
সৌমিত দেব
গদ্যকার, চিত্রনাট্যকার
–মহারাজ!
–কী মিত? বলো কী চাই?
–আজি দখিন বর্ডার খোলা!
–সে কী! আমরা তো সংখ্যায় এমনি সীমিত! যদি ওখান দিয়েও ঢুকে পড়ে চাষীভাই!
–তবে?
–বর্ডারের যা ধর্ম, সিল হবে!
–মহারাজ!
–কী চাকর?
–হলিউড সেলিব্রিটি, হস্তে লয়ে সলিডারিটি…
–এ কী চাকর! কথায় তোমার ছন্দ কাটছে দেখি!
–সেকী! ক্ষমাপ্রার্থী প্রভু তবে…
–হবে হবে! ঠিকই হবে! মোদের ঘরের হাঁড়ির কথা চাউর করে যারা…
–বাঁড়া তাদের ধরে…
–আহ! কথা হবে মাপা! বুঝলে হে ঘোষ, রিঙ্কিয়া কে পাপা?
–আজ্ঞে মহারাজ!
–রাজন, তাহলে এখন উপায়?
–উপায় হাহা হাহা হাহা…
–একী! রাজা হাসে কেন?
–মাথায় কী গোল হল?
–নাকি অম্বল হল?
–মহারাজা একেবারে নয় পেটরোগা!
–তাছাড়া উনি যখন হাসছেন…
–তো কুছ আচ্ছে কে লিয়ে হি হাসা হোগা!
–মহারাজ!
–হাসছি কেন, জানতে চাও, তাই তো?
–যদি বলেন তাহলে আপনার পায়ের কাছে শুই?
–আমাদের সেরা যোদ্ধা কে জানো? কুইন! ওসব এটা, ওটা, গ্র্যামি, গ্রেটা, বটতলা ভিসুয়াল নারী, যেটা…
–আজ্ঞে ভালোই মেয়েটা…
–হ্যাঁ, ওই বাকযুদ্ধে ওরা সবাই রানির কাছে টুনি, আর রানি আমাদের তারা!
–হ্যাঁ আর কৃষ থ্রি খুব খারাপ!।
–এই যুদ্ধ জিইয়ে রেখে আসল ইস্যু থেকে, নজরদারি ছেড়ে মানুষ বলদা হতে শেখে! এই ফাঁকেতেই পেরেক পুঁতে, জল, বিদ্যুৎ কেটে, লম্বা একটা সড়ক দিও, সামনের বাজেটে…
–জয় মহারাজের জয়
–মহারাজ!
–বলো সেনাপতি!
–পেছনপাকা অতি এক ভাঁড়, ওকে করেছি গ্রেপ্তার।
–সে কী! কই তাকে নিয়ে আসো দেখি!
[ভাঁড়ের প্রবেশ]
–এই যে মহারাজ!
–ব্যাটা মুখে বলে জাস্ট ফর ফান! লিখেছে এক রাজ্যদ্রোহী গান!
–আচ্ছা, কই? শোনাও দেখি!
[ভাঁড়ের গান]
তব মুকুট পড়িল পদতলে, হায় এ কী দশা!
ভেজরোলে আজ শুধুই পনীর, খুব কষা
বিপ্লব নামে প্যাশনে, আহাআহাহাহা
মিডিয়ায় খুব বেমানান, ডিবেটিক ড্রামা খানখান,
চাষি কোথা গ্যাছে কে জানে, তাই বিপ্লব একা প্যাশনে
লেপেল রয়েছে কলারে এবং গানবৃদ্ধটি জালি
বিপ নিয়ে গেল সেন্সরে আর ট্রেনেতে কর্মখালি
কেন্দ্র পেয়েছে নব জিতেন্দ্র, পাপ্পু যে ছিল কালই
ভালচার chubby, দিনে পাঞ্জাবি, রাত্রে টুইটারালি
স্টেজে বসা
তব মুকুট পড়িল পদতলে, হায় একী দশা
ব্রিলিয়ান্ট এলে, কালচার বেলে, ভাজে অসা
তব মুকুট পড়িল পদতলে,
তব মুকুট পড়িল পদতলে,
তব মুকুট পড়িল পদতলে,
হায় এ কী দশা
দাদা খড়েন, ফরেন, যাবেন, প্লেনে, একদিন
প্রেমে পড়বেন, শুদ্ধু কাজের, রিয়াল ইস্যু বাদ দিন
দাদা ফুটেজ, খাবেন, পাবেন, টাবেন, লাইভে
পোষা, মোসাহেবরা, নাচতে, শিল্প হবে প্রাইভেট
গুলি ভেঙে দিল বুলি, বস দিয়েছেন তুড়ে
রিপোর্ট লিখেছে ওই ব্যাচ, তুমি থাকো তৈমুরে
এই রাষ্ট্রটা আপনার, একে বাপ মাপবেন আপনি
পড়িয়ে রেখেছি মার্ক্সবাদ, তাও দল বেঁধে ‘স্কি’র চাপ নি
বউনি হয়নি লাঙ্গলের, তবু পোস্টারে হাসে ট্রাক্টর
ভাল দিন তবু আসবেই তাই, এইটে আসল ফ্যাক্টর
ক্যাজ ডেটা
তবু মুকুট পড়িল পদতলে ‘তো কা হুয়া বেটা?’
