একদল মানুষ এসে আর একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় নিস্ক্রিয় পুলিশবাহিনীর সামনে পেলোডার দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙচুর, লুটপাট করে এই যে তাদের অপ্রতিরোধ্য পেশির ক্ষমতার আস্ফালন করে গেল— এরা কি কেউ রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতীর মূল সুর বা ethos-এর গৌরব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত? এরা সবাই আখের গোছাচ্ছিলেন। অনেক লেখাপত্রের মধ্যে চোখে পড়েছিল কারও লেখা— দুই রাজনৈতিক ফায়দালোভী দলের টানাহ্যাঁচড়ার জেরে যেন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সাধের বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন!

একজন প্রাক্তনী হিসেবে একাধিক জমায়েতে গেছি নিজের প্রতিবাদ, ক্ষোভ, বেদনাটুকু সঙ্গে করে সামিল হতে। বিশ্বভারতী যাঁর স্বপ্নের প্রাঙ্গণ, তাঁর মূল শিক্ষাচিন্তা, ভাবনা ও দর্শনটির চর্চা ও প্রসার বিশেষভাবে বিঘ্নিত ও অবহেলিত হচ্ছে এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ। সে বিষয়ে সর্বস্তরে প্রতিবাদ ওঠা উচিত ছিল আগেই। দেরিতে হলেও গণতান্ত্রিক পথে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে বোলপুরে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই আয়োজিত একটি নাগরিক কনভেনশন থেকে গৃহীত প্রস্তাবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এলাকার বাসিন্দা ও এখানকার আশ্রমিক ও প্রাক্তনীদের তরফ থেকেও সই সংগ্রহ করে সমস্যাগুলির মীমাংসার জন্য একটি আবেদন রাজ্যস্তরে ও কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে যদ্দূর জানি। এখন অপেক্ষা।

দেশবিদেশের ঘটনার ঘনঘটার ভীড়েও গতকাল আনন্দবাজার পত্রিকার (২৪ আগস্ট ২০২০) প্রথম পাতায় একটা খবরে যথেষ্ট বিচলিত হয়েছিলাম। খবরের শিরোনামটি ছিল:

‘ভিন্ জাতে প্রেম, সাজা গণধর্ষণ’। ঘটনাটি আমাদের বীরভূম জেলার মহম্মদবাজারে ঘটেছে। অধুনা ভারতবর্ষে এ খবর চেতনার গভীরে অভিঘাত হানলেও নতুন করে চমকে দেয় না স্বভাবতই। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ (সমকামী), রাজনৈতিক পরিচয় এরকম আরও নানা ক্ষেত্রে ভিন্নতার পরিসরে প্রেমের উপাখ্যান লেখা হলেই শাস্তি বরাদ্দ। তবে শাস্তির রকমফের আছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নাগরাজ মঞ্জুলের ‘সায়রাট’ ছবিটি। যতখানি নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা দিয়ে গড়া হয়েছে ওই ছবির জাতি-বৈষম্যের দুপাশে থাকা দুটি যুবকযুবতীর প্রেমের দরুণ প্রাপ্ত চরম শাস্তির ব্যবস্থাটিকে— তা দেখে চেতনা অবশ হয়ে যায় আতঙ্কের বীভৎসতায়। তবুও স্পষ্টভাবে ওটা শাস্তিপ্রদান। প্রত্যক্ষভাবে কোনও immediate স্বার্থ কায়েম বা সোজা কথায় পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো ভরপেট যৌনসুখ হাসিল করে নেওয়ার ধান্দাবাজি নেই। অপরপক্ষে শাস্তির নামে ধর্ষণ— আমার আপত্তি এখানে। তবে কি প্রকারান্তরে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড না ধর্ষণদণ্ড, এই multiple choice-এ tick দেবে এবার নারী— তার স্বেচ্ছায় প্রেমাষ্পদ নির্বাচনের অপরাধে? চালাকি হচ্ছে? দণ্ডমুণ্ডের কর্তার আসন এবার টলুক।

