সে অন্নে যে বিষ দেয়…

তাপস কুমার দাস

 

গহীন বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন, সূর্য ডোবার কিছু আগে। পার্ক সার্কাস ময়দানের লাগোয়া রাস্তাটি স্রোতস্বিনীতে পরিণত হয়েছিল, কলকাতার আরও বহু রাস্তার মতোই। নালা ভাসিয়ে, ম্যানহোল উপচে, ফিতে ছেঁড়া হাওয়াই চটি, ডাবের খোলা, ফুচকা খেয়ে ছুঁড়ে ফেলা শালপাতার বাটি, প্লাস্টিকের কাপ, মর্চেরঙা ছোপ লাগা ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন, এবং ডাস্টবিন ও ভ্যাটের যাবতীয় জমা বর্জ্য বুকে টেনে নিয়ে কলকল শব্দে বয়ে চলেছিল ঘোলাটে জলরাশি। প্যান্ডোরার পেটিকা খুলে গেছে, তিলোত্তমা তার সমস্ত ক্লেদ নিয়ে কল্লোলিনী।

আমাদের ট্যাক্সি গড়িয়ে গড়িয়ে, কোঁকাতে কোঁকাতে, চলছিল তারই মধ্যে। নোংরা জল গাড়ির দু ধার কেটে বেরিয়ে আসছে সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের দুই বাহুর মতো। ‘শাম্পানে ফেড়েছে, ও কে কলকাতার গলি?’— শক্তি চট্ট্যোপাধ্যায় মনে পড়ে যায়।

মেয়েকে নিয়ে চলেছিলাম ডাক্তার দেখাতে গোলপার্ক। বেশ কড়া ধরনের অসুস্থতায় ঝিমিয়ে ছিল, আমার শরীরে হেলান দিয়ে। জল দেখে উত্তেজনায় উঠে বসে, চোখমুখ জ্বলজ্বল করছে, পারলে ট্যাক্সির দরজা খুলে তখনই নেবে পড়ে জল ছপছপ করতে, বাচ্চাদের যেমন হয়— গলা বাড়িয়ে দিয়েছে ট্যাক্সির জানালা গলিয়ে।

আর ঠিক তখনই, সহসা কোন মন্ত্রবলে, অদৃশ্য অবস্থা থেকে— তারা উঠে এল। ঘিরে ফেলল ট্যাক্সিটা চারিদিক থেকে। জনা দশেক ফুটপাথ বাসিন্দা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে, অনেকেই আমার মেয়েরই বয়েসি হবে, আট থেকে চোদ্দোর মধ্যে বয়েস, অদ্ভুত ক্রূর হেসে সজোরে লাথি মারতে শুরু করল জলে। একদম তাক করে, যাতে তাদের লাথিতে ছিটকে ওঠা জল ট্যাক্সির জানলা দিয়ে ভেতরে ঢুকে ভিজিয়ে, ভাসিয়ে দেয় আমাদের। সারাজীবন যে নোংরায় পড়ে থাকতে বাধ্য হয় তারা, আর তাকিয়ে দেখে তাদের পাশ দিয়ে নির্বিকার হেঁটে যাওয়া বাবুশ্রেণিকে, পরিশীলিত ভদ্রলোকেদের জনাকয় প্রতিনিধির শরীরে সেই ক্লেদ চালান করে দেওয়ার উদগ্র বাসনায় নিষ্ঠুর, হিংস্র হয়ে উঠে জলে লাথি মারতে মারতে ক্রমশ কাছে, আরও কাছে এগিয়ে আসতে থাকে ট্যাক্সির। বাচ্চাগুলোর সেই ভয়ানক হিংস্র মুখচ্ছবি দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যাই আমি।

‘বাবা! বাবা! কাচ তুলে দাও, কাচ তুলে দাও!’ আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে আমার মেয়ে। প্রাথমিক হতভম্ব দশা কাটিয়ে আমি আর ড্রাইভার অবশ্য ততক্ষণে জানলার কাচগুলো তুলে দিতে শুরু করেছি দ্রুতহাতে। মেয়ে ভয়ে কাঁপছে আমাকে জড়িয়ে ধরে— ‘দরজা লক করে দাও বাবা, ভেতরে ঢুকে পড়বে ওরা না হলে!’ স্বভাবতই আতঙ্ক তখনও যায়নি তার। ওকে দেখাই, জানলার কাচ তুলে দেওয়াতে বাচ্চাগুলো সরে গেছে। অন্য গাড়ি আর ট্যাক্সিকে টার্গেট করে ঘিরে ধরেছে। খানিক শান্ত হয় দেখে।

