পুঁজিবাদী জিভ

রাজিব মাহমুদ

 

লেখক ও প্রকাশকের নিম্নলিখিত ফোনালাপ চলছে। (লেখক তার লেখার ঘরে আর প্রকাশক তার ডেরায়)

লেখক: শুনুন প্রকাশক সাহেব, সাহিত্যের পণ্যায়নের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। লাভের চিন্তা বাদ দিয়ে সৎ সাহিত্যকে প্রোমোট করতে শিখুন। লেখক গরীব হতে পারে কিন্তু তার আত্মসম্মান…।

প্রকাশক: দাঁড়ান… দাঁড়ান… একটু বুঝে উঠতে দিন… আপনি কি চাইছেন আমি আপনার দারিদ্র আর আত্মসম্মানকেও পণ্য করে তুলি?

লেখক: কী যা তা বলছেন!

প্রকাশক: যা তা বলছি কোথায়! যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় একটা বাচ্চার কিউট হাসি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সবই পণ্য, সেখানে সাহিত্যও একটা পণ্য বটে। বাস করবেন একটা পণ্যসর্বস্ব সমাজে, সবকিছুর পণ্যায়ন মেনে নিয়ে ফেসবুকে হাসি হাসি ছবি দিবেন, অথচ ‘সাহিত্য’, ‘দারিদ্র’, ‘আত্মসম্মান’ এসবকে দেখবেন মহান বটগাছে ঝোলা অলীকতার সম্মানে মোড়া ভীষণ আহামরি ব্যাপার হিসেবে– এটা স্ববিরোধিতা হয়ে গেল না! তার চাইতে আসুন এগুলোরও পণ্যায়নের ব্যবস্থা করি।

লেখক: খা…মো…শ!! আমার মরা বাপের কসম আপনার ঐ পুঁজিবাদী জিভ আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলব…।

প্রকাশক: মুহাহাহাহাহাহা। আপনার ‘লেখকত্ব’ কিন্তু আমার হাতে বন্দি। ওকে ছাড়াতে আপনাকে আমার ডেরাতেই আসতে হবে…

(আর ঠিক তখনই প্রকাশকের ডেরার ইটের দেয়াল ভেঙে লেখকের মোটর সাইকেল হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল ভেতরে। লেখক দেখলেন দু’পাশে ঝুলতে থাকা দু’টো দড়িতে তার লেখকত্বের দুই হাত বেঁধে আটকে রেখেছে প্রকাশক ও তার পোষা পাণ্ডারা।)

দড়িতে বাঁধা দুই হাত নিয়েই লেখকত্ব বলে উঠল ‘লে…খ…ক… বাবা তুই আমাকে নিয়ে ভাবিস না… অন্যায়ের কাছে কিছুতেই মাথা নত করবি না… কক্ষনো না… ঐ প্রকাশক যা-ই বলুক তুই তোর নীতিতে অটল থাকবি… এ আমার আদেশ।’

ভীষণ অবাক হবার ভান করে লেখকত্বের দিকে তাকিয়ে খিক খিক খিক খিক করে হেসে ওঠে প্রকাশক, বলে ‘ওরে খাইসে! আমার বিলাই আমারেই কয় ম্যাও!’

এরপর ‘ইয়ায়াহুউউ’ বলে চিৎকার দিয়ে শুরু হয়ে গেল লেখকের সাথে প্রকাশক আর তার পাণ্ডাদের ভীষণ  ঢিঁশিয়া ঢিঁশিয়া মারামারি। আর চোখে জল নিয়ে সেই যুদ্ধ দেখতে থাকে লেখকত্ব; জলটা গর্বিত আনন্দের না মর্মন্তুদ কষ্টের সেটা পরিষ্কার নয়।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1907 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...