নিরঞ্জন

শাশ্বতী সান্যাল

 

–সমস্ত পরিবারেরই কিছু অন্ধকার দিক থাকে। কপটতার দিক, অত্যাচারের দিক। এই ভাদুড়ি পরিবারেরও ছিল। আর সেই অন্ধকারের হাত ধরেই…

শ্রোতার বয়স মাত্র ছ বছর। জীবনের উচ্চাবচ অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞানগম্যি তার হয়নি। কিন্তু তা নিয়ে রামানন্দের বিশেষ মাথাব্যথা নেই। তিনি বলে যেতে চান। কালীতারাকে অন্তত সবটা বলে যেতে হবে তাকে। যে দায়ভার, যে অভিশাপ বংশানুক্রমে বহন করে এসেছে ভাদুড়ি পরিবারের পুরুষেরা… যে অভিশাপে হাঁড়িকাঠে বলি আটকে গেছে প্রতি অষ্টমীতে, মা ফিরিয়ে দিয়েছেন পুজো… সেই কথাগুলো তো জানাতে হবে কালীতারাকে। নাহলে কাজ শেষ হবে কী করে!

আহ! নিঃশ্বাস হালকা হয়ে আসে রামানন্দের। তিনি পেরেছেন। তার সাধনা সফল হয়েছে। সাধনা ছাড়া কী? প্রতিদিন ঊষালগ্নে উঠে পূর্বমুখী হয়ে একবস্ত্রে তিনি চণ্ডীপাঠ করেছেন। প্রতিদিন। কী শীত, কী গ্রীষ্ম এ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। অবশেষে মা শুনেছেন… ভক্তের ডাক শুনেছেন মা…

কালীতারার মুখে রোদ এসে পড়েছে তেরছাভাবে। বর্ষাশেষের খর রোদ। নরম ফর্সা গালে ঈষৎ রক্তাভা… সেদিকে তাকিয়ে আরেকবার পরিতৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলেন রামানন্দ।

রামানন্দ একা নন, দূর থেকে আরও একজন রোদে বসে থাকা একরত্তির মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। বুক চিরে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়ে তারও… তারপর নিঃশব্দে ছায়ার মতো দালান পেরিয়ে রান্নাঘরে সরে যায় অপর্ণা।

অপর্ণাকে আপাতভাবে যতটা নিস্তরঙ্গ লাগে, ততটাও সে নয়। ভিতরে ঢেউয়ের ওঠাপড়াগুলো সে শুধু সচেতনে নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে তার মুখের নিটোল সুখী সুখী ভাবে কোথাও ছায়া পড়ে না। জীবনকে নিজের হাতে গড়েপিটে নিতে সে জানে। আর জানে বলেই নিয়তিবাদীদের মনে মনে ঘৃণা করে সে, করুণা করে। বিষণ্ণতা, অতীতচারিতা এসব তো অসুস্থতাই… পরজন্মে বিশ্বাস নেই অপর্ণার। এক জীবনে যা পেয়েছে তাকে সম্পূর্ণভাবে ভোগ করে যেতে চায় সে। একটা সার্থক সুস্থ ফলন্ত জীবন… খুব কি বেশি চাহিদা!

***

রাতে ঘুমন্ত হিমাদ্রিকে প্রায় ধাক্কা দিয়েই তুলে দেয় অপর্ণা।

–লজ্জা করে না! সারাদিন তো বাড়ির বাইরেই থাকো। আর রাতেও যে দুটো কথা বলব তার উপায় নেই? এত ঘুম পায় তোমায়! কাজ কি একা তুমিই করো? ক্লান্তি একা তোমার?
–আঃ মাঝরাতে কী শুরু করলে বলো তো? ঘুমোতেও দেবে না!

হিমাদ্রির বিরক্তিকে একেবারে উপেক্ষা করেই অপর্ণা বলে ওঠে :

–সবার সামনে ‘কালীতারা’ ‘কালীতারা’ বলে ডাকছেন। আর মেয়ে তাতেই সাড়া দিচ্ছে। ছিঃ কালীতারা একটা নাম হল! এরপর বড় স্কুলে ভর্তি করলে টিচারদের সামনেও নিজের নাম বলে আসবে ‘কালীতারা’। বুঝবে তখন।
–মাঝরাতে এসব বলার জন্য ঘুম ভাঙালে আমার? দৃশ্যতই হতবাক লাগে হিমাদ্রিকে।
–কেন? এটা দরকারি কথা নয় বলছ? মেয়ের নাম অদ্রিজা তো তুমিই রেখেছিলে। আর এখন তোমার বাবা…
–আঃ অপু, তুমি তো জানোই মুন এ বংশের প্রথম মেয়ে। সাত পুরুষ মেয়ে জন্মায়নি এ বংশে। কী সব অভিশাপ টভিশাপ… বাবা বিশ্বাস করেন। বয়স হয়েছে অপু, নাতনিকে নিয়ে যদি তিনি তার প্রাচীন বিশ্বাসের সার্থকতা খুঁজে পান, তুমি-আমি বাধা দিতে যাব কেন বলো তো?

