
সৌমিত দেব
কুণাল কামরাকে নিয়ে বর্তমানে যেটা হচ্ছে সেটাও একইরকম মানুষ করছে। দুটো পরস্পরবিরোধী স্পেকট্রামের একইরকম মানুষ। দুটো স্পেকট্রাম যাদের পরিসর আলাদা। একদলে কুণাল কামরার পক্ষে কথা বললে মান বাড়ে, নাম ফাটে, আরেকদলের বিপক্ষে কথা বললে। কোথায়? সোশাল মিডিয়ায়।
লিখতে বলা হয়েছে কুণাল কামরা সংক্রান্ত প্যান্ডেমোনিয়ামটা নিয়ে। ওই যা হয় আর কী, কুণাল কামরা নিজের স্ট্যান্ডাপ শো-তে যে ধরনের কমেডি করেন সেটিই করেছেন, সরকারবিরোধী কথা বলেছেন প্রপার নাউন ধরে। স্বভাবতই অপরপক্ষের সমর্থকরা রেগে গিয়ে যেখানে উনি এই শো করেছেন সেই জায়গাটা ভাঙচুর করেছে। ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশ কোর্টকাছারি কিছুই বাদ নেই। আর কুণাল কামরা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন। বললামই তো, যা হয় আর কী! এই নিয়ে বিশেষ কিছু লেখার নেই। শুরুতে এই এক প্যারা লিখলাম। তারপর শেষে আরও দুটি লাইন এবং একটি প্যারায় কুনাল কামরাকে ফিরিয়ে আনব। চার চেয়ে একটি দারুণ ইন্টেরেস্টিং জন্তু নিয়ে আলোচনা করা যাক বরং— মানুষ।
ভাস্কর চক্রবর্তী লিখেছিলেন— ‘বিখ্যাত বিখ্যাত আর বিখ্যাত হতে চাওয়ার মধ্যে একটা অশ্লীলতা আছে।’
মানুষ হল সেই জিনিস যে ভাস্করকে বলেছে ‘ভাগ শালা’। আমি নিজেও সেই প্রজাতির একজন মানুষ। অন্তত সমীক্ষা তাই বলছে। আত্মসমীক্ষা। একেবারে এক ছপ্পা এক কাট। ফালতু মাল। কিন্তু আমি জানি আপনি সেরকম নন। আপনি দারুণ। তাই হে চমৎকার পাঠক, আপনার রিলেট করতে অসুবিধে হলে, নিজগুণে ক্ষমাঘেন্না করে নেবেন।
তো বেঁচে থাকা বাদ দিয়ে মানুষ মূলত নিজের নাম ফাটাতে চায়! সেটা মুরোদে না কুলোলে অন্তত ‘বিখ্যাত’ তকমাধারীদের সঙ্গে খানিক গা ঘষাঘষি করে সেমি-বিখ্যাতর কাছাকাছি কোনও একটা জায়গায় খুঁজে নেয় তার টু-বিইচকে। সেলেব্রিটিদের কিছু কমেন্টবাক্সে এ গবেষণার সত্যতার প্রমাণ আছে। আরও গভীরে নামলে এ জিনিসের কারণ হিসেবে ক্ষমতার লোভ, অবদমিত যৌনতার প্রকাশ, ফলে আবারও ক্ষমতার লোভ— ‘সব ফ্যাসিস্টই কেন চর্তুদিকে নিজের বড় বড় ছবি টাঙায় রে সাধন?’, তারপর, ‘তুই কটা ফ্যাসিস্ট দেখেছিস পানু?’ এইসব নিয়ে বিস্তর অমূলক, আজেবাজে, নানাবিধ কথা বলা যেতে পারে যেগুলোর এই লেখাটার মতোই কোনও দরকার ছিল না।
কারণ এই যে মানুষ বিখ্যাত হতে চায়, মানুষ বেশ করে। কেন করে সেটা আমাদের ‘শুটিং লাইন’ দিয়ে বলছি।
