ক্যাপ্টেন দুপুরে ভাত খেতে গেছে আর নাবিকেরা দখল নিয়েছে জাহাজের — অন্তিম পর্ব

লেখক

চার্লস বুকাওস্কি

 

অনুবাদ : শুভঙ্কর দাশ

ষোড়শ পর্বের পর

 

২/২১/৯৩
রাত ১২ টা ৩৩ মিনিট

বৃষ্টির ভেতর আজ ঘোড়দৌড়ের মাঠে গেছিলাম আর দেখলাম সর্বসম্মতিক্রমে পছন্দের ৭টা ঘোড়াকে জিততে ৯টা রেসের ভেতর। যখন এটা ঘটে তখন আমার পক্ষে কিছু করে ওঠা সম্ভব হয় না। আমি শুধু দেখি মাথার ভেতরে ঘণ্টাগুলোকে ধাক্কে ঢুকে যেতে আর দেখি জনতাকে তাদের রেসের ফর্ম পড়তে, খবরের কাগজ পড়তে আর রেসের খবরাখবর সংক্রান্ত কাগজ পড়তে। অনেকেই আগেভাগে চলে গেছে, এস্কালেটর চড়ে নিচে নেমে বেরিয়ে গেছে। (যখন এটা আমি লিখছি শুনতে পাচ্ছি বাইরে বন্দুকের আওয়াজ, জীবন আবার ফিরে এসেছে তার স্বাভাবিকতায়।) ৪ বা ৫টা রেসের পর আমি ক্লাবহাউস থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে গেলাম। একটা তফাৎ নজরে পড়ল। সাদা চামড়ার লোকজন কম এখানে, তাই তো হবে, অনেক বেশি গরীব মানুষেরা এখানে। ওখানে আমি একজন সংখ্যালঘু। চলে ফিরে বেড়ালাম কিছুক্ষণ আর টের পেলাম একটা মরিয়া ভাব আকাশে-বাতাসে। এরা হল দু ডলার বাজি ধরার লোকজন। এরা কেউই পছন্দের ঘোড়াগুলোর উপর বাজি ধরেনি। তারা সেইসব ঘোড়ার উপর বাজি ধরেছে যা তাদের কম টাকার বাজিতে অনেক টাকা এনে দেবে আর তারা এখন ডুবতে বসেছে। ডুবে যাচ্ছে বৃষ্টিতে। ওখানে ব্যাপারটা বড় ভয়ানক। আমার একটা নতুন হবি চাই।

ঘোড়দৌড়ের মাঠ অনেক পালটে গেছে। চল্লিশ বছর আগে ওখানে কিছুটা আনন্দ ছিল, এমনকি যারা হেরে গেছে তাদের ভেতরেও। মদের সরাইখানা লোকজনে ভরতি থাকত। এ জনতা ছিল অন্যরকম, অন্য একটা শহর, অন্য একটা পৃথিবী। ফোটাবার মতো টাকা ছিল না, টাকার নিকুচি করেছে ব্যাপারটাও ছিল না, ছিল না কাল ফের আসব টাকা নিয়ে এ কথাও। এটা ছিল পৃথিবীর শেষ। পুরনো জামাকাপড়, কুঁচকানো তিক্ত মুখ সব। বাড়ি ভাড়ার টাকা। ঘণ্টায় ৫ ডলার কামানোর টাকা। বেকারদের টাকা, বেআইনি অভিবাসীদের টাকা। ছোটখাট চোরদের টাকা, সিঁধেল চোরদের টাকা, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিতদের টাকা। বাতাস ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর লাইন পড়ত লম্বা। গরিবদের ওরা অপেক্ষা করাত লম্বা লাইনে। গরিবরা অভ্যস্ত ছিল এই লম্বা লাইনে। আর ওরা দাঁড়িয়ে থাকত এই লাইনে ওদের সামান্য স্বপ্নগুলো চুরমার করার জন্য।

এটা ছিল হলিউড পার্ক, কালো মানুষদের এলাকায়, কেন্দ্রীয় আমেরিকানদের জেলায় আর অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বসবাস।

আমি আবার ফিরে এলাম উপরে ক্লাবহাউসে, ছোট লাইনগুলোয়। লাইনে দাড়ালাম, দ্বিতীয় পছন্দের উপর ২০ ডলার বাজি ধরলাম।

‘কখন করবেন আপনি?’ ক্লার্কটি জিজ্ঞাসা করল।

‘কী করব?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

‘টিকিটগুলো ভাঙাবেন কখন?’

