তিনটি কবিতা

তৃষ্ণা বসাক

 

দ্বিতীয় বোধি

আমার জন্যে আমলকী খণ্ড সঞ্চয় করছ কেন আনন্দ?
এই দীর্ঘ বনপথ,
সবুজের মধ্যে জেগে আছে কাষায় চীর,
পৃথিবীতে যেন আর কোন রঙ নেই,
থাকলেও, অগম্য সম্পর্কের মতো আছে।

আনন্দ, তুমি কেন আমলকী খণ্ড ধরে রেখেছিলে কল্পকাল?
তাহলে যশোধরা,
যশোধরার তো এখানে আসতে কোন বাধা ছিল না,
তোমাকে বলা হয়নি আনন্দ,
যশোধরার দুটি স্তনের মসৃণতা
এই আমলকীকেও লজ্জা দিত,
তার শরীর,
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম নদীর চেয়েও সুনাব্য,
আর আমি তো রম্য জলযান,
অমন অনায়াস সন্তরণ
আমাকে কেউ দেয়নি আনন্দ!

যশোধরার কটি বেষ্টন করে
এই বনপথ অতিক্রম করতে আমার ভালো লাগত,
ওই উপলখণ্ডের ওপর
তার সঙ্গে বসে কথা বলতে আমার ভালো লাগত,
আনন্দ, তুমি আর কখনো
আমার জন্যে করতলে আমলকী রেখো না,
দেখো, আমার কান্না
এই বৃক্ষতলে লুটিয়ে পড়েছে,
শরণ পাচ্ছে না!

 

যশোধরা এসো

সকালবেলা মেঘলা
শুধু বেগুনি ফুলের মতো তোমার শরীর,
ফুলদানি থেকে লাফিয়ে উঠল!
আমি চুমু খাব, একটা, জাস্ট একটা;
যশোধরা, আমি তোমায় চুমু খেলে
মহাভারত অশুদ্ধ হবে?
হোক না,
সিদ্ধার্থ তোমায় ফেলে রেখে চলে গেছে,
রাহুলকেও তুমি আটকাতে পারলে না,
আমি দীর্ঘদিন তোমার পরিচর্যা করেছি,
নারী বলে তুমি আমার দিকে তাকিয়ে দেখলে না,
যশোধরা, এসো তোমায় আদর করি, অনেকক্ষণ,
সিদ্ধার্থর পাপক্ষয় হোক।

 

মহানির্বাণ

চুন্দ চুন্দ এখনি এই শূকর মাংস
মাটির গভীরে পুঁতে ফেলো,
পৃথিবীতে এমন কেউ নেই
যে এই মাংস পরিপাক করতে পারে,
আঃ আনন্দ, শালবৃক্ষের অন্তরালে
বড় সুন্দর শয্যাটি পেতেছ,
শাল আমার বড় প্রিয় –
শাল, শ্বেতহস্তী, হস্তীর মাথায় চাঁদ…

এই শয্যায় সিংহভঙ্গিমায় শুয়ে শুয়ে বলে যাই
এই জীবনের শ্রেষ্ঠ তিন সুখাদ্যের কথা –
চুন্দের দেওয়া শূকরমাংস,
হ্যাঁ আনন্দ তুমি সবাইকে বোলো
চুন্দর মাংসটি বড় উপাদেয় হয়েছিল;
আর সুজাতার পরমান্ন।
আনন্দ এসো আমার নিকটে এসো,
আমার স্বর বড় দুর্বল,
অত দূর থেকে শুনতে পাবে না,
তৃতীয়, তৃতীয়টি যশোধরা দিয়েছিল,
না না সেটিই প্রথম,
আনন্দ কাউকে বোলো না,
তোমাকে শুধু তোমাকেই বলে গেলাম
যশোধরা আমাকে অমৃত পান করিয়েছিল,
তার সুবর্ণকলসের মতো স্তনের অমৃত…

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 952 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*