দেবদূত দে
ঘুম
স্বপ্ন দেখি,
তোমার ফেঁপে ওঠা তলপেট নিয়ে
মদের মতো কাতরাও, বুকের কাছে।
আলোর ওপর শুয়ে থাকো লাশ!
শীতলপাটির মতো শান্ত করো আমায়;
আমিও ঘুমিয়ে থাকি, নাহলে অকালে পুড়ে যাব।
ঘিলু
কাটাকুটি খেলো, মুছে দিও জল
আমার নামে যে বিশ্বাস আছে,
তাকে আরও স্বচ্ছ করো
আদর করো আমার থেঁতলে যাওয়া মাথা,
ও মাথায় কিস্যু ছিল না
শুধু একটা ঘিলু আর হাজার খানিক বিস্ফোরণ!
পাপ
পাপের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
আমি দুবেলা করে জলপটি দিই।
সাইকেল নিয়ে যখন বেরোই, তখন ভোর।
আর ফিরি না।
অন্ধকার ধরে হাঁটতে থাকি।
একটার পর একটা কালো পাঁজর পেরিয়ে যাই।
চোখ জ্বালা করে।
আমি বুঝতে পারি এ কবিতা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু আমি তা ঘুণাক্ষরেও চাই না।
আমার জল তেষ্টা পাচ্ছে খুব।
কিন্তু পাপের জ্বর কিছুতে কমছে না!!
ক্যানোপি
এই হাঁ করা চওড়া রাস্তা,
শালীনতার রং মেখে ঘামতে থাকে দু বেলা।
দু ধারে ঘাড় ব্যাঁকা ক্যানোপি,
ওদের মৃত্যুভয় নেই!
বিষ বয়ে বেড়ানো শহর,
রাস্তায় বসে ডেনড্রাইট করে!
আর এক আদিম জন্তু ল্যাংটো হয়ে
মাঝদুপুরে জীর্ণতার কবিতা লেখে!
আমার শরীর জুড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ তাবু গেঁড়ে বসেছে,,,
বহুদিন হল।
আঙুল আর মুখের কোনও কথা হয় না।
পাহাড়
যে পাহাড় ভাঙতে জানে না
সে ক্ষয়ে যায় একটু একটু করে।
রাতের পায়ের কাছে শুয়ে থাকি।
ছটা ঋতু গুঁতোগুঁতি করে পেরিয়ে যায়
একটা অবলা বছর।
আমি কর গুনি কটা সন্ধে তোমায় ছুঁলাম!
প্রেম আমি করিনি, পারি না করতে।
শুধু একটা স্টিমার ছোটে ফুসফুসে,
ঝড়ের রাতে তোমায় জাপটে ধরবে বলে!
এখনও শিখিনি, যুদ্ধ জিতে নিলে পড়ে থাকে ছাই!
হাত কামড়াই, নেমে আসে বিপ্লব তোমার বিনুনি বেয়ে।
আমায় যেদিন শেষবার ডেকেছিলে,
সেদিন দরজা খোলা রেখেই বেরিয়ে এসেছিলাম……
আমি তো মরে গেছি কবেই,
তুমি কি এখনও উবু হয়ে বসে পড়ন্ত সূর্যের মৃত্যু কামনা করো?