‘যে কোনওদিন’, আমি বললাম তাকে।

আমি ঘুরে বেরিয়ে এলাম। আমি শুনতে পেলাম সে আরও কিছু বলছে। সাদাচুলো একটা বেঁকে যাওয়া বুড়ো। একটা খারাপ দিন যাচ্ছে ওর। এই ক্লার্কগুলো অনেকেই বাজি ধরে। প্রতিবার বাজি ধরবার সময় আমি একজন নতুন ক্লার্কের কাছে যাই। আমি ভাব করতে চাই না ওদের সঙ্গে। গাণ্ডুটা বেলাইনে খেলছে। বাজি ধরার টাকা আমি নেব কিনা তা ওর দেখার বিষয় নয়। ক্লার্কগুলো আপনার সাথে সাথে চলে যখন আপনি জিতছেন। তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করে, ‘ঊনি কোন ঘোড়ার উপর বাজি ধরবেন?’ কিন্তু ওদের সাথে ঠান্ডা ব্যবহার করুন ওরা রেগে যাবে। ওদের চিন্তাটা নিজেদের করা উচিৎ। আমি ওখানে রোজ যাই বলেই যে আমি একজন প্রফেশনাল জুয়াড়ি ব্যাপারটা তো তা নয়। আমি একজন প্রফেশনাল লেখক। কখনও কখনও।

আমি হাঁটছিলাম আর দেখলাম একটা বাচ্চাকে আমার দিকে ছুটে আসতে। আমি জানতাম ব্যাপারটা কী। ও আমার রাস্তা আঁটকে দাড়াল।

‘মাফ করবেন’, সে বলল। ‘আপনি কি চার্লস বুকাওস্কি?’

‘চার্লস ডারউইন’, আমি বললাম, তারপর তাকে কাটিয়ে বেরিয়ে গেলাম।

আমি শুনতে চাইছিলাম না, ওর কোনও বক্তব্য।

আমি ঘোড়দৌড় দেখছিলাম আর আমার ঘোড়াটা দ্বিতীয় হল, আরও একটা পছন্দের ঘোড়া ওকে হারাল। মাঝে মাঝে বা কাদা মাঠে অনেক বেশি জেতে পছন্দের ঘোড়ারা। আমি এর কারণ জানি না কিন্তু এটা ঘটে। আমি ঘোড়দৌড়ের মাঠ থেকে কেটে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি চলে এলাম।

বাড়ি ফিরে লিন্ডাকে ভালোবাসা জানালাম। মেল চেক করলাম।

অক্সফোর্ড আমেরিকান থেকে লেখা প্রত্যাখ্যানের চিঠি এসেছে। আমি কবিতাগুলো পড়লাম। খারাপ নয়, ভালো, কিন্তু ব্যতিক্রমী নয়। একটা হেরে যাওয়ার দিন। কিন্তু আমি এখনও বেঁচে আছি। প্রায় ২০০০ সাল এখন আর আমি এখনও বেঁচে আছি, তার মানে যাই হোক না কেন।

আমরা খেতে গেলাম একটা মেক্সিকান খাবার রেস্টুরেন্টে। সে রাতের লড়াই নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা। চাভেজ আর হগিন মেক্সিকো শহরে লড়বে ১৩০,০০০ জন লোকের সামনে। হগিনের কোনও চান্স আছে বলে আমার মনে হল না। ওর সাহস আছে কিন্তু ঘুষির জোর নেই, নড়াচড়া করতে পারে না আর ওর ভালো সময়ের থেকে ও এগিয়ে গেছে বছর তিনেক। চাভেজ কোন রাউন্ডে জিতবে তা ঠিক করতে পারবে।

সে রাতে যা ঘটার কথা তাই হল। দুটো রাউন্ডের মাঝের সময়টা চাভেজ বসলও না। ও আদৌ হাঁফিয়ে যাচ্ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল পরিষ্কার জাস্ট একটা নৃশংস ঘটনা। গায়ে যে ঘুষিগুলো চাভেজ মারছিল তা দেখে আমি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছিলাম। একটা হাতুড়ি দিয়ে যেন কেউ মারছে একটা মানুষের পাঁজরে।