লকডাউনের গোড়াতেই কয়েকটি সক্রিয় এনজিও ওই সময়কালের মধ্যেই গার্হস্থ্য হিংসা খুব বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। কার্যত চার ঘন্টার নোটিশে ১৩৩ কোটি মানুষের একটা দেশ লকডাউন বলে ঘ্যাচাংঘট করে ব্রেক কষে দিলে তামাম দেশ জুড়ে গরীব, মধ্যবিত্ত, অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষগুলির কী ভয়ঙ্কর দুর্দশা হল তা পাঁচ মাস ধরে সবাই দেখলাম। সে দোষ কার? কোভিড-১৯ অণুজীবটির? ভাগ্যের? নাকি রাষ্ট্রের? এসব প্রশ্ন খতিয়ে না দেখে অনেকক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ও সরাসরি রেজোলিউশন— যত দোষ নন্দ ঘোষ! অর্থাৎ, যেখানে যাই ঘটুক— সেই ক্ষোভ, জিঘাংসা, হতাশার ড্রেনেজের নিরাপদ আউটলেট হল বাড়ির বা নিকট কি দূরসম্পর্কিত মেয়েরা— সে তারা মা, বোন, বৌ, কন্যা, প্রেমিকা, যৌনসঙ্গী, মূল্য দিয়ে কেনা যৌনকর্মী, গৃহসহায়িকা যেই হোক না কেন। যার উপর কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা ফলানো যাবে। মোটকথা যাকে ছাদের থেকে ঝোলানো বালির বস্তা জ্ঞান করে দিব্যি হাতের সুখ, পায়ের সুখ বা সেই গোপন সুখটিও চরিতার্থ করে নেওয়া যায় একা বা কয়েকজন মিলে— এই গভীর হতাশা ও অবসাদ থেকে নিষ্কৃতি পেতে। এমনিতে ধর্ষণ-কাণ্ডে, একক বা গণ যেভাবেই করা হোক, ধর্ষকের ধরা পড়ে শাস্তির একটা ঝুঁকি থেকেই যায় যেহেতু এটা একটা অপরাধ বা ক্রাইম। কিন্তু এরকম অপরাধ সংশ্লিষ্ট (ভিন্ জাত, বর্ণ বা ধর্মে প্রেম) হলে কি আর ততখানি ভয় থাকছে? বেপরোয়া প্রেমিক-প্রেমিকার মাথায় জাত-বেজাতের তথাকথিত সমাজস্বীকৃত ধারণাটি বদ্ধমূল করার মহান উদ্দেশ্যে দিব্যি লেজিটিমাইজড হয়ে যাচ্ছে না কি আগেই?  

এই দীর্ঘ লকডাউনের অখণ্ড অবসরে ওয়েব সিরিজ দেখতে বসে ক্রাইম থ্রিলারের তুখোড় চিত্রনাট্যেও সুদূর হরিয়ানার গ্রামের দুই পরিবারের পুরুষের প্রতিশোধস্পৃহার আগুনে আত্মাহুতি দেওয়ার জন্য অতঃপর উত্তেজনাহীন ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট হিসেবের নিক্তিতে বিবেচিত হয় দুটি পরিবারের একটির মধ্যবয়সী স্ত্রীর যোনিদেশ। না, কোনও বলপ্রয়োগ লাগেনি। বিনা বাক্যব্যায়ে সেই মধ্যবয়সী জাঠ নারী প্রকাশ্য দিবালোকে উঠোনে রাখা খাটিয়ার উপর এসে উপুড় হয়ে শয়ন করলে একে একে দশজন কীর্তিমান ক্ষমতাধারী তাকে ধর্ষণ করতে থাকে পরপর। শর্ত অনুযায়ী। কেননা উল্লেখ্য বাদানুবাদে তারা জিতে এই অধিকার হাসিল করেছে। তাই বিজিতপক্ষ, ওই নারীর কাছের লোকেরা, ওর স্বামী পুত্র সেই উঠোনে বসে কোনওরকম প্রতিরোধে না গিয়ে নতমস্তক এটা ঘটতে দেয়।  