আমাদের লাইনে অনেক কিছুর রাজনীতি চলে যার মধ্যে কাপের রাজনীতির মতো মস্তির জিনিস ভীষণ কম আছে। যতক্ষণ না নাম ফাটবে, ততক্ষণ কাচ বা সেরামিকের কাপে ভাল চা আসবে না। কাপের ওপর ফয়েল দিচ্ছে মানে ইউ হ্যাভ মেড ইট। নিজেরই একটা উদাহরণ দিই। লেখক হিসেবে দ্বিতীয় ছবির সেটে গিয়েছি। গিয়ে দেখি ডিরেক্টর, ডিওপি, প্রোডাকশন ম্যানেজার-সহ যাবতীয় সিনিয়র টেকনিশিয়ানদের আলাদা ভাল কাপে চা তুলে ধরছে মুখের সামনে। আর আমি শালা চাইতেও দিচ্ছে না। আমার যে চা খেতে ইচ্ছে করছে এমনটা নয়। কিন্তু দেবে না কেন? মাথায় আগুন জ্বলে গেল! এ কী ব্যবহার লেখকের সঙ্গে। অবিশ্যি এ প্রায় ছ-সাত বছর আগেকার ঘটনা, তখনও এতটা দড়কচা মেরে যাইনি। এখন হলে রাগ তো দূরের কথা, এই কাপাকাপির বিষয়টা চোখেই পড়ত না। যেখানে বসতে দিত বসতাম। যা খেতে দিত খেয়ে সোনামুখ করে বাড়ি ফিরে আসতাম। কিন্তু তখন তো রাগ হল। আর রাগের মাথায় মনে পড়ল আরে, ডিরেক্টরের সঙ্গে তো আমার তুইতোকারির সম্পর্ক! ব্যস! জোরে জোরে ওর নাম ধরে ডেকে তুইতোকারি করে আজেবাজে কথা বলা, ওর থেকে কাউন্টার নেওয়া, শট নিয়ে জ্ঞান দেওয়া, এসব চালালাম। কুড়ি মিনিটের মধ্যে চা চলে এল। ফর্সা সাদা কাপে। শুধু তাই নয়! দু-পায়ে দাঁড়িয়ে আছি দেখে ‘দাদা বসো’ বলে পেছনে একটা চেয়ারও চলে এল মহা সমারোহে!
তাহলে মানুষের কী দোষ?
দুপুরে ভাত খেলে ঘুম পায়। তাই মফস্বল থেকে শহরে আসা যে ছেলেটা বা মেয়েটা দিনের পর দিন শুটিং করতে গিয়ে, বলতে বলতে থকে যাওয়ার পরও দুপুরবেলা রুটি পায়নি আর দেখেছে তারই চোখের সামনে দিয়ে থালাচাপা হয়ে সে জিনিস চলে যাচ্ছে তার চেয়ে মেধা, প্রতিভায় পিছিয়ে এবং পিআর স্কিলে এগিয়ে থাকা কোনও এক স্টারের বাতানুকূল ঘরে, তখন তার রাগ হবে না? মনে হবে না এই যদি আমি বিখ্যাত হতাম, তাহলে ওরা এটা করতে পারত আমার সঙ্গে? এবার ধরা যাক সে একদিন বিখ্যাত হল। স্টার হল। এবার তার ঘরে আসে থালাচাপা খাবার। অন্যে আরেকটি মফস্বল থেকে শহরে আসা ছেলে বা মেয়ের চোখের সামনে দিয়ে। মাল এবার উলটে গেছে! সদ্য শহরে আসা তখন ভাবে শালা একটু তো টকদই চেয়েছিলাম! আমায় দিতে পারল না, ওকে দিল? কেন ও স্টার বলে? তখন এক্স-মফস্বল বর্তমান স্টার বলবেন ‘বাবু রে আমি এটা অর্জন করেছি, ফাকশায় আসেনি।’ একদম ঠিক বলছেন।
কিন্তু প্রথমত, উনি ভুলে যাবেন তার চোখের সামনে দিয়ে যে স্টারের ঘরে রুটি গেছিল, সেই স্টারও সেটি অর্জন করেছিলেন। সে মেধা, প্রতিভা, পিআর স্কিল, যা দিয়েই হোক না কেন। হ্যাঁ বাপ মা বিখ্যাত হলে অন্য কথা। তখন অমলকে চড় মেরে সেই ছোন্তুমোনুর হাতে দই তুলে দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, এই ‘স্টারডম’ ধরে রাখার জন্য হন্যে হয়ে উনি কখনও জেনে কখনও অজান্তেই