‘বেশ, যা আমরা দেখতে চাইছিলাম তাই ঘটে গেল আরকি’, লিন্ডাকে বললাম আমি।

টিভি নেভানো।

আগামীকাল জাপানিরা আসবে আমার সাক্ষাৎকার নিতে। আমার একটা বই জাপানিতে অনুবাদ হয়েছে আর একটা হওয়ার কথা চলছে। ওদের আমি কী বলব? ঘোড়া নিয়ে বলব? গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের অন্ধকারে জীবনের দম আটকানোর কথা? হয়ত ওরা প্রশ্ন করবে শুধু। ওদের করা উচিৎ। আমি তো একজন লেখক, তাই না? কী অদ্ভুত সবাইকেই কিছু একটা হতে হয়, তাই না? গৃহহারা, বিখ্যাত, হোমো, পাগল, কিছু একটা। আর যদি ওরা কখনও ৭টা পছন্দের ঘোড়াকে দৌড় করায় ৯টা ঘোড়ার ভেতর আমি অন্য কিছু করা শুরু করব। জগিং। বা মিউজিয়ামে যাব। বা আঙুল দিয়ে পেইন্টিং করব। বা দাবা খেলব। মানে আমি বলতে চাইছি বাঁড়া ওটাও এক ধরনের বোকা বোকা ব্যাপার।

 

২/২৭/৯৩
রাত ১২ টা ৫৬ মিনিট

ক্যাপ্টেন দুপুরে ভাত খেতে গেছে আর নাবিকেরা দখল নিয়েছে জাহাজের।

কেন যে এত কম মজাদার লোক চারিদিকে? লক্ষ লক্ষ লোকের মধ্যে কয়েকজনও নেই কেন? আমাদের কি এভাবেই এই একঘেয়ে আর খারাপ প্রজাতি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে? মনে হয় তারা একটাই কাজ পারে আর তা হল ভায়োলেন্স। এত ভালোভাবে ওটা করতে পারে এরা। সত্যি এটাতে ওদের প্রতিভা ফেটে বেরোয়। গোলমালটা হল আমাকে এদের সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে হবেই। মানে আমি যদি চাই বাড়িতে ইলেকট্রিক থাকুক, যদি চাই এই কম্পিউটারটাকে সারাতে, যদি টয়লেটে ফ্লাশ কাজ করুক, যদি একটা নতুন টায়ার কিনতে চাই বা একটা দাঁত তুলতে চাই, আমার পেটে অপারেশন করাতে চাই, আমাকে এদের সাথে সম্পর্ক রাখতেই হবে। ওই বাঞ্চতদের আমার দরকার আমার ছোট ছোট প্রয়োজনে, যদিও ওদের দেখে আমার ঘেন্না উদ্রেক হয়। আর ঘেন্না শব্দটাও খুবই দয়ালু শব্দ বলতে হবে।

কিন্তু ওরা ওদের ব্যর্থতা দিয়ে আমার চেতনার প্রধান জায়গায় দাবড়ে বেড়ায়। যেমন ধরুন, প্রতিদিন যখন আমি গাড়ি চালিয়ে রেসের মাঠে যাচ্ছি আমি রেডিওতে বিভিন্ন স্টেশন লাগাতে চেষ্টা করি, খুঁজে বেড়াই মিউজিক, ভদ্রসভ্য মিউজিক। সব বাজে, ফ্ল্যাট, মৃত, বেসুরো, অবসন্ন। তবু এই মিউজিকই কিছু কিছু বিক্রি হয় লক্ষ লক্ষ আর এই মিউজিক যারা তৈরি করেছে তারা নিজেদের সত্যিকারের আর্টিস্ট ভাবে। এটা ভয়ানক, এইসব আবোতাবোল মিউজিক গিয়ে ঢুকছে তরুণদের মাথায়। এটা ভালো লাগছে তাদের। হে ভগবান, ওদের গু দাও, ওরা তাই খেয়ে নেবে। ওরা কি উপলব্ধি করতে পারে না? ওরা কি শুনতে পায় না? ওরা কি টের পায় না এইসব জল মারা মাল, এইসব পচা ভেটকে যাওয়া ব্যাপারস্যাপার?