আচ্ছা, নারীর নিজের বা কাছের মানুষজন বলতে কি আদৌ কেউ থাকে কখনও? ছিল কোনওদিন, কোথাও? মহাভারতের পাশা খেলার দৃশ্যের থেকে এ দৃশ্য কি খুব আলাদা? সেই একই চিত্রনাট্য একটু ঘুরিয়েফিরিয়ে পুনঃ পুনঃ অভিনীত নয় কি? পিতৃতন্ত্র, তুমি ক্লান্ত হও না যুগ যুগ ধরে এমন মর্ষকামী জোচ্চুরি করে যেতে! তোমার প্রতিশোধস্পৃহায় প্রাপ্ত আত্মশ্লাঘার তৃপ্তিটাও ধার করা, নারীর রক্তাক্ত যোনির যন্ত্রণার পরিবর্তে। আচ্ছা, নিজের বাতকর্মের সুখ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবে নাকি নারীকে সে দায়িত্বও সঁপে? বলা যায় না।

সংবাদপত্রে যা জানা গেল: মহম্মদবাজারের চড়িচা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিনজাতের এক যুবকের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের কারণে এক তিরিশ বছরের আদিবাসী যুবতীর শাস্তি হল গণধর্ষণ এবং সালিশি সভা বসিয়ে সেই নির্যাতিতা ওরফে দোষীর দশ হাজার ও তাঁর সঙ্গীর পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা স্থির হল। এখানে উল্লেখযোগ্য, ঘটনাটির কদিনের মধ্যেই সেই নির্যাতিতার সঙ্গে জেলার গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সভাপতি ও কজন সদস্যা দেখা করে আসেন সর্বতোভাবে পাশে আছেন এই আশ্বাস দিয়ে। জরুরি ও মানবিক পদক্ষেপ। কিন্তু এই অন্যায়ের বিশ্লেষণ, এজহার ও প্রতিকার?

অকপটে স্বীকার করছি খুব অবাক হয়েছিলাম নির্যাতিতা ও মাঝি-হাড়াম আদিবাসী জেনে। তারপর ভেবে দেখলাম পিতৃতন্ত্র সমাজের কোথায় কায়েম নেই? এ লড়াই তো আদতে দুর্বলের উপর সবলের ক্ষমতা প্রদর্শন ও বলপ্রয়োগের পুরনো গল্প। সেদিন সেই যুবকের সঙ্গে গ্রামে ফেরার পথে কিছু গ্রামবাসী তাদের ক্লাবঘরে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধোর করে ও তারপর রাত আড়াইটে নাগাদ পাঁচজন সেই যুবতীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ অর্থাৎ তার কৃতকর্মের শাস্তিপ্রদান করে পরদিন সকালে দুজনকে ছেড়ে দেয়। আদিবাসী গাঁওতা নেতার উদ্যোগে ভীত-সন্ত্রস্ত নির্যাতিতার স্বভাবতই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতে কদিন সময় লেগেছে। কেননা আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের সম্পাদক নিত্যানন্দ হেমব্রম তাঁদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা জানিয়েছেন। এ কেসের পাঁচ অভিযুক্তদের দুজন আদিবাসী যুবক ও মোড়ল গ্রেফতার হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য, ২০১৩ সালে লাভপুরের সুবলপুরে একইভাবে ভিনজাতে সম্পর্ক রাখার ‘অপরাধে’ আদিবাসী তরুণী ও তার সঙ্গীকে রাতভর গাছে বেঁধে মারার পরদিন সালিশি বসিয়ে বকেয়া শাস্তি বাবদ গ্রামের মাঝি-হাড়াম তরুণীকে নিয়ে ‘ফুর্তি’ করার নিদান দেয়। ফলত আবার গণধর্ষণ। সে মামলায় মোট ১৩ জন সাজা পায়। লক্ষণীয় এই সাত বছরে মানুষের মনের জাতিবৈষম্য সম্পূর্ণ অক্ষত, আর এ ধরনের কেসে অভিযুক্ত নারীকে শায়েস্তা করার ন্যক্কারজনক পদ্ধতিটি যেটাকে শাস্তি বলে অভিহিত করা হচ্ছে তা একচুলও পাল্টায়নি। সম্ভবত দোষীর সংশোধনের নিরিখে এ পদ্ধতিটি (গণধর্ষণ) বিশেষ কার্যকরী। শাস্তিপ্রদানকালের যৌনসুখটুকু বাড়তি।

