ভূতের মুখে রামনাম, নাকি এক অবিকল্প স্বীকারোক্তি

শঙ্কর সান্যাল

 

নয়া উদারবাদী অর্থনীতি এবং তারই সম্পূরক হিসাবে উঠে আসা উদার পশ্চিমী গণতন্ত্রের ধারণা মহাসঙ্কটে। একদা যাকে বলা হয়েছিল বিকল্পহীন ব্যবস্থা— ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়ার গভীর, গভীরতর অভিঘাতে সেই ব্যবস্থাই এক নির্বিকল্প সমাধির দিকে এগিয়ে চলছে। মোটের ওপর সঙ্কটমোচন আর সম্ভব হচ্ছে না। গত শতকের আটের দশকে যখন ঠান্ডাযুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমিত হচ্ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নে পেরেস্ত্রইকা এবং গ্লাসনস্তের হওয়া বইতে শুরু করেছিল, তখনই একমেরু বিশ্বের ধারণাটি আবার সামনে আনা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ’।

মুখে বললেই তো হল না, তত্ত্ব চাই। হাতে-কলমে দেখাতে হবে ‘পাল্টা স্বর্গরাজ্য’টা ঠিক কেমন। ১৯২৯ সালের মহামন্দা গোটা দুনিয়াকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আঙিনায়। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ তো শেষ হল, কিন্তু সঙ্কটমোচনের দাওয়াই কী? যুদ্ধ কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে গোটা পৃথিবীটাকেই। পুনর্গঠনের পাশাপাশি বাজারের উত্থানটাও খুবই জরুরি। ১৯৪৪ সালে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠা হয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের। এবার হল বিশ্বব্যাঙ্ক। হল তো বটে, কিন্তু সঙ্কট সামাল দেওয়ার রাস্তাটা কী? যুদ্ধ শুরুর আগেই এক বৃটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস এনেছিলেন নয়া দাওয়াই— জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র। রষ্ট্র তার কোষাগার থেকে বিনিয়োগ করবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়লেই কর্মসংস্থান হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, বাজারের সম্প্রসারণ ঘটবে। বাড়বে মুনাফা, সেই সঙ্গে পুঁজির সঞ্চয়নও। ১৯৪৫ থেকে ১৯৮০, টানা ৩৫ বছর অর্থনীতির জগতে দাপিয়ে রাজত্ব করলেন কেইনস। ততদিনে পুঁজির চেহারাটাই বদলে গিয়েছে। পুঁজি জাতীয় সীমার বাইরে এক একীভূত আন্তর্জাতিক চেহারা নিয়েছে। পুঁজি আর মার্কিন, বৃটিশ কিংবা জার্মান রইল না। তার একটাই পরিচয়, সেটা পুঁজি। খাচ্ছিল তাঁতি তাঁত বুনে, কিন্তু সেটা পোষাল না। আড়ে-বহরে বিপুলাকায় পুঁজির আরও চাই। আরও মুনাফা, আরও সঞ্চয়ন, আরও ক্ষমতা। তাই সাত পুরনো তোরঙ্গ থেকে বেরোল ক্লাসিক্যাল পুঁজিবাদের সাবেক উদারনীতির তত্ত্ব— লেইসেজ-ফেইরে ডক্ট্রিন। ঘষে-মেজে তাকে নবকলেবর দিলেন ফ্রেডরিখ হায়োক, মিলটন ফ্রিডম্যান আর জেমস বুকানন। এঁদের মধ্যে বুকাননই নতুন, বাকি দুজনের কাজ গত শতকের ছ’য়ের দশকের।

এ তো গেল অর্থনীতির গল্প। রাজনৈতিক ব্যবস্থাটা কেমনতর হবে? তার জন্য অপেক্ষা করতে হল সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে পড়া পর্যন্ত। স্ট্যানফোর্ড স্কলার ইয়োশিহিরো ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা নতুন বই হাতে ঢুকে পড়লেন রঙ্গমঞ্চে। সালটা ১৯৯২। সোভিয়েত পতনের উল্লাসে পুঁজিবাদের দিগবধূরা তখন উলুধ্বনি দিচ্ছে দুনিয়াজুড়ে। ফুকুয়ামার বইটা ছিল ‘এন্ড অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড দি লাস্ট ম্যান’। এক অনিয়ন্ত্রিত ঔদ্ধত্যে ফুকুয়ামা অনেকটা ঈশ্বরপ্রেরিত কোনও দেবদূতের মতো লিখে দিলেন—

“What we may be witnessing — is the end point of mankind’s ideological evolution and universalisation of Western liberal democracy as the final form of human government.”

