মেকলীয় শিক্ষা— নবজাগরণ ও বাঙালি ভদ্রবিত্তের ঔপনিবেশিক চাকরি – কারিগরদের চোখে

বিশ্বেন্দু নন্দ

 

সম্পাদকমশাই শিক্ষা এবং তার সঙ্গে জুড়ে থাকা উৎপাদন ব্যবস্থা বিষয়ে আমাদের অর্থাৎ কারিগরদের মত জানতে চেয়েছিলেন। যে ভদ্রসমাজ শিক্ষা, পড়া, জ্ঞান এই শব্দগুলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তাদের সঙ্গে শিক্ষা বিষয়ে যে কোনও আলাপই বৃথা। যে শহুরে সমাজ গ্রামীণ জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার বলতে প্রাথমিকভাবে নিরক্ষরতা দূরীকরণের মত ঔপনিবেশিক প্রকল্প রচনা করে, সেই সমাজের সঙ্গে খুব বেশি আলোচনা করাটাই বেকার। যে ভদ্রসমাজ শিক্ষা, জ্ঞান বলতে উপনিবেশের শেখানো অক্ষরজ্ঞান বোঝে এবং কাটা কাটা উচ্চারণে অ-শি-ক্ষি-ত, নি-র-ক্ষ-র শব্দগুলি উচ্চারণ করে, সে সমাজের সঙ্গে শিক্ষা বিষয়ে কোনও রকম বিতর্কে যাওয়াই ঝঞ্ঝাটের, কারণ উপনিবেশের তৈরি করে দেওয়া যুক্তি-কাঠামোর বাইরে তার আর বেরোনোর সাধ্য নেই। সে ইওরোপবিদ্য ধারণাকেই ধ্রুব ধরে নিয়ে তুমুল বিতর্ক, কুতর্কে লিপ্ত হয়। যে সমাজ প্রযুক্তি বুঝতে শুধুমাত্র বিদ্যুৎচালিত প্রযুক্তি-ই বোঝে, যে সমাজ মনে করে ব্রিটিশ না এলে এই বাংলা উচ্ছন্নে যেত তার বোধবুদ্ধি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে আমাদের মনে। তবুও এ বিষয়ে কিছু কথা বলতে মন চাইছে, কিছুটা সম্পাদকমশাইয়ের নির্দেশে আর কিছুটা ছোটলোকেদের দৃষ্টিতে বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা চাকরি ইত্যাদি পাওয়ার চেষ্টাকে এবং তার প্রতিষেধক হিসেবে কারিগর অর্থনীতিকে আমরা কীভাবে দেখছি- সেটি অন্যদেরকে জানানো দরকার বলে মনে হয়েছে, তাই।