সংশ্লিষ্ট খবরটির অভিমুখ নানান দিকে ঘুরছে। কেন বারবার মহম্মদবাজার। কেন বারবার বিভিন্ন বয়সের আদিবাসী নারী। কেন বারবার গণধর্ষণ। তথ্য বলছে, মহম্মদবাজার হল একটি পাথর-খাদান অধ্যুষিত অঞ্চল যেখানে বেশ জোরালো একটি মাফিয়া চক্রের উপস্থিতির কথাও খবরে আসছে। ফলে এখানে কাঁচা টাকার একটা নিরবচ্ছিন্ন স্রোত আছে। নতুন প্রজন্ম হাতে এই কাঁচা টাকা পাওয়ায় মোবাইল, নেট, সমাজমাধ্যম ইত্যাদিতে যত ঝুঁকছে, বুঁদ হচ্ছে তত ভেঙে পড়ছে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা। বাড়ছে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের পরিবেশ। আগামী প্রজন্মকে নেটজালে জড়িয়ে নেশাচ্ছন্ন করে রাখার পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট কয়েক দশক পুরনো। আসমুদ্রহিমাচল— জী ভরকে Jio! সুতরাং ফল ফলতে শুরু করেছে।

থেকে থেকে ভাবনার সূত্র ছিঁড়ে গিয়েও আবার ফিরে আসছে সারাদিন— একটাই প্রশ্ন নিয়ে। কেন বারবার যথাযোগ্য শাস্তি হিসেবে এ ধরনের ‘অপরাধী’র ক্ষেত্রে গণধর্ষণ এত পপুলার? একটা অপরাধের শাস্তি কখনও আর একটা অপরাধ হতে পারে? সর্বোপরি, নির্যাতিতা ও অপরাধীর বিচারের ভার যাদের উপর ন্যস্ত, সেই তারাই অপরাধীকে এই নিদান দিতে পারে? এটা বিচার? এ কোন্ যুগের পৃথিবীতে বাস করছি আমরা? এ কোন লোকের গল্প? স্বর্গ, মর্ত্য না পাতাললোক?  

আসলে একজন নারী-মানুষ তার জীবনের স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলি নিজেই নিচ্ছে, আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ এখনও এটা দেখতে এবং মানতে প্রস্তুত নয়। যৌনতা বা যৌনতা-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত হলে তো কথাই নেই। নারীকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি জ্ঞান করে তাই আইনও একঝোঁকা হয়ে গণধর্ষণের মতো একটি ক্রাইমকে ‘শাস্তি’র  মান্যতা দিয়ে ফেলে। আমরা নির্বাক থেকে যাই। অগত্যা… বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে! পংক্তিটি শুধু রবীন্দ্রনাথের কাছে আমাদের ফিরিয়েই নিয়ে যায় না, বিশ্বভারতীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিটির অনুষঙ্গে এ সাদৃশ্য মেটাফোরিকাল বোধ হয়।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2689 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

2 Comments

  1. অসাধারণ প্রতিবেদন। সুন্দর সাবলীল ভাষায় কঠিন বাস্তবের চিত্রায়ণ হয়েছে।
    আমাদের social fabric ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। যতদিন না আমাদের বিচার ব্যবস্থা শুধরোবে, এরকম নির্যাতন বেড়েই চলবে। শুধুমাত্র যারা ধর্ষণ করছে তারা নয়, যারা এর নিদান দিচ্ছে তাদেরও কঠিনের থেকে কঠিন শাস্তি দেওয়া উচিত। কেস্ গুলোকে fast track case হিসেবে গণ্য করতে হবে।

আপনার মতামত...