দিনপাঁচেক পর। আবারও মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়েছে— ফলোআপ। মেয়ে ফেরার সময় খুব খুশি, কারণ ডাক্তারকাকু বলে দিয়েছেন ফুচকা, রাবড়ি আর বিয়ানী (বিরিয়ানি) খেতে আর বারণ নেই। নিজের মনে গান করতে করতে ট্যাক্সির জানলার ধারে বসে বাড়ি ফিরছে তাই। একটু রাত হয়ে গিয়েছিল সেদিন। গ্র্যান্ড হোটেলের উল্টোদিকে ট্র্যাফিকে দাঁড়িয়ে পড়ল ট্যাক্সিটা। অন্যমনস্ক ছিলাম, চেয়ে দেখিনি কখন অন্ধকারে ছায়ার মতো এসে দাঁড়িয়েছে মেয়েরই বয়সি একটি বালক। মেয়ের দিকের জানলার কাছে হাত বাড়িয়ে ভিক্ষা চাইছে। খেয়াল হতে পার্স বার করতে যাই, কিন্তু ততক্ষণে সবুজ হয়ে গেছে সিগনাল, ট্যাক্সি চলতে শুরু করে এবং তাকে কিছু দেওয়া হল না সেই আক্রোশে বাচ্চা ছেলেটি জানলার মধ্যে দিয়ে হাত ঢুকিয়ে, আমার মেয়ের চুলের মুঠি ধরে মাথাটা ট্যাক্সির দেওয়ালে জোরসে ঠুকে নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

মেয়ে চুপ করে বসে থাকে, চোখ ছলছল। আদর করি, জিগেশ করি কতটা লেগেছে, মাথায় হাত বুলিয়ে বোঝার চেষ্টা করি ঠোকা লেগে ফুলে উঠেছে কিনা। লাগেনি তেমন, বলে সে। তবে কষ্ট পেয়েছে, জানায়। ব্যথা পেয়েছে মনে খুব। এরকম বয়েসের ছেলেদের সাথে তো খেলার সম্পর্ক তার। তাহলে কেন এই নিষ্ঠুরতা, এই ভেবে মন খারাপ হয়ে কেঁদে ফেলেছে।

ঠিক কী বলব বুঝে উঠতে পারি না। ট্যাক্সি আবার ট্র্যাফিকে দাঁড়িয়েছে তখন। গাড়ির ভিড়ে, আওয়াজের মাঝে, বিত্তবানদের বিদেশি গাড়ির সুরেলা হর্ন এবং পথশিশু ও ফুটপাথ-বাসিন্দাদের কলরোল আর মুখখিস্তির আবহে চুপ করে বসে থাকি অন্ধকার ট্যাক্সিতে, মেয়ের হাত ধরে। ভিজে চোখে সেও নীরব, স্থির।

যে ছেলের সাথে আজ খেলার সম্পর্ক হওয়ার ছিল কন্যার আমার, তার অন্ধ আক্রোশের যে নিষ্ঠুর রূপ এই বয়সেই, সে যখন তরুণ যুবক হয়ে উঠবে তখন সে যদি আমার (বা সম-আর্থসামাজিক শ্রেণির আর কারও) মেয়েকে টেনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে ভাঙা কারখানার শেডের মধ্যে দলবদ্ধভাবে— আমার মেয়ে রাত্রে বাড়ি ফেরার সময়— তাহলে সেই ঘটনাকে প্রকৃত ব্যাখ্যা করা এবং ঠেকানো যাবে কি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, উত্তর আধুনিকতার তত্ত্ব, মেল গেজ বিষয়ক বক্তব্য পেশ, অথবা শখের তাত্ত্বিক বাম রাজনীতি করে?

যাবে না। ওসব তত্ত্ব-তালাশ বাতানুকূল বক্তৃতামঞ্চ অথবা আলোচনাচক্রের জন্য তোলা থাকে। ফুটপাথের গল্প আলাদা। সেই সারমেয়র জীবন নিয়ে বেড়ে ওঠা মানুষগুলির ক্রোধ ঘৃণা অসূয়া বিদ্বেষ আক্রোশ কোন পর্যায়ে যেতে পারে, এবং কেন, তা বোঝার প্রয়োজন আছে। সেই আক্রোশ লিঙ্গবৈষম্যভিত্তিকই হতে হবে এমন কোনও মানে নেই। মতি নন্দীর ‘জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ’ নামক হাড়হিম করে দেওয়া ছোটগল্পে আমরা দেখেছি ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দা নয়নতারাকে কীভাবে পাশের বস্তির মেয়েরা রাস্তায় ফেলে উলঙ্গ করেছিল নয়নতারা রাস্তার কলে জল আনতে গেলে সেই সংক্রান্ত সামান্য বিবাদের সূত্রে। নয়নতারা মানসিক স্থিতি হারায় তারপর। সঙ্গিনীকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া ঝকঝকে শহুরে যুবককে বস্তির লোকজন অকারণে, শুধু মাত্র অসূয়াবশত, কীভাবে নির্মম প্রহার করে, সেই বিবরণ শীর্ষেন্দুর গল্প পড়ে জেনেছি আমরা। আক্রোশ এবং ঘৃণার এই অন্ধকার চেহারা বুঝতে হবে সুতরাং তীব্র অর্থনৈতিক অসাম্যর আবহেই কেবল।