এবার সত্যিই পাশ ফিরে ঘুমোনোর চেষ্টা করে হিমাদ্রি।

বরের দিকে তাকিয়ে সকালের রাগ আর বিরক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অপর্ণার। বাধা সে দিচ্ছে? নাকি রামানন্দই প্রতিদিন একটু একটু করে এক দুর্লঙ্ঘ্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন মা-মেয়ের সহজ সম্পর্কে?

***

আজকাল রাতে তেমন ঘুম হয় না রামানন্দ’র। অন্ধকারে জেগে জেগেই স্বপ্ন দেখেন। আবার দুর্গাপুজো করবেন তিনি। এবাড়িতে, হ্যাঁ, এই উঠোনেই আসবে একচালার প্রতিমা। টানা টানা চোখ, চিবুকের কাছে ছোট্ট একটা তিল। ঠিক যেমনটি প্রতিমা বানিয়ে দিত দেশের বাড়ির সনাতন… ছেলেবেলার দিনগুলোতে যেন ফিরে যান রামানন্দ। সত্যি কত বছর পুজো হয়নি। দেশভাগের পর সব ছেড়েছুড়ে সেই যে একবস্ত্রে বেরিয়ে এসেছিলেন, আর ফিরে যেতে পারেননি। পুজোও হয়নি আর। পুজো না হোক, এই এতগুলো বছর প্রতিদিন নিয়ম করে ব্রাহ্মমুহূর্তে উঠে চণ্ডীপাঠ করেছেন তিনি। প্রতিদিন মনে মনে দেবীর কাছে নতজানু হয়েছেন। আর হয়েছেন বলেই না এতদিন পর কালীতারা এসেছে তার বংশে। না, না, পুজো এবার তাকে করতেই হবে। কাল সকালেই কথা বলবেন হিমুর সাথে। হিমাদ্রি তার একমাত্র ছেলে। আজ পর্যন্ত বাবার অবাধ্য হয়নি সে। বাবার ইচ্ছের অনাদর করেনি। তবু কী একটা কাঁটা যেন খচখচ করে রামানন্দের মনে। হিমাদ্রি না। হিমাদ্রি না। তবে কে? অপর্ণা? শান্ত, নীরব, আপাতসুখী মুখের অপর্ণাই তবে তার একমাত্র কঠিন প্রতিপক্ষ!

–পুজো? কী বলছেন বাবা? আজকাল পুজোর খরচ জানেন? সে দিন আর আছে? তাছাড়া বাড়িতে রোজগেরে বলতে তো একলা আপনার ছেলে। একা তার কাঁধে ভর দিয়ে…

হিমাদ্রির চোখের ইশারায় চুপ করে গেলেও মনে মনে গজরাতে থাকে অপর্ণা।

দুমুহূর্ত নীরবতা। তারপর বরফ ভেঙে ভেসে আসে রামানন্দের জলদগম্ভীর কন্ঠস্বর। হিমুউউ… তোমারও কি একই মত? তুমি তো জানো হিমু সাত পুরুষ আমাদের ঘরে মেয়ে জন্মায়নি। সাত পুরুষ হিমু। লোকে বলাবলি করত মায়ের অভিশাপ লেগেছে। রাজরক্তে কত পাপ থাকে তুমি জানো! নারীনির্যাতনের পাপ! ধষর্ণের পাপ!…

আবার চুপ করেন রামানন্দ।

আলোচনার মধ্যে এরকম নীরবতা বড় অস্বস্তির। উশখুশ করে ওঠে হিমাদ্রি। বড় গাছের নিচে জন্মানো চারাগাছের প্রকৃতি তার। বাবার ব্যক্তিত্বকে আসলে ভয় পায় সে। আবার অপর্ণার যুক্তির সাথেও পেরে ওঠে না। মাথা না তুললেও যেমন এখন সে বুঝতে পারছে সপ্রশ্ন দুজোড়া চোখ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। কিছু বলা দরকার।