আমরা যারা শূদ্র-বৈশ্য-মুসলমান-আদিবাসী নির্ভর বাংলার কারিগরি উৎপাদন ব্যবস্থা জানা-বোঝা ও বোঝানোর ছাত্র, তারা এই ক্রমশ চাকরিবিহীন ঔপনিবেশিক মনমোহনী উন্নয়নের জাঁতাকলে পড়া প্রাথমিকভাবে চাকরিমুখী ভদ্রসমাজকে একবার একটা বিষয় ভেবে দেখতে অনুরোধ করব। মেকলের আগেই ব্রিটিশ উপনিবেশের লুঠের সাম্রাজ্য ব্যবস্থাপনার জন্যে যে ভদ্র ঔপনিবেশিক সমাজ-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছিল বাংলায়, লুঠ বজায় রাখার সেই চাকরি-ব্যবস্থাটি আজও কি সত্যিই একইরকম আছে? হ্যাঁ, লুঠ অবশ্যই বহাল আছে এবং লুঠের পরিমাণ দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যদিও লুঠের চরিত্র বদল হয়েছে । কিন্তু এই লুঠব্যবস্থা বজায় রাখার জন্যে আজ আর মধ্যবিত্ত ছানাপোনাকে বড় পুঁজির আগের মতো প্রয়োজন নেই। একটা ৫০০ কোটির কারখানা চালাতে আজকাল ৫০ জনও লাগে না। ব্যাঙ্কে করণিকের কেদারার সংখ্যা কমছে, টাকা দেওয়ার কাউন্টারের সংখ্যা কমছে। একজন নাম-কা-ওয়াস্তে ছোটলোক সমাজের নিরাপত্তারক্ষী নামক মানুষকে ঠুঁটো জগন্নাথ সাজিয়ে রেখে বা না রেখে, টাকা দেওয়া নেওয়ার যন্ত্রকে এখন রাস্তার মোড়ে নামিয়ে দিয়েছে বড় পুঁজি। ব্যাঙ্কে একদা জালে ঘেরা সুরক্ষিত টাকা দেওয়ার কাউন্টার অদৃশ্য – চাকরি দেওয়া তো দূরস্থান। তার জমা টাকাই এখন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে – তাকে বোঝানো হয়েছে টাকা তোলার নাকি এটাই সবচেয়ে ভাল রাস্তা। বিদেশে বড় থেকে ছোট গাড়ি মানুষ-চালকবিহীন হয়ে নিজেই রাস্তায় চলতেপারার মত অবস্থায় এসে গেছে। এমনকি মাত্র ৫০ বছর আগের ইন্দিরা গান্ধী ব্যাঙ্ক, কয়লা খনি, তেল কোম্পানি ইত্যাদি জাতীয়করণের মাধ্যমে মধ্যবিত্তপোষণ এবং কর্পোরেট লুণ্ঠনের ভিত্তিভূমি তৈরি করেছিলেন। এই ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়েই কর্পোরেটরা আজও লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা কর বকেয়া রাখে এবং যে বকেয়া সহজে মকুবও হয় প্রগতির দোহাই দিয়ে। একই সঙ্গে শিল্পপতি নামক লুঠেরারা ব্যাঙ্কের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা মেরে ইওরোপ আফ্রিকায় পালিয়ে যায় রাষ্ট্রপোষিত নানা রক্ষাকবচকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে। এই গোটা ব্যবস্থাটাই পরিচালিত হয় কর্পোরেটীয় ঔপনিবেশিক মেকলীয় শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তিতে – যার উদ্দেশ্য হল যেকোনও উপায়ে ইওরোপ-আমেরিকার অর্থনীতির সশক্তিকরণ।

এমতাবস্থায় ১৯৯২ পরবর্তী সময়ে কি মেকলীয় লুঠেরাদের সাহায্যকারী ভদ্রবিত্তের চাকরির দালালি ব্যবস্থার ক্রমান্বয়ে পতন ঘটছে না? ইউপিএ, এনডিএ উভয়েই বিশাল অর্থনৈতিক প্রগতির দাবি করে, কিন্তু কারও শাসনকালেই চাকরির পরিবেশ তৈরি হয় না, চাকরির বৃদ্ধি ঋণাত্মকসূচক হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ভদ্রবিত্ত, তাদের শিক্ষা-তাত্ত্বিক, তাদের শিক্ষা-ঐতিহাসিক, পেটোয়া সাংবাদিককুল এখনও ব্যস্ত (এবং প্রাণপণে আঁকড়ে পড়ে আছেন) মেকলীয় পড়াশোনার কাঠামো বিশ্লেষণে – খুব বেশি হলে তারা টুকটাক বাহ্যিক কিছু পরিবর্তনসাধনে তৎপর। আগেই বলা গিয়েছে, এটি মূলত বড় পুঁজি বিনিয়োগ নির্ভর এবং ইওরোপিয় লুঠেরা কর্পোরেট জ্ঞানচর্চা নির্ভর পড়াশোনার জগত, যার উদ্দেশ্য লুঠের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপক আর করণিক তৈরি করা। এই ব্যবস্থাপক বা ম্যানেজারদের কাজ নানা ছেঁদো প্রগতির যুক্তি সাজিয়ে ইওরোপ, আমেরিকার পুষ্টিসাধন এবং নিজের দেশে ইওরোপ আমেরিকার জীবনযাত্রার শেকড় যতটা গভীরে পারা যায় তার রোপন করা। ইওরোপিয়রা শিল্পায়নের (যাকে প্রগতিশীলেরা, সুশীলেরা, বামেরা শিল্পবিপ্লব বলতে ভালবাসেন) প্রথম দিন থেকেই নিজেদের দেশের চাষা আর পশুপালক আর কারিগরদের প্রায় বিনামূল্যের বিপুল বিশাল কারখানার শ্রমিক অর্থাৎ দাস বানিয়ে ফেলেছেন। প্রায় একই সঙ্গে শ্রম প্রতিস্থাপনের দিকে নজর দিয়েছে বড় পুঁজি। সে বিপুল শ্রমপ্রতিস্থাপনকারী যন্ত্র আবিষ্কার করেছে ও করে চলেছে। হাস্যকর হল, এই শ্রম প্রতিস্থাপনকে তারা বড় গলায় ‘প্রগতি’ আখ্যা দিয়েছে এবং আগামীদিনে এই শ্রম প্রতিস্থাপনের দিকে তারা আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে যন্ত্র চালাবার জন্যে মানুষই প্রায় আর লাগবে না। এটাও ঠিক যে ভদ্রবিত্তরা নিতান্তই অল্পাংশ ছোটলোক চাষা বা কারিগরদের গাঁইয়াদের একরোখা কিছু সন্তানকে মেকলীয় মগজধোলাই করে প্রশাসনিক স্তরে নিয়ে এসে চাষা আর কারিগর উচ্ছেদের কাজ করিয়ে নিতে পারেন। সেই দক্ষতা এই শিক্ষাব্যবস্থায় আছে এবং এ বাবদে এঁরা পূর্বতন ঔপনিবেশিক প্রভুদের চেয়েও এক কাঠি সরেস এবং উপযুক্ত। কিন্তু তাতেও বড় পুঁজির কত্তাদের মন ভিজছে না। ভদ্রবিত্তরা নিজেদের সন্তানসন্ততিদের প্রশাসনে পাঠিয়ে বড় পুঁজির পরিকল্পনায় চাষা-কারিগর-ছোটলোকেদের উচ্ছেদ করছেন, অন্যদিকে এঁদের সন্তানসন্ততিদেরই চাকরিবাকরি সমূলে উচ্ছেদ করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে কর্পোরেট-প্রণোদিত রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাই ভদ্রবিত্ত দাদারা ও দিদিরা, আপনারা একটু ভাবুন, বড় পুঁজির দালালি (কনসালট্যান্সি বললে হয়ত আরেকটু ভাল শোনায়) চাকরি-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে কি এবার নতুন করে একটু নাড়াচাড়া করা দরকার নেই?

