ক্যাপ্টেন দুপুরে ভাত খেতে গেছে আর নাবিকেরা দখল নিয়েছে জাহাজের — ত্রয়োদশ পর্ব

চার্লস বুকাওস্কি

 

অনুবাদ : শুভঙ্কর দাশ

 

দ্বাদশ পর্বের পর

৩/১৬/৯২

রাত ১২-৫৩

আমি জানি না কেন এটা হয়। এটা জাস্ট থাকে, পুরনো দিনের লেখকদের জন্য এক ধরনের অনুভূতি। আমার অনুভূতিটা ঠিকঠাকও নয় আবার, ওগুলো আমারই শুধু, প্রায় পুরোটাই আবিষ্কার করা। শেরউড অ্যান্ডারসন-এর কথা ভাবি আমি, ধরা যাক, বেঁটেখাটো লোক হিসেবে, সরু কাঁধ তার। সে হয়ত সোজা লম্বাই ছিল। যাই হোক, আমি তাকে আমার মতো করে দেখি (আমি কখনও তার কোনও ছবি দেখিনি)। দস্তয়েভস্কিকে দেখি দাড়িওয়ালা একজন মানুষ হিসেবে বেশ ভারি চেহারা আর ঘন সবুজ ধিকিধিকি চোখ। প্রথমে তিনি ছিলেন ভারি চেহারার একজন তারপর বড় রোগা, তারপর খুব মোটা। একদমই আজেবাজে কথা, কিন্তু আমি আমার আজেবাজে কথাদের পছন্দ করি। এমনকি এও দেখি যে বাচ্চা মেয়েদের প্রতি দস্তয়েভস্কির লোভ ছিল। ফকনারকে ফালতু মনে হয়, আধপাগলা আর লোকটার মুখে বিশ্রী গন্ধ। গোর্কিকে মনে হয় একটা চোরের মতো মাতাল। টলস্টয় একজন মানুষ হিসেবে কোনও কারণ ছাড়াই ক্ষিপ্তের মতো আচরণ করেছে। হেমিংওয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ব্যালে অভ্যাস করেছে। সিলিন-এর মনে হয় তার ঘুমের সমস্যা ছিল। ই ই কামিংস খুব ভালো একজন পুল খেলোয়াড়। আমি এভাবে বলে যেতে পারি সমানে।

আমি যখন একজন না খেতে পাওয়া লেখক ছিলাম, অর্ধ উন্মাদ আর কোনওভাবেই সমাজের সাথে নিজেকে মানানসই করতে পারছিলাম না তখন প্রধানত আমার এইসব দিব্যদৃষ্টি ঘটেছিল। আমার জুটত সামান্য খাবার কিন্তু হাতে সময় ছিল অঢেল। যে কোনও লেখকই আমার কাছে ছিল ম্যাজিক। তারা নানারকমভাবে দরজাগুলো খুলে দিত। জেগে উঠে তাদের দরকার হত এক পাত্তর কড়া মদ। জীবনটা তাদের কাছে বড় বেশি অসহ্য ছিল। প্রতিটা দিন ছিল যেন ভেজা কংক্রিটে হাঁটা। আমি ওদের আমার নায়ক বানিয়েছিলাম। আমার খিদে মেটাত ওরা। ওদের ব্যাপারে আমার ধারণাগুলো আমাকে সাহায্য করত আমার এই কোথাও না থাকার অবস্থায়। ওদের পড়ার থেকে ওদের ব্যাপারে ভাবা ছিল অনেক ভালো। যেমন ডি এইচ লরেন্স। কী শয়তান লোকটা। ও এত জানত যে সব সময় রেগে থাকত ও। ভালো, ভালো। আর অ্যালডাস হাক্সলি… অতিরিক্ত মানসিক শক্তি। ও এতটাই জানত যে তা হত ওর মাথাব্যাথার কারণ।

আমি আমার উপোষের বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে ভাবতাম ওদের কথা।

