
মৃন্ময় চক্রবর্তী
জীবনানন্দ দাশ ও বের্ট্রোল্ট ব্রেখট-এর ১২৫তম জন্মদিবসে
‘কেননা এখন তারা যেই দেশে যাবে তাকে রাঙা নদী বলে
সেইখানে ধোপা আর গাধা এসে জলে
মুখ দেখে পরস্পরের পিঠে চড়ে যাদুবলে’
চরিত্রলিপি—
প্রথম ভিখারি
দ্বিতীয় ভিখারি
তৃতীয় ভিখারি
মেয়ে ভিখারি
প্রথম ভিখারি—
উফ! ঠান্ডাটা বড্ড বেড়েচে!
কইরে, এনেচিস? এদিকে দে আগে! জমে গেলুম!
দে দে! এহ!
সবাই যকন ভাত খাচ্চে আমরা তকন চা… আগুন চাপা দিচ্চি। আহ…
দ্বিতীয় ভিখারি—
গায়ে তো নিমতলার কম্বল সাঁটিয়েচ, তাও ঠান্ডায় কাঁপচ?
এই নাও, ধরো তোমার পাঁচ টাকা।
প্রথম—
বোতলটা হিট খেয়ে বেঁকে কী হয়ে গেছে রে! এটা পালটা এবার।
দ্বিতীয়—
তুমিও তো আনতে পারো একখানা বড়দা! ট্রেনে তো কাজ করো।
বাসে আজকাল ফেলনা বোতল পাওয়া যায় না।
প্রথম—
আজ হরিদার খদ্দের জমেচে?
ক-টায় যেতে বললে?
দ্বিতীয়—
কেন, ১২টায়!
মাঝরাতে না-খেলে হরিদার হোটেলে আর সস্তা পাচ্চ কোতায়।
ভিড় থাক আর না-থাক, ওই একই টাইম।
তৃতীয় ভিখারি—
ওই টাইমই ঠিক আচে।
আগে খেয়ে নিলে সকাল অবধি পেট টান থাকবে না।
তকন হবে বিপদ।
প্রথম—
হরিদা আজকাল কিছুই দিচ্ছে না।
শুদু ফ্যান-মারা ডাল ঠেকাচ্চে, নয়তো ফেলা-আনাজের ঘ্যাঁট।
নতুন একটা সস্তার জায়গা দেক দিকি এই মাঙ্গার বাজারে!
দ্বিতীয়—
হরিদাই ভালো। ওর চেয়ে আর সস্তা কোথাও নেই।
এই শীতের রাতে হোটেলের ভেতরে চান্স দেয়।
অমন পাবে কোতায়?
প্রথম—
না রে, শীতটা জবর পড়েচে আজ!
উফ!
তৃতীয়—
এ আর কী শীত! শীতে সেবার কাজ কত্তে গেচিলুম সাগরে। উফ মাইরি, কী হাড়কাঁপুনি!
ওই ঠান্ডায় আবার সাধুগুলো ন্যাংটো হয়ে ছাই মেকে বসে আচে। আর এই বড় বড় ঝুলচে, কোনও হুঁশ নেই শালাদের! পয়সাও পাচ্চে ভালোই।
প্রথম—
তোর কথা শুনেই বোঝা যায় তুই ব্যাটা আইবুড়ো! এখনও সামলে রেকেচিস… হা হা হা হা!
তৃতীয়—
আমি নয় আইবুড়ো, আর তুমি ক-টা বকনার বাপ? সেদিন তো দেকলুম ময়দানে। বাসস্ট্যান্ডে চাচার ফুটের দোকানে দাঁড়িয়ে পুরিয়া দেকচিলে। তা মতলবটা কি কেনবার ছিল?
কোতায় যাচ্চ আজকাল বড়দা?
প্রথম—
পেটে ভাত নেই চ্যাঁটে সিঁদুর!
শালা! কাকে দেকতে কাকে দেকেচিস তার ঠিক নেই অমনি বলে দিলি!