সহস্টারদের বন্ধুলোক হয়ে উঠবেন। তারপর ধীরে ধীরে একটা দাদা বা দিদির নিশ্চিন্ত আশ্রয় থেকে নিজেও একটা দাদা দিদি হয়ে ওঠবার প্রচেষ্টা চালাবেন। তৃতীয়ত, আগের বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতের প্রতি ওঁর ব্যবহার বদলে যাবে। একটু উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা শুরু করবেন তাদের। আর তারা ভাববে ‘কে রে লেউড়িয়া তুই?’ তাতে কিছু যাবে আসবে না, কারণ নিজের সেই রুটি না পাওয়ার দিনগুলোর একটিও উনি ভোলেননি, সেগুলোয় আর ফিরতে চান না। পরিশেষে এখানে উনি নিজের দমে এসেছেন। উনি উপলব্ধি করেছেন ভাল ব্যবহার করলে লোকে মাথায় ওঠে৷ তাছাড়া বাকিদের দম থাকলে তারাও আসুক।
এটা কয়েকজন অজান্তে করে। আর কয়েকজন এটা করবে বলেই আসে। ছক কষা আছে। দাদাবস টু দিদিবস টু দাদাবস টু গ্রুপ টু গ্রুপ টু… একেবারে ছোট্ট স্কিল, হাল্কা ক্ল্যাপস্টিক আর তাবেদারি। আমার মতো। কখনও নাম করতে পারলে আমিও এরমই হব। ওই কিছু খাস লোক থাকে না যারা ঊর্ধ্বতনকে বলে ‘আপনিই কল্কি’ আর অধস্তনের সঙ্গে কুকুর-বেড়ালের মতো ব্যবহার করে, তেমন। মানুষ এমনই।
আমি জানি পাঠক, আমি জানি আপনি বুঝতে পারছেন না মানুষ এমন কী করে হয়? কী করে বুঝবেন! আপনি তো দারুণ! তবুও আপনাকে আরেকবার আমার মতো ইল্লুতের জীবনবোধটা বোঝানোর চেষ্টা করি দাঁড়ান।
অভিনেতা, পরিচালক, সুলেখক এবং আমার ভীষণরকম কাছের বন্ধু অনির্বাণ ভট্টাচার্য একবার একটি ঘরোয়া আড্ডায় এই বিষয়টা নিয়ে কথা ওঠায় বলেছিলেন— “এই জিনিস কথা বলে মিটবে না, আমাকে, অমুককে, অমুককে নিজেদের ভ্যান থেকে বেরিয়ে সকলের সঙ্গে একসঙ্গে অন্তত একবেলার খাবারটা খেতে হবে। এতে সকলের খুব অসুবিধে হবে, আমাদের অসুবিধে হবে, ওদের অসোয়াস্তি হবে, সেটা দেখে আমাদের মনে হবে ওদের ফ্রি স্পেসটা ইনট্রুড করছি, কিন্তু তাও করতে হবে।” এক অভিনেতা ভাই ওঁর সঙ্গে প্রথমবার শুটিং করে এসে মুগ্ধ হয়ে বলেছিল, “অনির্বাণদা আমাদের সঙ্গে বসে গল্প করছিল, তখন প্রোডাকশনের ছেলে এসে বলল ওর খাবার আলাদা ঘরে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু মামা, অনির্বাণদা আমাদের সঙ্গে বসেই খেল।”
এবার কতগুলো স্তরে মিথ্যা ও ইতরামির বেসাতি করলাম দেখুন।
অনির্বাণ আমার ভীষণ কাছের বা দূরপাল্লার কোনওরকম বন্ধুই নয়। অনির্বাণ আমার বন্ধুই নয়। আমি ওঁর ক্রাফটের গুণগ্রাহী। ভক্ত। বিশেষ করে পরিচালনার। এবং ও শুধুই আমায় চেনে। কিন্তু যেই আমি ‘ভীষণ রকম কাছের বন্ধু অনিবার্ণ ভট্টাচার্য’ বললাম, অমনি লেখাটার আর আমার ওজন হুট করে এতটা বেড়ে গেল যে হোয়ে প্রোটিন এসে কান ধরে সরি বলে যাবে।