এহেন ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা গত ১৭ অক্টোবর নিউ স্টেটসম্যান নামে একটি মার্কিন সংবাদপত্রকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সবচেয়ে মজার কথা হল, মাত্র ২৬ বছরের ব্যবধানে ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা আর ইতিহাসের শেষটা দেখতে পাচ্ছেন না। ১৯৯২ সালে যেখানে ইতিহাসের শেষ দেখতে পেয়েছিলেন, সেই জায়গাটি যেন বড় ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে ৬৫ বছর বয়সী এই পুঁজিবাদী রাজনৈতিক ভাষ্যকার বললেন, “সমাজতন্ত্র আবার ফিরে আসবে। শুধু আসবে বললে ভুল হবে, অবশ্যাম্ভাবীভাবেই ফিরে আসবে।” কেন ভূতের মুখে রামনাম? কোন পরিপ্রেক্ষিত থেকে এই ঘোরতর উপলব্ধি হল ফুকুয়ামার? সহজভাবে বলা যায়, বিশ্বায়িত পুঁজিবাদের নয়া সঙ্কটই তাঁকে এই ধারণায় উপনীত হতে কার্যত বাধ্য  করেছে। তা বলে মার্কসে ফেরা? হ্যাঁ, ফুকুয়ামা মার্কসেই ফিরেছেন। তাঁকে বলতে হচ্ছে বণ্টনে বৈষম্যের কথা, উৎপাদন প্রক্রিয়া তথা সমাজ থেকে শ্রমজীবী মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। আসলে এই কথাগুলি বলতে বাধ্য হচ্ছেন ফুকুয়ামা। সমাজতন্ত্রের অনিবার্যতার কথা সেইখানেই তাঁকে শুরু করতে হচ্ছে, যেখানে পুঁজিবাদী দর্শন একটি নিরেট দেওয়ালের সামনে ঠেকে গিয়েছে। গত শতকের আটের দশকে বলা হচ্ছিল, পুঁজিবাদ এখন উত্তর পুঁজিবাদী পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। পুঁজিবাদের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে গিয়েছে। এই বিকাশের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বাধা আসবে, তার জন্য খুচরো যুদ্ধ-টুদ্ধ করতে হতে পারে। সেটা স্যামুয়েল হান্টিংটন কথিত “ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশন”। এর বাইরে নাকি এক অসামান্য জীবন। ব্যক্তিমানুষের চূড়ান্ত স্বাধীনতা। বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে ব্যক্তিমানুষের যাবতীয় পছন্দ। বাজারই বলবে শেষ কথা। কোথাও কোনও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। পুঁজিই হবে মূল নিয়ন্ত্রক। বাঁচার অধিকার তাদেরই থাকবে, যারা ফিটেস্ট। সামাজিক সুরক্ষার ন্যূনতম বালাই রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। অবাধ বাণিজ্যে আগাধ মুনাফা। এটাই শেষ কথা।

পরিস্থিতি কী দাঁড়াল? ১৯৭৫ সালে পশ্চিম ইওরোপে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ২ শতাংশ। ২০১২ সালে সেই সংগ্যাটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। একের পর এক শিল্পে লালবাতি। ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই, সামাজিক সুরক্ষা হ্রাস। শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স থেকে পর্তুগাল, ইতালি থেকে স্পেন। সাধের ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের ব্রেক্সিট। মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় লাগাতার অস্থিরতা, পূর্ব ইওরোপের সাবেক সোভিয়েত ব্লক থেকে শুরু করে সোভিয়েতের পতনের পরে পৃথক হয়ে যাওয়া অঙ্গরাজ্যগুলিতে তীব্র জাতি সমস্যা এবং দাঙ্গা। বিশ্বজুড়ে পরিচিতি-রাজনীতির উত্থান— মাত্র ৩৮ বছরেই উত্তর পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নেমে এসেছে এক তীব্র সঙ্কট। এক উন্মার্গগামী, বিকারগ্রস্ত ব্যবস্থা জুড়ে কেবল মানুষের আর্তনাদ। এই সঙ্কটমোচনের রাস্তা কী? এখনও কোনও উত্তর নেই তাত্ত্বিকদের কাছে।