দ্বিতীয়—
নাও নাও দেকে শান্তি করেচ, বেশ করেচ, এবার চা-টা সাঁটাও, ঠান্ডা হলে গরম করার পাত্তর নেই।
ওই আর দুটো কাগজ পুরে দে যজ্ঞির পোঁদে, আগুনটা শালা ছেনালি কচ্চে।
উফ, রাত কাটানো এই শীতে…
প্রথম—
কেন, নাকি শীত নেই? আমি মড়ার কম্বল জড়িয়েচি বলে তো খুব আওয়াজ দিচ্চিলি!
দ্বিতীয়—
তোমার কম্বলটা ধার দাও না বড়দা, হিহিহি…
প্রথম—
মার খেয়ে ফাস্ট হয়ে যাবি বাঞ্চোত।
তোদের মতো কি আর ছোঁড়া আচি?
দে, আরেকটু ঢাল দিকি চা। বয়স হয়চে বুজিস না কেন!
আহ…
শীত এলে দেশের কতা মনে পড়ে খুব বুজলি। আমাদের গাঁয়ে এরচে বেশি শীত পড়ত। কিন্তু বাঁশের মাচার ওপরে মায়ের বোনা চার খানা কাঁতার তলায় শুয়ে দারুণ আরাম ছিল রে, আহা!
আর ছিল রাতের আকাশ। দেকবার মতো। কী বলব, এমন ঝকঝকে, যেন ইস্টিলের থালায় গোচা গোচা ফাগুন মাসের শজনে ফুল।
একানে তো আকাশের মা মরে গেচে বলে মনে হয়। শালা মোড়ে মোড়ে শুদু তারা ঝুলচে, ছাটেলাইট।
তৃতীয়—
তোমার বাড়ি কোতায় ছিল বড়দা?
প্রথম—
গঙ্গার ওধারে, রূপনারান পেরিয়ে।
তৃতীয়—
কোতায়?
প্রথম—
সেসব ধোঁয়া হয়ে গেচে। তুই শুনে কী করবি?
দ্বিতীয়—
চলে এলে কেন? বিয়ে-ফিয়ে করোনি, সত্যিই?
তৃতীয়—
বড়দা বিয়ে করবে কী, পুরিয়া বিক্কিরি দেকেই তো বিকেল পার করে দিচ্চে, হো হো হো!
প্রথম—
এই শালা বোকার বাচ্চা, খালি ঢ্যামনামি করিস, শোন না!
দ্বিতীয়—
এই কানা ডিসটাপ করিস না তো, তুমি বলো বড়দা!
তৃতীয়—
এই শালা খোঁড়া, আমি ডিসটাপ কচ্চি?
প্রথম—
আহ, থামবি তোরা! বলব না থালে কিন্তু!
দ্বিতীয় ও তৃতীয়—
আরে, বলো বলো বড়দা!
প্রথম—
দারুন সুন্দর গ্রাম ছিল আমাদের! রূপনারানের ওধারে।
ধান যকন পাকত-না, মনে হত গ্রামটা যেন কোনও থানের দেবতা। আহা কী মূর্তি রে। তবু চলে এলুম। ফ্যাক্টরি হবে বলে জমি নিল গরমেন্ট। যেটুকু পড়ে ছিল ভাইয়ের হাতে দে বেরিয়ে পল্লুম। আমি তো বিয়ে করিনি, ভার বাড়িয়ে কী হবে বল!
তৃতীয়—
তা তোমার ঘাড়েই কোপটা পড়ল দা?
কী নিয়ম দুনিয়ার, এ্যাঁ!
প্রথম—
দুনিয়ার কোনও নিয়ম নেই রে। ছোট নিয়মের মদ্দে বড় অনিয়মের সংসার।
দ্বিতীয়—
আবার বাউলিজ্ঞান ঝাত্তে শুরু কল্লে। বিয়ে কল্লে না কেন, তাই বলো!