এবং এই সকল ঘটনার কুশীলব গল্পের চরিত্রমাত্র নন। বরং গল্পের চরিত্রনির্মাণ বাস্তব ঘটনাবলিরই আদলে। প্রকৃত প্রস্তাবে বাস্তব, গল্পের থেকে বহুগুণে ভয়াবহ। বিশিষ্ট সমাজকল্যাণকারী এবং সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ তুষার কাঞ্জিলালের লেখার [[১]] অংশবিশেষ (বাদা অঞ্চলে থাকাকালীন ওনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা) পড়লে হয়তো এ ব্যাপারে সম্যক ধারণা হতে পারে:

আমার প্রয়াতা স্ত্রী বীণাদেবী নারীদের ভাগ্য ফেরাবার অভিযানে নেমেছিলেন। একদিন মেঠো পথে যাচ্ছেন, দেখলেন, এক মা ছেলেকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছেন। তিনি দৌড়ে কাছে গেলেন, মা’টিকে সবলে নিবৃত্ত করে মারার বৃত্তান্ত জানতে চাইলেন। যেটা বুঝলেন সেটা হচ্ছে, ১০ বছরের ছেলেটি এক বাড়িতে বাগাল খাটে। একদিন পালিয়ে বাড়ি চলে এসেছে এবং ঘোষণা করেছে যে সে আর ও বাড়িতে যাবে না। বীণাদেবী ছেলেটিকে বোঝাবার চেষ্টা করলেন যে, মরা গরিবের ঘরে জন্মেছিস, তোকে তো বাগাল খেটেই বাঁচতে হবে। ছেলেটি চিৎকার করে বলল, ‘আমি তো বাগাল খাটব না বলিনি, কিন্তু ও বাড়িতে আর নয়, ওরা আমাকে খেতে দেয় না, আর তার পর যখন তখন পেটায়।’ মা কিন্তু ও বাড়িতেই পাঠাবে। ছেলে শরাহত বন্য প্রাণীর মতো আর্তনাদ করে বলল, ‘পাঠাবে না? না পাঠিয়ে উপায় আছে? আমাকে রেখে আগাম চার বস্তা ধান মালিকের থেকে নিয়ে খেয়ে বসে আছে!’ বীণাদেবীও সন্তানের মা ছিলেন। তিনি মাতৃস্নেহের এই ভয়াবহ রূপ দেখে মাঠের আলে বসে হু-হু করে কাঁদতে শুরু করলেন।

‘মাতৃস্নেহের এই ভয়াবহ রূপের’ প্রকৃত আর্থসামাজিক উৎসের সন্ধানে পিছিয়ে যাওয়া যাক বছর দেড়েক সময়কাল। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গিরিডি জেলায় নিমিয়াঘাট থানা এলাকার পাতাপুর গ্রাম গিরিডি শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে। সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই হতদরিদ্র। ২০১৬-র ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কোনও এক হাড়কাঁপানো শীতের রাতে পাতাপুরের সাবিজান খাতুন তাঁর আট বছরের পুত্র শেখাওয়াত এবং ছয় বছরের কন্যা সায়রাবানুকে কুয়োর জলে ঠেলে ফেলে দেন [[২]]। কদিন আগেই স্বামী সওকত ওসমান বোম্বে থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন, ডিমনিটাইজেশনের জেরে দিনমজুরের কাজ খুইয়ে। সেই থেকে ঘরে চাল বাড়ন্ত। টানা দুদিন একদানা খাবার জোটেনি, সম্পূর্ণ অভুক্ত শেখাওয়াত আর সায়রার কান্না মা হয়ে আর সহ্য করতে পারেননি সাবিজান দেবি। ফলত….

মজার কথা হল, হতদরিদ্র ওই পরিবারটির সদস্যরা বিপিএল তালিকাভুক্ত ছিলেন। সুতরাং খাদ্য সুরক্ষা আইনানুযায়ী (ন্যাশানাল ফুড সিকিওরিটি অ্যাক্ট ২০১৩, যা রাইট টু ফুড অ্যাক্ট নামেও পরিচিত) তাঁদের খাদ্যশস্য রেশন পাওয়া উচিৎ ছিল, যা তাঁরা পাননি। সেই রেশনের শস্য, রাষ্ট্রযন্ত্রের পাহারাদারদের মধ্যেই যে ভাগবাঁটোয়ারা হয়ে গিয়েছিল, সে ব্যাপারে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।

বাদা অঞ্চলের বাগাল খাটা সেই দশ বছরের বালক যখন ঘুরে তাকাবে দুধেভাতে থাকা আমার সন্তানের দিকে, কবর থেকে মধ্যরাতে উঠে আসবে সায়রাবানু আর শেখাওয়াতের ক্ষুধাতুর প্রেতাত্মা— তখন তাদের চোখে ফুটে থাকবে যে অপ্রাপ্তি আর হতাশা বেত খাওয়া কুকুরের দৃষ্টির মতো, ঝলকে বেরোবে যে তীব্র ক্রোধ, অসূয়া আর আক্রোশ, পার্ক সার্কাস ময়দানের রাস্তায় জলে লাথি মারতে মারতে ট্যাক্সির দিকে এগিয়ে আসা বাচ্চাদের চোখে তারই প্রতিফলন চিনে নিতে বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি আমার। গ্র্যান্ডের উল্টোদিকের ভিখারি ছেলেটির দৃষ্টিতেও যে আক্রোশের সেই ঝলকই ছিল, তা’ও আমি একেবারে নিশ্চিত লিখে দিতে পারি।