সাহিত্য এতটাই… রোমান্টিক। হ্যাঁ।

কিন্তু সুরকার আর পেইন্টাররাও ছিল ঈশ্বর, সবসময় পাগল হয়ে যাচ্ছে, আত্মহত্যা করছে, অদ্ভুত আর জঘন্য সব ঘটনা ঘটাচ্ছে। আত্মহত্যা করাটা মনে হত খুব ভালো একটা অভিপ্রায়। আমি চেষ্টাও করেছি কয়েক বার, পারিনি কিন্তু খুব কাছাকাছি গেছি, বেশ কয়েকবার ভালো করে চেষ্টাও করেছিলাম। আর এই যে আমি এখন প্রায় ৭২ বছর হল। আমার নায়কেরা চলে গেছে বহুদিন হল আর আমাকে বাঁচতে হয়েছে অন্যদের নিয়ে। নতুন সব স্রষ্টাদের সঙ্গে, নতুন যারা বিখ্যাত হয়েছে। আমার কাছে ওরা এক নয় যদিও। আমি ওদের দেখি, ওদের কথা শুনি আর ভাবি, ব্যস এটুকুই? মানে আমি বলতে চাইছি ওদের বেশ সুখী লাগে… ওরা পরনিন্দাপরচর্চা করে… কিন্তু ওদের বড় সুখী লাগে। কোনও বন্যভাব নেই। যাদের এই বন্যভাব ছিল তারা আর্টিস্ট হিসেবে ব্যর্থ আর তারা মনে করে এর কারণ বাইরের শক্তির প্রভাব। আর তাদের সৃষ্টি অত্যন্ত খারাপ, ভয়াবহ।

কারও প্রতি আর ফোকাস করতে পারি না আমি। এমনকি নিজের প্রতিও ফোকাস করতে পারি না। আমি এক সময় জেলে ঢুকেছি আর বেরিয়েছি, আমি দরজা ভেঙেছি এক সময়, ভেঙে গুঁড়িয়েছি জানালা, মাল খেয়েছি এক মাসে ২৯ দিন। আর এখন এই কম্পিউটারটার সামনে বসে থাকি রেডিও চালিয়ে, ক্লাসিকাল মিউজিক শুনি। এমনকি আজ রাতে আমি মদ খাব না। নিজেকে জায়গা দিচ্ছি। কী কারণে? আমি কি বাঁচতে চাই ৮০, ৯০ অবধি? মরতে ভয় পাই না আমি… কিন্তু এ বছর নয়, ঠিক আছে?

আমি জানি না, তখন ব্যাপারটা অন্যরকম ছিল কিন্তু। লেখকরা অনেকটা ছিল… লেখকদের মতো। কাজটা করা হত। দা ব্ল্যাক সান প্রেস। ক্রসবি-রা। ওই সময়ে শালা যদি না একবার ফিরে যাই। ক্রসবি তার পোর্টফোলিও ম্যাগাজিনে সার্ত্রের সাথে আমার একটা গল্প ছেপেছিল, আর মনে হয় হেনরি মিলার আর হয়ত কামুও ছিল সে পত্রিকায়। আমার কাছে পত্রিকাটা নেই এখন। লোকজন আমার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। আমার সাথে যখন মাল খায় তখন আমার জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। সে জন্যই আমি আরও আরও একা। যাইহোক, অন্য কেউ হয়ত মিস করে রোরিং ২০স আর গারট্রিউড স্টেন আর পিকাসো… জেমস জয়েস, লরেন্স আর পু্রো দলটাকে।

আমার মনে হয় যেভাবে আমরা পৌঁছতাম সেভাবে আর পৌঁছোতে পারছি না। যেন আমরা ব্যবহার করে ফেলেছি বিকল্পগুলো, যেন আর করতে পারব না ওরকম।