প্রথম—
খালি পেটে চা পড়লে অমন হয়। জ্ঞান চাগিয়ে ওটে।
শোন-না! পরে ফের একবার গেছিলুম বুইলি। দেখি বিরাট এক কীসের কারখানা। দেকে মনে হল, গাঁ-টা উটে যাবে ক-দিন পর। শুদু বাইরের লোক আসচে আর জায়গা কিনে ঘর তুলচে। তারপর আর যাইনি।
আর মেয়ে? সে কোতায় পাব? গ্রাম দেশে তো অমন হয় না। পাত্তরের কী আচে না-আচে এসব দেকে তারপর লোকে সম্মন্দ করে। তারপর সুমুন্দি হয় বুইলি গাড়ল!
দ্বিতীয়—
জন্মটাই আসলে পাপ। লোক বাড়লেই কষ্ট বাড়ে।
তবু কেন লোকে শুদুশুদু লোক বাড়ায়, পিতিবিতে আনে, দুঃখ দেবার জন্য!
আমি সেদিন আমাদের ওদিকি গেছিলুম বড়দা বুইলে। দেখি গা-গলানো যায় না ট্রেনে। উফ, এত লোক!
প্রথম—
কবে গেলি? বারাইপুরের প্যায়রা খাওয়াবি বলেছিলি, দিলি না? একাই খেলি শালা?
দ্বিতীয়—
না গো দা, একন আর কেউ কিচু মাগনা দেয় না।
আগে দিত।
তৃতীয়—
লোক বেড়েচে তাতে কী হয়েচে, খদ্দেরও বেড়েচে! ভিক্কে তো হচ্চে খারাপ না।
দ্বিতীয়—
ওই শালা, ভিকিরির আবার খদ্দের কী রে মারা!
লোক বাড়চে বলে জমিও বাড়চে? আর যা হচ্চে তা দিয়ে পেটভাতে চলা যাচ্চে আগের মতো?
আমি আর তুই শুদু একা খোঁড়া আর কানা? এরম কত বাজারে এসেচে বল তো!
প্রথম—
আমি তো আর ভিক্কে করব না ভেবিচি।
দ্বিতীয়—
থালে খাবে কী? আঁটি চুষবে?
প্রথম—
নাহ, গলায় গানের বাক্স ঝুলিয়ে ভিড় ট্রেনে ধাক্কাধাক্কি আর ভাল্লাগে না।
লোকে বাপ তুলে গাল দেয়। মুক ভ্যাটকায়।
সেদিন শ্যালদায় একজন লোকালে কাজ কচ্চিল, চেনা লোক, বলল— পাটির মিছিলে মিটিনে গেলে নাকি একন দুশো-একশো করে দিচ্চে!
তৃতীয়—
আমিও শুনিচি। কোনও লাভ নেই। কাগজ আচে তোমার?
প্রথম—
কাগজ?
তৃতীয়—
ছাট্টিফিকেট আচে? ভোটার কাড আদার কাড আচে?
প্রথম—
ওগুলো না-থাকলে নেবে না?
দ্বিতীয়—
তোমার শালা ভোটই নেই। বেওয়ারিশ। তুমি টাকা পাবে কী করে, খ্যাক খ্যাক খ্যাক।
নাও নাও জলদি চা-টা মারো। গল্প অনেক হল। পুলিশ এবার ঝামালা পাকাতে আসবে।
তৃতীয়—
ওই শালাদের এক কাজ হয়েচে। চোরকে সেলাম ঠুকবে আর ভিকিরিকে বাটাম মারবে। হারামির বাচ্চা!
দ্বিতীয়—
মারবে না? তুমি শালা ছিটিজেন? দশ তলায় থাকো? ট্যাস্কো দাও?
প্রথম—
হ্যাঁ আমি ছিটিজেন। আমি ট্যাস্কো নিই শালা। তোলা তুলি। ফুটপাতে আগুন জ্বাললে কি ওদের বাপেরা কালীঘাটে ওটে? নাকি সরকার নিমতলায় যায়?
দ্বিতীয়—
ভিক্কেটাও যদি সত্যি সত্যি আমরা ইচ্চামতো তুলতে পারতুম বড়দা!