এবং এ নিয়ে কোনও দার্শনিক তত্ত্ববিলাসে গা ভাসানোর স্পর্ধা আমার নেই। `অমৃতস্য পুত্র’— এই বাক্যবন্ধ শুনতে মন্দ নয়, তবে তা ভরাপেটেই মানায় ভালো। বেত খাওয়া কুকুরের মতো থুতু চেটে বাঁচাই যাদের বাধ্যতামূলক যাপন প্রক্রিয়া, তাদের ঠোঁট গুটিয়ে উঠে ধারালো শ্বদন্ত বেরিয়ে আসবে বইকি সামান্য সুযোগ পেলেই। সে নিয়ে শান্তির ললিতবাণী দেওয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই।

হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের (মানোয়া) দর্শনের অধ্যাপক অরিন্দম চক্রবর্তী সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধে শখের সমাজবিপ্লবীদের একহাত নিয়েছেন। অধ্যাপক চক্রবর্তী লিখছেন [[৩]] :

..হয়তো ইউটিলিটির সমতা নয়, অধিকারের সমতা নয়, সুখের সমতা নয়, অর্থের সমতা নয়, আমাদের মতো কাগুজে অধ্যাপকদের আদর্শ হওয়া উচিত অপমানের সমতা। যাদের নিচে ফেলেছি, তাদের সঙ্গে অপমানে সমান হবার জন্য অনেক কিছু ছাড়তে হবে।

যে নির্লজ্জতা আমাদের বলতে শেখায় ‘নিজের মুরোদে, উচ্চশিক্ষা লাভ করে, বুদ্ধি খাটিয়ে উচ্চশ্রেণিতে উঠেছি, কারও ক্ষতি করিনি, আমার নতুন বিদেশি গাড়ির সামনে নোংরা হাত পেতে ভিক্ষে করা মানুষের আমি ধার ধারি না’, সেই নির্লজ্জতা নিয়ে ‘বাণিজ্যেতে যাবই’ মানে ‘অলক্ষ্মীরে পাবই’।

সমস্ত ঘামঝরা শ্রমিক-কৃষকের কাছে, মানবেতর প্রাণীদের কাছে, আমাদের আজন্ম ঋণ, পিতৃপুরুষদের কাছে ঋণের মতোই অস্বীকার করে ইদানীং আমরা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকে নৃশংসতার প্রতিযোগিতায় নেমেছি। লজ্জা আর হ্রী’র অভাবে আমাদের সমস্ত শ্রী বিশ্রী হয়ে পড়ছে।

নৃশংসতা? সেটা কীরকম ব্যাপার? জানতে চেয়েছিলেন ধর্মরাজ। অষ্টাদশ খণ্ড মহাভারতের দ্বাদশ খণ্ডের পরিচয় `শান্তিপর্ব’ নামে। তার তিনটি উপখণ্ড, রাজধর্মানুশাসন, আপদ্ধর্মানুশাসন এবং মোক্ষধর্ম। আপদ্ধর্মানুশাসন পর্বে চতুঃষষ্টাধিকশততম (১৬৪ নম্বর) অধ্যায়ে যুধিষ্ঠির প্রশ্ন রাখেন `পিতামহ! আমি সর্বদা সাধুসহবাস নিবন্ধন অনৃশংসতা বিশেষ অবগত আছি, কিন্তু নৃশংস ব্যক্তিদিগের আচার ব্যবহার কিছুই অবগত নহি।… এক্ষণে বিশেষ রূপে নৃশংস ব্যক্তিদিগের বিষয় কীর্তন করুন।’ [[৪]] ভীষ্মের উত্তরে মানবিকতার মূর্ত প্রতিচ্ছায়া দেখা যায়। নৃশংস মানুষের অন্যতম লক্ষণ হিসাবে তিনি বলেন— যে মানুষ, অন্যান্য চেয়ে থাকা (অর্থাৎ ক্ষুধাতুর) মানুষের সামনে একাই (অর্থাৎ কারও সাথে ভাগাভাগি না করে, অন্যকে অভুক্ত রেখে, প্রকারান্তরে ক্ষুধার্তকে দেখিয়ে দেখিয়ে) ভালো ভালো খাবার খায়, সে নিষ্ঠুর, নৃশংস। (‘যে ব্যক্তি সকলের সমক্ষে একাকী সুস্বাদু বিবিধ ভক্ষ্যসামগ্রী ভোজন করে, তাহাকেও নিষ্ঠুর বলিয়া পরিগণিত করা যায়’) [[৫]]

কিশোরীমোহন গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক মহাভারতের মূল সংস্কৃত থেকে ইংরেজি অনুবাদে উপর্যুক্ত অংশটি এইরকম :

Know him for a malevolent and wicked person who quietly and alone takes comestibles and drinks and other kinds of food that are regarded choice, even when persons are standing by with wishful eyes.