তারপর আবার ‘ঘরোয়া আড্ডা’! বুঝতে পারছেন! এরপর যদি ‘বোর্হেসের গল্পে কেন আমি দীপক তিজোরিকে খুঁজে পাই’ শীর্ষক একটি লেখা দিই, সেটাও লোকে পড়ে নেবে। আমি বিশ্লেষণও করে দেব যে বোর্হেসের লেখায় যে পরাবাস্তবতা আছে সেখানা আমি ‘সামহালা হ্যায় ম্যায়নে বহুত আপনে দিলকো’ গানে খুঁজে পাই। ও গানে দীপক তিজোরি নেই।
আর এভাবেই একটি লোক নিজের জীবনে যেটাকে প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করছে সেটাকেও কনটেন্ট হিসেবে ইউজালাম যাতে এই লেখাটা পাঁচটা লোক বেশি পড়ে। কারণ আমিও চাই আমার নাম ফাটুক। আমাকেও কেউ এভাবে কোট করুক যেভাবে আমি দীপক তিজোরিকে পেড়ে আনলাম।
আমার লাইনের মতো, প্রতিটা ক্ষেত্রেই এই এক জিনিস হচ্ছে। প্রতিটি মানুষ এই একই কাজ করছে। কারণ সে দড় হতে চায়। যেনতেনপ্রকারেণ তাকে দেখে যেন পাঁচটা লোক সেলফি তুলতে আসে। সেটা তোয়াজ করে হোক, রাজনীতি করে হোক, জুলাই মাসে গরিবদের প্লাস্টিক বিতরণ করে হোক, সং সেজে হোক। প্রসেসটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল রেজাল্টটা।
না হলে যাকে ‘হারাকিরি’ বা ‘সতো ফালসো নোম’ বা ‘ফো’-র মতো ছবি উত্তেজিত করে, সে কোনওদিনও বাংলা সিনেমা নিয়ে বিচলিত হবে? কিন্তু হয় তো! কেন হয়? যার ‘সাবস্টেন্স’কে মাঝারি মানের ছবি আর স্পিলবার্গকে ওভাররেটেড মনে হয় সে তো সিনেমা নামক শিল্পের আরও গভীরে, আরও কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে নিজের সবটা দিয়ে। সে ‘খাদান’ বা ‘বহুরূপী’ নিয়ে ‘মজাদার’ চুটকি লিখবে কেন? যার দম নেই সে ফ্রেন্ডস ওনলি করে লেখে আর যার দম আছে সে খোলাখুলি। কেন লেখে? কারণ সে তার সহবোদ্ধাদের থেকে ওই পিঠ চাপড়ানিটা চায়! চায় তার নাম ফাটুক। একজন প্রকৃত সিনেফিল ও একজন প্রকৃত হিউমারবোদ্ধা হিসেবে। মুখে বলে ‘পেছনে লাগছি’, ‘কিছু যায় আসে না’, ‘তির ঠিক জায়গায় লেগেছে’। না বান্টি, মানুষ বন্ধুমহলে পেছনে লাগে। তুই এমনিই গর্দভ। তদুপরি পাঁঠাও।
এই কুণাল কামরাকে নিয়ে বর্তমানে যেটা হচ্ছে সেটাও একইরকম মানুষ করছে। দুটো পরস্পরবিরোধী স্পেকট্রামের একইরকম মানুষ।
দুটো স্পেকট্রাম যাদের পরিসর আলাদা। এক দলে কুণাল কামরার পক্ষে কথা বললে মান বাড়ে, নাম ফাটে, আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে। কোথায়? সোশাল মিডিয়ায়। এবার আসা যাক কুণাল কামরার কথায়। কুণাল কামরা বিখ্যাতই হয়েছিলেন সরকারবিরোধী কথা বলে। তারপর থেকে বলেই গেছেন। গাদাগুচ্ছের কেস, ল স্যুট ইত্যাদি নিয়ে তামিলনাড়ুতে থাকেন