সারাদিন আমরা খাটি আর আড়কাটি রাত্তিরে এসে ছোঁ মেরে নেয়।
লোকে ভাবে ভিকিরির কত-না কামাই! আসলে তো আমরাও গতর খাটিয়ে লোক।
পিচনে মালিক আচে।
নিজের কামানো পয়সা পাবার অদিকার নেই!
প্রথম—
তুই ঠিক বলিচিস!
রাস্তাগুলোও শালারা ভাগা করে নিয়েচে। যেন দেশটা ওদের বাপকেলে।
মাঝেমাঝে মনে হয়, দেব না, কিচুতেই দেব না! এই সাদিন দেশে কি ভিক্কে করার অদিকারও নেই?
কিন্তু আমার এই বাঁকা লাঠির আর কতটুকু জোর! শালাদের তো গুণ্ডা আচে।
জীবন একটা রক্তচোষার ফাঁদ রে ভাই। পালাবার জায়গা নেই কোতাও।
তৃতীয়—
ভিকিরিদের একটা সরকার দরকার!
দ্বিতীয়—
হ্যাঁ, থালে বড়দা মুক্কোমন্তি হবে। আমি হাইকোট আর তুই দারোগা, খ্যাক খ্যাক খ্যাক!
প্রথম—
শালা, বাঞ্চোত!
দ্বিতীয়—
কী হল দা?
প্রথম—
শালার মশা আমাদের কিচ্চু হতে দেবে না!
দ্বিতীয়—
ওই দ্যাকো আবার কে আসচে!
তৃতীয়—
ওমা, দেখো শালা দোপ্পদি আবার এদিকে!
প্রথম—
কে, বাবুঘাটের সুচিত্তা সেন?
তা কী খবর হে! ও বিয়ান? এসো এসো, চা খাও।
মেয়ে ভিখিরি—
মরণ আমার!
শালা কলকাতার পোঁদের তলা দে মেট্টো যাবে গঙ্গাপার। বউবাজারে টেকা দায় আবাজে। কী আবাজ কী আবাজ, কান ঝামড়ে গেল!
তার ওপর লোকজন হয়েচে খচ্চর, মাগ-মদ্দো একটা চলা-পয়সা ঠেকাতে চায় না!
কোতায় নাকি যুদ্দু লেগেচে, কাজ বাড়ন্ত, পয়সা নেই! সব পোঁদ দেকায়।
দ্বিতীয়—
যুদ্দু? হ্যাঁ শুনচিলুম। দু-বছর তো রোগ এসে পেটে কড়াই ভেজে গেল। ফের নতুন খেলা?
প্রথম—
গঙ্গা জল ঢাল, কাগজ দে আগুনে। গিন্নি এয়েচে। মাতায় যা জটা চাপিয়েচে, এই ঠান্ডাতেও গরম হয়ে আচে। চা খাওয়া।
তা সুচিত্তা সেন, তোমার গতর বেওসা ফুট?
মেয়ে ভিখিরি—
গতরে আর কিচু নেই গো দা, মাছি বসে না। বয়েস কম হল তুমি বলো।
ফিরি দিলে অবশ্য তোমার মতো উত্তমকুমারও চলে আসবে।
প্রথম—
কী যে বলো বেয়ান। তুমি একনও গোল… খ্যাক খ্যাক খ্যাক
মেয়ে ভিখিরি—
ওরে শালা ঢ্যামনা, তোর তো রস কম না।
তুই তো অই বুড়ো আড়কাটিটার মতো কচ্চিস!
কিচু না পেলে শালা আমার মতো বুড়িরেও ছাড়ে না!
দ্বিতীয়—
যুদ্দু বাদিয়ো না একেনে, খোলা ফুটপাত। পুলিশ এসে পোঁদের চাম তুলে দেবে।
কিন্তু আমাদের তো পাত্তর নেই, চা গরম হবে না। তোমার থাকলে দাও।
মেয়ে ভিখিরি—
হ্যাঁ, পাত্তর এট্টা আচে দাঁড়া, দিচ্চি।
ওই শালার পুলুশ গায়ে হাত দে দেকুক না একবার, ওর বাপের জম্মো দেকিয়ে দোবো।
এই নে পাত্তর।
কিন্তু একছিলিম চা-এ একগঙ্গা জল দিয়ে কী ছাদ্দ বানাচ্চিস র্যা?
