পালটা

সিদ্ধার্থ দত্ত

 

গা’টা ঘিনঘিন করে উঠল! কী নির্মম ছোঁয়া রে বাবা! সেই কখন থেকে গুটখা চিবোচ্ছে। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে থুতু ফেলতেই খানিকটা উড়ে এসে গায়ে লাগল! অ্যাঃ…

প্রথমটায় বুঝতে পারিনি! ভেবেছিলাম কেউ তার ঢুকিয়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে! কিন্তু হঠাৎ কেমন যেন ডানদিকটা অবশ হয়ে গেল! নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোকা হয়ে গেলাম! ওই সুড়সুড়িটার জন্যেই কি? তারপর থেকে বিদ্যুৎগতিতে উড়ে চলেছি! সামনে দিগন্তবিস্তারী শূন্যতা! হু হু হাওয়া। ওয়াও! ভেবেই হাসি পেল! তুলি দিদির স্টাইলে ভাবছি আজকাল। তুলি দিদিকে নিয়ে ব্যাঙ্কে এসেছিলাম। তারপর ওই সবভোলানো সুড়সুড়ি।

নাঃ, লোকটাকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না! হাতের পেছন দিয়ে মুখ মুছে আমার গায়ে মুছল! তুলি দিদির ডেলিকেট যত্নের কথা মনে হতেই মাথায় খুন চড়ে গেল! পেছনে কে হর্ন দিচ্ছে?

–ওয়াও পুলিশের গাড়ি!

লোকটা ব্যাকভিউ মিররে চোখ রাখতেই বিপদের গন্ধ পেল! জোরে, আরও জোরে দূরত্ব বাড়াতে চাইছে লোকটা। সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে।

–এ মুহূর্তে আমি ছাড়া আর কোনও গতি নেই মালটার! এতক্ষণ আমাকেই বিক্রির মাল ভাবছিলে না চাঁদু? দাঁড়াও তোমায় দেখাচ্ছি মজা! ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখোনি না? এবার আমিই তোমায় দেখাব! ‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান/এইবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান’ মা’র কাছে শুনেছ তো বাচ্চাবেলায়? এবার দেখো!

নয়ানজুলিকে ডানদিকে রেখে রাস্তাটা সোজা বেরিয়েছে। বাঁ পাশে একটা ক্লাবঘর। রাস্তার ওপর বেশ উঁচু বাম্পার। তৈরি হলাম।

বাম্পারে হিট করতেই প্রবল ঝাঁকুনি, এই সুযোগে মট করে অ্যাক্সেল রডটা ভেঙে দিয়ে পুরো পালটি খেয়ে সোজা নয়ানজুলিতে। লাগল খুব। ভেঙেচুরে একশা হয়ে গেলাম। সারা শরীরে জল ঢুকিয়ে নিয়েছি, চোরটাকে বেরোতে দিইনি! আমাকে সুড়সুড়ি দিয়ে হাতানোর চেষ্টা!

নয়ানজুলির ধারে মেলা লোক। পুলিশ। ও মা, তুলিদিদিও আছে! একটা ক্রেন দিয়ে সবাই মিলে জল থেকে তুলল আমাকে! নিথর হয়ে আছে চোরটার শরীর। আঃ কি আনন্দ!

তবে, আমি জানি সময় লাগলেও তুলিদিদি আমায় ভালো গ্যারেজে দিয়ে ঠিক সারিয়ে তুলবে! তারপর আবার তুলিদিদির ডেলিকেট টাচ, স্টিয়ারিং হুইলে গাল রেখে নীলেশদার জন্যে অপেক্ষা, পারফিউমের গন্ধ! চোরটা সেগুলোই কেড়ে নিতে চেয়েছিল!

পালটা দিলাম!

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...