আমি এখানে বসে থাকি, একটা সিগারেট ধরাই, মিউজিক শুনি। আমার শরীর স্বাস্থ্য ভালো আর আশা করি আমি লিখতে পারছি একইরকম বা আরও ভালো আগের থেকেও। কিন্তু আমি আর যা কিছু পড়ি সবই মনে হয়… অনুশীলিত… খুব ভালো করে শেখা একটা স্টাইল। হয়ত আমি খুব বেশি পড়ে ফেলেছি, হয়ত আমি খুব বেশি দিন পড়েছি। তাছাড়াও দশকের পর দশক লেখার পর (আমি প্রায় লিখেছি এক নৌকো ভর্তি) যখন আমি একজন লেখককে পড়ি আমি বিশ্বাস করি আমি ঠিক বলতে পারি কখন সে গাঁড় মারাচ্ছে, মিথ্যেগুলো লাফিয়ে ওঠে, ওই স্লিক পালিশ খরখর করে ওঠে… আমি বুঝতে পারি পরের লাইন কী হবে, পরের প্যারাগ্রাফ…

কোনও আলোর ঝককানি নেই, সংঘর্ষ নেই, ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা নেই। এটা একটা কাজ যা ওরা শিখেছে, যেন জল পড়ে যাওয়া একটা কলকে ঠিক করা।

আমার ওটাই ভালো ছিল যখন আমি ভাবতে পারতাম অন্যদের মাহাত্ম্যর কথা, তা সব সময় না থাকলেও।

আমি মনে মনে দেখেছি গোর্কিকে একটা রাশান বস্তির ঘরে তামাক চাইতে তার পাশের লোকটার কাছ থেকে। আমি দেখেছি রবিনসন জেফার্সকে ঘোড়ার সাথে কথা বলতে। আমি দেখেছি ফকনার চেয়ে আছে বোতলের ভেতর শেষ মদটুকুর দিকে। নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, সেটা বোকামি। তারুণ্য বোকামি আর বুড়োটা হচ্ছে বোকা।

আমাকে খাপ খাওয়াতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের সবার জন্যই, এখনও, পরের লাইনটা আছে সব সময় আর হয়ত সেই লাইনটাই শেষ অবধি ভেঙে বেরোবে, শেষে বলবে সেই কথা। ওটা ভেবে আমরা ঘুমোতে যেতে পারি সেই শ্লথ রাত্রিগুলোতে আর সেরাটা আশা করতে পারি।

আমরা হয়ত এখন ততটাই ভালো ওই বোকাচোদাগুলো যা ছিল ওদের সময়ে। আর কিছু তরুণ আমার সম্পর্কে তাই ভাবে যা আমি ভাবতাম ওদের নিয়ে। আমি জানি, আমি চিঠি পাই। আমি ওগুলো পড়ি তারপর ছুঁড়ে ফেলে দি। এগুলো অত্যুচ্চ নব্বইয়ের দশক। এবারে পরের লাইনটা। আর তারপরের লাইনটা। যতক্ষণ না আর কিছু না থাকে।