যে কোনও ব্যবস্থার ভিত্তি হল অর্থনীতি। আর তার উপরিকাঠামো হল রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিন্যাস। দেড়শো বছর আগে কমিউনিস্ট ইস্তেহারে মার্কস-এঙ্গেলস লিখেছিলেন, পুঁজিবাদ নিজেই নিজের কবর খোঁড়ে। অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন আর সেই কারণে বাজারের সঙ্কটই হল পুঁজিবাদের মৌলিক সঙ্কট। তথাকথিত উত্তর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা, যাকে পুঁজিবাদের চূড়ান্ত বিকাশ বলা হয়েছিল, সেই স্তরেও এই সঙ্কটের কোনও দাওয়াই নেই।

ফুকুয়ামা তাঁর নবম বইটি লিখে ফেলেছেন। বিষয়টি পরিচিতি রাজনীতি নিয়ে। Identity: demand for dignity and the politics of resentment.

বইটির মোদ্দা উপজীব্য বিষয় হল, পশ্চিমী উদার গণতন্ত্র, যাকে এক কথায় বুর্জোয়া গণতন্ত্র বলা হয়ে থাকে, সেই ব্যবস্থায় মানুষের সমস্ত চাহিদা পূরণ হয় না। এই ব্যবস্থা আপাতভাবে শান্তি এবং সমৃদ্ধির চাহিদা পূরণ করলেও, মানুষ আরও কিছু চায়। কী করে মানুষ ভালো থাকতে পারে, এই প্রশ্নে বুর্জোয়া গণতন্ত্র নীরব। এই বিষয়টি পশ্চিমী গণতন্ত্র ছেড়ে দিয়েছে ব্যক্তিমানুষের ওপরে। এখানেই না থেমে ফুকুয়ামা বলছেন, পশ্চিমী বুর্জোয়া গণতন্ত্রের রাজনৈতিক পরিসরে এবং ক্ষমতার অলিন্দে কেবল বিত্তশালীদেরই ঘোরাফেরা। সমাজে বসবাসকারী নিম্নবিত্তের অধিকারীদের প্রতিনিধিত্ব থাকে না। মানুষ বিচ্ছিন্ন বোধ করতে শুরু করে। ফুকুয়ামার কথায়, এটা ঘটে কোনও কারণ ছাড়াই। এই বিচ্ছিন্নতাবোধের কারণেই মানুষ শরণাপন্ন হয় বিভিন্ন পরিচিতি গোষ্ঠীগুলির। সেখানেই সে তার নিজস্ব সম্প্রদায় খুঁজে নিতে চায়।

বস্তুতপক্ষে অন্ধের হস্তিদর্শন করেছেন ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা। এটা অজ্ঞতাবশত নয়, একদম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বুর্জোয়া গণতন্ত্রের চেহারাটি তিনি দেখেছেন তার অর্থনৈতিক ভিত্তিভূমিকে বাদ দিয়েই। একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই যে তার উপরিকাঠামো সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে, এই কথাটি মেনে নিলে আঘাতটা করতে হয় গোড়াতে, পুঁজিবাদকে। কিন্তু শ্রেণিগত অবস্থান থেকে সরাসরি পুঁজিবাদকে, তার চূড়ান্ত বৈষম্যকে, আগ্রাসনের লালসাকে এবং কর্তৃত্ববাদকে আক্রমণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই একটি সংস্কারমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তথাকথিত পশ্চিমী গণতন্ত্রকে দেখছেন।

ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা “কোনও কারণ ছাড়াই” যে বিচ্ছিন্নতার কথা বলতে চাইছেন, আসলে সেটিও একটি অর্ধসত্য বিবৃতি। আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছর আগে কার্ল মার্কস তাঁর বিচ্ছিন্নতার তত্ত্বে দেখিয়ে দিয়েছিলেন পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমজীবী মানুষ কীভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে তথা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা নতুন কোনও বিষয় নয়, এই বিচ্ছিন্নতাটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নিশ্চিত অবশ্যাম্ভাবী। কিন্তু প্রশ্ন হল, ফুকুয়ামা সাহেবের ঘুমটা এত দেরিতে ভাঙল কেন?