ক্ষুধাতুর মানুষের মুখের অন্ন কেড়ে খাওয়া নৃশংস মানুষকে চিহ্নিত করে সমাজ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে উপদেশ দেন পিতামহ ভীষ্ম— ‘উহাদিগের সংসর্গ পরিত্যাগ করা জ্ঞানবান ব্যক্তি মাত্রেরই অবশ্য কর্তব্য।’ (কালীপ্রসন্ন সিংহ)

এই চূড়ান্ত নৃশংসতা বিষয়ে শেষ কথা সম্ভবত লিখে গেছেন কবি বীরেন্দ্র চট্যোপাধ্যায় : [[৭]]

অন্ন বাক্য অন্ন প্রাণ অন্নই চেতনা;
অন্ন ধ্বনি অন্ন মন্ত্র অন্ন আরাধনা।
অন্ন চিন্তা অন্ন গান অন্নই কবিতা,
অন্ন অগ্নি বায়ু জল নক্ষত্র সবিতা।

অন্ন আলো অন্ন জ্যোতি সর্বধর্মসার
অন্ন আদি অন্ন অন্ত অন্নই ওঁকার।
সে অন্নে যে বিষ দেয় কিংবা তাকে কাড়ে
ধ্বংস করো, ধ্বংস করো, ধ্বংস করো তারে।

বীরেনবাবুর কবিতার প্রথম স্তবকে তৈত্তিরীয় উপনিষদের ছায়াপাত লক্ষণীয় : [[৮]]

অন্নাদ্বৈ প্রজাঃ প্ৰজায়ন্তে।
যাঃ কাশ্চ পৃথিবিং শ্রিতাঃ।
অথো অন্নেনৈব জীবন্তি।
অথৈনদপি যন্তন্তত।
অন্নং হি ভূতানাং জ্যেষ্ঠম।

অর্থাৎ যাবতীয় প্রাণীর জন্ম অন্ন থেকেই। তারা অন্নেই জীবন ধারণ করে, শেষে সেই অন্নেই বিলীন হয়। কেননা অন্নই সবার বড়।

হারম্যান জ্যাকোবি, ওয়াল্টার রুবেন, দেবীপ্রসাদ চট্ট্যোপাধ্যায় প্রমুখ পন্ডিতের মতে [[৯]], এবং তারও বহু আগে নৈয়ায়িক জয়ন্তভট্ট রচিত ন্যায়মঞ্জরী গ্রন্থের (যদিও এই গ্রন্থের মূল উদ্যেশ্য ছিল ঈশ্বর-অবিশ্বাসী ভারতীয় দর্শনের, যথা চার্বাকপন্থার, মতবাদ খণ্ডন) অংশবিশেষ বিশ্লেষণ করলে [[১০]] জানা যায় যে ছান্দোগ্য উপনিষদে বস্তুবাদী প্রভাব ছিল। অন্ন ও ক্ষুধা সংক্রান্ত বিষয়ে ছান্দোগ্যে বর্ণিত শ্বেতকেতু বনাম উদ্দালক আরুণির কথোপকথন বিশেষভাবে স্মর্তব্য। উদ্দালকের আদেশে শ্বেতকেতু একপক্ষকাল উপোসী থেকে (`স হ পঞ্চদশাহানি নাশাথ হৈনমুপসসাদ’ [[১১]]) উদ্দালকের কাছে এলে উদ্দালক তাঁকে বেদের কিছু বিশেষ অংশ মুখস্থ বলতে বলেন। সর্ববেদ বিশারদ মহাজ্ঞানী শ্বেতকেতু হাবার মতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলেন বেদ থেকে একটি শ্লোকও তাঁর মনে পড়ছে না (‘স হোবাচ — ন বৈ মা প্রতিভান্তি ভো ইতি’ [[১২]])! উদ্দালক তখন বলেন, বাপু হে, খালিপেটে পাণ্ডিত্য হয় না, যাও ভাত খেয়ে এসো। দেড়েমুশে কদিন খেয়ে শ্বেতকেতু আবার ফিরে আসেন এবং উদ্দালকের সব প্রশ্নের উত্তরে গড়গড় করে বেদ আউড়ে যান। উদ্দালক তখন সেই বিখ্যাত উক্তি করেন— ‘সুতরাং মন অন্নময়’ (অন্নময়ং হি সোম্য মন [[১৩]])— মানবসভ্যতার ইতিহাসে যার থেকে বেশি চরম সত্য কথা আর কিছু হতে পারে না!