আমি মনে করি না কিছুই নেই। আমি সমানে ঘুরিয়ে চলি নতুন নতুন স্টেশন। আমার এই গাড়িটা বছর খানেকও হয়নি আমি নিয়েছি যে সুইচটা আমি টিপি তার কালো রং উঠে গেছে একেবারে। ওটা সাদা হয়ে গেছে, আইভরির মতো যা আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকে।

হ্যাঁ, ক্ল্যাসিকাল মিউজিক আছে। আমাকে শেষমেশ তাকেই আঁকড়ে থাকতে হয়। কিন্তু আমি তো জানি ওটা আমার জন্য আছেই চিরকাল। রাতে আমি ৩ বা ৪ ঘণ্টা শুনি। কিন্তু তবু আমি খুঁজে বেড়াই অন্য মিউজিক। শুধু জাস্ট ওটা নেই। ওটা থাকা উচিৎ ছিল। ব্যাপারটা আমাকে ঘেঁটে দেয়। একটা পুরো অন্য জায়গায় আমাদের ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। ভাবুন সেইসব মানুষের কথা যারা বেঁচে আছে যারা কখনও শোনেনি ভদ্রসভ্য মিউজিক। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে তাদের মুখগুলো ঝরে পড়ছে, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই তারা খুন করে কিছু না ভেবেই, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে হৃদয়ের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না।

আমি কী আর করতে পারি? কিছু না।

ফিল্মগুলোও ততোধিক খারাপ। আমি শুনি বা পড়ি সমালোচকদের কথা। অসাধারণ একটা ফিল্ম ওরা বলবে। আর আমি ওই ফিল্মটা গিয়ে দেখব। আর ওখানে বসে নিজেকে মনে হবে একটা  আস্ত বোকাচোদা, মনে হবে আমার সব ডাকাতি করে নিয়ে গেল, ধোঁকা দিল। আমি প্রতিটা সিন আসবার আগেই টের পাই এরপর কী হতে চলেছে। আর চরিত্রগুলোর স্পষ্ট উদ্দেশ্য, কী তাদের চালিত করছে, কী তারা চাইছে, যা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তা এত ছেলেমানুষির আর নগণ্য, আর এত মোটা দাগের যে কহতব্য নয়। প্রেমের অংশগুলো পীড়াদায়ক, বস্তাপচা, আবোলতাবোল।

আমি বিশ্বাস করি বেশিরভাগ লোক খুব বেশি ফিল্ম দেখে। আর সমালোচকরাও নির্ঘাত তাই করে। যখন ওরা বলে এই ফিল্মটা সেরা, তারা আসলে বলতে চায় যে সমস্ত ফিল্ম তারা দেখেছে সেগুলোর নিরিখে এটা সের। তারা তাদের সাধারণভাবে ফিল্ম দেখার অভিজ্ঞতা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের আরও আরও নতুন ফিল্ম পিষে ফেলেছে। তারা আর কিছু জানে না, তারা হারিয়ে গেছে এই সমস্ত ফিল্মের ভেতর। তারা ভুলে গেছে ঠিক কোনটা থেকে পচা গন্ধ ছাড়ে, যা তারা দেখে তার প্রায় সবকটা থেকেই তা বেরোয়।

টেলিভিশনের কথা কিছু না বলাই ভালো।

আর একজন লেখক হিসেবে… । আমিও কি সেরকম একজন? একজন লেখক হিসেবে আমার অন্যান্য লেখকদের লেখা পড়তে কষ্ট হয়। আমার জন্য জাস্ট নেই ওইসব লেখালিখি। এভাবে বলা যেতে পারে ওরা জানেই না কীভাবে একটা বাক্য লিখতে হয়, কীভাবে একটা প্যারাগ্রাফ লিখতে হয়। ছাপা কাগজটার দিকে দূর থেকে দেখলেই বিরক্তিকর মনে হয়। আর যদি আপনি পড়তে শুরু করেন সেটা বিরক্তিকরের থেকেও বেশি কিছু। কোনও গতি নেই। কিছুই নেই যা চমকপ্রদ বা নতুন। কোনও জুয়া নেই, কোনও আগুন নেই, কোনও রসকষ নেই। কী করছে এরা? দেখে মনে হয় প্রচুর খেটেছে। এটা আশ্চর্য নয় যে বেশিরভাগ লেখক বলে ব্যাপারটা তাদের কাছে কষ্টদায়ক। আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারি।