হ্যাঁ। আরেকটা সেগারেট। তারপর মনে হয়ে স্নান সেরে আমি ঘুমোতে যাব।

৪/১৬/৯২

রাত ১২টা ৩৯

ঘোড়দৌড়ের মাঠে একটা খারাপ দিন কাটল। এখন আমি ঢোকার রাস্তায়, আমি সবসময় লড়ে যাই কোন পদ্ধতি আমি ব্যবহার করব। আমার কাছে ৬টা বা ৭টা থাকতে হবে। নিশ্চয়ই ভুল পদ্ধতিটা বেছেছি। তবু, আমি ঘোড়দৌড়ের মাঠে নিজের গাঁড় মারাব না বা পাগলে যাব না। আমি অতটা টাকা লাগাই না। বছরের পর বছর গরিবি আমাকে সতর্ক করেছে। এমনকি আমার জেতার দিনগুলোও তেমন বিস্ময়কর কিছু নয়। তবু, আমি ভুল করার থেকে ঠিক করতে পছন্দ করি, বিশেষত যখন জীবনের ঘণ্টাগুলো আপনি খরচা করছেন। আপনি টের পাবেন সত্যি সত্যি সময়গুলো খুন হচ্ছে সেখানে। আজ, ওরা গেটের দিকে এগোচ্ছিল ২য় রেসে। ওদের তখনও ৩ মিনিট বাকি ছিল আর ঘোড়াগুলো আর অশ্বারোহীরা এগোচ্ছিল ধীরে ধীরে। কোনও কারণে, সেটা আমার কাছে মানসিক যন্ত্রণাদায়ক লম্বা সময় মনে হচ্ছিল। যখন আপনি ৭০-এ তখন সেটা আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক মনে হয় যখন কেউ আপনার সময়ের উপর মুতে চলে। অবশ্যই, আমি জানি, আমি নিজেকে সে জায়গায় নিয়ে গেছি যাতে আমার সময়ের উপর এভাবে মোতা যায়।

আমি অ্যারিজোনায় রাতের গ্রেহাউন্ড রেসে যেতাম। এখন ওরা জানত ওরা ওখানে কী করছে। জাস্ট একবার এক পাত্তর মদের জন্য পিছন ঘুরুন আর আরেকটা রেস শুরু হয়ে গেছে দেখবেন। কোনও ৩০ মিনিটের অপেক্ষার সময় নেই। জিপ, জিপ, ওরা একের পর এক দৌড় করাচ্ছে ওদের। যা ক্লান্তি দূর করে এমন। রাতের বাতাস বেশ ঠান্ডা আর সমানে চলছে অ্যাকশন। আপনি এটা বিশ্বসাই করতে পারবেন না দুটো রেসের মাঝের সময়ে কেউ আপনার অণ্ডকোষ কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর সব কিছুর শেষে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েননি। আর রাতে বাকিটুকু মাল খেয়ে আর আপনার বান্ধবীর সাথে মারপিট করে কাটাতে পারবেন।