এবং বর্তমান বিজ্ঞানও তেমনই বলে থাকে। পুষ্টির (নিউট্রিশন) সাথে জ্ঞানসম্পর্কিত চেতনার (কগনিটিভ কেপাবিলিটি) সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা কম হয়নি। ইংলন্ডের কেমব্রিজ ও ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ভ্যাঙ্কুভার, এবং আমেরিকার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও মনোবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপকদের সাম্প্রতিক গবেষণায় [[১৪]] দেখা গেছে কীভাবে দারিদ্র এবং উপযুক্ত পুষ্টির অভাব সরাসরি মানুষের মেধা, চিন্তাশক্তি এবং যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

যদি তাই হয়, তাই যদি হয় হে ক্ষমতাদর্পী রাষ্ট্র আমার, কী পাণ্ডিত্যের আবাদ হচ্ছিল তাহলে গত বছর শিবপুরিতে? ২০১৭-র সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে ষোলোজন আদিবাসী ছাত্র সার দিয়ে বসেছিল কীসের জন্য শিবপুরি-ঝাঁসি ২৫ নং জাতীয় সড়কের ধারে? হোস্টেলে জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছিল তিনদিন আগে, হোস্টেলের রান্নাঘরে খাবারের শেষ দানাটি ফুরিয়ে যায় দুদিন আগে। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলার সুরইয়াইয়া গ্রামের সরকার পরিচালিত সেই আদিবাসী ছাত্রাবাসের অধীক্ষক একপক্ষকালাধিক অনুপস্থিত ছিলেন, এবং বার বার খিদের জ্বালায় অনুরোধ উপরোধ সত্ত্বেও সেই ছাত্রাবাসের রাঁধুনি যখন কোনওরকম খাবার জোগাতে অসমর্থ হন, আমার মেয়ের বয়েসের কাছাকাছি বয়েসের ১৬টি ছোট ছোট মানবসন্তান রাস্তায় গিয়ে বসে ভিক্ষা করতে [[১৫]]। এই ১৬টি শিশুর বেদনার্ত হৃদয় আর ভুখা পেট যদি একদিন ঘৃণার আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে যায় তাদের চোখে, পার্কসার্কাসের সেই শিশুগুলির মতো, খুব কিছু দোষ কি দেওয়া যাবে তাদের?

বিশাল এই দেশের প্রান্তিক সীমায় থাকা অগণন দরিদ্র, অভুক্ত, নিপীড়িত মানুষদের বেদনা, হতাশা, আক্রোশ ও ক্রোধের এক আবহ তরঙ্গের মতো ঘিরে রেখেছে আমার সন্তানকে তার জন্মমুহূর্ত থেকেই। তিরতির করে কেঁপে চলেছে সেই নেতিবাচক তরঙ্গমালা, ঢেউ তুলছে, আছড়াচ্ছে, ফেটে পড়তে চাইছে তাকে লক্ষ্য করে। আমার সন্তান ততক্ষণই ভাগ্যবান যতক্ষণ সে সেই বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে পারছে তার আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে। এক অশ্লীল অসাম্য এবং অন্যায় সামাজিক বিভেদরেখা— আমাদের সেই ট্যাক্সিটার জানলার কাঁচেরই মতো, যার একদিকে দূরদর্শনের পর্দায় দেখা বা খবরের কাগজে পড়া কিছু প্রান্তিক মানুষের দুর্দশার বিবরণ, যেন তারা অন্য কোনও সমাজের প্রাণী, যেন তাদের ওপর যা খুশি অনাচার অনিষ্ট ঘটতে পারে। আর বিভেদরেখার অন্যপ্রান্তে আর্থসামাজিক নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা আমার সন্তান। ভরা পেটে, নিরঙ্কুশ নিশ্চিন্ততায়। কিন্তু যদি কোনওদিন উল্টে যায় বিধির বিধান, উড়ে যায় ঘেরাটোপ, বিভাজনরেখা ভেঙে পড়ে উত্তাল কলরোলে, তা হলে কি মহা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে তারই অতি সামান্য নমুনা পার্কসার্কাসে আর গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে আমি উপলব্ধি করেছি মাত্র। স্বীয় সন্তানকে আইনের এবং আইনরক্ষকদের বেড়াজাল ব্যবহার করে নিরাপত্তা দানের অলীক চিন্তা তাই বাতুলতার নামান্তর। সাম্প্রতিক এক সরকারি সমীক্ষা [[১৬]] জানাচ্ছে ভারতবর্ষে প্রতি এক লক্ষ নাগরিক পিছু পুলিশের সংখ্যা মেরেকেটে একশত ছয় জন, পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা অনধিক পঁচাত্তর! প্রোটেকশন থ্রু সার্ভিলিয়েন্সের তত্ত্ব, এক্ষেত্রে, পাগলের প্রলাপ বই কিছু নয়।

