Ustad Raees Khan – my brother

Hidayat Husain-Khan

 

 (সম্পূর্ণ রচনার বাংলায়ন এই লেখার শেষে দেওয়া হল )

Ustad Raees Khan passed away on the 6th of May 2017, in Karachi, Pakistan.

To you he was a great sitarist, but to me he was family. Ustad Raees Khan was my brother, my Abba, Ustad Vilayat Khan’s nephew. Like all other bad news, the news of his demise reached me pretty fast, on the same day, but I could not react or post it on my Facebook page till the day after.

Yes, he was ailing. Yes, he was 77. Yet I was dumbstruck on hearing the news of his demise. Was that a time to go? After the sad demise of Raeesbhai, there are not many sitar players, apart from Ustad Imrat Khan, my uncle, who we can now look up to for soulful, pristine classical music at these difficult times. Who will show us the ways to discover different hues in the ragas that we nurture while playing?

When he left India to settle in Pakistan, I was only nine or ten years old. However, I have had several occasions to interact with him after I grew up and started playing sitar across the globe. Some people take a lot of interest in the so-called ‘rift’ between him and my Abba. But let me tell you one thing – whenever I met him, I got the usual warmth of a brother and the guidance of a seasoned sitarist. I have always sensed that there was a deep admiration in him for Ustad Vilayat Khan Sahab. And in his ways of playing the instrument, there was a deep imprint of my Abba’s style, too.

Raeesbhai was a very emotional human being. However, remaining truthful and respectful to our family values, he always displayed immaculate grace whenever he performed. People say that my Abba was an epitome of grace on stage. We have seen the same in Raeesbhai.

I have been fortunate enough to witness innumerable amazing performances of Raeesbhai. While I write this article, the one coming to my mind is his performance, probably sometime in 2008 or 2009 during one of his visits to Mumbai. He played a wonderful Yaman Kalyan followed by a Bhairavi at the end. Raeesbhai dedicated that Bhairavi to Abba.

(We could not obtain a recording of the performance mentioned by the author. However, we are happy to share with you a Youtube link where you can listen to a small clip of Ustadji’s mesmerizing Bhairavi, playing jugalbandi with Ustad Sultan Khan – Char Number Platform)

As a professional sitarist myself, I am a huge fan of Raeesbhai’s beautiful imagination and innovative approaches towards the ragas. Sometimes, he used to adopt unconventional ways to portray the inner beauty of the ragas. Some can compare this approach with that of Gurudev Rabindranath Tagore, who used to embellish his compositions with elements from other ragas in spite of using a prominent raga as the fulcrum of a given composition. The puritans did not like it, and Raeesbhai had to withstand a lot of criticism from them. Sometimes, I cannot help but think that he was way ahead of his time. To him, overall aesthetics was far more important than strict adherence to the rules of a raga.

This approach of Raeesbhai towards ragas also explains why the threadbare discussion on his Gharana so futile. All Gharanas, be it Mewati, Etawah or Gwalior have unique things to offer. It has always been an endeavour of the great artists like Raeesbhai to extract the best flavour of each of the Gharanas, and apply it to their music to make it sound more beautiful. He had a huge influence of my Abba in his style of playing. Yes, he has been successful in retaining his individuality all through.

For some strange reasons, Raeesbhai, I find, is one of the least-recorded celebrities of sitar. This is unfortunate. The coming generations will have only limited opportunity to experience the greatness of his music.

Before I conclude, I must thank ‘Char Number Platform’ web magazine for realising the importance of remembering and paying respect to the great artist Raeesbhai. It is unfortunate, but true, that Hindustani Classical Music is being forced constantly to take a back seat, and it is even more unfortunate that those who are trying to do so have been successful to a great extent. At this juncture, I find the efforts taken by this web magazine laudable indeed.