কতগুলো ভাবনা এই প্রসঙ্গে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া দরকার :

১) আমরা কারিগর সংগঠনের পক্ষে অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গীতে বাংলার সামগ্রিক শিক্ষা বিষয়টা পর্যালোচনা করছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ছিল জ্ঞান, শ্রুতি, দক্ষতা আর স্থানীয় বাজার নির্ভর অপ্রাতিষ্ঠানিক, যাকে চোখে দেখা যায় না এমন এক শিক্ষাদান কাঠামো যা আজও বাংলায় টিকে আছে। এই দক্ষ জ্ঞানী পরম্পরার কারিগরদের বাজারটা বিশাল বড়। বাংলায় অন্তত ৫% পরম্পরার কারিগর আছেন, যারা অন্তত এক লক্ষ কোটি টাকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব বরাবরই অনেক বেশি, এবং প্রাধান্যের ছিল সেদিনও, আজও আছে। এ প্রসঙ্গে আপনাদের পড়তে অনুরোধ করব উইলিয়াম এডামের ১৮৩৬ সালের শিক্ষাসমীক্ষা, সেটি নিয়ে ধরমপালজী লিখেছিলেন ‘দ্য বিউটিফুল ট্রি’ নামক বই।

২) মনমোহনী অর্থনীতিতে কর্পোরেট আর রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রে চাকরির সুযোগ কমছে দ্রুত। পলাশীর পর বিস্তৃত লুঠের আবহে, লুঠ কাণ্ডের ছোট তরফ মধ্যবিত্তকে তৈরি করা হয়েছিল ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকা কোম্পানির উপমহাদেশীয় ব্যবসা সামলানোর জন্য। সেই কাঠামো নানা পরীক্ষানিরীক্ষা মারফত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল ইওরোপিয় সাম্রাজ্য মেকলের উদ্যমে দেশের ভদ্রবিত্তকে ইওরোপমন্যতার স্বপ্ন দেখিয়ে। আজ ইওরোপ নেই কিন্তু ছদ্মঔপনিবেশিকতা দিনের পর দিন শেকড় গাড়ছে ভদ্রবিত্তের মনে আর সমাজে। উপনিবেশ সময়ে সাম্রাজ্যের ব্যবসাবাণিজ্য, আদতে লুঠ সামলানোর জন্যে যে শেকড়বিহীন শিক্ষা পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল মুষ্টিমেয় মানুষকে সাহেবমন্য হবার স্বপ্ন দেখিয়ে, সেই মুষ্টিমেয় ভদ্রবিত্ত উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ চলে যাওয়ার পরেও সেই কাঠামো আরও গভীরভাবে টিকিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু যে ব্যপ্ত সুযোগ ছিল অতীতে এমনকি সাতের দশকেও, যখন রাষ্ট্রীয় উদ্যমে ব্যাঙ্ক এবং বেশ কিছু কোম্পানি রাষ্ট্রীয়করণের ভর্তুকি মারফত মধ্যবিত্ত পোষা হয়েছিল, সেই সুযোগ আজ আর বহাল আছে কি? সেটা ভাববেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সুযোগ হয়তো বাড়ছে – বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ছে – যেগুলোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য করণিক তৈরি করা। কিন্তু তার পরে সেই পাশ করে বেরোনো ছাত্রছাত্রীরা কী করবে? চাকরি কই?

