২০১৮ নির্বাচন : গণতন্ত্রের পথে এখনও ঢের চলা বাকি

আসিম শুজায়ী

 

লেখক পাকিস্তানের প্রগতিশীল লেখক সঙ্ঘের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র। তাঁর মূল ইংরাজি লেখাটি নিচে দেওয়া হল।

২৫শে জুলাই পাকিস্তানে যে সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেল সে সম্পর্কে একটা ইতিবাচক কথা বলাই যায়। এই নির্বাচন দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের আতঙ্ক নিয়ে সমস্ত সংশয়ের অবসান করতে পেরেছে। নির্বাচন সফলভাবে শেষ হয়েছে। যদিও এর ফলাফলে শুধু পাকিস্তানেরই নয়, সারা বিশ্বের বিশ্লেষক এবং সমীক্ষকরাই হতভম্ব। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআই (পাকিস্তান তেহেরিক ই ইনসাফ) প্রায় ১২০টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। তারা খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যে নিরঙ্কুশ জয় হাসিল করেছে। করাচি এবং হায়দ্রাবাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দল এমকিউএম-ও তাদের কাছে পরাস্ত হয়েছে।

নির্বাচনের ফলে আর একটা জিনিসও বিস্ময়প্রদ। এএনপি, এমএমএ, পিএমএল-এন, এমকিউএম, পিপিপি এবং পিএসপি-র মতো সমস্ত শক্তিশালী দলেরই প্রায় সব দাপুটে নেতা এই ভোটে ধরাশায়ী হয়েছেন। তারা এখন পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) পরিচালিত এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই গুরুতর অভিযোগ জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ ইসিপি ফলপ্রকাশে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটিয়ে ভয়াবহ রিগিং-এর সুযোগ করে দিয়েছে, এবং গণনাকেন্দ্রগুলিতে তাদের দলের পোলিং এজেন্টদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

প্রকৃতপক্ষে গত তিন-চার দশক ধরে পাকিস্তানের অভিজাত শাসকশ্রেণি এবং তাদের বুর্জোয়া পার্টিগুলি যে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা কাটানোর জন্য ইমরান খান এবং তার দলই তাদের শেষ বাজি। দারিদ্র, দুর্নীতি, শক্তি সংকট, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্বল পরিকাঠামো এবং জলাধারের অপ্রতুলতা শুধু যে সাধারণ মানুষকেই বিপন্ন করেছে তা নয়, বরং অভিজাত শাসকশ্রেণিও এগুলির জন্য যথেষ্ট ভুগছে। গোটা দেশই এখন এক ডামাডোলের মধ্যে, এবং ফলত ইমরান খানকে সামনে এগিয়ে দেওয়া ছাড়া শাসকশ্রেণির কোনও গত্যন্তর ছিল না। ঠিক এই কারণেই তার প্রতিপক্ষরা চিৎকার করছেন যে, ইমরান ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা-ধন্য। ঘটনা হল, ১৯৯৬-তে রাজনীতিতে আসার পর প্রথম বছরগুলিতে তিনি দেশের চিরস্থায়ী সমস্যাগুলি সমাধানের বিষয়ে আন্তরিক এবং উদ্যোগী ছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তিনি বুঝে যান যে, ক্ষমতাবানরা সহায়তা না করলে এদেশে রাজনীতি করাটা কার্যত অসম্ভব। ফলে, দেখা গেল, সেই ক্ষমতাবান শক্তির সঙ্গে ধীরে ধীরে তার সখ্যতা বাড়তে থাকল, এবং প্রতিদানে, তারা তাকে স্রেফ সমর্থনই জোগাল না, একেবারে ক্ষমতার শিখরে পৌঁছে দিল। এটাই ইমরান খানের সাফল্যের প্রকৃত চিত্রনাট্য। এই একই চিত্রনাট্য অনুসরণ করে পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ প্রায় তিন দশক ক্ষমতা উপভোগ করেছেন। এখন তিনি দুর্নীতির অভিযোগে জেল খাটছেন। নওয়াজ শরিফের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। কারণ তিনি যে বেনিয়া শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করতেন, তারা বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে ছিল দেশের উদীয়মান শক্তি। কিন্তু এখন দেশে যে নতুন মধ্যবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান ঘটছে তাদের পছন্দ ইমরানের মতো নেতা। ইমরানের নতুন ধরনের স্লোগান এবং কিছু বৈপ্লবিক কথাবার্তা তাদের আকৃষ্ট করে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও শরিফ এখনও তার সেই পুরনো একঘেয়ে স্লোগান এবং রক্ষণশীল ধ্যানধারণা আঁকড়ে ধরে রয়েছেন, যা দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ তামাদি হয়ে গেছে।

