পঁচিশে মে, দু’হাজার সতেরো

ফ্যাতাড়ু-বজরা ঘোষ

 

চাদ্দিকে দেখচি সবাই নকসালবাড়ি দিবস পালোন কোচ্চে। একন সবাই নকসাল হয়ে গ্যাচে। বিসেস বিসেস দিন এলেই এসব মোনে পোড়ে যায়। ভোলার উপায় নেই। মানে ভুলতে দেবেনা। ফেশবুক মোনে করাবেই। হাড় সিপিয়েম, পাড় মাতাল, খিস্তিখোর বাচাল মায় গলাকাটা কংরেশ পারটির ছেলেরা পয্যন্ত একন নকসাল সাজচে। কবিতা লিকচে। গান গাইচে।

আমাদের পাড়ায় ছিল পাচুদা। আমরা বলতাম পাচুউউউ…. অনেকটা থেমে দা। একসাথে ডাকলে খারাপ শোনাতো, খচে যেত। তো সেই পাচুদা ছিল হেভভি নকসাল। মানে একাসি সাল পয্যন্ত। একাসি মানে জানেন? যারা জানেন না বলি একাসি মানে টাল খেয়ে যাওয়া। একদিকে হেলে যাওয়া। এসব বাংলা সব্দ আপনাদের ইংলিস খাওয়া নেকু নেকু ডিকসনারি তে নেই। জাহাজ একধারে কাৎ হচ্চে, সাহেব দোভাসিকে শুদোচ্চে এটা কি হচ্চে?
সে বল্ল স্যার শিপ ইজ এইট্টি ওয়ান। সেই একাসি। তো একাসি সালে পাচুরাম একাসি হয়ে গ্যালো। শিপিয়েমে হেলে পড়লো। আর তকন সিপিয়েম! ওরে বাবা! পুরো ১০০ হর্স পাওয়ারের টগবগে ইঞ্জিন। ফুলশয্যা টু ক্যাওড়াতলা সব জায়গায় নাং পুষে রেকেচিল। পাচু…. দা গাড়ি বাড়ি কোরে নিল। ছেলের চাকরি, নিজের চাঁদসি ডাক্তারখানার লাইসেন্স। মুদিখানার দোকান, বাড়ির ঝি চম্পার ছেলে প্রাইমারি ইস্কুলে! ওফফ। সে কি র‍্যালা। অতচ নিজে বলতো নকসাল, ইয়ে মানে বিদ্রোহী।

প্রায় আড়াই দসক পারটি কল্লো। সিপিয়েম যকন বেতো ঘোড়া তকন তাক বুঝে ঝুল মাল্লো এস ইউ সিতে। হেভি বাম থেকে হেভি ডানে টার্ন মাত্তে হলে মাঝামাঝি এট্টা ব্রিজ থাকে। সেরকম আরকি। 😉 ওদের মিচিলে ধর্মতলার রাস্তায় পোঁদ উলটে পুলিসের ক্যালানি খেতে খেতে যে লোকটা নিজের ছবি তোলাতো, জানবেন সেই বাঁড়াই পাচু…দা। কিচুকাল ওকানে কাটিয়ে তিনোমুলে ঝাপ মাল্লো। সমাজ খুবই পরিবত্তনশিল এবং উহাই চিরসত্য। আমার কতা না। বোদয় মারকস বলে গ্যাচেন (?) সুতরাং সিপিয়েম যকন পঞ্চায়েতে গো বেড়েন হচ্চে তকন পাচু…দার পরিবত্তন ধরা পল্লো। এদিকে শালা তকোনো বলে বেড়াচ্চে আমি নকসাল। বিদ্রোহী। গায়ে সবুজ গেঞ্জি তলায় লাল জাংগিয়া। (কাচতোনা, এম্নিই রঙ লালচে মেরে যায়)। একন দস্তুর মতো ঘেসো মাল হয়ে গ্যাচে অতচ বলে বেড়ায় কি যুদ্দুই না কোরেচি এককালে। উউহ, পুলিস গুলি কচ্চে, লাটি চালাচ্চে আর আমরা গেরাম দকল কচ্চি। এঁড়ে পতাকা ঝুলিয়ে মুক্তি ফোজ মারচ কচ্চে। এই দ্যাক তলপেটে দাগ। (পরে জানা যায় বাড়িতে যে চম্পা কাজ কত্তো, সে জোর কামড়ে মেরেচিল, ঘা এর দাগ)

তাপ্পর যুগ পরিবত্তন ঘটলো। কলকাতা লন্ডন হল, কেষ্টপুর খালে ময়ুরপংখী নাও দুললো, ট্রাফিক পুলিশ গান বাজালো, খ্যামতার খ্যামটা নাচন দেকচি রাজ্য জুড়ে, নকসাল, কংশাল, খোঁচড়, খ্যাঁকশিয়াল সব শায়ার তলায় ঢুকে একাকার তবু হারামী পাচু… দা আজো বলে সে নকসাল।

পাচু…দা ফেশবুক করেনা। কিন্তু পাচুর ধম্মোপুত্তুর রা ফেশবুকে বগল বাজায়, ভারি ভারি বই কেনে, চে চোদায় তারাও নকসাল। কপি হাউসে, ফেভারিট কেবিনে, হাই থটের কলেজে, মেট্রো চ্যানেলে, টিভির প্যানেলে, মায় জাপানী তেলে নকসালদের ছড়াছড়ি।
আর যারা শালা কিচ্চু কামাতে পারেনি। মরার আগে জলটুকু জোটেনি, আধপেটা সিকিপেটা খেয়ে, না ঘুমিয়ে, বাড়িঘর ছেড়ে, লুকিয়ে পালিয়ে বেড়ালো, জেলখানায়, রাস্তার ধারে গুলি খেয়ে মরলো। তারা কি ছিলো রে শুয়োরের বাচ্চারা?

মরুকগে, আজ লালবাজারে দিলুদার মিচিলে যাচ্চি। (দাদার গলায় রুপার লকেট, মানে রুপা আর লকেট থাকচে বস)। যাচ্চি লুঙি পরে। পুলিস মারতে এলে বলবো এই দ্যাক লুঙি, পার্ক সার্কাসের সিদ্দিক কোম্পানীর। আর মারার সাহস পাবেনা। যদিও পায়, সুবিদে আচে, লুঙি খুলে দৌড়। 🙂 পালানোর আগে বাংলার বোতলের ছিপি খুলে আগুন ধরিয়ে মলোটব ককটেল করে মেরে দেব।

পাচু… দাও যাচ্চে শুনলাম। মাল ঝাপতে, থুড়ি জল মাপতে।

হুইলার্স স্টল । দ্বিতীয় বর্ষ, দশম মেল ট্রেন

  • Hindutwa or Hind Swaraj

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*