অ্যালিক পদমসি : বহু অনাথের নাথ, কতিপয় ‘নাথ’-এরও

প্রতীক বসু

 
লেখক বিজ্ঞাপনী সংস্থা লিনটাস কলকাতার প্রাক্তন কর্তা, এবং অ্যালিক পদমসির এককালীন সহকর্মী। মূল রচনাটি ইংরাজি ভাষায় লিখিত এবং বাংলা নিবন্ধটির শেষে লভ্য। অনুবাদ - চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম।

এ মাসের সতেরো তারিখে চলে গেলেন অ্যালিক। লোকে বলছে, বয়স হয়েছিল নব্বই। ‘লোকে বলছে’ বলছি, কারণ তাঁর বয়স সত্যিই নব্বই হয়েছিল, না সাতাশি, তা নিয়ে একটা বিতর্ক যাবার সময়েও রেখে গিয়েছেন চির বিতর্কপ্রিয় এই মানুষটি। এই ক’দিনে অসংখ্য স্তুতি রচিত হয়েছে তাঁর নামে। বিজ্ঞাপনের ঈশ্বর, কমিউনিকেশনের গুরু, ফিল্ম আর থিয়েটারব্যক্তিত্ব— বিশেষণের পরে বিশেষণ। বাকি নেই প্রায় কিছুই। আমার এই লেখায় এসব ছেড়ে আমি বরং একান্তই আমার দেখা অ্যালিককে স্মরণ করি।

অ্যালিকের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি সাত বছর, যার প্রথম চার অনেকটা নিরাপদ দূরত্বে থেকে— ১৬৬০ কিলোমিটার, উড়ে গেলে দু’ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিটের পথ— আর পরের তিন একেবারে বিপজ্জনক রকমের কাছাকাছি, মাত্র কয়েক গজের দূরত্বে, নরিম্যান পয়েন্টস্থিত এক্সপ্রেস টাওয়ার্সের বারো তলার কর্নার অফিস থেকে— যেখান অ্যালিক ছাড়াও অধিষ্ঠান করত তাঁর রোয়িং মেশিনটি— পায়ে হেঁটে যে দূরত্ব অতিক্রম করে আসতে অ্যালিকের সময় লাগত বিশ সেকেন্ড। অ্যালিকের কাছে সত্যিই যদি কোনও বিষয়ে আমি কৃতজ্ঞ হয়ে থাকি, তা হল একপ্রকার জবরদস্তি করে, বরখাস্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনার ঈঙ্গিত দিয়ে (নিজের কথা শোনাবার জন্য মিষ্টি করে বলার ধাত অ্যালিকের একেবারেই ছিল না, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নিয়মের কোনও ব্যত্যয় ঘটত না) কলকাতা থেকে আমাকে বম্বেতে বদলি হতে বাধ্য করা, তা-ও এমন শর্তে যা ওই সময়ে পুরস্কারের থেকে অনেক বেশি করে শাস্তি বলেই মনে হয়েছিল। আমাকে বাধ্য করার নেপথ্যে ছিল অ্যালিকের বদ্ধমূল ধারণা— বাঙালি কলকাতার আরাম ছেড়ে বাইরে গেলেই বেশি ভালো কাজ করে (এই কারণেই অ্যালিকের শাসনকালে লিনটাসের কলকাতা আপিসে আমার আগে কোনও বাঙালি কর্তা ছিল না)। এই অভাগা বাঙালির ক্ষেত্রেও, সুতরাং, এই নিয়মের কোনওরকম ব্যতিক্রম ঘটার কোনও সুযোগই রইল না। আমার স্ত্রী শমিতার ক্ষেত্রে দেখা গেল, ছবি আঁকাকে জীবিকা করার ওঁর যে ঐকান্তিক ইচ্ছে, বম্বে পাড়ি দেবার কয়েক মাসের মধ্যেই তা পূর্ণতা পেতে শুরু করল, এবং যশ ও অর্থ দুয়েরই মুখ দেখা গেল অচিরেই। কলকাতা ছেড়ে বম্বে গিয়ে এক বছরের বেশি টিকতে পারব না— এ হেন সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীকে নস্যাৎ করে দিয়ে আমরা বম্বেতে বাসা বাঁধালাম, দীর্ঘ উনিশ বছরের জন্য।