ফুকুয়ামা লিখছেন “ডিমান্ড ফর ডিগনিটি”— এই কারণেই মানুষ নাকি ঝুঁকে পড়ছে পরিচিতি সত্তার রাজনীতির দিকে। পরিচিতি সত্তার রাজনীতি সমাজতন্ত্রের কথা বলে না, উৎপাদন ব্যবস্থার সামাজিকীকরণের কথা বলে না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নিপীড়ক এবং নিপীড়িত জাতির মধ্যে যে স্বাভাবিক দ্বন্দ্ব থাকে, তারই ফলশ্রুতিতে পরিচিতি সত্তার রাজনীতি জন্ম নেয়। এটাও অবশ্য ঠিক যে সোভিয়েত মডেলও জাতি সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি থেকেই গিয়েছে এবং বারে বারেই মাথাচাড়া দিয়েছে। ফুকুয়ামার “ডিগনিটি” কথাটির অর্থ কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণ নয়, আত্মমর্যাদা। অর্থাৎ মানুষের মতো বাঁচার অধিকার। কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মানুষের মতো বাঁচার অধিকার পাওয়া কী করে সম্ভব? তাহলে তো আর উদ্বৃত্তমূল্য উৎপাদন করা যায় না। আর উদ্বৃত্তমূল্য উৎপাদনের বাইরে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কোনও অস্তিত্বই থাকে না। এক গভীর স্ববিরোধ রয়েছে এই ভাবনায়, যা আদতে পুঁজিবাদেরই অন্তর্লীন স্ববিরোধ। কিন্তু এখানেও সেই নিরেট দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণেই তাঁকে বলতে হচ্ছে “সমাজতন্ত্র অবশ্যম্ভাবী”। কেননা এই মুহূর্তে পুঁজিবাদের সামনে কোনও তাত্ত্বিক উত্তরণ নেই। নতুন কোনও রাস্তা নেই। আবর্তন, মুনাফা এবং সঞ্চয়নের অলাতচক্র যদি চালু রাখতে হয়, তাহলে পুঁজিবাদকে ফিরতে হবে সেই আদিম সঞ্চরণের রাস্তায়। যেখানে পুঁজিববাদ সশস্ত্র হয়ে ওঠে। এই কারণেই ফুকুয়ামা ভয় পাচ্ছেন একটি নতুন যুদ্ধের— মার্কিন-চিন যুদ্ধ। বিশ্ব বাজারের দখল নিতে উঠে আসা চিনকে বলা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ। আসলে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সেটা আদতে পুঁজিবাদই। বিশ্ব বাজারের দখল নিতে দ্রুত উঠে আসছে সে এবং সেটাই আমরিকার শিরঃপীড়ার মূল কারণ। নিজস্ব সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার রাস্তা নয়া উদারবাদী অর্থনীতিতে খুঁজে পায়নি পুঁজিবাদ। অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন এবং অসম প্রতিযোগিতায় বিপর্যস্ত পুঁজিবাদ আর পারস্পারিক সমঝোতার মধ্যে দিয়ে বাজারের ভাগাভাগি করতে পারছে না। তাই ফিরতেই হবে পুরনো রাস্তায়।

ফুকুয়ামা তাঁর নিজের মতো করে সমাজতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করছেন। সেই সমাজতন্ত্রে বণ্টন ব্যবস্থায় সমতা আনার কথা বলা হচ্ছে। উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হচ্ছে, যা পাকে প্রকারে কেইনসীয় অর্থনীতিকেই নতুন বোতলে ভরে প্রচার করা। যে সমাজতন্ত্র মানে উৎপাদনের হাতিয়ার শ্রমিকশ্রেণির দখল আসা, সেটা ফুকুয়ামার সমাজতন্ত্র নয়, হতেও পারে না।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 956 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*