ভেজরোলে আজ শুধুই পনীর, খুব কষা
তব মুকুট পড়িল পদতলে, হায় একী দশা
–বন্ধ করো! বন্ধ করো। এ গান বন্ধ করো! ব্যাটাকে ধরে, মুখ বেঁধে, ঢিঁট করো!
–হাজার হাজার পাতার চার্জশিট কর!
–ব্যাটা যেন আর কোনওদিন না গাইতে পারে।
–অধিকার চাইতে পারে!
–ব্যাটার লেখায় অন্য সুর করো!
–মহারাজের চোখের সামনে থেকে দূর করো।
–সত্যি বাবা এগুলো যে কোদ্দিয়ে এসে….
–তুমিই বা কোদ্দিয়ে এলে বাবা?
–এলাম আপানাকে আর এ রাজ্যকে ভালোবেসে!
–তুমি না মহারাজ নন্দের মন্ত্রী!
–আজ্ঞে ছিলাম… আর লয়াল বলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে পারছিলাম না! এদিকে ওই রাজ্যে থেকে কাজ করতে পারছিলাম না…
–বেশ! তবে আজ থেকে এখানেই থাক। এই কে আছিস ওকে একটা চ্যানেলে ডাক।
–মহারাজ!
–বলো কুতুয়া! কী বলতে চাও?
–ভৌ ভৌ, আজ্ঞে…. কুবেরবাবু এসেছেন!
–সে কী! হুজুর এসেছেন! ওরে কে আছিস, ওঁকে বসার জায়গা দাও!
–মহারাজ!
–এভাবে লজ্জা দেবেন না হুজুর! আপনি হলেন মাই বাপ, আপনি হলেন গ্রেট। বলুন কী করতে পারি বন্ধু, কী করতে পারি মেট?
–আসলে গতকাল কিনেছি একটা সুপারসনিক জেট। তাই ভাবছিলাম যদি একটু আকাশ পাওয়া যায়…
–আজ থেকে রাজ্যের গোটা আকাশটাই আপনার, একার, প্রাইভেট। মিত, বন্ধু আমার, পরেরবারে বিলখানা করিয়ে নিও পাশ।
–চিন্তা করবেন না, ওসব আমার পুরনো অভ্যাস।
[কুবেরের প্রস্থান]
–মহারাজ!
–একী আইন! এত কাঁপছ কেন? অ্যাংজাইটি নাকি? সব ফাইন?
–না মহারাজ! অবস্থা খুব ঢিলে। সেই মনে আছে গতবারের বিলে, সব বেচে দিলেন?
–হ্যাঁ, ভাবলেই ভালোলাগে। যেন ঘটনাটা কালকের।
–হ্যাঁ এবার বাল ছেঁড়!
–মহারাজকে অপমান!
–এই ব্যাটাকে জেলে দে!
–ড্রাই স্টেটে ফেলে দে!
–পুরোনো ভিডিও মেলে দে!
–ব্যাটার নামে সুপারিটা। ও ভাইটি, সেলে দে!
–চোপ সালা! আপনাদেরও বেচে দিয়েছে বিভিন্ন সব খাতে। এই রাজমহল, সিংহাসন, কার্পেট, সবটাতে কোম্পানি সিল মারল বলে
–রাজদণ্ড হাতে!
–সে কী আমার তবে কী হবে? আমি যে ফুলের মতো নরম, আমার যে ঠান্ডার ধাত, কষ্ট হয় যে ড্যাম্পে…
–চিন্তা নেই হিটার আছে বেসরকারি ক্যাম্পে। অবশ্য আপনি নিজেই তো বলেছেন সেই কবে..
বাসেরকারি হালা পারিসাব ভালা হাবা