গল্পই না

ব্রতী মুখোপাধ্যায়

 

শুরুতেই গা ঘিনঘিনে ছবি। খুঁটিনাটিসহ। রেলইয়ার্ডের ধারে একটা মেয়ে খুন হয়ে পড়ে, শাড়ি হাঁটুর ওপর, রক্তাক্ত স্ত্রী-অঙ্গ, স্ত্রী-অঙ্গ ঘিরে মাছিদের ভিড়। পাশে এক তরুণ পেচ্ছাব করতে করতে সেদিকেই অনেকক্ষণ চেয়ে। পোস্টাপিসের টাইপিস্ট? এইরকম প্রশ্ন তার মনে।

গল্পটি এভাবেই শুরু। জঘন্য। গল্পলিখিয়ে মনে হচ্ছে রেপ, সেক্স আর পানু দিয়ে রগরগে তেলঝাল প্লেটে সাজিয়ে দেবে।

তরুণটি মামার বাড়ি থাকে, নিজের মামা না। জানে নিজের কেউ কোত্থাও নেই। সে প্রথম যেদিন কলেজবান্ধবী রোশেনারার বাড়িতে যায় ডাক্তার আসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। মোহর মিঞার গলিতে ডাক্তার আসলামের অনেকদিনের নার্সিংহোম। ডাক্তার তার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে, কথা বলতে বলতে ভ্রূদুটি কুঞ্চিতও করে।

গল্পে এভাবে এক বান্ধবী হাজির। ডাক্তারের নার্সিংহোমও। চেনা ছক। দেখি এবার গল্প কোথায় যায়। তবে টানটান গদ্য। মাঝেমধ্যে ফাঁকা জায়গা যা গল্পলিখিয়ে টাস্ক হিসেবে রেখে দিয়েছে যাতে পাঠক নিজের মতো ভরাট করে নেয়। অণুগল্পে যেমন হয় আর কি। তবে ধর্ষণ যে হারে বেড়েছে এইসময়ের গল্পে তার ছায়া পড়বেই।

গল্পে এক বৃদ্ধ আছে মাঝবয়েসে যার বউ বারো-তেরো বছরের একটা মেয়ে ফেলে রেখে মারা গেছে। জোছনা। বড় হয়ে সে পোস্টাপিসের দক্ষিণ দিকে বড়সড় বটগাছের নিচে একটা পুরনো টাইপ মেসিন নিয়ে বসে। এটাসেটা টাইপ করে বিশ-পঞ্চাশ আয় হয় দিন। বৃদ্ধ তাকে সকালবেলা পোস্টাপিসে ছেড়ে দিয়ে সন্ধেবেলা ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সংসার জানে জোছনার মাথায় গোলমাল আছে।

গল্পে এইবার বলা হল বৃদ্ধটি সেচদপ্তরের কর্মী। দপ্তর থেকে ফিরে এসে মেয়েকে খুব আদর করত প্রথম প্রথম। তারপর একদিন নিজের মেয়ের শরীর ঘাটতে শুরু করে।

ছিঃ! অবাস্তব যত্ত সব। গল্পলিখিয়ের সঙ্গে যদি দেখা হয়, জুতো দিয়ে পেটাব।

গল্প শেষ হওয়ার আগে ওই তরুণ নার্সিংহোমে আরেকবার। রোশেনারা তার সঙ্গে কথা বলল না। তাকে দেখে ভেতরে সরে গেল। তরুণটির মামা আগেই এসেছিল। ডাক্তারকে মামা তখন বলছে– কাউকে কিছু বলবেন না আপনি কিন্তু কথা দিয়েছিলেন…

গল্পের শেষে ওই তরুণ বৃদ্ধটিকে খুঁজতে বেরিয়েছে। হাতে চাপাতি।

এমন হয় নাকি? যত্ত সব বানানো। কিন্তু ভেতরটা কেমন যেন করছে। গল্পটি তৃতীয়বার পড়ে ফেললাম।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1866 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...