কিন্তু ইমরান খানের এই নির্বাচনী সাফল্যও চলতে থাকা নারকীয় সমস্যগুলির হাত থেকে দেশের জন্য কোনও স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসবে না। তার কিছু বৈপ্লবিক স্লোগান এবং ধ্যানধারণা আছে বটে, কিন্তু তিনি পথ বেছেছেন অভিজাত শাসকশ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করার, অতএব দেশের শ্রমিক শ্রমজীবী জনগণের সমস্যা তিনি মেটাতে পারবেন না। যদিও তার প্রথম বিপদ আসতে চলেছে পরাজিত নেতাদের কাছ থেকে। তারা তাকে পাঁকে টেনে নামাতে চেষ্টার কোনও কসুর করবেন না।

পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক নির্বাচনের সবচেয়ে ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক দিক হল, পাক জনগণ খুব সুস্পষ্টভাবে ধর্মীয় মৌলবাদী পার্টিগুলিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং দেশের বামপন্থী পার্টিগুলি বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ইমরান খানকে তার প্রগতিশীল ধ্যানধারণা সমেত শাসকশ্রেণি তাদের মুখপাত্র বানিয়েছে যাতে সমাজবাদী শক্তিগুলিকে থেকিয়ে রাখা যায়। এখন যেহেতু তিনি ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে গেলেন, ফলে বলা যায়, দেশের প্রগতিশীল এবং বিপ্লবী পার্টিগুলির রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেল।

 

The Elections 2018: Still a Vague Path to Democracy

Asim Shujaee

The one positive thing about the elections held in Pakistan on July 25 is that it has removed all the suspicions and doubts that were being raised about the future of the democratic process and the fear of the military intervention in the country. Though the elections have been held successfully, its results have shocked all the analysts and surveyors not only in Pakistan but also all over the world. The PTI (Paksistan Tehreek e Insaaf) led by the former captain of the Pakistani cricket team and the world cup winner, Imran Khan, has emerged as the single largest party in the country by winning almost 120 seats in the National Assembly and by sweeping the poles in the Khyber Pakhtunkhwa Province. It has also defeated MQM, the strongest party of Karachi and Hyderabad.

The results of the recent elections were also surprising because most of the strong leaders of some powerful parties like ANP, MMA, PML-N, MQM, PPP and PSP had to face a humiliating defeat. Now the leaders of the unsuccessful parties are putting serious allegations against the legitimacy of the elections held by Election Commission of Pakistan. They say that these elections were viciously rigged because ECP intentionally delayed the results, and that the polling agents of these parties were not allowed to be present at the time of counting the votes.

Actually the emergence of Imran Khan and his party, PTI, is the only ray of hope to counter the crises the ruling elite and their bourgeois parties have been facing for the last three or four decades. Poverty, corruption, energy crisis, extremism, terrorism, poor infrastructure and lack of water reservoirs have troubled not only the common people but the ruling elite as well, for the country was caught in a mess and there was no way out except to bring Imran Khan to the fore. This is why his rivals claim that Khan is strongly backed by the establishment. As a matter of fact, Imran Khan stepped in political arena in 1996 and he was serious and sincere to take the country out of the perpetual problems in the beginning. But, with the passage of time, it dawned upon him that doing politics in the country without the help of powerful forces is almost impossible. Hence he took side with them and they not only supported him but led him towards the road to the throne as well. This is the success story of Imran Khan and the same success story was of PML-N leader Nawaz Sharif who has enjoyed power for about three decades. But now he is in prison convicted with the charges of corruption. The reason why Nawaz Sharif is no longer required is that he addressed the merchant class which was emerging in the 90’s of the last century, but now there has appeared a new middle or upper middle class in the country which likes the leader like Imran Khan. In addition to that, Khan has new slogans and some radical ideas that attract them. But Nawaz Sharif, despite becoming Prime Minister for the third time, chose to stick to his old traditional slogans and conservative ideas that are entirely useless and unimpressive in the changed conditions.

Even the success of Imran Khan in the recent elections cannot be a permanent remedy for the grave problems the country is suffering from. Though Khan has radical slogans and ideas, he will not be able to address the problems of the working class because he has chosen to be the representative of the ruling elite. The very first hurdle on his way would be the leaders of the defeated house who would try their level best to involve him in unlikely affairs.

The recent elections in Pakistan have shown a positive and optimistic indicator that the people of Pakistan have categorically rejected the extremist religious parties, and that the left wing parties participated in them with great enthusiasm, zeal and zest. Imran Khan was the mouthpiece of the ruling elite who was given the radical views in order to stop the socialist forces. And now he is in the political arena, there are no more obstacles in the way of progressive and revolutionary parties.

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...