৩) এ বাংলার সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতা চলে মুষ্টিমেয় স্নাতক আর স্নাতকোত্তরদের দিয়ে। বাংলায় ১০ কোটি জনসংখ্যার ২৫ লক্ষ শিশু প্রাথমিকে ভর্তি হয় প্রতি বছর। মাধ্যমিকে আসে এর অর্ধেকের আশেপাশে ১৩ লক্ষ। অর্থাৎ খসে গেল অর্ধেক ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক দিতে না দিতেই। উচ্চমাধ্যমিকে আরও পাঁচ লক্ষ খসে যায় – পরীক্ষা দেয় ৮ লক্ষ। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ খসে মাত্র ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীতে(উত্তীর্ণ নয়) এসে দাঁড়ায় স্নাতকস্তরে। যে পাঠ্যক্রম উপনিবেশ মেকলীয় নিদানে নানা প্রাতঃস্মরণীয় মনীষীদের জ্ঞানে গড়ে উঠেছে, আজ সেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকাঠামোয় প্রত্যেক বছর ২৪ লক্ষ ২০ হাজার খসে যাওয়া ছেলেমেয়ে ব্রাত্য হয়ে যায়। নাহ, সমাজগুরুদের এই অস্বস্তির প্রশ্ন করছি না যে, প্রত্যেক বছর শিক্ষাক্ষেত্র থেকে খসে যাওয়া ২৪ লক্ষ শিশু, বালক বালিকা, যুবক যুবতীরা কোথায় যায়- সে তথ্য তারা জানেন কি না। শুধু বলতে চাইছি এই মেকলীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভদ্রলোকী শিক্ষাব্যবস্থা আদতে তৈরি হয়েছে বড় পুঁজির লুঠ চালাতে হাতে গোণা কয়েক হাজার জীবিত ভদ্রলোকীয় স্নাতক নাটবল্টু তৈরি করার কাজে। ফি বছর উদ্বৃত্ত হয়ে খসে যাওয়া ২৪ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ছোটলোকেদের নিয়ে মাঝেমধ্যে আপনারা ভদ্রলোকেরা ভেবেছেন, কিন্তু ব্যবস্থার কাঠামো আমূল বদলানোর কথা ভাবেননি। মনে রাখবেন, খসে যাওয়াদের অধিকাংশই এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যতিরেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন। সংখ্যালঘিষ্ঠ ভদ্রবিত্ত ক্ষমতাভোগী ভর্তুকিভোগী আপনারা এই প্রাতিষ্ঠানিকতা ব্যতিরেকে প্রকৃত প্রস্তাবে জল ছাড়া মাছ।