কখনও কখনও আমার লেখাতে যখন ব্যাপারটা ঠিকঠাক ঘটে না, আমি অন্য কিছু করতে চেষ্টা করেছি। আমি পাতাগুলোর উপর ওয়াইন ঢেলে দিয়েছি, আমি পাতাগুলোকে ধরেছি জ্বলন্ত দেশলাইয়ের উপর আর পুড়িয়ে ফুটো করেছি কাগজগুলোতে।

‘তুমি ভেতরে বসে কী করছ? আমি ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছি!’

‘না না, সব ঠিক আছে সোনা, সব ঠিক আছে…’

একবার আমার নোংরা ফেলার বাস্কেটে আগুন ধরে গেছিল আর আমি দ্রুত ওটা বাইরে নিয়ে আসি আমার ছোট বারান্দায়, তারপর তার উপর বিয়ার ঢেলে দি।

আমার লেখার জন্য, আমি দেখতে চাই বক্সিং ম্যাচ, দেখতে চাই কীভাবে বাঁহাতি জ্যাবটা ব্যবহার হবে, কীভাবে ডান হাতের ঘুষিটা আসছে, লেফট হুকটা, আপারকাটটা, ফিরতি ঘুঁষিটা। আমি দেখতে চাই কীভাবে ওটা ঢুকে যায় গায়ে, ক্যানভাসে লেগে ফিরে আসে। এ থেকে কিছু একটা শেখার আছে, লেখালিখির কাজে ব্যবহার করার আছে, কীভাবে লিখতে হবে সেই কাজে। আপনার কাছে একটাই সুযোগ আছে তারপর সেটা চলে যাবে। শুধু পড়ে থাকবে পাতাগুলো, পারলে ধোঁয়া উঠিয়ে দিন পাতাগুলোতে।

ক্ল্যাসিকাল মিউজিক, সিগার, কম্পিউটার লেখাকে নাচায়, তারস্বরে চিৎকার করায়, হাসায়। দুঃস্বপ্নের জীবনটাও সাহায্য করে।

প্রতিদিন যখন আমি ঘোড়দৌড়ের মাঠে এসে ঢুকি আমি জানি আমি আমার ঘণ্টাগুলোকে গুয়ে পরিণত করছি। কিন্তু তবু আমার আছে রাতটা।

অন্য লেখকরা কী করে? আয়নার সামনে দাড়িয়ে কানের লতি পরীক্ষা করে? আর তারপর লেখে তাই নিয়ে। বা তাদের মা-কে নিয়ে। বা কীভাবে পৃথিবীটাকে বাঁচাতে হবে তাই নিয়ে। যাক ওই বালের লেখালিখি আমাকে লিখতে হবে না। ওইসব ঢিলে আর শুকিয়ে যাওয়া আবোলতাবোল। দাঁড়ান! দাঁড়ান! দাঁড়ান! পড়বার জন্য আমার কিছু একটা চাই। পড়বার জন্য কি কিছুই নেই? আমার মনে হয় না আছে বলে। আপনি যদি পান, আমাকে জানাবেন। না দরকার নেই। আমি জানি আপনি ওটা লিখেছেন। ভুলে যান। যান গিয়ে মাল খালাস করে আসুন।

আমার মনে পড়ছে রেগেমেগে লেখা একটা লম্বা চিঠির কথা যা আমি পেয়েছিলাম একজন লোকের কাছে থেকে। যে আমাকে বলেছিল আমার কোনও অধিকারই নেই এটা বলার যে আমার শেক্সপিয়ার ভালো লাগে না। অনেক তরুণই আমাকে বিশ্বাস করবে আর শেক্সপিয়ার পড়ার চেষ্টাটাই করবে না। এরকম একটা অবস্থান নেওয়ার অধিকার আমার নেই। ওটা নিয়েই চলেছিল ব্যাপারটা। আমি ওকে কোনও উত্তর দিইনি। কিন্তু এখানে সেই উত্তরটা দেব আমি।

গাঁড় মারাও বন্ধু। আর আমার টলস্টয়কেও ভাল লাগে না।

সমাপ্ত   

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1378 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...