রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়

মাটির নীচের মানুষ

ওপরের মানুষকে একা হতে দেয় না

মনে রাখে ও রাখায় যারা

স্মৃতিগত ভাবে তারা প্রত্যেকেই সৎ

 

বধির বাজনাদারটি আমাকে এরকমই জানিয়ে ছিলো

আরো বলেছিলো –

ক্রুশ অথবা বেহালা

যাই তুমি গায়ে জড়িয়ে নাও না কেন

তা আসলে কাঠ

 

ঘর মানে ঘরের মধ্যে ঘর

তুমি বাঁধা পড়তে চাইছো

যেটুকু তোমার ভালো লাগা

পশ্চিমের রোদ্দুর নেমেছে

তোমার ঘরে শুধু হালফিল

চৌকাঠ থাকে না বলে

হোঁচট খাচ্ছো না

আছড়ে পড়ছো না

একটু অন্যমনস্ক হেঁটে যাচ্ছো

জানলা দরজা পেরিয়ে

ঘরের অন্তঃস্থ কোনো বিন্দু থেকে

বহিঃস্থের মাঝে যেটুকু বারান্দা

যেটুকু আত্মহত্যাপ্রবণ

 

আনন্দ ঘাঁটি বেঁধে আছে কোথাও। চালচুলোহীন যেরকম থাকে। গেরিলা কায়দায় ঘোরা ফেরা করে। একটা দোনলা দিয়ে একবার তাকে রোদ শিকার করতে দেখেছিলাম। তখন থেকেই ফিদা। এই শীতকাল এলে তাকে বেশি করে মনে পড়ে।

 

আমি তো তাকেই খুঁজছি। কোন একটা তাঁবুর মধ্যে পেয়ে যাবো। পাজামা ছেড়ে রেখে গেছে। দাগানো বই। তামাক যা ছাতা ধরেছে। পুরনো ইস্তেহার। মনে হবে এগুলো কোনো ক্ল্যু।

 

কোন একটা হাইওয়ে, আনন্দ বসে আছে। পিঠে তার রোদ। রোদ মানে শিকার। একটা পাখি বা পশু। ছায়ার মতো কালো চাপ রক্ত। আমি পৌঁছনো মাত্র জানতে পারবো একটু আগে উঠে গেলো সে। আমি সেই ছায়ায় উবু হয়ে বসবো। দুদণ্ড জিরোবো। বলো আনন্দ আমার হবে না! যতদূর ভাববো তাকে। যতক্ষণ।

 

ততদূর শীত এসে ফিরে যাবে। ততক্ষণ আনন্দ অন্য কোথাও। আমার মতো অন্য কেউ তখন তাকে খুঁজছে। খুঁজে ফিরছে।

 

হুইলার্স স্টল । দ্বিতীয় বর্ষ, দশম মেল ট্রেন

  • Hindutwa or Hind Swaraj

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*