অ্যালিকের ছিল অন্তর্দৃষ্টি। মানুষকে শুধু ক্রেতা বা খদ্দের হিসাবে নয়, মানুষ হিসাবে দেখতেও তিনি জানতেন। প্রথম জ্ঞানের ফসল তাঁর সৃষ্টি করা যুগান্তকারী কিছু বিজ্ঞাপন। আর দ্বিতীয় জ্ঞান তাঁকে দিয়েছিল— কার ‘হবে’ এক লহমায় তা বুঝে নেবার ক্ষমতা, এবং তার সেই প্রতিভাকে সযত্নে লালন করে বিকশিত হতে সাহায্য করা। ইউটিউবে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে কবীর বেদী বলছেন, বিজ্ঞাপনে ব্রেক পাওয়া থেকে আরম্ভ করে কী থিয়েটার, কী ফিল্ম, তাঁর সমস্ত পেশাগত সাফল্যের জন্য তিনি অ্যালিকের কাছে কৃতজ্ঞ। এমন বহু কপিরাইটার, ফিল্মডিরেক্টর, মডেল, অভিনেতা, লেখক অ্যালিক আমাদের দিয়ে গেছেন। মানুষের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার বৈভবটুকু চিনে নেবার এমন সহজাত ক্ষমতা তাঁর ছিল। আর কারও মধ্যে একবার সেই প্রতিভার আঁচটুকু পেলে তাকে সহযোগিতা, ভর্ৎসনা, দাবি, চিৎকার, তুলোধোনা ইত্যাদি নানাবিধ সোজা ও বাঁকা পথ চালিয়ে তার সেরাটুকু বের করে আনতে তিনি জানতেন। পুরো ব্যাপারটা প্রায় যন্ত্রণাদায়ক দন্ত উত্পাটনের সঙ্গে তুলনীয় ছিল বলা যেতে পারে। ভিতরে সারবস্তু আছে, এমন সৃষ্টিশীল মানুষদের জন্য অ্যালিকের কাছে সময়ের অন্ত ছিল না, কিন্তু বোকাদের তিনি মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না। নিজেদের চালাক প্রতিপন্ন করতে চায়, বা যা-নয়-তাই দেখাতে চায়, এমন লোক ছিল অ্যালিকের দু’চক্ষের বিষ। এমন মানুষ সামনে পেলে অ্যালিক এমন নৃশংস আর প্রতিশোধস্পৃহ হয়ে উঠতেন, যেন ওল্ড টেস্টামেন্টের পাতা থেকে উঠে আসা কোনও দেবতা।

অফিসে অ্যালিক থাকতেন যাকে বলা চলে একেবারে চড়া অ্যাড্রেনালিনের প্রকোপে। পরের পর মিটিং ডাকা এবং তাতে অংশ নেওয়া— বা বলা ভালো সেগুলোতে আধিপত্য চালানো, ক্রিয়েটিভ ব্রেনস্টর্মিং সেশন চালানো, প্রিয় ক্লায়েন্টদের মোহিত করে রাখা, অফিসের নানান জায়গায় বা ঘরে ঢুঁ মারা— যেখানে আপনি ওঁর উপস্থিতি মোটেও আশঙ্কা করেননি। এছাড়াও সাফসুতরো ঠিকমতন হচ্ছে কি না, বা যে ছবিটা উনি যেভাবে বাঁধাতে বলেছিলেন সেই ছবিটা ঠিক ঠিক সেইভাবেই বাঁধিয়ে টাঙানো হয়েছে কিনা সে-বিষয়ে ছানবিন করা, এরকমই ছিলেন অফিসের অ্যালিক। কিন্তু ছুটির ঘণ্টা পড়লে এই অ্যালিক একেবারে অন্য মানুষ। এই অন্য অ্যালিক আরও বেশি অন্যরকম লাগতেন কলকাতায় এসে, যে আসা ঘটত প্রতি কোয়ার্টারে অন্তত একবার। এ-শহরে সাধারণত দু’টি সন্ধ্যা বরাদ্দ থাকত তাঁর। প্রথম সন্ধ্যা থাকত শেখর চ্যাটার্জি, উৎপল দত্ত বা বাদল সরকারের মতন থিয়েটারি বন্ধুদের, আর কিছু ঘনিষ্ঠ স্থানীয় সাংবাদিকদের (আমার সময়ে এম জে আকবর), বা আমার চেনাজানা যে কোনও ছবি-আঁকিয়ে, কবি বা লেখক যাকে স্বল্প নোটিসে পাওয়া যাবে এবং যার বাড়িতে গেলে বাড়ির রান্না খাওয়া যাবে এমন লোকেদের জন্য। (টাকা খরচের ব্যাপারে অ্যালিকের, যাকে বলা চলে একেবারে শাইলকীয় খ্যাতি ছিল। ওঁর বাড়ি ‘ক্রিসমাস ইভ’-এ ক্রিসমাস ইভের ‘ভেলপুরি অ্যান্ড বিয়ার’ ডিনারের মেনুতে একটুও অতিকথন থাকত না। বাস্তবিকই তাতে থাকত ভেলপুরি আর বিয়ার, সঙ্গে রাত বারোটার ঘণ্টা পড়লে ক্রিসমাস ক্যারল)। সমকালীন শিল্প, থিয়েটার, ফিল্ম বা অ্যালিকের তৎকালীন ভালোলাগা যা কিছু নিয়ে সেই আড্ডা চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা, মনের বল-ও-পুষ্টিদায়ক, মনকে প্রসারিত করে দেওয়া সেই আড্ডা যার পরতে পরতে থাকত অ্যালিকের বেপরোয়া আর তীক্ষ্ণ কৌতুক। দ্বিতীয় সন্ধ্যাটা থাকত অফিসের লোকজনের জন্য। অ্যালিকের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— এই সময়ে কোনও কাজের আলোচনা চলবে না। এই দ্বিতীয় সন্ধ্যায় অ্যালিক থাকতেন একদম রগড়ের মেজাজে, লিনটাস কলকাতা অফিসের তরুণ মগজগুলিতে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতেন যে কাজ করার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা ভূভারতে নেই। তেমন জায়গা সত্যিই ছিল না।