৪) কারিগর উৎপাদন ব্যবস্থাসূত্রে বলতে পারি প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যালয়ছুট হয়ে বাংলার অধিকাংশ বৈশ্য-শূদ্র-মুসলমান ও আদিবাসী যুবকযুবতী চাকরি পাওয়ার আশা ত্যাগ করে কিন্তু অপ্রথাগত ক্ষেত্রে রোজগারের দিকে বেশি ঝোঁকেন। এঁদের বড় অংশ প্রথাগত শিক্ষা নিতে নিতে ছেড়ে দিয়েছেন। পরম্পরাগতভাবে এঁরা বাংলার কারিগর-হকার অর্থনীতির অংশ। বহুকালের গ্রাম উৎপাদন ব্যবস্থার স্বাধীন মানসিকতায় সবসময় পরাধীনতা খাপ খায় না। কারিগরি বা অপ্রথাগত শিক্ষা দক্ষতা আর জ্ঞান অর্জন করতে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় না। সামাজিক/পারিবারিক/গোষ্ঠিগত/গুরুগত জ্ঞান আর তার সঙ্গে জুড়ে থাকা দক্ষতা এঁরা শাকরেদগিরি করেই অর্জন করেন। তারপরেই ঝাঁপিয়ে পড়া যায় খোলা বাজার অর্থনীতিতে। না, আমি এখানে বড় পুঁজির ঘোমটা দেওয়া ছদ্ম-একচেটিয়া তথাকথিত খোলা বাজার অর্থনীতির কথা বলছি না। এই শিক্ষা নিতে বড় কোনও বিপুল বড় কাঠামোর প্রয়োজন হয় না – চার-ছয় ঘন্টার ক্লাসের জন্যে কোটি টাকা খরচ করে বিদ্যালয় নামক বিশাল পরিকাঠামো তাকে তৈরি করে ফেলে রাখতে হয় না বাকি ১৮ ঘন্টা। অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় দাতা আর গ্রহীতার মধ্যে বিন্দুমাত্র ব্যবধান তৈরি হয় না। শাকররেদ/চ্যালাকে স্বপ্ন দেখানো হয় না তাকে বড় কিছু জীবনে করতে হবে – অন্তত ইওরোপকে সেবা দেওয়ার জন্যে নিবেদিতপ্রাণ করা হয় না। এই শিক্ষা, কাঠামো নিরপেক্ষ। এমন এক কাঠামো যা থাকে কিন্তু তাকে দেখাও যায় না, অনুভবও করা যায় না।

৫) এই খোলামেলা সুযোগটা কিন্তু প্রথাগত শিক্ষা দেয় না। প্রথাগত শিক্ষায় পড়ুয়া যত ওপরের দিকের পড়াশোনা করতে থাকে, কয়েকজন হাতে গোনা শিক্ষার্থী বাদ দিয়ে অধিকাংশই পরনির্ভর হয়ে ওঠেন – কারণ তাকে এই বিপুল বিশাল অপচয়ী কাঠামো, শিক্ষার পাঠ্যক্রম সারা জীবন তাড়া করে নিয়ে বেড়ায়। এই কাঠামো সামাজিক গোষ্ঠীর বিনিয়োগে তৈরি হয় না, তাকে নির্ভর করতে হয়, হয় সরকারি না হয় কর্পোরেট বিনিয়োগের ওপরে।

৬) এই মেকলীয় ঔপনিবেশিক পাঠ্যব্যবস্থাটাই এমনভাবে তৈরি যে এটি কোনওভাবেই পড়ুয়াকে স্বনির্ভর হতে প্রণোদনা দেয় না – কারণ পড়ুয়া স্বনির্ভর হলেই, ভাবতে শিখলেই, দেশীয় বাজারের জোরের বাস্তবতা বুঝতে শিখলেই ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চিত্তির। শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যসূচী, শব্দ-বাক্য গঠন(চাষী মেথর ‘ভাই’, কিন্তু ডাক্তার ‘বাবু’, বাংলাকে অধমর্ণ বানানো লুঠেরা মেকলীয় যুগটি আধুনিক, কিন্তু বাংলাকে সোনার বাংলা বানানো নবাবী যুগ হল অন্ধকারাচ্ছন্ন ইসলামী, পালযুগ হিন্দু; মধ্যবিত্ত ধ্রুপদীতার বাইরে বাকি সব প্রান্তিক/ফোক, ইওরোপ মানেই আন্তর্জাতিক কিন্তু বাংলা আঞ্চলিক, কর্পোরেট কৃষি আধুনিক, কিন্তু জমিতে বিষপ্রয়োগ ছাড়া জৈব কৃষি প্রিমিটিভ ইত্যাদি ইত্যাদি), পড়ানোর দৃষ্টিভঙ্গী, উদ্দেশ্য কোনওটাই পড়ুয়ার বাজার, এলাকার বাজার উৎপাদন ব্যবস্থা, তার জ্ঞানচর্চা, তার জীবনযাত্রার এককণাও জানায় না, বরং একপ্রকার হীনমন্যতা জাগাতে সাহায্য করে। ভিলায়ের লৌহ-ইস্পাত শিল্প নিয়ে যে অকার্যকর কর্পোরেটীয় জ্ঞান অর্জন করে পড়ুয়া, কিন্তু তার নিজের বা পাশের এলাকার অসুর বা বিশ্বকর্মার বা কামারদের লোহা শিল্প নিয়ে কোনও জ্ঞানলাভ করে না সে। সে জানতেই পারে না বড় কারখানায় জং ছাড়া লোহা ইস্পাত বানানো যায় না, কিন্তু দেশীয় ধাতুবিদেরা অস্থায়ী চুল্লিতে অক্লেশে জং ছাড়া লোহা আজও বানায়। ভাল কাপড় আজও মিলে তৈরি হয় না যা বাংলার কারিগর আজও নিজে হাতে বানাতে পারেন। মেকলীয় পাঠ্যব্যবস্থায় তাকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে বলে দেওয়া হয় যে দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা অকার্যকর, প্রাচীন ও অনর্থনৈতিক। ফলে তাকে প্রথম থেকেই শেকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে দূর দ্বীপদেশের বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। সে বাজার তার অজানা – অথচ সে সেই বাজারে ঢুকতে উদগ্রীব, কারণ পাঠ্যক্রম সেভাবেই তার মগজধোলাই করেছে। সেই বড় পুঁজির চক্রব্যুহের বাজারে ঢুকতে তাকে জুতোর শুকতলা খইয়ে ফেলতে হয়।