–বাবা, পাপের কথা বলছ? কিন্তু প্রায়শ্চিত্তের চেষ্টাও তো কম হয়নি। তোমার মুখেই তো শুনেছি প্রতিবছর ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয়েছে দেশের বাড়িতে। কিন্তু একবারও নিঁখুত পুজো করতে পেরেছ বলো! কিছু না কিছু ত্রুটি থেকেই গেছে। বলি আটকে গেছে। দেবীর হাতের আঙুল খসে পড়েছে। আর প্রতিবছর একটা না একটা দুর্ঘটনাও ঘটে গেছে পরিবারে। প্রাণহানি। অসুখ। তুমিই তো বলতে…
–আর হবে না। দেখো এবার। এবার মা আমাদের পুজো নেবেন। কালীতারাকে সামনে রেখে পুজো দেব এবার। অভিশাপ কেটে গেছে হিমু। তুমি তো জানো…
–কিন্তু বাবা একটা পুজোর খরচ তো সত্যিই কম নয়। তাছাড়া লোকবল? একা আমি কতদিক… মানে…
–আহ! অত চিন্তা কোরো না হিমু। মা নিজেই সব ব্যবস্থা করে নেবেন, দেখো। গত পাঁচবছর ধরে এই ইচ্ছে লালন করেছি। কিন্তু এবছর আর পিছিয়ে যাব না। আমার কালীতারাকে নিয়ে এবার…

“না। না।” কথার মাঝখানেই অপর্ণা প্রায় আর্তচিৎকার করে ওঠে — “আপনার বংশের পাপ-পুণ্য শাপ-অভিশাপ নিয়ে আপনি থাকুন। আমি কিছুতেই আমার মেয়েকে এসবে জড়াব না। আমি আজই মুনকে নিয়ে বাবার ওখানে চলে যাব। দিনের পর দিন কালীতারা কালীতারা করে ওর মাথা নষ্ট করছেন। দিনের পর দিন বুকে পাথর নিয়ে বেঁচে আছি আমি। এখন বলছেন সামনে বসিয়ে পুজো করবেন? একটা ছ’বছরের বাচ্চাকে? আপনার মাথা ঠিক আছে তো? শুনুন বাবা, মুন আমার মেয়ে। আমার রক্তমাংসের সন্তান। আপনাদের বংশের পরিত্রাতা সে নয়।

***

নাহ, অপর্ণা যাই বলুক, পুজো এবার হবেই। দরকারে একাই পুজো করবেন রামানন্দ। নিজের সঞ্চয়ের সবটা দিয়ে। অন্য কারও প্রয়োজন নেই তার। সেদিনের বাদানুবাদের পর সারাবাড়িতে একটা অদ্ভুত নীরবতা! রামানন্দ টের পান ঝড়ের আগে থমকে আছে আকাশ। যদিও সেদিনের পর অপর্ণা আর কিছুই বলেনি। মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দিলেও কার্যকালে পিছিয়েই এসেছে। তবু সেদিনের কথাকাটাকাটির ঝাঁঝ এখনও কানে বেজে আছে রামানন্দ’র। কাউকে কিছু না জানিয়েই দিনকয়েক আগে রতন মিস্ত্রিকে নিয়ে প্রশস্ত গেছিলেন প্রতিমার অর্ডার দিতে। বারবার বলে এসেছেন, প্রতিমার গাত্রবর্ণ হবে দুধেআলতা, পদ্মপলাশ ত্রিনয়ন, আর চিবুকের কাছে ছোট্ট তিল। প্রতিমাশিল্পী হেসে আশ্বস্ত করলেও ঠিক যেন স্বস্তি পাচ্ছেন না রামানন্দ। কী একটা আশঙ্কায় থেকে থেকেই অস্থির হয়ে উঠছেন। এই অস্থিরতা কী বয়সের ধর্ম! জীবনের এতগুলো দিন, এত উত্থানপতন পার হয়ে এসে সংসারের মোহ আর নেই তার। আজ রামানন্দের জীবনের একমাত্র আশ্রয় কালীতারা। তার বড় বড় চোখ জোড়া বিস্ময় নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ানো, চাঁপাকলির মতো আঙুল দিয়ে জড়িয়ে ধরা — বৃদ্ধের যাপনে এটুকুই একমাত্র নিরাময়, একমাত্র শুশ্রূষা।

দুদিন পরই মহালয়া। পিতৃপক্ষ পার হয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। সেই কাকভোরে উঠে প্রতিদিনের মতো চণ্ডীপাঠ সমাধা করেছেন রামানন্দ। কিন্তু প্রাতরাশ অব্দি মুখে তোলেননি এখনও। ভিতরের ঘরে চিন্তিতমুখে হাঁটাহাঁটি করছেন। ভটচাজের আসার কথা সকালেই। এদিকে বেলা দশটা বাজতে চলল। এত দেরি করছে কেন? পুজোর ফর্দ নিয়ে আসবে সে। টুকিটাকি আরও কিছু প্রয়োজন আছে। দরজায় টোকার শব্দ শুনে বিরক্ত তিক্তমুখে ঘুরে তাকালেন রামানন্দ…

–কিছু বলবে, হিমু?