অ্যালিক বিশ্বাস করতেন যে খুঁটিনাটি বিষয়ে মন না দিলে সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে ভয়ানক উৎপাত। এই বিশ্বাস বা সংস্কার তাঁকে বানিয়েছিল উষ্মা উদ্রেক করার মতন অতিসতর্ক। যেখানেই যেতেন, সঙ্গী থাকত একটা ছোট হলদে নোটপ্যাড। কাঠি-কাঠি সরু-সরু অপাঠ্য হস্তাক্ষরে তাতে তিনি লিখে রাখতেন কাকে কী মনে করাতে হবে। পাঠক যদি ভেবে থাকেন এই নোট তিনি নিজের জন্য করতেন, তবে আপনি অংশত সঠিক। কারণ দিনের শেষে এই প্যাডের থেকে প্রাসঙ্গিক পাতাটি পৌঁছে যাবে আপনার টেবলে। তাতে যোগ করা থাকবে কোনও অসতর্ক মুহূর্তে আপনারই বলে ফেলা ডেলিভারি ডেট। এরপর ওই কাজের হালহকিকত জানতে প্রতি সকালে আপনার কাছে ফোন আসবে, হয় অ্যালিকের নয় তাঁর সেক্রেটারি ললিতার, একেবারে তালে বাঁধা, যতক্ষণ না সেই কাজের পরিণামে তুষ্ট হয়ে নিজের তালিকায় সেই কাজের পাশে ঢ্যাঁড়া বসাচ্ছেন অ্যালিক স্বয়ং। যতক্ষণ না সেই ঢ্যাঁড়া পড়ছে, অথবা আপনি ফসকে ফেলেছেন দু’টি ডেলিভারি ডেট, পরের অ্যাপ্রেইসাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকাই আপনার পক্ষে স্বাভাবিক কর্ম বলে বিবেচিত হবে। মানুষের মনে রাখার ক্ষমতার প্রতি ওঁরছিল একান্ত তাচ্ছিল্য এবং সমস্ত কিছু লিখে রাখা নিয়ে নিতান্ত শাস্ত্রজ্ঞসদৃশ গোঁ। কেউ এর অন্যথা করলে কপালে জুটত যথেচ্ছ গঞ্জনা। এইখানে স্বীকার করে রাখি, যে এই সুঅভ্যাসটি গড়ে ওঠার সুফল দীর্ঘদিন ভোগ করেছি। আজকালের ফোন অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন এসবেরই উত্তরসূরি।

বিজ্ঞাপনের ভগবান, কমিউনিকেশনসের গুরু, অসামান্য শোম্যান, প্রবাদপ্রতিম সেলসম্যান, থিয়েটারতারকা— এইসবই সত্যি। তবু এই সবকিছু ছাপিয়ে অ্যালিকের যে পরিচয় আমি মনে রাখি, তা একজন জীবন-বিশেষজ্ঞের। যে মানুষেরা তাঁর সান্নিধ্যে এসেছে, তাদের পথপ্রদর্শক আর প্রশিক্ষক হিসাবে তাদের জীবনকে বদলে দেবার একজন অতিসক্রিয় অনুঘটক ছিলেন আমার অ্যালিক পদমসি।

 

Alyque Padamsee : The God of Small Things and Some Large Ones

Pratik Basu is a former head of Lintas Kolkata. He has worked with Alyque Padamsee. 

Since his passing on November 17, 2018 at the alleged age of 90 – and I say ‘alleged’with deliberate intent because, even in repose, Alyque Padamsee had to be his typical, unpredictable self, his actual age either 87 or 90, whichever be your best guess – innumerable paeans have been written about him – Alyque, the advertising god, the communications guru, the film and theatre personality–and, though they bear repetition, I would rather remember him from a more personal perspective.