৭) অথচ তথাকথিত অশিক্ষিতরা, বা স্থানীয়রা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্পোরেট বাজারের বাইরে, স্থানীয় বাজারগুলোতেই সোনা ফলাচ্ছেন। দিনাজপুরের বড় থেকে অত্যন্ত ছোট আকারের অধিকাংশ যানপরিবহন ব্যবস্থা মুসলমান পরিবারের দখলে, বংশপরম্পরাগতভাবে কারিগর মধুমঙ্গল মালাকার দাদার পুত্র ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়ছে কিন্তু শোলা কেটে কারিগরি উৎপাদনে সে সমান দক্ষ। সে এখনই মাসে দশ হাজার টাকা রোজগার করে।

৮) এই অপ্রথাগত অমেকলীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্যে ৯৬% মানুষের বাংলার গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থা ইওরোপের পাগান উৎপাদন ব্যবস্থার দশা প্রাপ্ত হয় নি। যে সব অধিকাংশ যুবকযুবতী তার জীবনের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন প্রথাগত পাঠব্যবস্থায় সফল হয় না, তারা গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থায় সহজেই ঢুকে পড়তে পারে সহজেই।

ফলে কেন এই শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রমুখী নয় সে আলোচনা আর বিশ্লেষণে না ঢুকে ওপর ওপর দেখার প্রবণতা আছে। শেষ বয়সে বিদ্যাসাগর মশাই বুঝেছিলেন এই পাঠ্যব্যবস্থা বাবু তৈরি করে – কিন্তু তখন আর তাঁর কিছু করার ছিল না, তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ সময় দিয়েছেন সাগরপারের সংখ্যালঘিষ্ঠ কিন্তু ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কর্পোরেটীয় ব্যবস্থার শেকড় ছড়াতে।

৯) আমরা কারিগরেরা যেহেতু একদা সোনার বাংলা গড়েছিলাম পাদশাহ, নবাব, রাজাদের সঙ্গে নিয়ে, আমরা এই অপ্রাতিষ্ঠনিক শিক্ষাব্যবস্থার একটু রকমফের করানোর চেষ্টায় আছি। ভাবনাচিন্তা চলছে, সুযোগ এলে জানানো যেতে পারে। এই এক্সক্লুসিভ মেকলীয় পড়াশোনার বাইরে কয়েক হাজার বছরের পরীক্ষিত ইনক্লুসিভ শিক্ষাব্যবস্থাতে ভদ্রদের অংশগ্রহন ১০০% সুনিশ্চিত করব আমরা।