অথচ ওরা-আমরার এই বিভাজনে, সামান্য মমত্ববোধ, আত্মসমীক্ষা, এবং সুষ্ঠ সমবণ্টনের প্রয়াস পাল্টে দিতে পারে শ্রেণিবৈষম্যভিত্তিক সামাজিক অপরাধ সংক্রান্ত চিত্রের অনেকটাই। কারণ মানবতাবোধ ফল্গু নদীর মতো বয়ে চলেছে আমরা-ওরা বিভাজনের উল্টোদিকে থাকা মানুষগুলির হৃদয়ে। এবং খুব সম্ভব মানবিকতার দিক থেকে ‘ওরা’, অনেকটাই এগিয়ে ‘আমাদের’ থেকে। মাত্রই গতবছরের ঘটনা স্মরণ করা যাক [[১৭]]। বোলপুর ও প্রান্তিক স্টেশনের মাঝে রেলের ট্র্যাক ফেটে যায় ২রা জানুয়ারি ২০১৭-তে। বর্ধমান-বারহারবা প্যাসেঞ্জার এবং আপ গণদেবতা এক্সপ্রেসের কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্রবেগে ছুটে যাওয়ার কথা লাইনের ওই অংশটির ওপর দিয়ে। এমতাবস্থায় লাইনের লাগোয়া সুরশ্রী পল্লীর রিকশাচালক বিষ্ণু তুড়ি’র নজরে পড়ে লাইনের ফাটল। দুই সুহৃদ, কলমিস্ত্রি প্রকাশ দাস এবং রাজমিস্ত্রির ভারা বাঁধার ঠিকে শ্রমিক সুব্রত বাগদিকে নিয়ে বিষ্ণুর দৌড় শুরু হয় লাইন ধরে, ধারালো পাথর মাড়িয়ে, গামছা রুমাল আর লাইনের পাশের বন থেকে ভেঙে নেওয়া গাছের ডাল নেড়ে নেড়ে উন্মত্তের মতো চিৎকার দিতে দিতে। ভাগ্যক্রমে বর্ধমান-বারহারবা প্যাসেঞ্জারের ড্রাইভারের নজরে পড়ে এই তিনমূর্তিকে। ট্রেন থামানো সম্ভব হয়। বেঁচে যায় বহু লোকের প্রাণ।

কী মূর্খ ওই তিনজন, কী ইম্প্র্যাক্টিক্যাল! সমাজ-রাষ্ট্র-মানবকল্যাণের উপকারে লাগার এত বিদগ্ধ উপায় থাকতে বিষ্ণু-প্রকাশ-সুব্রতরা খামোখা খালি পায়ে ধারালো পাথরের টুকরোর ওপর দিয়ে দৌড়োয় কেন শতাব্দীর পর শতাব্দী? বিদগ্ধ প্রজাতির এই এলিট চারণভূমিতে কল্যাণকামী পাণ্ডিত্য মানেই যে এনসাইক্লোপিডিয়ার ভারাবনত মস্তিষ্ক মাত্র— সেই সারসত্যটুকুও নিশ্চয়ই বুঝে উঠতে পারেনি ওই তিন হতভাগা। অশিক্ষিত, অমার্জিত, প্রান্তিক ছোটলোক হলে যেমন হয়ে থাকে— বুদ্ধিভ্রংশ ব্যাতীত তাদের এই ক্রিয়াকে আর কী বলেই বা ব্যাখ্যা করা যাবে আমাদের তরফ থেকে!

কিন্তু তবু, ভাবি, এই আমরা, সুবচন সুবচনী সুশীল নাগরিকগণ, এই পরিস্থিতিতে পড়লে ঠিক কী করতাম? লাইনের ওপর দিয়ে দৌড়োনো সাহসে কুলোত কি আমাদের? দমে?

আর হৃদয়ে? পাণ্ডিত্যপূর্ণ এলিট হৃদয় আমার, ডেকে বলত কি আমায়, এক ট্রেনভর্তি অচেনা লোককে ভালোবেসে তাদের প্রাণ বাঁচাতে ধারালো পাথর মাড়িয়ে মাড়িয়ে দৌড়োও? বলত কি?

গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে তাই মেয়ের হাত ধরে নিঃশব্দে বসে থাকি ট্যাক্সির ঝুঁঝকো আঁধারে। কে যেন এক কবি কবে যেন বলে গিয়েছিলেন— ‘এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।’ কিন্তু কোন শিশুর? জানলার কাচের এপারে আমার পাশে বসে থাকা শিশুর, নাকি কাচের ওপারে শূন্য করতল বাড়িয়ে থাকা শিশুর? এ সমাজকে এপারের শিশুর বাসযোগ্য করে তুলতে হলে, একইভাবে ওপারের শিশুর বাসযোগ্য করে তোলারও প্রয়োজন নয়কি? একটি অপরটির পরিপূরক নয় কি এই দুটি কাজ? এবং, সর্বোপরি, বিভাজনরেখার দুইধারের এই দুটি শিশু? তারাও কি পরিপূরক নয় একে অপরের?