তৃতীয়—
অত নাক কোরো না খুড়ি। এই ঠান্ডায় গরম জলও সেও ভালো।
মেয়ে ভিখিরি—
এই শালা, আমি তোর খুড়ি?
তৃতীয়—
না না, তুমি সুচিত্তা সেন!
মেয়ে ভিকিরি—
এই শালা ড্যাকরা, মেলা বকিসনি, চা হয়েচে তো দে। সত্যি বড্ড ঠান্ডা আজ।
ওই বিরাট পোস্টারটা কীসের র্যা? হাট-টা কী বিরাট লাল, যেন তাকিয়ে আচে!
প্রথম—
ওই হাট তো রোজই খোলা গো বেয়ান।
ধুকপুক কচ্চে আকাশে।
ওটা ফেলো-কড়ি দাতব্য হাসপাতালের পোস্টার।
মেয়ে ভিখিরি—
দাঁতের হাসপাতালে বুকের ছপি?
প্রথম—
দাঁতের নয় গো সুচিত্তা সেন! ফেলোকড়িবাবুর ফিরি হাসপাতাল।
হা হা হা…
মেয়ে ভিখিরি—
ওরে শুয়রের বাচ্চা……।
দ্বিতীয়—
আমাদের হাট কিন্তু অত লাল নয়।
ময়দানে বর্ষাকালে ঘোড়ার কদম-ছাপের মতো কালো আমাদের বুক।
তাই রোগ কম।
কী বলো বড়দা?
প্রথম—
দারুণ বললি তো, তা তুই এত ভাবিস কোন কালে? বাউল তো ছিলি না আমার মতো!
কিন্তু ভালো বলিচিস।
তবে আমাদের বুক কালো হলেও, মাটির, জলভরা।
ওরম ক্যাটকেটে লাল নয়। তাই রোগ কম।
মেয়ে ভিখিরি—
ময়দানে হাট খুঁজতে যাবে নাকি ও খুড়ো?
হি হি হি…
প্রথম—
চোপসানো সবজি ঘাঁটতে যাব না বেয়ান!
হা হা হা!
এখন ময়দানে অনেক শীত।
কই রে, আগুনটা তো কমে যাচ্চে! কাগজ গুঁজে জলদি চা-টা গরম করে ফেল।
এসো সবাই ঘন হয়ে বসি।
দ্বিতীয়—
বড়দা, আরেকটা গল্প হোক ধানের-চালের,
রাঙা নদীর দেশের।
মেয়ে ভিকিরি ও তৃতীয়—
হোক হোক জাদুকরের গল্পটা হোক।
প্রথম—
শোন, শোন আসল কতা হল গে
টাকা দিয়ে সব জিনিস কেনা যায়।
টাকাই হল সব।
টাকাওয়ালা লোক পাশ দিয়ে গেলেই হাত চালিয়ে দে।
কেড়ে নে মালকড়ি।
দ্যাক কেমন লাগে!
ভাল বাড়ি পেলেই ঢুকে পড়,
সটান গিয়ে শুয়ে পড় ধপধপে বিছানায়।
বাড়ির বউটাকে বল, চলে এসো খাটে।
কিন্তু যদি দেখিস ছাত ভেঙে পড়চে
অমনি কেটে পড়।
দ্যাক কেমন লাগে!**
খচ্চর, থুড়ি গাধা যদি একবার ওটে ধোপার পিটে
থালে দ্যাক কেমন লাগে!
হা হা হা হা হা….
দ্বিতীয়, তৃতীয় আর মেয়ে ভিখিরি—
হো হো হো হো হো….
জাদুকর জাদুকর!
____
* কবিতাংশটি কবি জীবনানন্দ দাশ-এর ‘লঘু মুহূর্ত’ থেকে নেওয়া।
** ব্রেখট-এর ‘অধর্মের কথা’ কবিতাটির ভাবনা অবলম্বনে।