১০) বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় যে কেন্দ্রীভূত কাঠামোয় চলে সেখানে শহুরে আনন্দবাজারী ইংরেজি শিক্ষিত ঔপনিবেশিক ইওরোপমন্য উচ্চবর্ণিক ভদ্রছানার বাইরে গাঁইয়াদের প্রবেশ দুষ্কর, যে জন্যে ২৫ লক্ষ প্রাথমিকে ভর্তি হলেও মাত্র ৮০ হাজার স্নাতক পরীক্ষায় বসে, স্নাতকোত্তরে কত বসে এবং কত পাস করে সে হিসেব কষা হয়নি। বাকিরা স্তরে স্তরে বিপুলাকারে খসে যায়। কেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন যারা শিক্ষা নিতে পেরেছেন আর যারা পারেননি তারাও – আমরা কারিগরেরা প্রতিদিন নিজেদেরকে প্রশ্ন করি আর শিখি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রণত হয়ে শিখি হকার আর কারিগরদের জ্ঞান, জীবন আর কর্মদক্ষতা থেকে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ব্যবস্থায় ছাত্রদের ঔপনিবেশিক পাঠের ছাঁকনিতে ছেঁটে ফেলে যে আনন্দবাজারী ইংরেজি শিক্ষিত ঔপনিবেশিক ইওরোপমন্য উচ্চবর্ণিক মাঠাদের পাওয়া যাচ্ছে, তারাই কি একমাত্র মেধাবী?

১১) অনেকেই চাইছেন/ভাবছেন এই ছেঁটে যাওয়া গাঁইয়াদের একাংশকে কারিগরি নির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ে আসতে। এমন কি ভারত সরকারও চাইছে, বাংলা সরকারও চাইছে। এটা করতে গেলে শুধু ঔপনিবেশিক পড়াশোনার কাঠামোর তাত্ত্বিক অবস্থান বিরোধিতা করলে হবে না অথবা পাঠ্যক্রমও বদল করলে হবে না, গোটা পাঠ ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রবিরোধিতা জরুরি। প্রাথমিকভাবে সংখ্যালঘিষ্ঠ বিদ্যুৎনির্ভর কারিগরি ব্যবস্থার পাশাপাশি বিদ্যুৎনিরপেক্ষ কারিগরিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেটা প্রায় নেই বললেই চলে। আমাদের কাছে বেশ কয়েকটা এনজিও এসেছিল যারা NSDCর পঞ্জীকৃত। তারা কোটি কোটি টাকা সাহায্য পায়। মূল উদ্দেশ্য গ্রামীণদের কর্পোরেট ব্যবস্থায় টেনে নিয়ে আসা। আমরা ওদের বোঝাতেই পারলাম না, যে ব্যবস্থা চাকরি ছাঁটাই করছে, সেই ব্যবস্থাই নতুন করে ঔপনিবেশিক মডেলে ভুঁয়া উদ্যম নিচ্ছে গাঁইয়াদের শিক্ষিত দারোয়ান ইত্যাদি হিসেবে তৈরি করতে। গ্রাম থেকে যাওয়া অধিকাংশ ‘শিক্ষিত’ কর্মপ্রার্থী কিছু দিন কাজ করেই ফিরে আসছে গ্রামে, তার শহরের জীবন আর মাইনেয় পোষাচ্ছে না। গোটা NSDCর প্রকল্প ব্যর্থ। কারণ গ্রামীণ কারিগরি নিয়ে তারা বিন্দুমাত্র উৎসাহী নয়। তারা ঔপনিবেশিকদের মতো চাকরি দিতে চায় – এমপ্লয়েবিলিটি প্রকল্প সফল করার বড় শর্ত। আমরা কারিগরেরা চাকরি চাই না – আমরা তো দক্ষ, আমরা তো আমাদের বাজারকেই বাঁচিয়ে রেখেছি, আমরা স্বনির্ভর – আমরা চাকরি করতে যাব কেন?