বর্তমানে। ওটাই করেন। ফুলটাইমার। আপনি কী করেন? চাকরি, ব্যবসা বা ‘শিল্প’ করেন। আর স্টেটাস লেখেন ফ্রিডম অফ স্পিচ নিয়ে! আজ আপনি কুণাল কামরা নিয়ে লিখে ভাবলেন ‘কিছু তো করলাম’। তারপর কালই আবার আইপিএল নিয়ে লিখবেন। আর দুটো স্টেটাসের লাইক গুণবেন। তাই আপনার চেয়ে যে ছেলেটা কুণাল কামরাকে ফোনে গালাগাল করে ও আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও ফুলটাইমার। তেমনই যে শিক্ষিত লোক নিজের সুরক্ষিত পরিসরে বসে ধর্ম নিয়ে উস্কানিমূলক স্টেটাস লেখে তার জায়গা গুয়ের কলসি, আর যে অশিক্ষিত ছেলেটা বা মেয়েটা মাঠেঘাটে পড়ে থেকে সেটা আটকানোর চেষ্টা করে, তার জায়গা সরকারি পদের চেয়ারে বলে মনে করি। এবার আপনি আমায় বলবেন, আমি তো তবু অতটুকু লিখি তুমি কী করো পাতক? আরে আমিও তো লিখি! সুন্দর গা বাঁচানো, প্রপার নাউনহীন, মজাদার, লাইকোদ্দীপক কত স্টেটাসই না লিখেছি গো, আহা সে সব সোনালী দিন…
সঙ্গে আবার কাজ করি। ইএমআই দিই। সংসার চালাই। আমি এতে খুশি। রাস্তায় নেমে কাজ করার বা ফুলটাইমার প্রতিবাদী হওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। সাহসও নেই। কারণ আজ যদি আমায় কোর্টকাছারি করতে হয়, পুলিশ ধরে, তাহলে আমার বাপ-মা না খেতে পেয়ে মরবে। এটা আমার বাস্তবতা। আপনার বাস্তব হয়তো আলাদা। আমি বিচার করার কেউ নই। কিন্তু আপনিও নন। কারণ ভেতর ভেতর আমরা দুজনেই জানি যে আমাদের সত্যিই কিছু এসে যায় না। আমরা জানি সময় রায়না এখন পুরনো ‘টপিক’। আমরা জানি আমরা প্রত্যেকে আদতে নিজেদের বেছে নেওয়া একটা নির্দিষ্ট মবের অংশ হতে চাই। সেই নির্দিষ্ট মবের একটা সামনের সারির অংশ। যেখানে পেছনের লোকজন সামনে আসবেই আমাদের সঙ্গে সেলফি তুলতে। আপনিই বলুন না, সত্যি কি কুণাল কামরাকে নিয়ে কিছু যায় আসে আপনার বা আমার? না যায় আসে না। হ্যাঁ খারাপ হয়তো লাগে কিন্তু তারপর অপমান গেলার মতো করে গিলেও নেব। আইপিএল চলছে তো, না গিলে উপায়ও বা কী? স্বপ্ন দলে টিম কে বানাবে আমি রেবেলেমি করলে!
খারাপ লাগছে। হে পাঠক, আপনার কথা ভেবে খারাপ লাগছে। হয়তো শকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন মানুষের এই দিকটা জেনে। তাই আপনাকে দুটি কথা বলে শেষ করি।
দেখুন আপনার মতো দারুণ মানুষরা এখনও এই পৃথিবীতে আছে বলেই না ফুল ফোটে, পাখি ওড়ে, সন্দেশ তৈরি হয়। আপনারা থাকুন।
তাছাড়া আমাকে আমার বাড়ির লোকই পাত্তা দেয় না। আপনারই বা অত পাত্তা দেওয়ার কী আছে? ভাল থাকবেন।
চিয়ার্স।
পুনঃ এটা পড়ে কেউ রেগে গেলে জানবেন #তিরএকদমঠিকজায়গায়লেগেছে
*মতামত ব্যক্তিগত