ইতস্তত করে হিমাদ্রি দু পা এগিয়ে এল ঘরের মধ্যে…

–বাবা, একটা সুখবর আছে। মানে, ইয়ে… অফিসে একটা প্রোমোশন…

আড়চোখে বাবার দিকে আরেকবার তাকিয়ে দেখল হিমাদ্রি। শান্ত চোখ মেলে তাকিয়ে রয়েছেন ছেলের মুখের দিকে।

নাহ, আর দেরি করা যাবে না। একনিঃশ্বাসে এতক্ষণ মনে মনে মুখস্থ করে আসা কথাগুলো বলেই ফেলল হিমু। পুজোর আগেই জয়েন করতে হবে আসানসোলের অফিসে। পুজোর আগেই। আপাতত একটা রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাট পাচ্ছে সে। তাই অপর্ণা আর মুনকেও নিয়ে যেতে চায়। আর একটু গুছিয়ে নিয়ে বাবাকেও…

***

আজ মহালয়া। দেবীপক্ষ। গতকাল সারারাত এবাড়ির কেউ ঘুমোয়নি। একা অদ্রিজা ঘুমোচ্ছে। তার নরম ছোট্ট শরীরটার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে অপর্ণা।

না, রামানন্দ কোনও প্রতিবাদ করেননি সেদিন। হিমাদ্রির প্রস্তাব শুনে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছিল। আরক্ত চোখ মেলে একবার ছেলের দিকে তাকিয়েওছিলেন, যেন ব্রহ্মশাপে ভস্ম করে দেবেন এক্ষুণি। কিন্তু পরমুহূর্তেই কাটা গাছের মতো বসে পড়েছেন খাটের উপরে। আর ওঠেননি।

পরের দুটো দিন যে কীভাবে কেটেছে সে অপর্ণাই জানে। বাহাত্তর বছরের দীর্ঘদেহী সুঠাম, সুদীর্ঘ এক বটগাছ যেন বজ্রাঘাতে শুকিয়ে গেছে দুদিনেই। কষ্ট হয় অপর্ণার। জীবনে এই প্রথম রামানন্দের জন্য একটা অর্থহীন কষ্ট অনুভব করে সে। কিন্তু এখন তো আর পিছিয়ে আসা যাবে না। হিমাদ্রিকে বহু কষ্টে সে বাধ্য করেছে আসানসোলে বদলি নিতে। এখানে আর একমুহূর্ত থাকাও মুনের জন্য নিরাপদ নয়। শিক্ষিতা এযুগের মেয়ে অপর্ণা। অতীতের অন্ধবিশ্বাসের জলে নিজের একমাত্র মেয়েকে ভাসিয়ে দিতে সে কিছুতেই পারবে না। দ্রুত হাতে গোছগাছ সেরে নিতে থাকে সে।

কালীতারা চলে যাচ্ছে। এই উঠোন, জবাফুলের ঝোপ, রঙ্গন তুলসী ছেড়ে, তার আদরের দাদানকে ছেড়ে কালীতারা চলে যাচ্ছে। কোনওক্রমে ভাঙা শরীর নিয়ে উঠে বসেছেন রামানন্দ। অপর্ণা এসেছে প্রণাম করতে। সঙ্গে কালীতারা। ওই তো তার কনকগৌরী রং… ওই তো আয়ত পদ্মপলাশ চোখ মেলে সে তাকিয়ে আছে রামানন্দেরই দিকে… এমনকি চিবুকের তিলটাও নিখুঁত… আহা! কত যত্ন করে বানিয়েছে সনাতন। সেই ছেলেবেলায় দেখা অপরূপ দেবীমূর্তি!

মা মা গো… ছেড়ে যাচ্ছিস মা! এতদিনের সাধনার ধন তুই… আমার চিন্ময়ী প্রতিমা… বোধনের আগেই তোকে আমার বুক থেকে কেড়ে নিল ওরা! বোধনের আগেই নিরঞ্জন হয়ে গেল!

যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠেন রামানন্দ। তার চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে পার্থিব প্রতিটি মুখ। তার প্রতিমা লুঠ করে নিয়ে যাচ্ছে দুজন তস্কর।

দূরে, আরও দূরে ক্রমেই ছোট হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে তারা…

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 952 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*