কিন্তু ঘোড়দৌড়ের মাঠে ব্যাপারটা নারকীয়। আমি একা হয়ে থাকি। আমি কারও সাথে কথা বলি না। সেটা খানিকটা সাহায্য করে। আমাকে চেনে ক্লার্কগুলো। আমাকে কাউন্টারে যেতে হয়, কথা বলতে হয়। অনেক বছর ধরে যাওয়ার ফলে ওরা আপনাকে চিনে যায়। আর ওরা বেশিরভাগই ভালো লোক। আমার মনে হয় মানব সমাজের সাথে বছরের পর বছর লেনদেন করে ওদের ভিতর এক ধরনের অন্তর্দৃষ্টি জন্মেছে। যেমন ধরুন, ওরা জানে মানবজাতির বেশিরভাগটাই একটা বড় গুগোবরের তাল। তবু, আমি ওই ক্লার্কগুলোকেও এড়িয়ে চলি। নিজের সাথে পরামর্শ করে আমি থাকি একটা সুবিধাজনক অবস্থানে। আমি বাড়িতে থেকেও এটা করতে পারি। আমি দরজা বব্ধ করে খেলতে পারি রং নিয়ে বা অন্য কিছু করতে পারি। কিন্তু কোথাও, আমাকে তো বেরোতে হবে, আর এটা আবার বুঝতে হবে যে প্রায় মানবজাতির বেশিভাগটাই এখনও গুগোবরের তাল রয়ে গেছে। যেন তারা পালটে যেতে পারত! এই, সোনা, আমি পাগল হয়ে গেছি নির্ঘাত। তবু ওখানে কিছু একটা আছে, মানে আমি বলতে চাইছি, আমি ওখানে মরে যাওয়ার কথা ভাবি না, উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ওখানে বসে চিন্তা করতে পারাটা খুব বোকা বোকা লাগে। আমি ওখানে একটা নোট বই নিয়ে গেছি, ভেবেছি, আমি ঘোড়দৌড় নিয়ে কিছু লিখব। অসম্ভব। বাতাসটা নীরস আর ভারি, আমরা সবাই একটা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সেচ্ছাধীন সদস্য। যখন আমি বাড়ি ফিরব তখন আমি মরে যাওয়া নিয়ে ভাবতে পারি। খানিকটা সময়। খুব বেশি নয়। আমি মরে যাওয়া নিয়ে দুর্ভাবনা করি না বা দুঃখিত নই মৃত্যু নিয়ে। ওটা একটা ফালতু কাজের মতো মনে হয়। কখন? পরের বুধবারের রাতে? বা যখন আমি ঘুমের মধ্যে? বা পরের বিশ্রী হ্যাংওভারের জন্য? ট্রাফিক অ্যাক্সিডেন্টে? এটা একটা চাপ, এটা এমন যেটা করে ফেলতে হবে। আর আমি চলেছি ঈশ্বর বিশ্বাস ছাড়াই। ওটা ভালোই হবে, আমি ওটার মুখোমুখি হতে পারব। এটা এমন একটা ব্যাপার যেটা আপনাকে করতে হবে যেমন সকালে জুতো পরার মতো। আমার মনে হয় আমি লেখালিখিটা মিস করব। মদ খাওয়ার থেকে লেখালিখি করা ভালো। আর মদ খেতে খেতে লেখা, যা সব সময় দেওয়ালগুলোকে নাচায়। হয়ত একটা নরক আছে, কী? যদি তা থাকে আমি সেখানে থাকব আর কী জানেন? সমস্ত কবিরাই থাকবে সেখানে আর পড়ে চলবে নিজের কাজ আর আমাকে তা শুনতে হবে। আমি ডুবে যাব ওদের পরিপাটি করা আত্মগর্বে, ওদের উপচে পড়া আত্ম অহংকারে। যদি নরক থেকে থাকে তবে এটাই হবে আমার নরক, একের পর এক কবি অবিশ্রান্ত পড়ে চলেছে…

যাইহোক, আজ একটা খুব খারাপ দিন। যে সিস্টেমটা ঠিকঠাক কাজ করত আজ কাজ করে নি। ঈশ্বর তাসের গাড্ডিটা সাফল করেছে। সময়টা ছিঁড়ে গেছে আর আপনি বোকা বনেছেন। কিন্তু সময়টা তৈরিই হয়েছে নষ্ট করার জন্য। ওটা নিয়ে আপনি কীইবা করতে পারেন? আপনি তো আর সব সময় তেড়ে পুরো দমে এগোতে পারেন না। আপনি থামেন আর তারপর এগোন। আপনি একটা তুঙ্গ অবস্থান স্পর্শ করেন আর তারপর পড়ে যান একটা কালো গর্তে। আপনার কি একটা বেড়াল আছে? বা অনেকগুলো বেড়াল? ওরা ঘুমোয়, সোনা আমার। ওরা দিনে ২০ ঘণ্টা ঘুমোতে পারে আর ওদের সুন্দর লাগে দেখতে। ওরা জানে উত্তেজিত হওয়ার কারণ নেই কোনও। শুধু পরের খাবার। আর কিছু একটাকে কখনও সখনও মারার প্রয়োজন। যখন শক্তিগুলো আমাকে ছিঁড়ে খায়, আমি জাস্ট ওদের একটার দিকে চেয়ে থাকি বা আমার অনেকগুলো বেড়ালের দিকে দেখি। ওরা সব মিলিয়ে ৯টা। আমি চেয়ে থাকি একটার দিকে যেটা ঘুমোচ্ছে বা আধোঘুমে আর আমি শান্ত হই। লেখালিখিও আসলে আমার বেড়াল। লেখালিখি আমাকে সাহায্য করে মুখোমুখি হতে। আমাকে ঠান্ডা রাখে। অন্তত কিছুক্ষণের জন্য তো বটেই। তারপর আমার তারগুলো ফের এদিক ওদিক হয়ে যায় আর আমাকে আবার সব নতুন করে শুরু করতে হয়। আমি সেইসব লেখকদের বুঝি না যারা আর লিখবে না ঠিক করে নেয়। ওরা কীভাবে ঠান্ডা রাখে নিজেদের?