 Author’s Website: http://hidayathusainkhan.com/

 

আমার ভাই – উস্তাদ রঈস খান

হিদায়ত হুসেইন-খান

মে মাসের ছয় তারিখে আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গেলেন উস্তাদ রঈস খান। তাঁর নশ্বর জীবন শেষ হয়ে গেল পাকিস্তানের করাচীতে।

আপনাদের কাছে উনি ছিলেন একজন মহান সেতারবাদক, কিন্তু আমার কাছে ছিলেন কাছের মানুষ। আমার আত্মীয়। উস্তাদজী সম্পর্কে ছিলেন আমার ভাই। আমার আব্বা, আপনাদের প্রিয় উস্তাদ বিলায়ত খানসাহেবের ভাগিনেয়। অন্য যে কোনো খারাপ খবরের মতো রঈসভাইয়ের মৃত্যুসংবাদও অতি দ্রুত আমার কাছে পৌঁছেছে। যেদিন উনি চলে গেছেন, আমি খবর পেয়েছি সেইদিনই। কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে ওঁর অগণিত গুণগ্রাহীর কাছে খবরটা পৌঁছে দিতে আমার গোটা একটা দিন সময় লেগেছে।

জানি, উনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। জানি, ওঁর বয়স হয়েছিল সাতাত্তর বছর। তবু ওঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি স্থাণুবৎ বসে ছিলাম গোটা একটা দিন। এই কী যাবার সময় রঈসভাই? আমার কাকা উস্তাদ ইমরাত খান ছাড়া আর এমন কে রইলেন, যিনি এই কঠিন সময়েও আমাদের মুগ্ধ করবেন গভীর আর অপাপবিদ্ধ সঙ্গীতে? এমন কে রইলেন, যিনি আমাদের শিখিয়ে দেবেন কিভাবে পরতে পরতে রঙ ধরাতে হয় রাগের শরীরে?

উনি যখন ভারত ছেড়ে স্থায়ীভাবে পাকিস্তানে চলে গেলেন, আমার বয়স তখন নয় কি দশ। তবুও, বেড়ে ওঠার পর, যখন আমিও সেতার বাজাতে শুরু করেছি দেশে-বিদেশে, ওঁর সঙ্গে বহুবার দেখা করার আর গানবাজনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়েছে। অনেকে রঈসভাই আর আমার আব্বার মধ্যকার ‘রেষারেষি’ আর ‘অসদ্ভাব’-এর প্রসঙ্গে খুবই উৎসাহী। তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি – যখনই আমার রঈসভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁর থেকে আমি সবসময় ভ্রাতৃসুলভ উষ্ণতা আর একজন প্রকৃত উস্তাদসুলভ সাহচর্য পেয়েছি। আমি সবসময় টের পেয়েছি, আমার আব্বার সম্বন্ধে ওঁর মনে শ্রদ্ধার ভাব কতটা গভীর। রঈসভাইয়ের বাদনেও আব্বার ছাপ যে কতটা গভীর – এ-কথা যে কোনো সঙ্গীতরসিকই বুঝতে পারবেন।

খুবই আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন আমার রঈসভাই। তবু, আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ আর তহজিবের থেকে কখনও এক চুলও বিচ্যুত হতে দেখি নি ওঁকে। লোকে বলে, আমার আব্বা ছিলেন মঞ্চে আভিজাত্যের প্রতিভূ। রঈসভাইয়ের মধ্যেও আমরা একই বৈশিষ্ট্য দেখতে পেয়েছি।

আমি সৌভাগ্যবান যে রঈসভাইয়ের প্রচুর পারফরমেন্স আমি স্বচক্ষে দেখেছি, স্বকর্ণে শুনেছি। এই লেখা লিখতে গিয়ে আমার মনে পড়ছে দু’হাজার আট বা নয় সালে মুম্বাইয়ে এমনই এক পারফরমেন্সের কথা। অসাধারণ ইমন কল্যাণ বাজালেন। অনুষ্ঠান শেষ করলেন ভৈরবী দিয়ে। আর সেই ভৈরবী নিবেদন করলেন আমার আব্বাকে।
(লেখক-উল্লিখিত এই অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং না-পেলেও, রসিক পাঠকের জন্য উস্তাদ রঈস খানের বাজানো এক টুকরো ভৈরবীর ইউটিউব লিঙ্ক দেওয়া গেল। যুগলবন্দী, উস্তাদ সুলতান খানের সঙ্গে – চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম)