বসে থাকি। বিষণ্ণ অন্ধকার মেখে। বহু শতাব্দীর জমা অন্ধকার। সহজে যাওয়ার নয়। আবক্ষ শ্বেতশ্মশ্রু শোভিত এক  বৃদ্ধ সার্ধশতবর্ষ পেরিয়ে এসে চেতনায় ধাক্কা দিয়ে যান :

ওরে ভাই, কার নিন্দা করো তুমি! মাথা করো নত।
আমার এ তোমার পাপ।

তথ্যপঞ্জী

[[১]] আনন্দবাজার পত্রিকা, ১০ই জানুয়ারি, ২০১৩।
[[২]] হিন্দুস্থান টাইমস (রাঁচি এবং জয়পুর এডিশন), ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৬।
[[৩]] আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৫ই নভেম্বর, ২০১২।
[[৪]] মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস প্রণীত মহাভারত। চতুর্দশ খণ্ড। শ্রীযুক্ত কালীপ্রসন্ন সিংহ মহোদয় কর্তৃক মূল সংস্কৃত থেকে বঙ্গানুবাদ। ২৬০তম পৃষ্ঠা। সারস্বতাশ্রম। ১৭৮৬ শকাব্দ।
[[৫]] ibid
[[৬]] শ্রী প্রতাপ চন্দ্র রায় এবং বাবু দুর্গাচরণ ব্যানার্জির উদ্যোগে, ভারত প্রেস, কলকাতা, থেকে ১৮৮৩ থেকে আরম্ভ করে ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ অব্দি এই সময়কাল ধরে প্রকাশিত।
[[৭]] অন্নদেবতা, বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
[[৮]] তৈত্তিরীয় উপনিষদ, দ্বিতীয় অধ্যায়।
[[৯]] ‘ইন্ডিয়ান কালচার, কন্টিন্যুইটি এন্ড ডিসকন্টিন্যুইটি : ইন মেমোরি অফ ওয়াল্টার রুবেন ১৮৯৯-১৯৮২’ — জোয়াকিম হেড্রীখ, হিল্ট্রুড রুস্তভ এবং ডিয়েথলেম ভিদেমান সম্পাদিত, বার্লিন, ত্রফো থেকে ২০০২ সালে প্রকাশিত।
[[১০]] ‘ভারতে বস্তুবাদ প্রসঙ্গে’ — দেবীপ্রসাদ চট্যোপাধ্যায়, প্রথম অনুষ্টুপ সংস্করণ, ডিসেম্বর, ১৯৯৩।
[[১১]] ছান্দোগ্য উপনিষদ, ষষ্ঠ অধ্যায়, সপ্তম খণ্ড।
[[১২]] ibid
[[১৩]] ibid
[[১৪]] ‘পভার্টি ইমপিডস কগনিটিভ ফাংশন’ — আনন্দী মানি, সেন্দিল মুলাইনাথন, এলডার শাফির এবং জিয়াইং ঝাও, সায়েন্স, ৩০শে অগাস্ট ২০১৩ সংখ্যা, ভলিউম ৩৪১, ইস্যু ৬১৪৯, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৯৭৬-৯৮০।
[[১৫]] NDTV, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ এবং ডেকান ক্রনিকল, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭।
[[১৬]] ডেটা অফ পুলিশ অর্গানাইজেশনস ইন ইন্ডিয়া অ্যাজ অন জানুয়ারি ১, ২০১৫, ব্যুরো অফ পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মিনিস্ট্রি অফ হোম অ্যাফেয়ার, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া, পাবলিশড বাই শ্রী এস এল পেশান, জয়েন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর, (স্ট্যাটিসটিক্স)।
[[১৭]] আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩রা জানুয়ারি, ২০১৭।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 952 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

2 Comments

  1. দুর্দান্ত লেখা। হিংস্র হয়ে ওঠার সাথে অন্ন, বেঁচে থাকবার রসদের যে যোগ তা তো কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এখানে প্রতিটি দৃষ্টান্ত করুণ হলেও বাস্তব, এবং সেটা এ অঞ্চল জুড়েই। কিন্তু এই মানুষদের কথা, যারা দুমুঠো অন্নের নিশ্চয়তা পাচ্ছেনা তাদের কথা কে ভাববে! রাষ্ট্র মূলত চাকচিক্যের বিজ্ঞাপন ছড়ায় এবং বিভিন্ন অজুহাতে এই হতদরিদ্র মানুষদের অস্বীকার করে।

  2. দারুণ ভাবে পাঠককে ভাবতে বাধ্য করার মতো লেখা। আছে আর নেই দু’দলের মাঝখানের বিভেদ রেখার দূরত্বে দাঁড়িয়ে যদি বিষয়টা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হই, তবে নিজেকে অপরাধী ভাবতে হবে সন্দেহ নাই। কারণ আমরা যারা, নেই’দের চেয়ে ভালো অবস্হানে আছি, তারা বড়বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ভাবতে ভালোবাসি, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’ সবহারাদের ভাবনা আমাদের তেমন একটা ভাবিত করে না। এমন একটা লেখার জন্য লেখককে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই।

1 Trackback / Pingback

  1. দ্বিতীয় বর্ষ, সপ্তম যাত্রা : অল্পবয়স, কল্পবয়স – ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*