I had the privilege of working for him for seven years, four of them at the relatively safe flying distance of 1660 km., or 2 hours 35 minutes, and three in rather closer and significantly more dangerous proximity, just yards, or, with his long strides, a 20-second walk,from the corner office he co-occupied with a rowing machine on the 12th floor of Express Towers, Nariman Point, Bombay. And if there’s one thing that I am truly thankful to Alyque for,it is for insisting, under an unsaid but palpable threat of dismissal (Alyque was never one to sweeten the pill when he was determined to have his way, which was more often than not), that I transfer to Bombay, albeit on terms that, at the time, seemed more punishment than reward. His insight: a Bengali is much better at his job outside the comfort zone of Calcutta, (which was why, during his reign, no Bengali had headed the Lintas Calcutta office before me). And so, it was for this Bengali, too. As it was for my wife, Samita, who found opportunities to pursue her calling as a painter,as well as both recognition and commercial success, within months of arriving in Bombay. So, contrary to all astrological predictions that our relocation would last no longer than a year, we stayed for 19.

Alyque had keen insights not just about people, as consumers, but people, as people. The first helped him create iconic advertising campaigns. The second, to spot and nurture talent. As Kabir Bedi says in an interview on YouTube, he owed his break in advertising, theatre and films – in fact, his entire career – to Alyque. As, indeed,did many others – copywriters, film makers, models, actors, authors – such was Alyque’s innate ability to spot creative potential and having once discovered it, coax it out of you by methods both fair and foul, encouraging, supporting, demanding, berating, yelling, screaming, pressuring until what he thought you were truly capable of was literally pulled out of you, like a painful tooth extraction.Though Alyque had all the timein the world for inherently creative people, he did not sufferfools- by his exacting standards – gladly, if at all, particularly, those who acted smarter than they really were or pretended to be someone they were not. Then, he could be as ruthless and avenging as anyGod out of the Old Testament Book.

In office, Alyque was on a perpetual adrenaline high, calling back-to-back meetings, participating in, if not dominating, creative brainstorming sessions, charming clients that were special to him, rushing into rooms and places where you’d least expect him to be to surprise check housekeeping standards or whether the picture he’d wanted framed just-so had actuallybeen framed just-so.After office hours, however, he was a completely different person, moreso when he visited Calcutta once a quarter. Of the two evenings he normally spent in the city, he rigorously kept one for his old theatre friends – Shekhar Chatterjee, Utpal Dutta, Badal Sarkar, to name a few – some local journalists he was close to (during my time, M.J. Akbar) and any artists, poets or writers that I had acquaintance with or could get hold of at short notice for a home-cooked meal. (Alyque was an absolute Shylock when it came to spending money, his annual “Bhelpuri and Beer” Christmas Eve dinners at Christmas Eve, as his building was named, was literally that – bhelpuri and beer plus Christmas carols at the stroke of midnight). Then,would followmany hours of invigorating, mind-expanding, thought-provoking discussionon contemporary art, theatre, film and anything else that might have recently caught his fancy, underlined by Alyque’s irreverent and often cutting humour. The second of the two evenings was for office employees, when, as a rigorous diktat, no work was ever discussed and Alyque was at his funniest best, reinforcingin the young minds of Lintas Calcutta that there was no finer place to work in, as indeed, there was not.

Though Alyque was a god of many things, he held thefirm belief that the devil lurked in the details. This made him meticulous to a fault. Wherever he went, a small yellow pad accompanied him in which he would jot reminders, in a spidery, often indecipherable, hand. If you thought they were for himself, you were only partly correct. At the end of the day, a copy of the relevant page would be on your table with delivery dates you had committed to and, thereafter, every morning there would be a call from him, or his secretary, Lalitha, enquiring about progress, with metronomic regularity, till the item was finally checked off the page to Alyque’s satisfaction. If it wasn’t, or you missed two successive delivery dates, you could rest uneasy that your annual appraisal wouldn’t go too kindly. His total disregard for one’s capacity to remember and his almost evangelical insistence that everything had to be written down was bound to rub-off on the recipients of his wrath,when they were not. It is a learning that I must admit has stood me in good stead and great advantage on several occasions in the years subsequent to my first inculcating the discipline from him. Phone alerts and notifications are a modern-day variation on the same theme.

Advertising god, yes. Communications guru, yes. Showman extraordinaire, yes. Salesman par excellence, yes. Theatre dynamo, yes. But, above all, Alyque was a Life consultant, a change agent for the people who were privileged to have had him as a guide and mentor.

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 952 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*