মাত্র ৫৩ বছর বয়সে চলে গেলেন জাভেদ আবিদি। মানবাধিকার আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমি বলতে পারি যে তাঁর এই অকালমৃত্যুতে ভারতে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল। তিনি নিজে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন। সেই অবস্থাতেই বিদেশে পড়াশুনো করেছেন। তারপর দেশে ফিরে কিছুদিন রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন-এ কাজ করেছিলেন। এবং এর পরে নিজেই এক স্বতন্ত্র সংগঠন গড়ে তোলেন, যার নাম Disability Advocate Group।
জাভেদ আবিদিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সংসদে এবং আরকিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় দাবি করেন যে ভারতের সমস্ত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্নস্থলে elevator বসাতে হবে, যাতে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তিরাও সেইসব স্থানের ইতিহাস ও স্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য আস্বাদন করতে পারেন। আবিদির এই দাবি কালক্রমে মেনে নেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়, আবিদির এই উদ্যোগের ফলেই দেশজোড়া প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষজন তো বটেই, এমনকি সদ্য প্রয়াত বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টিফেন হকিংও ভারত ভ্রমণে এসে দেশের প্রধানতম স্থাপত্যশিল্পগুলি ঘুরে দেখতে সক্ষম হন।
জাভেদ আবিদির আরেক অন্যতম অবদান হল সরকার ও সংসদের কাছে নিরলসভাবে দাবি তুলে ধরা যাতে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অধিকার সম্পন্ন আইন রচনা করা যায়। তিনি নিজেই এই সংক্রান্ত আইনটির খসড়া রচনা করে তা সরকার ও সংসদের কাছে পেশ করেন। ২০১৬ সালে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলটি অবশেষে আইনে পরিণত হয়। এই আইনটির স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে আবিদির অসাধারণ উদ্যোগ ভারতের মানবাধিকার আন্দোলন চিরকাল শ্রদ্ধাসহ স্মরণ করবে।
আমরা মানবাধিকার আন্দোলনের এক যোদ্ধাকে হারালাম। দেশের সমস্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ তাদের এক আপনজনকে হারালেন।
ড. বুবাই বাগ ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে’র এক রবিবাসীয় সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র ‘মন কি বাতে’-তে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষেরা ‘দিব্যাঙ্গ’ হিসেবে নতুন পরিভাষায় চিহ্নিত হয়েছেন। প্রতিবন্ধকতা অধিকার কর্মী, গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও অতি তৎপরতার সঙ্গে ‘দিব্যাঙ্গ’ শব্দটি প্রশাসনিক কাজে সিলমোহর পায়। যদিও প্রতিবন্ধকতাকে চিহ্নিতকরণে ভাষার পরিবর্তন একেবারে নতুন নয়।…
চার নম্বর নিউজডেস্ক ওরা এবং আমরা। এই বিভেদ চিরন্তন। প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তিদের সহানুভূতির নজরে দেখতেই আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু সমকক্ষ হিসেবে দেখার কথা ভাবি কতজন? ভাবলেও, সেদিকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস কতজনের থাকে? থাকে। আলো, সাহস কোথাও না কোথাও লুকিয়ে থাকে। বেঙ্গালুরুর এক দম্পতি, পবিত্রা এবং অশোক, গত বারো বছর ধরে…
সৌনক দাশগুপ্ত দেবাশীষ দেবের জন্ম ১৯৫৫ সালে, কলকাতায়। গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এপ্লায়েড আর্টস-এর স্নাতক হয়ে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আনন্দবাজারে যোগদান। বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট ও কমিক ইলাস্ট্রেটর হিসেবে দ্য টেলিগ্রাফ, আনন্দবাজার পত্রিকা, দেশ, আনন্দমেলা, সানন্দা প্রভৃতিতে নিয়মিত কাজের সূত্রে দেবাশীষ দেব সর্বজনবিদিত নাম। এছাড়াও ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, বিকাশ ও…