রঈসভাইয়ের বাজনার মধ্যে ছিল অপূর্ব কল্পনাশক্তি আর রাগের নতুন নতুন দিক মেলে ধরবার নিরন্তর চেষ্টা। একজন পেশাদার সেতারী হিসাবে আমি ওঁর এই দিকটার ভীষণ ভক্ত। কখনও কখনও রঈসভাইকে দেখেছি – রাগ বাজানোর সময় ব্যাকরণের নিছক দাসত্ব না-করে অ-প্রথাসিদ্ধ উপায়ের ব্যবহার করতেন। এই ব্যাপারটার তুলনা দেবার জন্য আমি বলব গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের গানের কথা, যেখানে অনেকবার উনি একটা কম্পোজিশনকে প্রাণ দিতে গিয়ে তাতে ব্যবহৃত মূল রাগের সঙ্গে অন্য রাগের উপাদান যোগ করেছেন। এর ফলে রঈসভাইকে অনেকবারই বিশুদ্ধবাদীদের চক্ষুশূল হতে হয়েছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, উনি ছিলেন ওঁর সময়ের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। ওঁর কাছে রাগের সামগ্রিক সৌন্দর্য ছিল ব্যাকরণের থেকে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রাগের প্রতি রঈসভাইয়ের এই দৃষ্টিভঙ্গীই আমাদের বুঝিয়ে দেয়, ঘরানা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ কেন অর্থহীন। মেওয়াতী, এটাওয়া, গ্বালিয়র সব ঘরানারই আছে নিজস্ব সৌন্দর্য আর সৌরভ। রঈসভাইদের মতন মহান শিল্পীরা এই সমস্ত ঘরানার শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলোকে নিয়ে নিজেদের সঙ্গীতে প্রয়োগ করে তাকে অনিন্দ্যসুন্দর করে তোলেন। এভাবেই, আমার আব্বার বাজনার সঙ্গে ওঁর বাজনার এত মিল থাকা সত্ত্বেও উনি নিজস্বতা রাখতে পেরেছেন।

ওঁর মৃত্যুর পর একটা বিষয় আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমি দেখছি, রঈসভাই সম্ভবত সবথেকে স্বল্প-রেকর্ডেড শিল্পীদের একজন। আমি জানি না এর কারণ কি। তবে এটা নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে আগত সময়ের উদীয়মান প্রতিশ্রুতিবান শিল্পীরা ওঁর বিশাল প্রতিভার সবটা হয়তো অনুধাবন করতে পারবেন না।

এই লেখা শেষ করবার আগে আমি ‘চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম’ ওয়েব পত্রিকাকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাইব। এঁরা রঈসভাইয়ের মত শিল্পীর এবং হিন্দুস্তানী রাগসঙ্গীতের কদর করেছেন এবং এ-নিয়ে পত্রিকায় আলোচনা করতে চেয়েছেন, এর জন্যে আমি এঁদের বিশেষ কৃতিত্ব দিতে চাই। এ-কথা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে ক্রমাগত পিছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আরও দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, যাঁরা এই কাজটি করতে চাইছেন, অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে এই ওয়েবপত্রিকার চেষ্টাকে আমি সম্মান জানাই।

লেখকের ওয়েবসাইটঃ http://hidayathusainkhan.com/

– বাংলায়ন, চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2607 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. A real tribute to a maestro from another. Thanks to Hidayat Husain-Khan and of course CHAR NOMBOR PLATFORM…

আপনার মতামত...