যাক, আজ রেসের মাঠ ছিল নিস্তেজ আর মৃত্যুর মতো কিন্তু এই যে আমি বাড়ি ফিরে এসেছি আর আমি কাল ফের যাব ওখানে, হয়ত। আমি কীভাবে ব্য্যাপারটাকে সামলাই?

কিছুটা রুটিনমাফিক চলার জন্য, যে শক্তি আমাদের অনেককেই ধরে রাখে। একটা জায়গায় যেতে হবে, একটা কাজ করতে হবে। শুরু থেকেই আমাদের এ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বেরিয়ে পড়ো, ঢোকো ব্যাপারটায়। হয়ত ওখানে কিছু একটা মজাদার কাণ্ড ঘটছে। মূর্খের মতো একটা স্বপ্ন আরকি। এটা সেরকম যখন আমি মেয়েদের সরাইখানায় তুলতাম। আমার মনে হত, এই সেই নারী হয়ত। আরেকটা রুটিন। অথচ, যৌনতার সময়ও, আমি ভাবতাম, এটা আরেকটা রুটিন। আমি তাই করছি যা অনুমান করা হয়েছিল। ব্যাপারটা হাস্যকর লাগত কিন্তু আমি চালিয়ে যেতাম। এছাড়া কীইবা করার ছিল আমার? হয়ত আমার থেমে যাওয়া উচিৎ ছিল। হামাগুড়ি দিয়ে সরে এসে আমার বলা উচিৎ ছিল, ‘দেখো সোনা, খুব বোকা বোকা কাজ করছি আমরা। আমরা জাস্ট প্রকৃতির খেলনা।’

‘কী বলতে চাইছ?’

‘মানে আমি বলতে চাইছি, সোনা, তুমি কখনও দেখেছ দুটো মাছিকে চুদতে বা ওরকম কিছু একটা?’

‘তুমি উন্মাদ! আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে!’

আমরা নিজেদের বেশি কাছ থেকে পরীক্ষা করতে পারি না তাহলে আমরা বাঁচা বন্ধ করে দেব, বন্ধ করে দেব সব কিছু করা। সেই জ্ঞানীদের মতো যারা বসে থাকে পাথরের উপর আর নড়ে না একটুও। আমি জানি না ওটা অতটাও জ্ঞানের ব্যাপার কিনা। ওরা স্পষ্ট ব্যাপারটাকেই বাতিল করে কিন্তু কিছু একটা বলে এটা বাতিল করতে। মানে ওরা হচ্ছে এক-মাছি-চোদা। পালাবার কোনও উপায় নেই, কর্ম বা নিষ্ক্রিয়তা। আমাদের নিজেকে লোকসান হিসেবে ফেলে দিতে হবে, বোর্ডে যে কোনও একটা চাল দিলেই রাজা মাত।

তো, আজ রেসের মাঠে দিনটা খারাপ গেল, আমার আত্মার মুখে একটা বিশ্রী স্বাদ। কিন্তু কাল ফের যাব। না গেলে ভয় করবে। কারণ ফিরে আসার পর কম্পিউটার বেয়ে যে শব্দগুলো হামাগুড়ি দেয় তারা আমার ক্লান্ত গাঁড়ের আরাম। আমি এটাকে ছেড়ে যাই যাতে ওর কাছে ফিরে আসতে পারি ফের। নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। সেটাই। তাই না?

আবার আগামী সংখ্যায়

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 952 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*