এই মুহূর্তের কবিতা

অনিতা অগ্নিহোত্রী

 

গাছ

মৌনের উপর চুল এলিয়ে এই আমি এক গাছ
ভাবছি কীভাবে লিখি এই নিবিড় রাত্রি নিষ্তারকা আকাশের ফাঁকা
যে উল্কা এই মাত্র ছুটে বেরিয়ে এল গ্রহাণুপুঞ্জের
সম্মিলিত উল্লাসের ভিতর থেকে
তার একটি রক্তাক্ত নুপূর এসে পড়েছে এই অরণ্যের সুগভীরে
না না অরণ্য কোথায়, এ যে শ্মশান আর কি শান্তি চরাচরে
দাউদাউ জ্বলছে পুলিশ প্রহরায় একটি বালিকার লাশ
প্রহরা কারণ তার পরিজন অবুঝ
মরা মুখ দেখতে চাওয়ার কোনও মানে নেই
কে বোঝাবে নিরক্ষর যাদের পেটে সর্বদা ক্ষিদের আগুন
আগুন দেখতে দেখতে মনে পড়ে যায় আমার ও আধপোড়া শরীর
মাটির ভিতর, কবে থেকে যেন, পোড়েনি
চুল যা এলিয়ে বসে আছি মৌনের উপর
আর ভাবছি কি করে লিখি এই শ্মশানের শান্ততা
যেখানে পোঁতা আছে আমার এই গাছ হয়ে ওঠার বৃত্তান্ত

 

কাগজ

সহনশীলতার সৌধ একদিন ধূলিসাৎ হয়ে গেল আপনা থেকেই

ঠেলা নয় ধাক্কা না মৃদু তিরস্কারের চেষ্টাও নয়


হাজার হাজার সাদা কাগজে তা লিখতে

লেগে গেল কয়েকদশক

কয়েকটা গাছ বেঁচে যেত এই কি সব?


আর এই যে দিগন্তরেখা মুছে পরিপাটি হল


তা বুঝি কিছু নয়

 

জীবিত ও মৃত

নাবালিগ, আনপড়, ধর্ষণের মানে বোঝেনি তাই কেবল ইনজুরি লিখেছি,

জিভ কেটে নিয়েছিল নিজেই, গুঁড়িয়ে দিয়েছিল শিরদাঁড়ার হাড়। এটাকে

সুইসাইড লিখতে পারতাম, লিখিনি তো। সৎকারের কালে নিরস্ত্রের চেয়ে

সশস্ত্ররা দলে ভারী, মৃতের চেয়ে জীবিতরা তাকৎবান। এতেও

পলিটিকসের পোড়া গন্ধ পেলে আমরা লাচার।

 

রত্নাকর

এনকাউন্টার করে দিয়েছি, উল্টে গেছে ফরেনসিকের গাড়ি, ওদিক থেকে কোনও
গুলি আসবে না, সাহেব, আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমোন। নমক খেয়েছি বলে ঘোর রাতে
শ্মশানে ছিলাম। রোজ ছড়িয়ে দিয়েছি ঘেন্না, কেন্নোরা কিলবিল করে এবাড়ি
ওবাড়ি। দিন কে রাত করেছি সাহেব, তিল থেকে তাল না হয় যাতে, লাশ বদলে
দিয়েছি, উল্টে দিয়েছি বয়ান, রেপকে মার্ডার লিখেছি, মার্ডারকে সুইসাইড। ওদিক
থেকে গুলি আসবে না সাহেব, থানায় পৌঁছে গেছে অতিরিক্ত ফৌজ। আপনার কুর্সি
আমি এতদিন অটুট রেখেছি, নিয়মিত ধুয়ে মুছে,
শিরীষ কাগজ ঘষে। এখন তো
খেল শেষ। হাঁফাচ্ছি হাওয়ার জন্য, মরে যাচ্ছি। অক্সিজেন নেই। কেবল কয়েকটা
ভুখা কুকুরের আনাগোনা। বিজলি নেই, ডাক্তারও না। বডিব্যাগে আপনার এই
নৌকরের লাশ, শেষ অবদি বদলাবে না, আপনি কি দেখবেন সাহেব?

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2689 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...