১২) এই কারিগরদের যদি বিদ্যালয় ব্যবস্থায় পেতে হয়, তাহলে বিদ্যালয়কে মানসিকভাবে সমস্ত ঔপনিবেশিক গুমোর ছেঁটে ফেলে যেতে হবে পড়ুয়ার কাছে। তবেই পড়ুয়া পড়তে পারবে – ছাত্রদের চারদিকের চারটে দেওয়াল হঠিয়ে দিতে হবে। গুরু/সমাজ/পরিবার ইত্যাদির কাছে সাকরেদি করে যে শিক্ষা-দক্ষতা অর্জন করল গাঁইয়া কারিগর, সে তাঁর দক্ষতার পরীক্ষা দেয় রোজ, তার ক্রেতার কাছে, সমাজের কাছে, স্থানীয় বাজারের কাছে। সে পাঠ নেয় সমাজ, পরিবার, গুরুর কাছে, তার মতো করে। সমাজ, গুরু তাকে সিলেবাস গিলিয়ে দেন না। এই যে মেকলিয় চাকরিজীবি তৈরি করা ঔপনিবেশিক কেন্দ্রীভূত পাঠব্যবস্থা গাঁইয়া কারিগরের জীবনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখে না। পাঠক্রমটা তৈরি হয়েছে কর্পোরেট বা রাষ্ট্রের কেন্দ্রবদ্ধতা মেনে নিয়ে বিদেশের কর্পোরেটদের জন্যে দালালি করানোর জন্য। এই কারিগরি পড়াশোনা সামাজিকভাবে উদ্যমী হতে উৎসাহ দেয় না। এগুলি না থাকলেও কোনও গাঁইয়ার অপ্রাতিষ্ঠনিক পড়াশোনা ব্যবস্থা ব্যর্থ হবে না। হাজার হাজার বছর ধরে তার মতো করে টিকে থাকবে গাঁইয়া অপ্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান দক্ষতা চর্চা নিয়ে। আর শহুরেদের জন্যে থাকবে বর্তমান ২৫০ বছরের লুঠেরা ইওরোপিয় ব্যবস্থা – যে ব্যবস্থা কাজ করে মূলত বিদেশের বাজার দখল করতে। আমরা টিকে থেকেছি কয়েক হাজার বছর। সেরিবা-সেরিবান প্রায় আড়াই হাজার বছরের গপ্পো। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বয়েস মাত্র আড়াইশো বছর। আপনারা, ভদ্রজনেরা, আগে আমাদের মতো অতদিন টিকুন।

আসুন আমরা নতুন করে ভেবে দেখি যে বাস্তব অবস্থায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি, যে চাকরিবিহীন উন্নয়নের অর্থনীতিতে আমরা প্রবেশ করেছি সেটাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগামীদিনে ছদ্ম-বেকার তৈরির অবস্থা তৈরি করব, না কি গ্রামীণ সত্যিকারের স্বনির্ভর মানুষ তৈরি করার কারিগরি অর্থনীতি আর শিক্ষাব্যবস্থার জন্যে ঝাঁপাব।

সমস্যা হল, আমরা ভদ্রবিত্তরা শুধু একটা অবস্থায় কন্ডিশনড হয়ে আছি। কারিগরি ব্যবস্থা বিলয় হবে কি হবে না এটা সময় বলবে। আমরা শুধু বলছি, আমরা হাজার হাজার বছর টিকে থেকেছি। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি আমরা টিকে থাকতে পারি। সে প্রমাণ/পরীক্ষা আজও কেন্দ্রীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে এবং তাকে টিকিয়ে রাখা শিক্ষাব্যবস্থাকে দিতে হয়নি। সময় বলবে সে টিকে থাকবে কি না।

শুধু ভাবতে বলব কোনও একদিন যদি এমন ব্যবস্থা তৈরি হয় যে ৫০ ক্রোশের বাইরে সেই অঞ্চলের উৎপাদন বিক্রি করা যাবে না দূষণ ইত্যাদির কারণে, তাহলেই রাষ্ট্রীয় মদতে কেন্দ্রীয় উৎপাদন ব্যবস্থা সম্বল করে বেঁচে থাকা সব কর্পোরেট গুমোর ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। আজ আমরা ভদ্ররা উচ্চপ্রযুক্তি হিসেবে যা ব্যবহার করছি তা রাষ্ট্রের সামরিক ভরতুকিতে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় চলে সামরিক ভর্তুকিতে কর্পোরেটদের জন্যে প্রযুক্তি বুদ্ধি বিকাশ করতে। সেই ভরতুকি যদি কোনও দিন উঠে যাওয়ার অবস্থা হয়, তাহলে ভদ্রদের কী অবস্থা হবে সেটা ভাবতে অনুরোধ করছি।

বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সমাজ এই অপ্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে জোরদার করছেন – শুধু কলকাতার পাড়ায় পাড়ায় অসংখ্য ছোট ছোট বিরিয়ানি দোকানের দিকে লক্ষ্য রাখুন – কীভাবে তারা প্রতিটা বাজার বুঝে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করে। ভাগাড় কাণ্ডের পরে আমরা অনেকেই ভেবেছিলাম তারা নেই হয়ে যাবেন। আজও তারা বহাল তবিয়তে আছেন। এই ভর্তুকিবিহীন কারিগরিটাই আমাদের বাংলার কারিগরদের জ্ঞান আর দক্ষতার জোর।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 952 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*